magazine_cover_12_September_19.jpg

Anandalok Review

‘আশার ছলনে ভুলি!’

ভূত চতুর্দশী
Bhut-Chaturdashi-big

পরিচালনা: শব্বির মল্লিক
অভিনয়: আরিয়ান ভৌমিক, এনা সাহা, দীপশ্বেতা মিত্র, সৌমেন্দ্র ভট্টাচার্য

বোলপুর, ভৌতিক পোড়ো বাড়ি, গ্রামের মানুষের মধ্যে বহুকাল ধরে চলে আসা প্রচলিত বিশ্বাস, যে বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি বাচ্চা মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো নারকীয় হত্যাকাণ্ড, কিছু রহস্যময় মানুষ, তান্ত্রিক, ভুডুইজ়ম আর ভূতচতুর্দশীর রাত… একটা ভূতের সিনেমা বানানোর জন্য আর কী চাই! তার উপর মৈনাক ভৌমিকের গল্প। পরিচালকের উপর বিশ্বাস ছিল, কারণ ইতিমধ্যেই ট্রেলারে তিনি কিঞ্চিৎ আশা জাগানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই আশার ফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক হল না, এই যা। অথচ শুরুটা ভালই ছিল। চেনা বোলপুর, চেনা শান্তিনিকেতনের থেকে বেশ অন্য একটা জায়গাতেই এনে ফেলেছিলেন পরিচালক। চার বন্ধুর মধ্যে একজন রণ (আরিয়ান ভৌমিক), বোলপুরের এক সাঁওতাল গ্রামের স্থানীয় লোককাহিনির উপর এক ডকুমেন্টরি বানাতে চায়। রণ, তার গার্লফ্রেন্ড শ্রেয়া (এনা সাহা), দেবু (সৌমেন্দ্র ভট্টাচার্য) পৃথা (দ্বীপশ্বেতা মিত্র) ক্যামেরাসহ বেরিয়ে পড়ে অ্যাডভেঞ্চারে। স্থানীয় এক গ্রামবাসী, একজন গবেষক এবং কাপালিক কঙ্কালবাবার জবানিতে জানা যায় ‘লক্ষ্মী’র গল্প, যে-কিনা ঠাকুরবাড়ির অবৈধ সন্তান! সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জঙ্গলের মধ্যে প্রাসাদ বানিয়ে বন্দি করা হয় তাকে, কয়েকদিন পরেই ডাইনি সন্দেহে পুড়িয়ে মারা হয় বাচ্চা মেয়ে লক্ষ্মীকে। গল্পের অবশ্য এখানেই শেষ নয়। শোনা যায়, পরিত্যক্ত পোড়ো বাড়িতে লক্ষ্মী নাকি এখনও তার খেলার সঙ্গী খুঁজে বেড়ায়! ভৌতিক গল্পে ব্যাকগ্রাউন্ডে ভূতের গল্পটি জমাট না হলে প্লটও দানা বাঁধে না। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ থাকে কাহিনির পরিবেশনা। যে-পরিবেশনার একটু ভুল-ত্রুটিতে মুহূর্তেই ধসে যেতে পারে প্লটের কাঠামো। অধিকাংশ ভূতের সিনেমায় যেখানে অন্ধকারের প্রাধান্য থাকে, সেখানে এ ছবির বেশিরভাগ অংশই দিনেরবেলা। তা ব্যতিক্রম ভাল লাগে তখনই, যখন তা ভয় দেখায়। সাময়িকভাবে দিনেরবেলার দৃশ্যে ভয়ও লাগে বটে। তবে লক্ষ্মীর গল্প শোনানোর পর মূল গল্পে ঢুকতেই যেন দেরি হয়ে যায়। ভাল প্লটের সম্ভাবনা তৈরি করেও তাকে ভালভাবে ব্যবহার করতে পারেননি নবাগত পরিচালক শব্বির। ফলে শেষটা যেন বড্ড বেশি ঘাঁটা, উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর মতোই! বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি সিচুয়েশনে মূল চারটি চরিত্রই একসময়ে উত্তেজিত হয়ে ঝগড়া শুরু করে দেয়, তাদের মতো খেই হারিয়ে ফেলে গল্পও (বিশ্বাস করুন, অত চিৎকার একসঙ্গে নেওয়া কষ্টকর বটে!), তারপর কীভাবে যে ক্লাইম্যাক্স শেষে নটে গাছটিও মুড়িয়ে যায়, সে বোঝা নেহাতই কঠিন হয়ে পড়ে।

Bhut-Chaturdashi-big2

আরিয়ান, এনা, দীপশ্বেতা, সৌমেন্দ্র ঠিকঠাক, তবে আসল ভয়ের জায়গাতে চিৎকার করেই তাঁরা কাটিয়ে দিলেন। আরিয়ানের চরিত্রটি আবার ভূতে বিশ্বাস না করেও ভৌতিক বিশ্বাসকে (লোককাহিনির মধ্যে এটাও আছে) নিয়ে ডকুমেন্টরি বানাতে চায়! আবার নিমেষে ভূতে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে! শব্বিরের পরিচালনাও আরও ভাল হতে পারত, শেষে তাড়াহুড়ো, অযত্নের ভাব অত্যন্ত প্রকট (দশদিনে শুটিং শেষ করার ফলেই কি?)। আর একঘেয়ে হাস্যকর ভূতুড়ে হাসি আর ক্লিশে ভৌতিক আওয়াজের থেকে বেরিয়ে একদিন সাবালক হবে বাংলা ভূতের সিনেমা, এটুকু তো আশা করাই যায়। তাই না?

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]