magazine_cover_27_march_17.jpg

Tolly Interview

প্রসেনজিত্-রাইমার আড্ডা

আজই মুক্তি পেল প্রসেনজিত্-রাইমা অভিনীত ‘ক্ষত’। সেই ছবি ও নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলাপচারিতায় মাতলেন প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়রাইমা সেন

সাক্ষী থাকলেন স্বর্ণাভ দেব

prasenjit-1-new

প্রসেনজিত্ এই মুহূর্তে তো আপনি স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন…‘শঙ্খচিল’, ‘প্রাক্তন’, ‘মহানায়ক’…
প্রসেনজিত্: আপনি দেখবেন এই প্রতিটি ছবির টার্গেট অডিয়েন্স আলাদা। বিভিন্ন ধরনের ছবিতে আলাদা-আলাদা চরিত্রে আমার অভিনয় যে মানুষের ভাল লেগেছে এটা বড় পাওনা। এক কথায় বলতে পারি আই অ্যাম ব্লেসড। অভিনয়টা ছাড়া আমি তো অন্য কিছু করতে পারি না। ৩৫ বছর কাজ করার পরেও মানুষের ভালবাসা আমার সঙ্গে রয়েছে। এটা বিরাট পাওয়া। কখনও বলি না, আমি প্রতিভাবান অভিনেতা কিন্তু হলফ করে বলতে পারি পরিশ্রমে কোনও ফাঁক রাখি না। ইশ্বরও হয়তো সেটা বুঝতে পারেন। প্লিজ় প্রার্থনা করুন, এই ফর্ম যেন বজায় রাখতে পারি। সকলে আমার কাজ দেখেন। আমাকে ভালবাসেন।

 

‘ক্ষত’ তেও তো আপনার অন্যরকম চরিত্র…
প্রসেনজিত্: হ্যঁা, এরকম চরিত্র খুব একটা দেখা যায় না। চ্যালেঞ্জিং শব্দটা বলতে চাই না। কিন্তু সত্যি খুব ডিফিকাল্ট ক্যারেকটার। এই ছবিতে আমি একজন লেখকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাম, নির্বেদ লাহিড়ি। ডার্ক গল্প লেখেন। ভীষণ জনপ্রিয়। আমরা সমাজের নিয়মের মধ্যে বাধা থাকি। কিন্তু কিছু মানুষ প্রথাগত ছক না মেনে চলে নিয়ম ভাঙতে চায়। নির্বেদ লাহিড়ি বলেন, ‘আমি আজকে যা লিখি লোকে সেটাই কাল করে।’ বোল্ড ক্যারেক্টার। সে মনে করে, খিদে পেলে যেমন খাবার খাই, তেমনই ওর মনে হয় যেটা করতে ইচ্ছে হচ্ছে সেটা করবই।

prasenjit-2

এই ছবির প্রস্তাবটা নাকি অনেক দিন আগেই পেয়েছিলেন?
প্রসেনজিত্: ঠিকই। কমলেশ্বর (মুখোপাধ্যায়) আমাকে প্রায় আট-ন’ বছর আগে ‘ক্ষত’র স্ক্রিপ্ট শুনিয়েছিলেন। সেই সময়ে ডাক্তারি ছেড়ে এসে সবে এখানে কাজ শুরু করেছে। আমি বলেছিলাম, ছবিটা অবশ্যই করব। কিন্তু একটু অপেক্ষা কর। কারণ, এই সাবজেক্ট সেই সময় দর্শকদের রিলেট করা কঠিন হত। এতদিনে দর্শকরা অনেক তৈরি হয়ে গিয়েছেন। এতদিনে ছবির আঙ্গিকও অনেকটাই বদলেছে। মাঝের সময়টায় অভিনেতা, পরিচালক, কাজের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর কমলেশ্বরের কাজ করার সবচেয়ে সুবিধে হল ও অ্যাক্টরস ডিরেক্টর।

সম্প্রতি আনন্দলোক-এ পাওলি বলেছেন, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়কে এত বোল্ড এর আগে দেখা যায়নি…
প্রসেনজিত্: আমার মনে পড়ে না বাংলায় এরকম দুঃসাহসিক চরিত্র দেখেছি বলে। বিদেশি ছবিতে অবশ্যই দেখেছি। কিন্তু ভারতে ইরোটিক থ্রিলার খুব কমই হয়েছে।

