Home review detail সত্যিই ‘অন্যরকম’!

সত্যিই ‘অন্যরকম’!

থ্রি স্টোরিজ়
3.-storiyed-still

অভিনয়: রিচা চড্‌ডা, রেনুকা শহানে, শরমান যোশী, পুলকিত সম্রাট, মাসুমী মখিজা, আয়েশা আহমদ, অঙ্কিত রাঠি
পরিচালনা: অর্জুন মুখোপাধ্যায়
……

ফরহান আখতারের প্রযোজনা কম বাজেটে অনেক ভাল-ভাল ছবি উপহার দিয়েছে আগেও। যদিও আজকের প্রচার-সর্বস্বতার যুগে ‘থ্রি স্টোরিজ়’কে নিয়ে সেরকম প্রচার কোথাওই চোখে পড়েনি। তা-ও এই ‘থ্রি স্টোরিজ়’ দেখতে যাওয়ার আগে খানিক সেরকম আশ্বাসই ছিল বটে। কারণ ট্রেলরেই মালুম হয়েছিল যে, এই সিনেমা একটু আলাদা।

‘থ্রি স্টোরিজ়’ সিনেমার নাম, ‘স্টোরি’ মানে এখানে তলা, কিন্তু একে আমরা অনায়াসে ‘থ্রি স্টোরিজ়’ও বা তিনটে গল্পও বলতে পারি। এক সূত্রধর বা গল্প কথকের জবানিতে শুরু হয় গল্প। সব মানুষেরই মুখের, তার এক্সপ্রেশনের পিছনে থাকে এক-একটা গল্প। আর সেই গল্প বলতে বসেই কথক উন্মোচিত করতে শুরু করেন এক একটা চরিত্রকে। ব্যবসার সূত্রে মুম্বইতে এসে বাড়ি খুঁজতে-খুঁজতে বিলাস নাইক (পুলকিত সম্রাট) হাজির হয় ‘মায়ানগর’-এ। আলাপ হয় প্রৌঢ়া গোয়ান ফ্লোরা ম্যান্ডোনসা (রেনুকা শাহানে) -র সঙ্গে। ম্যান্ডোনসার ঘরটা কিনে নেবে বলে বিলাস। বিলাসকে ম্যান্ডোনসা একা ঘরে বসে শোনাতে থাকে তার অতীত জীবনের কাহিনি। তারপর? প্রকাশ পেতে থাকে একের পর এক ‘ডার্ক সিক্রেট’, কাহিনির এক একটা মোচড়ে খুলে যেতে থাকে মুখোশের মুখ। সুতোর পর সুতো জুড়ে গল্প এগোয়। দেখা যায়, ওই ‘থ্রি স্টোরিজ়’ আসলে পরস্পরের সাথে খুব নিবিড়ভাবে সংযুক্ত।

বেশ কিছুদিন পর পরদায় দেখী গেল রেনুকা শহানেকে। অসাধারণ মাপা অভিনয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি কত বড় অভিনেত্রী। সিনেমায় তিনবার তাঁর বয়স বাড়ে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি নিখুঁত। পুলকিত যেটুকু সময় পরদায় থাকেন, রেনুকার বিপরীতে তাঁর অভিনয় নজর কাড়ে। শরমান যোশী তাঁর স্বল্প অভিনয়ে যথাযথ। নজর কাড়েন অত্যাচারিত স্ত্রীর ভূমিকায় মাসুমী মখিজা। পুরনো প্রেমিক শঙ্কর (শরমান যোশী) আর বর্ষা (মাসুমী মখিজা) –র বহুদিন পরে দেখা হওয়ার পরের অভিব্যক্তি তাঁরা দু’জনেই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রেমিক-প্রেমিকার ভূমিকায় নবাগত আয়েশা আহমদ, অঙ্কিত রাঠিও ঠিকঠাক। আর রিচা চড্‌ডার কথা তো আলাদা করে বলতেই হয়, কারণ তাঁর চরিত্রটি চমক জাগায় দর্শক-মনে।

পরিচালক অর্জুন মুখোপাধ্যায়ের গল্প বলার কায়দাও বেশ ভাল লাগে। নির্মেদ, বাহুল্যহীন একটা ছবি তিনি দর্শককে উপহার দিয়েছেন। সাদামাটার উপর ক্যামেরার কাজও ভাল। আবহসঙ্গীত শুরু থেকেই এই সিনেমার তার থ্রিলারের দিকে খানিক বেঁধে দেয়। সিনেমার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ক্লিনটন সেরেজ়ো আর আমজাদ নাদিমের কম্পোজ় করা গানও যথাযথ।

টুইস্ট আছে গোটা সিনেমা জুড়েই। কিন্তু ইতিবাচক যেটা, তা হল পরিচালক টুইস্টের ভিড়ে গল্পটাকে হারিয়ে যেতে দেননি। মেয়েদের উপর অত্যাচার আছে, কিন্তু তা নিয়ে কোনও বার্তা দিতে চাননি তিনি। বরং দেখিয়েই তাঁর দায়িত্ব শেষ। এবার বাকি কাজ দর্শকের। তবে হ্যাঁ, ‘ঘর’ বানানোর স্বপ্নটা কিন্তু তিনি দেখিয়েই যান।