magazine_cover_12_october_18.jpg

Anandalok Review

অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা…

অন্ধাধুন

andhadhun-still

পরিচালনা: শ্রীরাম রাঘবন

অভিনয়ে: আয়ুষ্মান খুরানা, তব্বু, রাধিকা আপ্তে, অনিল সিন্‌হা

ট্রেলার দেখে এই ছবিকে একটা সোজাসাপটা থ্রিলার হিসেবেই মনে হয়েছিল। গল্পও আপাতদৃষ্টিতে বেশ সহজসরল। এক অন্ধ পিয়ানোবাদক। একটি খুন এবং সেই খুনের সাক্ষীকে লোপাট করার জন্য খুনিদের ব্যাকুলতা… পরিচালক শ্রীরাম রাঘবনের নতুন ছবি ‘অন্ধাধুন’কে যদি একেবারে সহজ কথায় ব্যাখ্যা করতে হয়, তার বিবরণ খানিকটা এইরকমই হবে। কিন্তু ‘এক হাসিনা থি’, ‘বদলাপুর’ প্রভৃতি ছবি খ্যাত এই পরিচালকের ছবিকে কোনও নির্দিষ্ট ঘরানা বা বাঁধাগতের ঘেরাটোপে যে সীমাবদ্ধ করা যায় না! ফলে সহজ কথায় ব্যাখ্যা করে কোনও লাভ নেই। এই ছবিতে থ্রিলারকে ছাপিয়ে যে জিনিসটি প্রাধান্য পেয়েছে, তা হল হিউমর… ডার্ক হিউমর। যদিও এই ছবিতে রোমাঞ্চের অভাব নেই। বলতে গেলে একেবারে ‘এজ অফ দ্য সিট’… কিন্তু তা-ও বলতে হয়, হাস্যরসের মধ্যে দিয়ে মানুযের হীন প্রবৃত্তিগুলিকে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। তৈরি করেছেন একটি রূপক…
‘‘অন্ধে হোনে কে প্রবলেমস তো সবকো পতা হ্যায়, ফায়দেঁ ম্যাঁয় বতাতা হুঁ…’’ এই ছবির মুখ্য চরিত্র আকাশের বলা এই কথাটিই ছবির প্রেক্ষাপটটি প্রকাশ করে। আকাশ একজন প্রতিভাবান পিয়ানোবাদক। নিজের কাজকে আরও উৎকৃষ্ট করার জন্য সে অন্ধ হওয়ার ভান করে। তাকে অন্ধ মনে করে অধিকাংশ মানুষই তার সামনে অম্লানবদনে অনেক কুকীর্তি করে যায়! সুতরাং বাধ্যতামুলক সৌজন্যের মুখোশের আড়ালে অনেকের প্রকৃত স্বভাবের সঙ্গেই সে পরিচিত। এমন সময়ই এক মক্কেলের বাড়িতে পিয়ানো বাজানোর আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়ে আকাশ…

শুরুতেই বললাম, ২০১০ সালের ফরাসি ছবি ‘দ্য পিয়ানো টিউনার’ এর ছায়ায় ‘অন্ধাধুন’কে সেই অর্থে মার্কামারা থ্রিলারের চেয়ে ব্ল্যাক কমেডি বললেই বেশি ভাল হয়। হলিউডে এই ঘরানার অনেক ছবি হলেও, এদেশে এইরকম ছবি খুব একটা হয়নি। ফলে দর্শকদের একটা নতুন জঁর-এর সঙ্গে পরিচিত করার ক্ষেত্রে শ্রীরাম রাঘবন ১৬ আনা সফল হয়েছেন। বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের সঙ্গে সাম্যঞ্জস্য রেখে কোনও রকম সংলাপ ছাড়াই স্রেফ মূকাভিনয় প্রয়োগ করে পরিচালক যেভাবে একটি খুন এবং প্রমাণ লোপাটের দৃশ্য তৈরি করেছেন, তার তারিফ না করে উপায় নেই। অভিনয়ের প্রসঙ্গে আসা যাক। প্রত্যেকের অভিনয়ই অনবদ্য। আয়ুষ্মান খুরানা এক কথায় অসাধারণ। বিগতদিনের এক তারকার (ট্র্যাজিকোমিক) ভূমিকায় অনিল সিন্‌হার চমকপ্রদ অভিনয় দর্শককে ‘সানসেট বুলেভার্ডের’ নর্মা ডেসমন্ডের কথা মনে করিয়ে দেবে। কিন্তু এই ছবির মুল পাওনা, তব্বু। তাঁর অভিনীত নির্মম, বিবেকহীন ‘সিমি সিনহা’ দর্শককে শেক্সপিয়রের লেডি ম্যাকবেথের কথা মনে করিয়ে দেয়। রাধিকা আপ্তে, ছায়া কদম, জ়াকির হুসেনরাও তাঁদের ভূমিকায় নিজের সেরাটুকু দিয়েছেন।

কিন্তু তা-ও বলতে হয়, এই ছবির সেরা ‘নায়ক’ শ্রীরামই। এত মুন্সিয়ানার সঙ্গে তৈরি খুঁতহীন একটি ছবির জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করেছিল দর্শক। যেখানে, অভিনয়, গল্প, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর… সব বিভাগ আলাদা আলাদা করে অনবদ্য হয়ে ছবিটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।