magazine_cover_12_June_19.jpg

Anandalok Review

ভরা বিনোদন, তবুও…

ভারত
barat-still2

পরিচালনা: আলি আব্বাস জ়াফর
অভিনয়: সলমন খান, ক্যাটরিনা কাইফ, দিশা পটানী, সুনীল গ্রোভার, জ্যাকি শ্রফ, তব্বু, সোনালি কুলকার্নি

গত বছর ‘রেস ৩’, তারও আগে ‘টিউবলাইট’… সলমন খানের ইদ ভাগ্যটা দু’বছর ধরে মোটেও ভাল যাচ্ছিল না। তবে এবার পায়ের তলায় বেশ শক্তপোক্ত জমি পেলেন ‘ভাইজান’। সৌজন্যে ‘ভারত’। ট্রেলার দেখেই বোঝা গিয়েছিল, এ সিনেমা আদ্যন্ত সলমনের। আর ইদে আলি আব্বাস জ়াফরের সঙ্গে ভাইজান মানেই দর্শকের কপালে ভরা বিনোদন! বলা বাহুল্য, হতাশ করেননি তিনি। এখানে বলে রাখা ভাল, ‘সুলতান’, টাইগার জ়িন্দা হ্যায়’-এর পর আলির সঙ্গে সলমনের এটা তৃতীয় সিনেমা। ‘ভারত’-এর গল্পটা বেশ চেনা। ১৯৪৭ সাল। দাঙ্গাবিধ্বস্ত ভারত-পাকিস্তান। ১৪ অগস্ট লাহোরের মীরপুর থেকে ট্রেনে চড়ে দিল্লি আসে পুঁচকে ভারত, সঙ্গে মা, বোন, ভাই। তবে সেই ট্রেনে চড়তে পারেননি ভারতের বাবা স্টেশন মাস্টার গৌতম (জ্যাকি শ্রফ)। বোন গুড়িয়াকে খুঁজতে গিয়ে ‘হারিয়ে’ যান তিনি। বাবা বলেছিলেন, মা, ভাই আর বোনের সবসময় খেয়াল রাখতে। সেই মন্ত্রকে মূল করেই শুরু হয় ভারত (সলমন খান)-এর জীবনযুদ্ধ। জীবনে কখনও খারাপ কাজ করবে না সে। সেই ‘ইমানদার’ কাজ করার তাগিদে প্রথমে সার্কাসে বাইক নিয়ে ‘মওত কা কুঁয়া’য় খেলা দেখানো, তারপর মধ্য এশিয়ায় তেলের খনিতে কাজ করা, শেষে মার্চেন্ট নেভিতে কাজ… ভারতের যাত্রা চলতেই থাকে। আর এই যাত্রাই যেন কীভাবে একটা ‘নেশন’-এর যাত্রা (সিনেমার ট্যাগলাইন খানিক অতিরেকই বটে!) হয়ে ওঠে! ১৯৪৭ সাল থেকে ২০১০ সাল, দীর্ঘ ছ’ দশকের বর্ণময় জীবন ভারতের। সেখানে জম্পেশ স্টান্টবাজি আছে, হাত ছেড়ে বাইক চালানো আছে, হিরোগিরি আছে, দেশভক্তির আবেগ আছে, জ্ঞান আছে, এমনকী স্রেফ অমিতাভ বচ্চনের সিনেমার গান গেয়ে জলদস্যুদের তাড়িয়ে দেওয়াও আছে। সেইসঙ্গে আছে নেহরুর মৃত্যু, ’৮৩ সালে কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারতের বিশ্বকাপ জয়, নয়ের দশকে শাহরুখ, সচিনের আবির্ভাব! যত বয়স বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে সলমনের পাকা চুলের আধিক্য বেড়েছে। তবে ৭০ বছরের ফিট একজন বৃদ্ধ, যিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, আর একাই চার-পাঁচজন বাইকবাজ গুন্ডার পাঙ্গা নিয়ে নেন, তাঁকে দেখে কিঞ্চিৎ বিস্ময় জাগে বই কী!

২০-২৫ বছরের ভারত, যিনি সার্কাসে স্টান্টের খেলা দেখান, তাঁকে দেখে দর্শকের ২০ মনে হতে বেগ পেতে হলেও সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন সলমন তাঁর বিখ্যাত ‘সল্ট অ্যান্ড পেপার’ লুকে। প্রৌঢ় ভারতকে, থুড়ি সলমনকে পরদায় বেশ ফ্রেশ, অন্যরকম লাগে। স্বল্প চরিত্রে দিশা পটানীর রাধাকে মন্দ লাগেনি। ক্যাটরিনা কাইফ কুমুদের চরিত্রে আবারও চেষ্টা করেছেন (হ্যাঁ, আগের সিনেমাগুলোর চেয়ে এটায় তিনি বেশ ভাল)। বেশ কিছু জায়গায় তিনি বেশ বোল্ড, তবে এক্সপ্রেশনের ঘাটতিও কিছু জায়গায় চোখে পড়ে। ভারতের বাবার চরিত্রে জ্যাকি শ্রফ ও মায়ের চরিত্রে সোনালি কুলকার্নি নিজেদের স্বল্প চরিত্রে যথাযথ। তবে ছেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মায়ের বয়স বাড়ে না, এটাই যা দুঃখ! গল্পের বিশেষ একটি অংশে সামান্য সময়ের জন্য দেখা যায় তব্বুকেও। তবে আলাদা করে যাঁর কথা না বললেই নয়, তিনি সুনীল গ্রোভার। নিজের অভিনয়, কমিক টাইমিং, ভারতের বন্ধু বিলায়েতির চরিত্রে ঢেলে মাত করে দিয়েছেন তিনি। বিনোদনের অতিরেকে বা লম্বা সময়ে যখনই সিনেমা একঘেয়ে লাগতে শুরু করেছে (যদিও সেটা খুব কমই) তখনই রিলিফ নিয়ে এসেছেন সুনীল।

তবে বিনোদনের আতিশয্যে গুরুতর কিছু জিনিস নজর এড়িয়ে যায়। পরদায় ভারতের বয়স বাড়ে, কিন্তু ক্যাটরিনার কুমুদকে দেখে সে কথা মনে হয় না! দু’-তিনটে পাকা চুলের রেখা ছাড়া তাঁর আর সেরকম তফাৎ চোখে পড়ল কই! কোন আধিকারিকই বা আর সকলের সামনে প্রেম প্রস্তাব দিয়ে বসতে পারেন তাঁর অধস্তনকে? সিনেমার দৈর্ঘ্য (প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা) আরও খানিক কমলে ভাল হত। দেশাত্মবোধ, দেশের ভাল কীভাবে হবে এই নিয়ে ভারতের জ্ঞানগুলো জোর করে আরোপিত মনে হয়। যেন সমসাময়িক প্রেক্ষিত আখ্যানটিকে ধরতেই হত পরিচালকের! হঠাৎ জাতীয় সঙ্গীতও প্রোপাগান্ডামূলক মনে হয়। আলির পরিচালনা আরও ঝকঝকে হতে পারত। তবে নাচ-গান সব মিলিয়ে নিছক বিনোদনের হিসেবে ধরতে গেলে ‘ভারত’ এই ইদে কিন্তু দর্শকের প্রাপ্তির ভাঁড়ার (সেইসঙ্গে নিজেরও!) ভরবেই!