magazine_cover_12_january_20.jpg

Anandalok Review

সার্থক অভিনয়

অসুর

ashur-big-still

পরিচালনা: পাভেল
অভিনয়: জিৎ, আবির চট্টোপাধ্যায়, নুসরত জাহান

ট্রেলার দেখে নিশ্চই বুঝতে পেরে গিয়েছেন, এই সিনেমার গল্প কি নিয়ে। বছর কয়েক আগে কলকাতায় হইহই পড়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় দুর্গা… মনে আছে, কিভাবে এই আশ্চর্য সৃষ্টি দেখার জন্য জড়ো হয়েছিলেন কাতারে কাতারে মানুষ? পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় মাঝপথে পুজো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কলকাতা পুলিশ। পাভেল সেই নির্যাসটুকু নিয়ে নিজের মত করে একটি গল্প ফেদেছেন অসুর – এ। কিগান (জিৎ) একজন শিল্পী। ভাস্কর। সে নিজের মেজাজে থাকে।কাউকে পরোয়া করে না। এই জন্য তাকে শিক্ষকের পদ থেকেও বিতাড়িত করা হয়। তারপরই কিগানের মাথায় চাপে একটা আইডিয়া। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্গা বানাবে সে।এর জন্য কিগান সাহায্য নেয় অদিতির (নুসরত)। আর এই প্রক্রিয়ার মাঝে এসে দাঁড়ায় বোধি (আবির)। কেন? কি তাদের তিনজনের সম্পর্ক? এটা জানতে হলে ছবিটা দেখতে হবে। এবার অসুরের ভালমন্দ বলার আগে বলি, এই ছবির ইউএসপি। অভিনয়। তিন অভিনেতাই অনবদ্য অভিনয়ের নজির রেখেছেন গোটা ছবির জুড়ে। জিতের যেন কিগান হিসেবে পুনর্জন্ম ঘটেছে। আবিরও ভীষণ বিশ্বাসযোগ্য। নুসরত যথাযত। কিন্তু এই সিনেমা যে বিশালত্বের কথা বলে, তা যেন ঠিকমত পর্দায় প্রতিফলিত হয় না। পাভেল ঘটনা পরম্পরা এক সুতোয় বেঁধেছেন বটে, কিন্তু সেই বন্ধন আলগা থেকেছে। ঘটনাগুলো ঘটে যায়, কিন্তু দর্শকের মনে সঞ্চারিত হয় না। ফলে অসুরের চরিত্রগুলো প্রাণ পায়নি। সবচেয়ে বড় দুর্গা বলে যেটা দেখানো হল, সেটাও তো ভাবনার সঙ্গে খাপ খেলো না। অথচ কী দারুন একটা থ্রিলার বানাতে পারতেন পাভেল। প্রতিহিংসা আর মানসিক টানাপোড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কিগান, বোধিদের নিয়ে। কিন্তু এটা হয়ে থাকলো শুধু একটা সিনেমা। শেষ দশ মিনিট, ছবিটি একটা স্ফুলিঙ্গের জন্ম দেয় ঠিকই, কিন্তু তার আঁচ দর্শক আগে থেকেই পাবেন। আর ২০১৯ সালে কলকাতার প্রেক্ষাপটে শেষ দৃশ্যটি একটু বেমানান, সেটা পর্দায় দেখতে যতই ভাল লাগুক না কেন।