magazine_cover_12_april_17.jpg

Tolly Interview

আমি মাঝে-মাঝে তো আমি কেঁদেও ফেলতাম

1

আজই সর্বত্র মুক্তি পেয়েছে ‘চিত্রা’। সেই ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন পূজারিণী। অভিনয়ে হাতেখড়ি থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মন খুলে কথা বললেন তিনি। শুনলেন স্বর্ণাভ দেব।

 
‘চিত্রা’য় আপনার চরিত্রটা কেমন?
আমার চরিত্রটা হল একজন কলেজ স্টুডেন্টের। যে সদ্য স্কুল পাশ করেছে। ছবিতে চিত্রার প্রেমটা বেশ ইম্পর্ট্যান্ট। চিত্রার লাইফে প্রেম সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। যেখানে সমাজও যুক্ত, সঙ্গে ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ও। ছবির মূল বক্তব্য হল ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট। কিন্তু মূল প্লটটা হল থ্রিলার।
 
‘চিত্রা’য় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ কীভাবে হল?
এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে আমি ডেবিউ করলেও টলিউডে এটাই আমার প্রথম ছবি নয়। এর আগে ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এ আমি অনিন্দ্যদাকে (চট্টোপাধ্যায়) অ্যাসিস্ট করেছি। মৈনাক ভৌমিকের ‘কলকাতা কলিং’-এ অভিনয় করেছিলাম। সেই সময় থেকেই আমি একটা ভাল চরিত্রের সন্ধানে ছিলাম। এরকম সময়েই হঠাত্ একদিন আমার কাছে এই ছবির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সাকেত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন আসে। প্রথমে আমি সাকেতকে চিনতে পারিনি। কিছুটা কনফিউজ় ছিলাম। তার আগেই ‘চিত্রা’ চরিত্রের জন্য অডিশন নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এই চরিত্রের সঙ্গে মানানসই কাউকে নাকি অভিজ্ঞান (পরিচালক) বা সাকেত খুঁজে পাচ্ছিল না। সেসময়ে ওদের সঙ্গে দেখা করতেই প্রথমদিনে আমাকে স্ক্রিপ্ট দিয়ে সংলাপ পড়তে বলেছিল সাকেত। আমার সংলাপ পড়ার সময়েই হাততালি দিয়ে উঠেছিল অভিজ্ঞান। পরে শুনেছি সেই সময়েই ও আমাকে চরিত্রটার জন্য সিলেক্ট করেছিল।
 
শুটিং সেটে নাকি সবাই আপনার লেগপুল করত?
ছবির সেটে সকলেই আমার পিছনে লাগত। এমন লেগপুল করত যে আমি মাঝে-মাঝে তো আমি কেঁদেও ফেলতাম। তবে সকলের বয়স কাছাকাছি হওয়ায় আমাদের মানসিকতা একই রকম ছিল। শুটিং হয়ে যাওয়ার পরে তো সারারাত আমরা আড্ডা মারতাম।
 
02

প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পরে কেমন ফিলিং হয়েছিল?
আসলে সেই অনুভূতি ফিল করার আগেই যেন সময়টা কেটে গিয়েছিল। আজই হয়তো বুঝতে পারব এরকম একটা ব্যাপার ঘটে হয়েছে, অথবা একমাস পরে সেটা বুঝতে পারলাম। আজকে যেমন ভেবে খুব ভাল লাগছে। কিন্তু প্রথম যখন অনুভব করলাম আমি একটা ছবির নায়িকা ততক্ষণে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করে ডেলিভার করতে শুরু করে ফেলেছি। এত অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপারটা ঘটে গিয়েছে যে ফিল করারও সময় পাইনি।
 
অভিনয় শিখেছেন?
ছোট থেকেই আমি থিয়েটার করতাম। ‘চার্বাক’ ও ‘জাহ্নবী সংস্কৃতি চক্র’ দুটো দলেই অভিনয় করেছি। ‘জাহ্নবী সংস্কৃতি চক্র’ বিভিন্ন কম্পিটিশনে অংশ নিত। সেই সুবাদেই ডিমাপুরে একটি জাতীয় স্তরের কম্পিটিশনে আমি বেস্ট অ্যাকট্রেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম। ওই সময়ে (২০১১) আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম স্টাডিজ়ে মাস্টার্স করছিলাম। সেই সময়েই ঠিক করলাম অভিনয়টা যখন প্যাশনেটলি করছি তাহলে এবার ফিল্মে ট্রাই করা যেতে পারে। হঠাত্ করেই সুজিত সরকারের সঙ্গে আলাপ হয়। উনি আমাকে ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এ কাজ করার প্রস্তাব দেন। সেই সুবাদেই অনিন্দ্যদার সঙ্গে দেখা করি।
 