 

আপনি কি মনে করেন টলিউডে এই ছবি একটা নতুন দিক খুলে দেবে?
প্রসেনজিত্: আমি সেভাবে বলব না। কিন্তু ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর আগে ওই ধরনের ছবি কি এখানে দেখা গিয়েছে? ‘তিন ইয়ারি কথা’ রিলিজ় করতেও আমার তিনটে বছর সময় লেগেছিল। দিনে-দিনে সিনেমার ভাষা পাল্টাচ্ছে। সেখানে আমরা কেন বাধা গতে বাধা পড়ে থাকব? আমি এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে থাকি। সেক্সুয়ালিটি, শরীর, দেহ যদি স্ক্রিপ্টে ডিম্যান্ডে করে তাহলে সেটা তুলে ধরতেই হবে। দর্শকরা তো ওয়র্ল্ড সিনেমা দেখেনই। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে যদি হাফ হার্টেড সিনেমা করা হয় সেটা আমাদের অন্যায় হবে। সৃজিতের সাহস ছিল বলে ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর মতো ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছিল। মানুষ তো অ্যাকসেপ্ট করেছিলেন।

 

আচ্ছা, রাইমা আপনার চরিত্রটা সম্পর্কে বলবেন?
রাইমা: এই ছবিতে আমি নির্বেদ লাহিড়ি স্ত্রী সৃজিতার চরিত্রে অভিনয় করছি। একজন শিক্ষিত মহিলা। নির্বেদ লাহিড়ির সঙ্গে ওঁর ইন্টেলেক্ট মেলে বলেই দু’জনে বিয়ে করেছে।

 

এই ছবিতে আপনার আর পাওলির সম্পর্কটা কী?
রাইমা: ছবিতে পাওলি আমার ছোটবেলার বন্ধু। পাওলির সঙ্গে রাহুলের বিয়ে হয়। একসময় গিয়ে বোঝা যাবে না পাওলির চরিত্রটা সত্যিই কোনও বাস্তব চরিত্র নাকি নির্বেদ লাহিড়ির ক্রিয়েশন। বেশ জটিল ব্যাপার।
প্রসেনজিত্: সৃজিতার চরিত্রে অনেক ডায়মেনশন রয়েছে। এখানে সে তার বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাচ্ছে। খুব শক্ত মনের মহিলা। অন্যদিকে স্বামীর প্রতিও তার অগাধ প্রেম রয়েছে। বাকিটা জানতে সিনেমাটা দেখতে হবে।

prasenjit-34

এতদিন কাজের পরে আপনাদের দু’জনের কেমিস্ট্রিটা কতটা দানা বেঁধেছে?
প্রসেনজিত্: ‘অটোগ্রাফ’-এর পরে দু’-একটা ছবি বাদ দিলে (‘অপরাজিতা তুমি’, ‘প্রাক্তন’) দেখবেন আমার ছবিতে কোনও নায়িকা নেই। এই ছবির কাস্টিং নিয়ে যখন বসা হয়, প্রথমেই আমাদের মাথায় রাইমার নাম আসে। কমলেশ্বরও মনে করেছিল বুম্বাদার পাশে একজন শিক্ষিত স্ত্রীয়ের চরিত্রে রাইমাই সবচেয়ে অ্যাপ্রোপিয়েট। একটা সময়ে টলিউডে জুটি বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন চরিত্র অনুযায়ী কাস্ট ঠিক করা হয়। ‘প্রাক্তন’-এ দেখবেন আমার স্ত্রী হিসেবে অপাকে (অপরাজিতা আঢ্য) দুর্দান্ত মানিয়েছে। একটা সময়ে তো আমি রোম্যান্টিক হিরো ছিলাম। তখন আমার স্ত্রী হিসেবে কেউ অপাকে ভাবতে পারতেন? কিন্তু আজকে বিষয়টার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শিবুকে (শিবপ্রসাদ) বলেছিলাম, এমন কাউকে কাস্টিং কর যে অসামান্য অভিনেত্রী। সেই সুবাদেই অপাকে নেওয়া হয়েছিল। আজ দেখুন তার ফলাফল। এখন গুরুত্বপূর্ণ, কোন চরিত্রে কাকে মানাচ্ছে? অভিনয়টাই মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এই ছবিতেও রাইমা, পাওলি নিজেদের চরিত্রে মানানসই। ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর শেষ দৃশ্যে তো আমি সাহস করে পরমকে সংলাপটা বলেছিলাম, ‘আমার ছেলে থাকলে তোমার মতো পুলিশ অফিসার হত’, তার মানে কি আমি বাবা হয়ে গেলাম? তারপরেও তো ‘প্রাক্তন’-এ কাজ করেছি। ‘জাতিশ্মর’-এ কুশল হাজরার ওরকম গেট আপ করার পরে ফের নায়ক হিসেবে আমার প্রত্যাবর্তন অনেকেই ভাবতে পারেননি।

