magazine_cover_12_november_18.jpg

Anandalok Review

ভাগশেষে ভাল থাকা?

ভাগশেষ

bhagsesh-still

পরিচালকঃ রেমা বসু

অভিনয়েঃ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মালবিকা সেন, শুভ্রজিৎ দত্ত, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, প্রিয়ঙ্কা সরকার, কৌশিক রায়

মাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, প্রেম এবং অসম প্রেমের রসায়নে তৈরি নবাগতা পরিচালক রেমা বসুর ‘ভাগশেষ’। মধুমন্তী (মালবিকা সেন), অমিত (শুভ্রজিৎ দত্ত) আর বিশ্বজিৎ (অম্বরিশ ভট্টাচার্য)-এর বন্ধুত্ব দিয়ে সিনেমার শুরু হলেও, সম্পর্কের জটিলতা ঘুরে ফিরে সিনেমার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। অমিতের মেয়ে পূজার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে মধুমন্তী কোনও দ্বিধা করেনি, একজন ‘নন্-বায়োলজিক্যাল মাদার’ হয়ে, রক্তের সম্পর্কের বাইরে থেকেও পূজার প্রতি যাবতীয় দায়িত্ব সে পালন করেছে…পূজাকে দিতে চেয়েছে মা-এর ভালবাসা, স্নেহ…কিন্তু সম্পর্কের রসায়ন একরৈখিক নয়। তাই বোধহয় অমিত যেমন শেষপর্যন্ত মধুমন্তীর পাশে থাকেনি, তেমনি পূজাও কোনওদিন মায়ের এই ভালবাসার আস্বাদটুকু নিতে পারেনি, ভুল বুঝেছে মধুমন্তীকে… সিনেমাতে সম্পর্কের কয়েকটি পর্যায় রয়েছে, সময় পেরিয়ে ১৫ বছর পরের ঘটনাচিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে এসেছে কলেজের অধ্যাপক সিদ্ধার্থের(কৌশিক রায়) প্রতি পূজার (প্রিয়ঙ্কা সরকার) আবেগ, প্রেম আর ভালবাসা… মধুমন্তী কিন্তু মেয়ের সম্পর্ককে মেনে নিয়েছে অত্যন্ত সহজ এবং স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু এই মেনে নেওয়ার পরিণতি যে ঠিক কীরকম, তা দর্শকদের জন্যই তোলা থাক। সিনেমা জুড়ে সম্পর্কের যে পর্যায় দেখানো হয়েছে, তা কিন্তু বেশ খাপছাড়া… অনেক বছরের বন্ধুত্ব হঠাৎ করে বৈবাহিক সম্পর্কে যেতে গেলে যে ভিত প্রয়োজন, তা কিন্তু গল্পে স্পষ্ট হয়নি। অমিতের হঠাৎ করেই মধুমন্তীকে ছেড়ে চলে যাওয়ার মধ্যেও কোন যৌক্তিকতা নেই…গল্পের প্লটটিকে যেন জো়র করে কোথাও মেলানো হয়েছে। যুক্তি, বিচারবোধ অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মেলোড্রামাটিক পরিবেশ তৈরি করে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হলেও তা কিন্তু অনেকাংশেই ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলেই মনে হবে। সংলাপের ক্ষেত্রেও পরিচালকের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন ছিল।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে মালবিকা রায়ের অভিনয় খুব যথাযথ বলা যায় না, স্ক্রিপ্টের কারনেই মাত্রাতিরিক্ত অভিনয় অতিনাটকীয় পরিবেশ তৈরি করেছে…অমিতের ভূমিকায় শুভ্রজিৎ-এর অভিনয় বেশ খাপছাড়া…সিনেমার প্রথম অংশটি যেন ছন্দহীনভাবে এগিয়েছে। দ্বিতীয় অংশে পূজার ভূমিকায় প্রিয়ঙ্কার অভিনয় বেশ ভাল, অধ্যাপকের চরিত্রে কৌশিকের অভিনয়ও বেশ নজর কাড়ে। স্বল্পদৈর্ঘ্যের চরিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম। তবে সিনেমাতে অম্বরীশের অভিনয় বেশ ভাল, সাহিত্যিক স্বরূপ আচরণ থাকলেও ক্লিশে সংলাপে চরিত্রটি অনেকাংশেই ম্লান… সিনেমার গানগুলি বেশ ভাল।

মোটের উপর সিনেমাতে অনেক উপকরণ থাকলেও শেষপর্যন্ত যথার্থতা পায়নি… শেষের অংশটিও অত্যন্ত তাড়াতাড়ি মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনি জটিলতা যে এত তাড়াতাড়ি মেলানো যায় তাতে বেশ অবাকই লাগে…নন্-বায়োলজিক্যাল এক মায়ের স্ট্রাগল গল্পের বিষয়বস্তু হলেও উপযুক্ত উপস্থাপনা লক্ষ্য করা গেল না।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]