সেটা তো ক্যামেরার পিছনের গল্প। ক্যামেরার সামনে এলেন কীভাবে?
এখন তো ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন অ্যাকটিং স্কুল গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু অভিনয়টা আমি শিখেছি থিয়েটার থেকেই। ফলে অভিনয়ের প্রাথমিক পাঠ তো আমার ছিলই। তাই নিজেকে গ্রুমিং করে আরও পরিণত হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। সেই জন্য আদর্শ পরিবেশ হল ক্যামেরার পিছনেই। কারণ সেখান থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। আর আপনার সামনে যখন একঝাঁক দুর্দান্ত অভিনেতারা অভিনয় করছেন, সেটা দেখে শেখা যায় অনেকটাই। তাই ওই সুযোগটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি ঠেকে শেখার থেকে দেখে শেখার চেষ্টা করি। ওখান থেকে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও স্টেজে অভিনয়ের পার্থক্যটা বুঝতে পারলাম। সেই সময়েই আমি বিভিন্ন জায়গায় পোর্টফোলিও জমা দিতে শুরু করেছি। হঠাত্ একদিন মৈনাক ভৌমিকের প্রোডাকশন থেকে আমাকে ফোন করে বলা হল ‘আপনাকে সিলেক্ট করা হয়েছে’। আরও গুরুত্বপূর্ণ গোটা শুটিং শেডিউলেই আমি ওই টিমের সঙ্গে ছিলাম।
 
কখনও মডেলিং করেছেন
না, আগে কখনও মডেলিং করিনি। ইন ফ্যাক্ট সেটা নিয়ে কখনও ভাবিওনি। তবে সম্প্রতি মুম্বইতে একটি শোয়ে শো স্টপার হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। তবে আমি প্রফেশনালি মডেলিং করতেও চাই না।
 
3

ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা
আমাদের প্রফেশন তো চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় রয়েছে। আগামী দিনে কীভাবে সবকিছু চলবে কেউই জানি না। তবে আপাতত আরও দুটো ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। শঙ্খ ঘোষের ‘সুন্দরী কমলা’। সেখানে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং রাজেশ শর্মাকে। অন্যদিকে সৃজন বর্ধনের ‘পোস্টমাস্টার’ ছবিতে রতনের চরিত্রেই অভিনয় করছি। আরও দু’-তিনটে ছবির কাজ নিয়ে কথা চলছে কিছুই এখনও ফাইনালাইজ় হয়নি।
 
ছোট থেকেই কি অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল?
খুব ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল। আসলে দিদা, পিসিও স্টেজে অভিনয় করেছেন। তবে আমার বাবা-মা-কে কনভিন্স করতে গিয়ে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছিলাম। রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হওয়ায় প্রথমে কিছুটা বাধা ছিল। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। অভিনয় সে অর্থে আমার কাছে নতুন না হলেও প্রেস মিট বা ইন্টারভিউয়ের সঙ্গে খুব একটা পরিচিত ছিলাম না।
 
এরকম রক্ষণশীল পরিবারের হওয়ায় তো বেশ বাড়িতে কনভিন্স করতে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন?
আমি সর্বভারতীয় স্তরে বেস্ট অ্যাকট্রেস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরে বাবা-মা-র বিশ্বাস ছিল অভিনয়টা আমি করতে পারব। তারা ভেবেছিলেন একটা সুযোগ দিয়ে দেখা যাক। আমার পরিবারের রীতি হল খুব ছোটবেলাতেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়। আমারও তো বিয়ের সম্বন্ধ এসেছিল। কিন্তু আমি বাড়িতে বলেছিলাম, এসব তো রয়েছেই কিন্তু আমাকে একটু দেওয়া হোক, আমি নিজের জীবনটাকে ইচ্ছেমতো সাজিয়ে নিতে চাই। যদি না পারি তাহলে এই অপশন রইলই। অভিনয় জগতে আসার পরে এত ভাল মানুষদের সংস্পর্শে এসেছি, যে কখনও আমার এখানে আনকমর্ফটেবল লাগেনি। অনিন্দ্যদা, উপলদা, সুদেষ্ণাআন্টি, রানাদা, মৈনাকের মতো মানুষদের সঙ্গে মিশেছি। অনিন্দ্যদা তো আমার বাড়িতেও এসেছেন। যে কোনও প্রফেশনেই ভাল খারাপ দুটোই রয়েছে। তাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মানেই খারাপ এটা ধরে নেওয়াটা বোকামি। খারাপটাকে এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।
 
4
আপনি কখনও প্রেমে পড়েননি?
প্রথমবার স্কুলে পড়ার সময়ে প্রেমে পড়েছি। ওটা সিরিয়াস কিছু ছিল না। ইনফ্যাচুয়েশন বলা যায়।
 
আর এখন?
এই মুহূর্তে সবটা ডিসক্লোজ় করতে চাই না। তবে ডেফিনিটলি একজনকে আমি পছন্দ করি। সে আমায় প্রোপোজ় করেছিল। তবে এখনই সবটা বলতে চাই না।
 
এখন বাড়ির প্রতিক্রিয়া কী? আর বিয়ের কথা বলছে না?
এখনও বাড়িতে আমাকে মাঝে-মাঝেই বিয়ের জন্য তাড়া দেয়। তবে পরিবারের সকলেই বুঝতে পারছেন এই মুহূর্তে আমি সিরিয়াসলি কাজটা করতে চাই। ফলে সেভাবে আমাকে চাপ দেওয়া হয় না। বাবা-মা-ও যেন আমার ব্যবহারে দুঃখ না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখি। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা পেতে সময় দিতে হবে। আমি সেই ধৈর্য রাখতে চাই।
 
এই মুহূর্তে আপনাকে যদি একটা বর দেওয়া হয় আপনি কী চাইবেন?
আমি প্রচুর কাজ করতে চাই। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গাটা তৈরি করতে চাই। ভাল পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখতে চাই। সেটাই আমার প্রায়োরিটি।