 

পাওলি আর রাইমাকে একসঙ্গে…
প্রসেনজিত্: আমার সঙ্গে এমন কাউকে ভাবতে হবে স্ক্রিনে দেখে যাকে মনে হবে ম্যাচিয়োর। আমি কিন্তু বয়সের দিক থেকে বলছি না। ‘চোখের বালি’তে যখন রাইমার সঙ্গে কাজ করলাম তখন ও একেবারেই নরম কাদার মতো। বিগত ১০-১২ বছরে অভিনেত্রী হিসেবে রাইমা অনেক উন্নতি করেছে। অর্পিতাকে বাদ দিলে ঋতুও (ঋতুপর্ণা) অনেক ম্যাচিয়োর। আর বাকি যারা আছে তাদের মধ্যে ভাবতে হবে। পাওলি শ্যামাঙ্গী আর রাইমা অসম্ভব ফর্সা। এটা ছবির ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘ক্ষত’-র কাস্ট ঠিক করতে প্রায় ১০-১২ দিন আলোচনা করতে হয়েছে। সাধারণত, রাইমা সেন বলতেই একেবারে শিক্ষিত, পলিশ, সফিস্টিকেটেড একজনের কথা মনে পড়ে। কিন্তু ‘শব্দ’তে ওকে দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একটা লোয়ার মিডল ক্লাস গৃহবধূর চরিত্রে ওর অভিনয় অনবদ্য। ও নিজেও জানে না, কী করেছে! ঋত্বিকের কথা আমি বলছিই না। ও বিশ্বমানের অভিনেতা। এটাই আজকের পরিচালকদের কৃতিত্ব। অন্যদিকে পাওলিও খুব ভাল অভিনেত্রী।

prasenjit-4

‘মহানায়ক’-এ পাওলির কাজ সকলের নজর কেড়েছে কিন্তু রাইমা
প্রসেনজিত্: রাইমার করার কথা ছিল। কিন্তু ওর একটা ডেটের সমস্যা হয়েছিল। দর্শকদের কাছে ইমেজারি রিফ্লেক্ট করত। কিন্তু আমরা ওইভাবে রিফ্লেকশন করতে চাইনি। আমি তো এই ধারাবাহিকে উত্তমকুমারের মতো কথাও বলিনি। আমি যখন সেটে ঢুকতাম লোকে বলত বিশ্বজিতের এন্ট্রি হচ্ছে। কারণ আমার সঙ্গে বাবার চেহারের মিল আছে। রেট্রো লুকে মানুষ আমাকে বাবার সঙ্গে তুলনা করছে। রাইমা করলে অনেক বেশি মিসেস সেনের মতোই দেখাত। কিন্তু আমরা সেভাবে ভাবিইনি।

 

রাইমা মহানায়ক-এ কাজ করতে না পারায় কোনও আক্ষেপ রয়েছে?
রাইমা: একেবারেই না। আমাকে এই ধারাবাহিকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরেকটা প্রজেক্টের সঙ্গে ডেট ক্ল্যাশ করছিল। এই নিয়ে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। তা ছাড়া পাওলি ‘মহানায়ক’-এ খুব ভাল অভিনয় করেছে। (পাশ থেকে প্রসেনজিত্ বললেন,) আরেকটা সমস্যা তো বলছিই না। (হেসে) দেখুন ছোটদের এমন কিছু প্রবলেম রয়েছে যা এই লোকটাই (নিজেকে দেখিয়ে) জানে।

