magazine_cover_12_decemberr_18.jpg

Anandalok Review

মর্ত্যে যখন ‘ত্রিদেব’…

বাঘ বন্দি খেলা

bagh-bandi-khela-big

পরিচালনা: রাজা চন্দ, সুজিত মণ্ডল, হরনাথ চক্রবর্তী

অভিনয়ে: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, সোহম, শ্রাবন্তী, সায়ন্তিকা, ঋত্বিকা

যদিও পরিচালক-ত্রয়ের দাবি ‘বাঘ বন্দি খেলা’ ছবিটি আদতে থ্রিলার, তবে অ্যাকশন-কমেডি-সম্পর্কের টানাপোড়েন, এই তিনটে দিক নিয়েও কিন্তু তিনটে গল্প তৈরি করা যেতে পারত। তিনটে ভিন্ন গল্প নিয়ে ছবিটি গেঁথেছেন তিন পরিচালক, এক গল্পের সঙ্গে আর এক গল্পের কোনও মিল নেই, তেমন মিল নেই অভিনেতাদেরও। তবে একটা সুতো থাকতে হয়, সেটা না থাকলে মালা গাঁথা হবে কী করে! সেই সুতোর নাম থ্রিলার (আগেই বলা হয়েছে)। সেই থ্রিলারে নতুনত্ব না থাক, দৃষ্টিনন্দন ব্যাপার আছে। ছবির প্রথম গল্প, ‘বাঘ’। সেখানে বারীন ঘটক (জিৎ) ওরফে ‘বাঘ’ ডিটেকটিভ। তাঁর বাঘিনী, মানে স্ত্রীর (সায়ন্তিকা) কাছে বাঘ ভিজে বেড়াল। স্ত্রীকে ভয় পায়, কোমর জড়িয়ে প্রেম করে। অন্যদিকে আবার সরকারি চাকরি করা (যদিও চাকরিটা কীসের তা জানা গেল না) বাঘ একাই পাঁচজনকে মেরে পাটপাট করে দিতে পারে, হাইরাইজ় বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ মারতে পারে, এক গুলিতে নিশানা লাগাতে পারে। তা তিনি চললেন শত্রু নিধনে, ব্যাঙ্ককে। গেলেন, থাকলেন, জয় মানে শত্রুর ষষ্ঠীপুজো করে ছাড়লেন। সেই গল্পের শেষে এলেন হীরক (সোহম) এবং জয়ন্তী (শ্রাবম্তী)। এই দু’জন পার্টনারশিপে বিজ়নেস করে, ওয়েডিং প্ল্যানিংয়ের বিজ়নেস। মনে-মনে একে অপরকে ভালওবাসে। তা এক বিয়ের আসরেই হীরক নিজের ভিডিয়ো ক্যামেরায় খুনের দৃশ্য বন্দি করে ফেলে। তারপর শুরু হয় চোর-পুলিশ খেলা। পুলিশ (অসৎ) আর খুনির ( সে আবার রাজনৈতিক নেতা) হাত থেকে পালাতে-পালাতে ট্রাকে করে বারাণসী পৌঁছে যায়। তারপর দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন। ইয়ে ওই ব্যাপারটা বারাণসীতে টেনে না নিয়ে গিয়ে কলকাতার আশেপাশে করলেও মন্দ হত না বিশেষ। সবশেষে আসেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এই ছবিতে তিনি ক্রিমিনাল ল’ইয়ার অগ্নিদেব রায়। ধর্ষক তিন ছেলে অগ্নিদেবের সাহায্যেই আইনের হাত গলে পালিয়ে যায়। সেই ঘটনার আঁচ পড়ে অগ্নিদেবের সংসারে, যখন ওই তিনটে ছেলে ছাড়া পেয়ে অগ্নিদেবের মেয়ে অদিতির বান্ধবীকে ধর্ষণ করে। কিন্তু অগ্নিদেব আবারও সেই তিনটে ছেলের পক্ষে কোর্টে সওয়াল করেন। কেন? কী করেই বা তিনটি ছেলে মারা যায়? অভিনয়ে সকলেই ভাল। প্রসেনজিৎ, জিৎ এবং সোহম স্বমহিমায় ঊজ্জ্বল। প্রসেনজিতের ঋজু অভিনয় বড্ড প্রয়োজনীয় ছিল। কোথাও কোনও মাত্রাতিরিক্ত ব্যাপার নেই। তেমনই ভাল লাগে জিতের অ্যাকশন। ভয়ঙ্কর স্টান্টগুলো করার সময়েই তিনি গ্রেস মার্কস পেয়ে বসে আছেন। তবে দশ-দশকে একা মেরে শুইয়ে দেওয়ার দৃশ্যটা একটু বোকা-বোকাই। আর রজতাভও সেভাবে ‘ভীষণ ভিলেন’ হয়ে উঠলেন কই! সোহমের অভিনয় নিয়ে কোনওকালেই কোনও সন্দেহ ছিল না। এই ছবিতেও নেই। জিৎ এবং প্রসেনজিতের সিরিয়াস চরিত্রের মাঝে সোহমের ‘হীরক’ রিলিফ দেয় বই কী। নায়িকা মানে, সায়ন্তিকা বা শ্রাবন্তীর বিশেষ কিছুর করার ছিল না। পার্শ্বচরিত্রের মধ্যে আলাদা দাগ কাটেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। তবে তিনটে গল্পেই ফাঁক-ফোকর আছে। প্রসেনজিৎ প্রকাশ্যে এমন সব কাজ করছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি বোধহয় কলকাতা নয়, সাহারা মরুভূমির মাঝে আছেন। নাহলে তিনি জিমে ঢুকলেন আর পুরো জিম ফাঁকা হয়ে গেল! ঠিক তেমনই সোহম-শ্রাবন্তীর বারাণসীতে গিয়ে ওঠা বা জিতের আসল শক্রুকে চিনে নেওয়ার পদ্ধতিটা বোঝা গেল না। তবে এসবকে বেনিফিট অফ ডাউট দিলে ছবিটি দেখতে খারাপ লাগে না। তা ছাড়া এমন কাস্টিং আগে কে দেখেছে! সেদিক দিয়ে এই ছবি তো ছক্কা মেরে বসেই আছে। যদিও ক্যামেরার কাজও ভাল লাগে না। আর কোন গল্পটি বেশি ভাল? তিন ঘণ্টার জন্য প্রতিযোগিতা ভুলে গেলে ক্ষতি কী!

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]