magazine_cover_12_february_18.jpg

Anandalok Review

যুগোপযোগী?

ভালবাসার বাড়ি
Bhalobashar-Bari-still

অভিনয়: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, প্রতীক সেন, চৈতালী দত্তবর্মণ
পরিচালনা: তরুণ মজুমদার
……

বহু বছর পর আবার রুপোলি পরদায় তাঁর ছবি নিয়ে এলেন তরুণ মজুমদার। কিংবদন্তী পরিচালকের ‘ফিরে আসা’ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটা কৌতূহল ছিল। পুরনো হৃদয় ছোঁয়া পৃথিবীটার একটা খোঁজ পেতেই হয়তো। বলা বাহুল্য, পরিচালক সেই চেষ্টা করেছেন আপ্রাণ। মফস্‌সল, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কষ্ট, একান্নবর্তী বাঙালি, অনেক-অনেক রবীন্দ্রসঙ্গীত… সবই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। চটকলের কর্মীর মেয়ে বল্লরী (ঋতুপর্ণা) অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে-করতে একদিন চাকরি পায়। তারপর আসে তার বিয়ের প্রস্তাব। ধনী পাত্র্রর চটক পেরিয়ে, বল্লরীর মনে উঁকি দেয় তার সহকর্মী কল্যাণের (প্রতীক) সাধারণ গুণগুলি। তারপর… সে কথা থাক। কাহিনির বাইরে বেরিয়ে বলি, দুর্ভাগ্যবশত, ছবিটিকে কিছুতেই ঠিক এই সময়ের ফ্রেমে ধরা যায় না। পুরো ছবি জুড়ে তরুণ মজুমদারের অতীত ছবিগুলির ভূত ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোথাও যেন মনে হচ্ছিল, নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিলেন পরিচালক। ছন্দ মিলিয়ে কথা বলা বা আদরের বউদি… সবই বড় চেনা লাগে। কল্যাণ (প্রতীক) তো একেবারেই তাপস পাল! সেই হাত নেড়ে কথা বলা, সেই মেলানকলি! এই সময়ে দাঁড়িয়ে একটু হাস্যকর লাগে। ঋতুপর্ণার অভিনয়ও যেন ‘আলো’রই প্রতিচ্ছবি। আচ্ছা বলুন তো, চায়ের দোকানে ফোন করে পাশের বাড়ির মানুষকে এখন কোথায় ডেকে দেওয়া হয়? কিঞ্চিৎ মর‌্যাল গার্জিয়ানগিরিও ধরা পড়ে ছবিতে। এবং পরিচালকের এথিক্যাল নিক্তিটি খুবই প্রাচীনপন্থী। ‘ফাটিয়ে’ শব্দটি কিছুতেই অপশব্দ নয় এখনকার ব্যবহারিক দুনিয়ায়। কোথায় যেন ‘পারফেকশন’ ধরতে গিয়ে ছবিটি হয়ে গিয়েছে অন্য জগতের। যার ফলে বেশ ‘ন্যাকা’ বলেই মনে হয়েছে। তাছাড়া অনেক বেশি এলিমেন্ট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে এবং কোনওটিই ধরা যায়নি। দৃশ্যগুলির পরিবর্তন অত্যন্ত দ্রুত এবং অসম্পূর্ণ বলে মনে হয়েছে। রবীন্দ্রসঙ্গীত তুরুপের তাস বলে প্রত্যেক নিশ্বাসে রবীন্দ্রসঙ্গীত ঢুকে পড়াটা ঠিক নেওয়া যায় না। জয়তী চক্রবর্তী সুগায়িকা। কিন্তু অত্যন্ত লাউড মিউজ়িক গানগুলিকে শ্রুতিমধুর হতে দেয় না। অভিনয়ে প্রায় সবাই-ই বেশ অতিনাটুকে। বিশেষত বল্লরীর বান্ধবীর চরিত্রে চৈতালী দত্তবর্মণ খুব উচ্চকিত। যার দায় তাঁর নয়, সংলাপগুলির। তবে ছবিটিতে দু’জনের অভিনয়ের কথা বলতেই হবে, বল্লরীর বাবার চরিত্রে দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর বন্ধুর চরিত্রে বিভাস চক্রবর্তী খুব ভাল। বিশেষত বিভাসবাবু একেবারেই অন্য স্তরে অভিনয় করেছেন।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]