magazine_cover_12_november_17.jpg

Tolly Interview

‘প্রলয়’ মানুষের পছন্দ না হলে, আবার রিমেকে ফিরে যাব: রাজ চক্রবর্তী

‘প্রলয়’ থেকে নিজের নতুন ছবি, সব নিয়ে খোলামেলা রাজ চক্রবর্তী। শুনলেন সায়ক বসু

 

শরীর কেমন আছে? শুনলাম, নতুন ছবির কাজ করতে মেদিনীপুর গিয়ে নাকি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন?

আর বলবেন না, ওখানে যা ওয়েদার, এই রোদ, এই বৃষ্টি…ফলে ঠান্ডা-গরমে জ্বর এসে গিয়েছিল। এখন ভাল আছি একটু। আবার সামনের ১২ তারিখ থেকে কাজ শুরু করব!

 

সে কী, তখন তো আপনার ‘প্রলয়’ সবে রিলিজ় করবে! মানুষের রিঅ্যাকশন জানবেন না?

রিঅ্যাকশন আর জানার কী আছে! সে তো শুটিং করতে-করতেই জেনে নিতে পারব। মানুষের ভাল লাগলেই ভাল!

 

আপনার ঠিক কতটা এক্সপেক্টেশন ‘প্রলয়’ নিয়ে?

তা আছে কিছুটা। আসলে এটা একেবারে অন্য ধরনের গল্প তো, একটা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে! ফলে মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটা দেখার ইচ্ছে তো আছেই। আশা করি, ‘প্রলয়’ কোনওভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে প্রতিবাদ করতে। কিন্তু তার পাশাপাশি এটাও ঠিক, এই ছবি একেবারেই আমার ঘরানা থেকে বেরিয়ে আসা কোনও ছবি নয়। রাজ চক্রবর্তী তাঁর প্রতিটি ছবিকে যে প্যাকেজে মানুষের কাছে নিয়ে আসে, এটাও ঠিক সেরকমই।

 

তাই কি? কিন্তু মানুষ যে আশা করে আছেন, ‘রিমেকে’ যে রাজকে তাঁরা পর্দায় দেখতে পান, ‘প্রলয়’-এর মতো অরিজিনাল গল্পে অন্য রাজকে দেখবেন?

প্রথমেই বলি, প্রলয় কিন্তু আমার প্রথম অরিজিনাল গল্প নয়। ‘লে ছক্কা’ও অরিজিনাল ছিল। তা অনেকে সেটাকে অনেকভাবে নিয়েছেন! যাই হোক, আসলে কী জানেন, এই ভাবনাটা আমরা নিজেরা তৈরি করি। দর্শক হয়তো আশঙ্কিত হচ্ছেন, আমি যে ধরনের ছবি তৈরি করি, সেখান থেকে ‘প্রলয়’ তৈরি করতে পারব কিনা বা তাঁদের ভাল লাগবে কিনা। তাই তাঁরা দোটানায় আছেন! আমি মনে করি, সেই দোটানা ছবি শুরু হওয়া পর্যন্তও থাকবে। কিন্তু ছবির সেকেন্ড হাফের সময় একেবারে কেটে যাবে। তারপর তাঁরাই হল থেকে বেরিয়ে আরও অনেককে হলে ঢোকাবেন। এর জন্য আমাকে নিজের ঘরানা খুব একটা পাল্টাতে হবে না! তবে আমার খুব টেনশন নেই। এই ছবি মানুষের ভাল লাগলে, আরও অনেক অরিজিনাল ছবি তৈরি করব! আর খারাপ লাগলে, ফের ব্যাক টু রিমেক!

 

বুঝলাম। তা রাজ কি রাজনীতিতে পদার্পণ করছেন? একে তো বাজারে এরকম একটা গুজব আছেই, তার উপর আবার আপনার শেষ দু’টি ছবির (‘কানামাছি’ এবং ‘প্রলয়’) থিমই রাজনীতি! এটা পথ মসৃণ করা নয়?

