magazine_cover_12_november_17.jpg

 

Home review detail দুর্বল চিত্রনাট্যের শিকার!

দুর্বল চিত্রনাট্যের শিকার!

বিলু রাক্ষস
bilu-rakkhosh-still2

অভিনয়: জয় সেনগুপ্ত, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, চান্দ্রেয়ী ঘোষ
পরিচালনা: ইন্দ্রাশিস আচার্য
……

একা একজন মানুষ। একাকীত্বে জর্জরিত। অভিভাবক প্রয়াত, স্ত্রী ছেড়ে চলেছেন। কেন? কারণ তাঁর মধ্যে রাক্ষস বাস করে। চাকরির জাঁতাকলে পড়ে গানবাজনা করতে না পেরে, সেই রাক্ষস বেরিয়ে জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে… ছবির এই বিষয়টি আগ্রহ জাগানোর পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু আশা আর বাস্তব তো এক না-ও হতে পারে। বিলু রাক্ষস-এর ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। ছবির শুরুতে বিলুর (জয়) একাকীত্বকে যেভাবে নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক, তার রেশ শেষ পর্যন্ত থাকে না। সংসারে শাশুড়ি-বউমা বা স্ত্রীর সঙ্গে ছেলেকে নিয়ে যে টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁকে পড়তে হয়, তার সঙ্গে কেন জানা নেই, দর্শক একাত্ম বোধ করতে পারেন না। হতে পারে, অভিনয় এর জন্য দায়ী, হয়তো বা দুর্বল স্ক্রিপ্টও। কিন্তু সত্যি এটাই, প্রথম ছবি হিসেবে বিষয়টা ভাল বেছেছিলেন পরিচালক। কিন্তু ট্রিটমেন্টের গলদ থেকে গেল। ছবির ন্যারেটিভ স্টাইল ভাল ছিল। অতীত এবং বর্তমানের অনায়াস চলনে বিলুর জীবনের গল্প ভাল করেই ফুটে উঠছিল। কিন্তু যেটা বোঝা গেল না, তা হল হতভাগ্যের কারণগুলো। যে গানকে ভালবেসে বিলুর জীবনের এই ক্রাইসিস, সেই গানকে তো কখনও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিতে দেখা গেল না বিলুকে! জয় সেনগুপ্তর অভিনয় সাধারণ। স্ত্রী সোহিনীর চরিত্রে কনিনীকা ভাল শুরু করলেও, পরে একটু অতিনাটকীয় লেগেছে। চান্দ্রেয়ী বা বাকিরা দুর্বল চিত্রনাট্যের শিকার। আসলে চরিত্রের উত্থান-পতনটা দর্শকদের মধ্যে জারিত করতে পারেননি পরিচালক। বহুরকমের প্লট-সাবপ্লট এসেছে। তাতে ছবির ফোকাস খানিকটা হলেও সরে গিয়েছে। আর সেটাই এই ছবির দুর্বলতা। শেষের দিকে মামাবাড়িতে গিয়ে বিলুর ইলিউশনটা বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে। ছবির আবহসঙ্গীত ভাল। ক্যামেরার কাজও ভাল। কিন্তু এডিটিংয়ের জোরে ছবিটাকে আর একটু ছোট করা যেত।