magazine_cover_12_november_18.jpg

 

Home review detail ধাঁধাময়

ধাঁধাময়

আলিনগরের গোলকধাঁধা

পরিচালক: সায়ন্তন ঘোষাল
অভিনয়: অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পার্নো মিত্র, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, গৌতম হালদার

কলকাতার অজানা মিথগুলোকে ছুঁয়ে দেখতে চান? হারিয়ে যেতে চান ধাঁধার রহস্যে? তাহলে অবশ্যই মন ভরাবে সায়ন্তন ঘোষালের ছবি ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’। কলকাতার অনেক প্রাচীন মিথকে নিয়ে এ ছবি বুনেছে তার রহস্যের গল্প। আপাত অর্থে, গল্পটি একটি অন্বেষণের, এক হারানো অমূল্য সম্পদের খোঁজের। ১৯৯০ সালের সময়পটকে ঘিরে নির্মিত হয় এ ছবির প্রথমাংশ। সে সময়ের মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের এক ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়িতে নিলামের দৃশ্য দিয়ে এ ছবির সূচনা। সেই নিলাম থেকে একটি পুরনো তলোয়ার কেনেন জনৈক সোমনাথ দাস। তারপর সোমনাথের মৃত্যুর হয় অত্যন্ত আকস্মিকভাবেই। কাহিনি এরপর বর্তমানের পটভূমিকায় ফিরে আসে। গল্পের কাহিনিপট ‘আলিনগর’ কলকাতা। সেই কলকাতার ইতিহাসের পরিক্রমার পথ ছুঁয়ে ছুঁয়ে কাহিনি তার রহস্যকে ঘনীভূত করে। ‘বাংলার আয়না’ গ্রন্থের লেখক আশুতোষ সিংহ (কৌশিক সেন) তাঁর মেয়ের (পার্নো) বন্ধু সোহমকে (অনির্বাণ) একটি সংকেতপূর্ণ চিঠি উদ্ধার করতে দেন। অন্যদিকে কৌশিক নিজে প্রতিদিনই একটি করে অদ্ভুত চিঠি পেতে থাকেন। আশুতোষের বাড়িতে থাকেন সাক্ষীগোপাল (পরাণ) যে বিগত অতীতের অনেক স্রোত-উপস্রোতের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। এর বিপরীতবিন্দুতে অবস্থান আবীর মিত্তলের (গৌতম হালদার), যিনি সমস্তরকম নেগেটিভ বৃত্তিগুলিকে আয়ত্ত করেছেন, ছবিতে তাঁর প্রকাশ যদিও খানিকটা মেলোড্রামাটিক। এভাবেই রহস্যের পরত পড়তে থাকে ছবির কাহিনিতে। কাহিনিটি আকৃষ্ট করে, কিন্তু অনেক তথ্য এত গতিময়তার সঙ্গে পরিবেশিত হয় যে, সেটা দর্শকদের কাছে পৌঁছয় অবিন্যস্তভাবে। যদিও সুতানুটির সেকালের নানা কথকতা ছবির সঙ্গে উঠে আসে। মূল চরিত্রে অনির্বাণের অভিনয় প্রশংসনীয়। একাধারে ধাঁধার বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান, অন্যদিকে ইতিহাসমথন— এ দুইয়ের সমন্বয় অনির্বাণের চরিত্রে। পার্শ্বচরিত্রে পার্নো, কৌশিক, পরাণ প্রত্যেকেই চরিত্রানুগ।