prasenjit-raima-text

প্রসেনজিত্ আপনাকে কতটা সাহায্য করেছেন?
রাইমা: বেশ কিছু ডিফিকাল্ট দৃশ্য ছিল। সেখানে বুম্বাদার ভীষণ সাহায্য করেছেন। অবশ্য বুম্বাদা প্রতিটি ছবিতেই হেল্প করেন। তবে কমলেশ্বর খুব ভাল গাইড করেন, তাই কোনও সমস্যা হয়নি।
পাশ থেকে প্রসেনজিত্: ধাক্কা মারার দৃশ্যটা বল।
রাইমা: হ্যঁা, একটি ঝগড়ার সিনে আমি ধাক্কা মেরেছিলাম। বুম্বাদা উল্টে পড়ে গিয়েছিল।
প্রসেনজিত্: আমি জানতাম পড়ব পাথরের উপরে পড়ব। কিন্তু রাইমা ভীষণ ভয় পেয়েছিল ধাক্কাটা মারার পরে।
রাইমা: সত্যিই, আমি ভাবলাম বুম্বাদার বোধহয় মাথা ফেটে গিয়েছে। আমি ভীষণ জোরেই ধাক্কাটা মেরেছিলাম।

 

পড়ে যাওয়ার পরে ভয় লাগেনি?
প্রসেনজিত্: ও তো কেঁদে ফেলেছিল। আমার কিছুই হয়নি। এদের সঙ্গে মজা করছিলাম।

 

কিন্তু অনেকেই বলেন, সেটে প্রসেনজিত্ নাকি ভীষণ সিরিয়াস…
প্রসেনজিত্: কী রে বল না, কখন আমাকে সিরিয়াস হতে দেখেছিস?
রাইমা: না, না এটা ঠিক নয়।
প্রসেনজিত্: আমি ওদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেলামেশা করি। তবে হ্যঁা, আমি ওদের অভিভাবকও। আমি যখন সেটে ঢুকি ওদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমার মনে আছে, ‘অটোগ্রাফ’-এর সেটে প্রথমদিকে দেখতাম সবাই আমাকে দেখে তটস্থ হয়ে থাকত। শেষে আমি ওদের একজনের থেকে সিগারেট চেয়ে খেলাম। তারপরেই সম্পর্কটা সহজ হয়ে গেল। এটা আমারই দায়িত্ব। প্রসেনজিতের ইমেজটা ভেঙে বেরিয়ে আমি ওদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমাকে করতেই হবে। তা ছাড়া আমি ভীষণ ধৈর্যশীল। কেউ ভুল করলে আমি ওদের বকুনি না দিয়ে মোটিভেট করার চেষ্টা করি। আমি ক্যামেরার পাশে বসে আমার ডায়লগের কিউ দিই। কারণ, আমি জানি এটা টিম এফোর্ট। এখানে প্রত্যেকের সেরাটা নিংড়ে বের করতে হবে। মুম্বইতে একটা ছবির করার সময়ে সম্প্রতি আমি আর কে কে মেনন প্রত্যেককে কিউ দিচ্ছিলাম। ক্ষত-তেও আমার শট হওয়ার পরে পাওলির শটের সময়েও একটা সমস্যা হচ্ছিল। আমি গিয়েই কিউ দিতে আই কন্ট্যাক্ট সঠিক হল। সিনটাও দুর্দান্তভাবে শেষ হল।

 

‘ট্র্যাফিক’-এর পরে বলিউডে কোনও ছবি করছেন?
প্রসেনজিত্: সেপ্টেম্বরে ‘ত্রিদেব’ রিলিজ় করবে। আরেকটা ছবির কাজও শেষ। নীরজ কবির (ব্যোমকেশ-এ ভিলেনের ভূমিকায় ছিলেন) সঙ্গে একটা ছবি শুট করলাম। ছবিতে আমি একজন ভারতীয় সেনা অফিসার। নীরজ পাকিস্তান সেনা অফিসার। হিমাচল প্রদেশে ১৭ দিন শুটিং করলাম। আর দু’দিন শুট বাকি। ছবিটা বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে পাঠানো হবে। এখানে দেখা যাবে একজন সেনা অফিসার মানুষ হিসেবে কেমন।

