magazine_cover_12_november_17.jpg

Anandalok Review

বাদশাহো

baadshaho-still

পরিচালক: মিলন লুথারিয়া
অভিনয়: অজয় দেবগন, ইলিয়ানা ডি’ক্রুজ়, ইমরান হাশমি, সঞ্জয় মিশ্র, এশা গুপ্ত, বিদ্যুৎ জামওয়াল

যাত্রাপথে সম্পদ চুরি। এই থিমনির্ভর ছবি নেহাত কম হয়নি। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন পরিচালক মিলন লুথারিয়ার ‘বাদশাহো’। এই ধরনের ছবির ক্ষেত্রে চুরির কায়দাটি কতটা অভিনব উপায়ে পেশ করতে পারছেন পরিচালক, মূলত তার উপরেই নির্ভর করে সিনেমার সাফল্য। সময়কাল হিসেবে পরিচালক বেছে নিয়েছেন এমার্জেন্সি পিরিয়ড অর্থাৎ ১৯৭৫ এর প্রেক্ষাপট। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমেই নিজের হাত-পা বেঁধে ফেলেছেন পরিচালক। তাই পুরো ব্যাপারটি যে একটু গোদা হবে, তাতে সন্দেহ নেই। তা-ও যথাসাধ্য করেছেন তিনি। কিন্তু স্যার, রাজস্থানকে তো আরও একটু সুন্দর করে ব্যবহার করতে পারতেন!
রানি গীতাঞ্জলির (ইলিয়ানা) পৈত্রিক ধন-সম্পদ সরকার বাহাদুরের নাম করে আপন করে ফেলতে চায় এক পলিটিশিয়ান। সেই কাজে সে লাগায় আর্মির এক উচ্চপদস্থ অফিসারকে। জেলে বন্দি করা হয় গীতাঞ্জলিকে এবং এই বিপুল ধন-সম্পদ (মূলত সোনা) একটি বিশেষ ট্রাকে করে ( যেটি সময় মতো হতে পারে বাঙ্কারও) দিল্লি পৌঁছনোর দায় বর্তায় আর্মি অফিসার সেহরের (বিদ্যুৎ) উপর, যে আবার গীতাঞ্জলির গোপন প্রেমিক! অন্যদিকে, গীতাঞ্জলি নিজের বিশ্বস্ত দেহরক্ষী ভবানীকে (অজয়, যার সঙ্গেও গীতাঞ্জলির একটি প্রেমের সম্পর্ক আছে!) দায়িত্ব দেয় সেই ট্রাকের সম্পদ যেন দিল্লি না পৌঁছয়, সেই ব্যবস্থা করতে। ভবানী তার গুরুজি (সঞ্জয়), ডালিয়া (ইমরান) ও সঞ্জনাকে (এশা) সঙ্গে নিয়ে নেমে পড়ে অভিযানে। তারপর যা হয়, ট্রাকের দখল কে পায়, সোনা কার ভাগ্যে জোটে, তা নিয়েই আড়াই ঘণ্টার টানাপোড়েন। তবে গল্পের শেষে রয়েছে একটি মোক্ষম চমক। সেটা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখলেই ভাল।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুলিয়েছেন ইলিয়ানা। মাহারানি সুলভ কোনও কিছুই তিনি আয়ত্ত্ব করতে পারেননি। মিলনের প্রস্তাবে ঐশ্বর্যা রাজি হলে গীতাঞ্জলির চরিত্রটি হয়তো অনেকটা প্রাণ পেত। অজয় দেবগনও যে ঢুলু ঢুলু চোখে সারাক্ষণ কোন অ্যাটিটিউড ধরে রাখতে চাইলেন, কে জানে! ইমরান-এশা মন্দের ভাল। তবে সবচেয়ে ভাল অবশ্যই সঞ্জয় মিশ্র। ভাল লাগে বিদ্যুৎ জামওয়ালকেও। ইমারানের সঙ্গে চেজ় সিকোয়েন্সে তিনি দুরন্ত। তবে সানি লিওনের আইটেমে ঝাঁঝ নেহাতই কম। আর হ্যাঁ, ক্লাইম্যাক্সে মারামারির পর্বটা আর একটু ছোট করলেই ভাল হত। কিছু না হোক, ৯০ কোটি থেকে কিছু টাকা তো বাঁচানো যেত!

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]