magazine_cover_12_february_18.jpg

Anandalok Review

বড্ড খুঁতখুঁত লাগছে যে!

আসছে আবার শবর
Shabar-big

অভিনয়: শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, অরুণিমা ঘোষ, গৌরব চক্রবর্তী, শুভ্রজিৎ দত্ত
পরিচালনা: অরিন্দম শীল
……

এ শবর অন্যরকম, এ শবর আলাদা। তবে ভাল কিন্তু বলতে পারছি না। কোথাও গিয়ে আগের শবরকে মন খোঁজে। কলকাতা শহরে হঠাৎ-ই খুন হয় কয়েকজন তরুণী। তদন্তে নামে কলকাতা গোয়েন্দা বিভাগের অফিসার শবর দাশগুপ্ত (শাশ্বত)। এরপর গল্প ঘোরে অন্যদিকে। চন্দননগরের বড়লোক বাড়ির মেয়ে রিঙ্কু (দিতি) ভালবাসে তার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী বিজয়কে (ইন্দ্রনীল)। এদিকে পাড়ার লোক, রিঙ্কুর পরিবারের লোক একেবারেই পছন্দ করে না বিজয়কে। ফুলশয্যার রাতে অস্বাভাবিক আচরণের জন্য বিজয়ের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। হঠাৎ খুন হয়ে যায় রিঙ্কু। দোষী সাব্যস্ত হয় বিজয়। জোড়া তদন্তের ভার পড়ে শবরের উপর। তদন্তে নেমে উঠে আসে আরও কিছু অন্ধকার তথ্য। শাশ্বতর অভিনয় নিয়ে কথা বলা অপ্রয়োজনীয়। তিনি খারাপ করলে না হয় দুছত্র বলতাম। মেদহীন অভিনয় কী, তা আবার দেখিয়ে দিলেন তিনি। যোগ্য সঙ্গত করেছেন শুভ্রজিৎ। দিতি, অনিন্দ্যও বেশ ভাল। এক কথায় বলতে গেলে অঞ্জনা বসু ছাড়া সকলেই নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। অঞ্জনা খামোকা ওভার অ্যাক্টিং কেন করতে গেলেন বুঝলাম না! সবই ভাল ছিল। কিন্তু তাল যে কাটল পরিচালনার দোষে! ঝকঝকে সেট, ক্যামেরার কাজ এবং বিক্রম ঘোষের অনবদ্য সঙ্গীতও সেই খুঁত ঢাকতে পারেনি। এই যেমন, শবর এবং তার দুই সঙ্গী খুনিকে ধরতে সকাল থেকে সন্ধে দৌড়ে গেল (ম্যারাথনেও এত দৌড়তে হয় কি?)। সিনেমার শেষে শবর হঠাৎ জ্ঞানবৃদ্ধ হয়ে একরাশ জ্ঞান দিতে গেল কেন, সেটা বোঝা গেল না। শবরের মতো মানুষের কাছে এটা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। আবেগপ্রবণ দৃশ্যে শবরের সংযত থাকাটাই তো তার ইউএসপি। আবার যেমন বোঝা গেল না নীপু নিজেকে গরিব বলে দাবি করলেও দামি বাইকে, পোশাকে, আচরণে টাকার অভাব চোখে পড়ে না। এবং সবশেষে অভিনেতা বাছাইয়ের সময় পরিচালকের আরও একটু যত্মশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। থ্রিলারের মানে তো শেষ মুহূর্ত অবধি খুনিকে চেনা যাবে না। কিন্তু সেটা যদি গায়ের রঙের কারণে মাঝেই বোঝা যায়, তাহলে সাসপেন্স মাঠে মারা যাওয়ার জোগাড় হয় যে। কোথাও গিয়ে একটু হতাশ হলাম কিন্তু।