প্রসেনজিত্: আপনার পাশাপাশি রাইমাও বলিউডে কাজ করছেন।

 

আপনি কী মনে হয়, টলিউডই রাইমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি হওয়া উচিত নাকি বলিউডে ফুল ফ্লেজেড কনসেনট্রেট করা উচিত্?
প্রসেনজিত্: ২০ বছর আগে আমার মুম্বইতে পাড়ি না দেওয়ার একটা কারণ, এখানকার ছবির কমিটমেন্ট। আরেকটা জিনিস আমি মনে করি, আমার উপর প্রচুর প্রযোজক টাকা ঢেলেছেন। তাদের প্রতিও আমার একটা দায়বদ্ধতা ছিল। শুধুমাত্র বেশি অর্থের লোভে অন্যত্র পাড়ি দিতে হবে, এটা আমার দর্শন নয়। তা ছাড়া এখানকার শক্ত জমি অহেতুক হাতছাড়া করতে যাব কেন! আজ আমার উপর সেই চ্যালেঞ্জটা নেই। এখন খোলা মনে ‘সাংহাই’, ‘ট্র্যাফিক’-এর মতো ছবি করতে পারি। ওরা বলেন, ভারতে আর কোনও অভিনেতাকে দেখেননি, যে মেনস্ট্রিম থেকে অন্যধরনের ছবিতে এত সহজে শিফ্ট করতে পেরেছেন। একটা সময় ছিল যখন নায়িকার পিছনে গুণ্ডা দৌড়লে সিনেমা হলে সিটি পড়ত, কারণ সবাই জানে এবার প্রসেনজিতের এন্ট্রি হবে। আমার কলার দেখলেও লোকে সিটি মারতেন। আমাকে এই লোভটা বিসর্জন দিতে হয়েছে। অমিতজী (বচ্চন) অনেক বয়স পেরোনোর পরে এটা করেছিলেন। রাইমার ক্ষেত্রে আমি বলব, টলিউডের ওকে দরকার। ওকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। সবকিছু ছেড়ে ওর মুম্বইতে যাওয়া ঠিক নয়।

 

আপনার কথা স্বার্থপরের মতো শোনাচ্ছে। আপনি শুধুই ইন্ডাস্ট্রির দিকটাই তো দেখছেন…
প্রসেনজিত্: সত্যিই ইন্ডাস্ট্রির রাইমাকে প্রয়োজন। ‘চোখের বালি’ থেকে শুরু করে রাইমা যেভাবে নিজের ফোকাস ধরে রেখেছে, তার জন্যই ও আজ এত খ্যাতি পেয়েছে। রিজিয়নাল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেও নিজের পরিচিতি গড়ে তোলা যায়। এটা ওর বলিউডেও কাজটা অনেক সুবিধে করে দেবে। বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে বাংলার মুখ হিসেবে যখন আমাকে উপস্থিত করা হয়, নিজেকে গর্বিত মনে করি।

 

কিন্তু রাইমা মুম্বইতে পরপর কাজ করতে গিয়ে যদি টলিউডে সময় দিতে না পারে?
প্রসেনজিত্: আমি তো বলিউডে কাজ করতে বারণ করিনি। আমার মনে হয় ডেট অ্যাডজাস্টমেন্টটা গুরুত্বপূর্ণ । একেবারে টলিউড ছেড়ে যাওয়াটা ঠিক হবে না। এটা দু’দিক থেকেই ভুল হবে। তার বদলে দু’জায়গাতেই সমানতালে কাজ করুক না। আজ রাইমা যে জায়গায় পৌঁছেছে সেটা ওঁর নিজের কৃতিত্ব। ওর ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে যত কথাই হোক না কেন, ওর মা কিংবা দিদিমা ওকে এই জায়গায় নিয়ে আসেননি। ও নিজের প্রচেষ্টায় এই জায়গাটা অর্জন করেছে। আমরা মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল একটা জায়গায় কাজ করি। সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে কেন হঠাত্ ছেড়ে চলে যাবে?
রাইমা: আমিও একমত। তা ছাড়া মুম্বইতে আমি তো সিলেক্টিভ ছবিতে কাজ করি। টলিউড ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।

