magazine_cover_12_november_18.jpg

Anandalok Review

বধাই তো পরিচালকের প্রাপ্য!

বধাই হো

Badhaai-Ho-big

পরিচালনা: অমিত রবিন্দর নাথ শর্মা

অভিনয়ে: আয়ুষ্মান খুরানা, সানিয়া মলহোত্র, নীনা গুপ্ত, গজরাজ রাও, সুরেখা সিক্রি, শিবা চড্ডা

কর্পোরেট অফিস আর ঝকঝকে শপিং মল… এই ঝাঁ-চকচকে পৃথিবীর সঙ্গেই সমান্তরালে বয়ে চলে আর একটা পৃথিবী, যেখানে হাজার ‘আধুনিক’ হয়েও ‘টিপিক্যাল’ মধ্যবিত্ত মূল্যবোধগুলোকে ঢেকে রাখা যায় না। পরিচালক অমিত রবিন্দর নাথ শর্মার প্রথম ছবি ‘বধাই হো’ আমাদের ঠিক সেরকমই এক গল্প শোনাতে চায়। দিল্লির এক মধ্যবিত্ত এলাকায় দুই ছেলে, খিটখিটে বুড়ি মাকে নিয়ে জিতেন্দ্র কৌশিক (গজরাজ রাও) আর প্রিয়ংবদার (নীনা গুপ্ত) ছোট্ট সংসার। তাদের সম্পর্কের রসায়নগুলো টক-মিষ্টি ছাঁচে ঢালা, চলে গতানুগতিক নিয়মে। কিন্তু আচমকাই সব এলোমেলো হয়ে যায়, যখন জানা যায় প্রৌঢ়া প্রিয়ংবদা আবার মা হতে চলেছেন! ছেলে নকুলের (আয়ুষ্মান খুরানা) বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছে, এমন সময়ে তার আবার ‘বড়ে ভাই’ হওয়া? এ যে শুধু লজ্জারই না, অপমানেরও! এই ‘অস্বাভাবিকতা’কে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না নকুল। তার সুট-প্যান্ট পরা, শপিং মলে গ্রসারি শপিং করা, গার্লফ্রেন্ডের বাড়িতে কেউ না থাকলে ‘ফায়দা’ নেওয়া কর্পোরেট সত্ত্বা হোঁচট খেয়ে যায় এক নিমেষে। অন্যদিকে প্রিয়ংবদার শাশুড়িও মানতে পারেন না এই ঘটনা। কিন্তু মধ্যবিত্ত নিয়ম মেনে ছেলেকে না, তিনি বরং দোষ দিতে ভালবাসেন বা পছন্দ করেন তাঁর বউমাকেই! তারপর? পাড়া-পড়শি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সকলের ঠাট্টাকে এড়িয়ে সত্যিই কি কৌশিক পরিবার আনতে পারবে সেই ‘মেহমান’কে? এটাই ‘বধাই হো’র গল্প।

এই সিনেমার গল্পে শুরু থেকেই একটা চেনা, ঘরোয়া ভাল লাগা যেন আলগোছে জড়িয়ে থাকে, যে ভাল লাগার মধ্যে মিশে থাকে খানিক অস্বস্তিও। ছোট থেকে শেখানো বা বলা ভাল জোর করে চাপানো মূল্যবোধগুলোকে প্রশ্নের মুখে দেখে নিজেকেও অবধারিত ভাবেই দাঁড় করাতে ইচ্ছে করে প্রশ্নের মুখে… ওই পরিস্থিতিতে কতটা সাহসী হতে পারতাম আমরা… মধ্যবিত্তরা?

তার মধ্যেই আয়ুষ্মান-সানিয়ার প্রেম, তাঁদের রোমান্স বেশ খানিকটা টাটকা হাওয়ার মতো লাগে। তবে তাঁদের প্রেম এ সিনেমায় গৌণ। বরং সব ফোকাস নিজেদের দিকে নিয়ে নিয়েছেন নীনা গুপ্ত আর গজরাজ রাও। তাঁদের সাবলীল অভিনয়ে মধ্যবয়সেও একে অপরের দিকে খেয়াল রাখা, মিষ্টি নির্ভরতাটুকু দেখে আরাম লাগে। আয়ুষ্মানের অভিনয় নিয়ে আলাদা করে বলার কিছুই নেই। দিন-দিন তিনি নিজেকে আরও পরিণত করে তুলছেন। সানিয়া মলহোত্রও যথাযথ। দাপুটে শাশুড়ির চরিত্রে সুরেখা সিক্রিও তাঁর দীর্ঘদিনের অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে ঠিকঠাকভাবে কাজে লাগিয়েছেন।
মাপা কমেডির মোড়কে, সিরিয়াস বিষয়ের মিশেলে এ ছবি এগিয়ে চলে সাবলীল গতিতে। যোগ্য সঙ্গত করেছে গানগুলিও। দু’ঘণ্টার খানিক বেশি দৈর্ঘ্যের ছবিতে তাল কাটার অবকাশ ছিল অনেক, তবে পরিচালক সেটা হতে দেননি। তবে শেষের ওই রূপকথার মতো সমাপ্তি বলিউডি ছবির ক্লিশে হয়ে যাওয়া চেনা ছককেই যেন ফিরিয়ে আনে পরদায়।