না না, একেবারেই তা নয়। আসলে ছেলেবেলায় আমরা যখন বন্ধুরা একসঙ্গে হতাম, তখন মাত্র দু’টি বিষয় নিয়েই আলোচনা করতাম, ক্রিকেট এবং রাজনীতি। আজও তাই করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি রাজনৈতিক দলে বিশ্বাস করি। কোনও দল আমাদের সমস্যা সমাধান করতে পারে না। এটা আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। আর যেহেতু আমি ছবি তৈরি করি, তাই ছবির মাধ্যমে বার্তা দেওয়াটাই আমার কাজ। আমাদের স্বপ্নের রাজনীতিবিদ কেমন হবেন, সেই বার্তা। কী জানেন, আমার না ভয় লাগে, রাজনীতিতে এলে, আমি এইসব পলিটিশিয়ানদের মতোই হয়ে যাব বোধ হয়! কোনও পলিটিক্যাল দল নেই, যারা আমাকে ইন্সপায়ার করে। ফলে, রাজনীতিতে পদার্পণ, আ বিগ নো!

 

 তা এটা করতে গিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলকে নাকি বেশ ক্ষেপিয়ে দিয়েছেন তো! শোনা যাচ্ছে, আপনার ‘প্রলয়’-এর বক্তব্য নিয়ে অনেকের খুব সমস্যা ছিল! এমনকী, মুখ্যমন্ত্রীরও নাকি ব্যাপারটা অপছন্দ হয়েছিল?

না, তেমন কিছু নয়তো! পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার এ ব্যাপারে কোনও কথা হয়নি! আসলে ছবিটি যখন সেন্সরবোর্ডে গিয়েছিল, ওরা ছবির বক্তব্য নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। ফলে রিভাইজ়িং কমিটিতে পাঠিয়ে দেয়। তবে সেখান থেকে কোনও অবজেকশন আসেনি। শুধু একটি জায়গায় ছিল, পরানদার মুখে প্রস্রাব করে দেওয়া হচ্ছে। সেটা তাঁরা বাদ দিতে অনুরোধ করেন। ওটা একটা তিন সেকেন্ডের শট ছিল। এছাড়া কিছু বদল হয়নি।

 

যাই হোক, আনন্দলোকের ইন্টারভিউতেই আপনি বলেছিলেন যে, “আমরা পুরনো ছবির নামকে তখনই ব্যবহার করি, যখন নতুনের প্রতি বিশ্বাস একটু কম থাকে। ওই, পুরনো হিট নামকে এনক্যাশ করা আর কী!” তা  ছোট পর্দায় আপনার পরিচালিত ‘প্রলয় আসছে ’ তো খুব সাকসেসফুল ভেঞ্চার! এই নামটিকেই কি ছবিতে ‘এনক্যাশ’ করলেন?

এই রে…. না, সেভাবে ভাবিনি কিন্তু। আসলে আমি ‘প্রলয় আসছে’ সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি করেছিলাম! আর এক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু সেই নামটা তুলে আনলাম। কারণ, ‘প্রলয়’ ব্যাপারটা ঝড়ের মতো! সেই ঝড়কেই আমি মানুষের কাছে পৌঁছতে চাই। তবে, আমার অসুবিধেই হবে, যদি দর্শক এই নতুন ‘প্রলয়’কে পুরনো প্রলয় ভাবেন!

 

‘প্রলয়’ তো আগে আবির চট্টোপাধ্যায়ের করার কথা ছিল! পরে পরমব্রত এসেছেন! শুধু পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেট পাওয়া যাচ্ছিল না বলে, ছবির মুখ্য চরিত্রকেই পাল্টে ফেললেন?