 

রাইমা বাণিজ্যিক ছবিতে সেভাবে আপনাকে দেখা যায় না….
রাইমা: আমি অন্যধারার ছবিতে কাজ করেই খুশি। সেখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখন হঠাত্ করেই মেনস্ট্রিম ছবিতে কাজ করতে গেলে দর্শকরা আমার সম্পর্কে কী ভাববেন?
প্রসেনজিত্: একটা কথা বুঝতে হবে, রাইমা সেনকে টলিউডে ইনট্রোডিউস করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। ফলে ওর ব্র্যান্ডটাই তো অন্যরকম। ওকে এর মর্যাদা দিতে হবে। ঋতু বলত, আমার মেয়ে নেই, রাইমা আমার মেয়ে। কোনও অভিনেত্রী যদি এই আশীর্বাদ পেয়ে যায়, তারপরে কোন ছবি করল, আর কোন ছবি করল না তাতে কিছু এসে যায় না।

 

রাইমা সাধারাণত দেখা যায় দু’জন নায়িকার মধ্যে তেমন বন্ধুত্ব হয় না। কিন্তু আপনি আর পাওলি তো খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু…
রাইমা: আমার কারও সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতা নেই। আমি সব সময়েই নিজের সঙ্গেই কম্পিটিশন করে এসেছি। আমার আর পাওলির বন্ধুত্ব অনেকদিন ধরেই। আমরা মুম্বইতে থাকার সময়েই ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব দানা বাঁধে। ও যখনই মুম্বই যায় আমাকে জিজ্ঞেস করে তুমি কি এখানে? আমরা গেট টুগেদার করি। পার্নোও আমার ভাল বন্ধু।

 

রাইমা এই ছবিতেও নাকি আপনি আর পাওলি ভীষণ দুষ্টুমি করেছেন?
প্রসেনজিত্: এটা আমি বলতে চাই। কেওনঝড়ে আমাদের ট্রেন ছিল সকাল ছ’টায়। এসি ফার্স্ট ক্লাস। আমার সঙ্গে দুই নায়িকা। সহযাত্রী ছিল আর একজন ভদ্রলোক। প্রথমেই ওরা বলতে লাগল, বুম্বাদা ওকে তাড়াও। আমি ভাবছি এটা হয় নাকি। আরে বাবা, টিকিট কেটে উঠেছেন তো! আমি ভদ্রলোকের সঙ্গে গল্প করতে লাগলাম। ভদ্রলোককে তাড়ানোর ফন্দি আটল কেন জানেন? সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ দেখলাম পাওলি আর রাইমা উপরের বাঙ্কে উঠে দু’জনে মিলে আধঘণ্টার মধ্যে একটা গোটা ওয়াইনের বোতল শেষ করল। আমি তখন চা খাচ্ছি। তারপরে ওরা ঘুমলো।

prasenjit-5
রাইমা প্রতি বছর আপনার বিয়ের খবর শোনা যায়। সত্যি কবে বিয়ে করছেন?
প্রসেনজিত্: মোক্ষম প্রশ্ন। এটা আমি বলছি। ওটা আর হবে না। ফাইনালি দেখবেন বুড়ি হয়ে গিয়েছে। তারপর আমার বাড়িতে এসে থাকবে।
রাইমা: তোমরা এত চাইছ আমি বিয়ে করি, তাই নজর লেগে গিয়েছে। যখন হবে তখন হবে। বিয়ে ভাগ্যের ব্যাপার। আপনারা কেন চান আমি বিয়ে করি? এই মুহূর্তে বিয়ে করছি না। শান্তি (হেসে)। আপাতত কেরিয়ারেই মন দিতে চাই।

 

প্রসেনজিত্ রাইমাকে বিবাহিত জীবন সম্পর্কিত টিপস…
রাইমা: হ্যঁা বল-বল।
প্রসেনজিত্: দায়িত্ব নিয়ে বলছি দু’-একটা বিষয় বাদ দিলে ওর বিবাহিত জীবন খুব সুখী হবে।

আপনাদের আগামী ছবি ‘ক্ষত’র জন্য শুভেচ্ছা রইল।
থ্যাঙ্ক ইউ।