ব্যাপারটাকে ওইভাবে দেখবেন না। তবে হ্যাঁ, এটা ঠিক, পরানদাকে ছাড়া ‘প্রলয়’ আমি তৈরি করতাম না। অথচ তখন পরানদার চোখের একটা সমস্যা হয়েছিল। ফলে ডেট পিছচ্ছিল। এদিকে আবির অন্য জায়গায় ছবির ডেট দিয়ে দিয়েছিল। অগত্যা, পরমের কাছে চরিত্রটি নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরম রাজিও  হয়ে  যায়। আমি আর কিছুই করিনি। শুধু পরমকে মনে রেখে চরিত্রটির অ্যাপ্রোচ এবং গ্রাফ একটু পাল্টে দিয়েছিলাম।

 

 আগের ছবি ‘কানামাছি’ ছিল এস কে মুভিজ়ের সঙ্গে। ‘প্রলয়’-এ এসে আবার পুরনো ‘সঙ্গী’ অর্থাত্‌ শ্রীভেঙ্কটেশের সঙ্গে হাত মেলালেন কেন?

‘কানামাছি’র সময় কিছু সমস্যা তো হয়েছিলই। রিলিজ়টা টাইমলি হয়নি। প্রোমোশনটাও নয়। গান দুটো থাকার কোনও যৌক্তিকতাই ছিল না। আসলে কঠিন পরিশ্রমের পর তো মনে হয়, জিনিসটা দর্শকরা দেখুন। কিন্তু সেটা না হলে রাগ হয়। আরে, সব সময় তো পয়সার মূল্যায়নটা করলে চলে না। ছবি তৈরিটা ২৫ শতাংশ। বাকিটা তো প্রোডিউসারের হাতে। সেই ভাবনাটা তো সকলের থাকে না। ফলে একটা সময় ভাল প্রোডাকশন হাউজ় জিনিসটা বড় হয়ে দাঁড়ায়ই!

 

আপনার পরবর্তী ছবিতে তো দেবের থাকার কথা ছিল? হঠাত্‌ কী হল আবার?

আসলে এই ছবিটা মেটিয়াবুরুজের উপর এমন একটা বিষয় নিয়ে, যেটা একটু কড়া ধাঁচের। সেখানকার ছেলেটারও একটু বয় নেক্সট ডোর হওয়া দরকার ছিল। কিন্তু দেবের মধ্যে একটা ‘হিরো-হিরো’ ব্যাপার আছে। আমি সেই ‘স্টারডম’টা চাইছিলাম না। তবে দেবকে বলেছিলাম, যদি চ্যালেঞ্জটা নিতে পারে। কিন্তু ওর পক্ষে সেটা সম্ভব হত না। শুরু থেকে কিছু ছবির কমিটমেন্ট ছিল হয়তো। আমি কখনওই চাই না, লোকে ভাবুক, দেবকে দেখতে যাচ্ছি। যাই হোক, এখন বনি বলে একটি ছেলে করছে।  ভালই দাঁড়াবে, আশা করি।

 

আজ বাইশ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাটানোর পর, রাজ চক্রবর্তী নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আমি প্রতিটি কাজের মাধ্যমেই নিজেকে প্রুফ করার চেষ্টা করি। এই ২২ বছরটা একটা আপ্রাণ প্রচেষ্টা। আর আমার কাছে ব্যাপারটা খুব ছোটও। আমি আগে পয়সা রোজগার করার জন্য যে পরিশ্রমটা করতাম, এখনও সেটাই করি। আমার কিন্তু তেমন খিদে নেই। আমার ইচ্ছে, শুধু ভাল কাজ করার। নিজেকে গ্রুম করতে ইচ্ছে করে। ‘প্রলয়’ সেই গ্রুমিং, সেই সাহসেরই ফল! আমার পরিশ্রমের মাত্রাটা বেড়ে গিয়েছে। শুধু মনে হয়, আমার যদি সিনেমা তৈরির শিক্ষাটা একটু বেশি থাকত, তা হলে বোধ হয় আরও ভাল হত!