magazine_cover_12_mayl_19.jpg

 

Home sports পাহাড়চ়ূ়ড়োয় সাহসিনী

পাহাড়চ়ূ়ড়োয় সাহসিনী

Piyali-Basak-26.4.2019-imgকে বলেছে বাঙালি মেয়েরা সাহসিনী নন? কে বলেছে পাহাড়চূড়োর স্বপ্ন তাঁরা দেখেন না? পিয়ালি বসাকের সঙ্গে আলাপ হলে এই ধারণা বদলাতে বাধ্য। চন্দননগরের এই আঠাশ বছরের মেয়েটি অঙ্কে স্নাতক, পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা, আর পাহাড়চূড়ো জয় করার স্বপ্ন তাঁর রক্তে। পাঁচ বছর বয়সে প্রথম স্বপ্ন দেখার শুরু। হিলারি আর তেনজিং-এর গল্প পড়ে আর পাঁচটা শিশুর মতোই পিয়ালি দেখেছিলেন হিমালয়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের হাত ধরেই হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে ২০০৮ সালে পর্বতারোহণে বেসিক কোর্স। তারপর ২০১০ এ অ্যাডভান্স কোর্স করা। ২০১১ তে উত্তরাখন্ডের কামেট পর্বতশৃঙ্গ (৭৭৫৬ মিটার), ২০১৫ তে সিকিমের তিনচেনকাং শৃঙ্গ (৬০১০ মিটার) জয়। তারপর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মাসে প্রথম বাঙালি এবং দেশের প্রথম অসামরিক ভারতীয় হিসেবে পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলুতে (৮১৫৬ মিটার) পা রাখেন তিনি। Piyali-Basak-26.4.2019-img2 এছাড়াও রাজ্য সরকারের মাউন্টেনিয়ারিং ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস সংস্থার পক্ষ থেকে মহিলাদের দল নিয়ে আয়োজিত অভিযানের অংশ ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে ক্লাউড বার্স্টের জন্য সফল হয়নি ভাগীরথী-২ অভিযান। এবার তিনি পা রাখতে চলেছেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরে। তাও আবার কোনওরকম অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়াই! এর কারণ? মানাসলু অভিযানে অক্সিজেন সিলিন্ডার মেশিনে ত্রুটি ধরা পড়ায় বেশ সমস্যা পোহাতে হয় তাঁকে। তখনই জেদ চাপে বিনা অক্সিজেনে শৃঙ্গজয়ের। এভারেস্টে পা রাখার ইচ্ছে তাঁর বরাবরই ছিল, সেই ইচ্ছেপূরণে ২ এপ্রিল, ২০১৯ যাত্রা শুরু হয়েছে তাঁর। শেষ পাওয়া খবর অনুসারে ২২ এপ্রিল নেপালের থিয়াংবোচে থেকে খানিকট এগিয়ে ডিবোচে গ্রামে রাত্রিবাস করেছেন নিজের টিমের সঙ্গে, পরের দিন রওনা দিয়েছেন ডিংবোচে গ্রামের দিকে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পা রাখবেন সাগরমাথা থুড়ি এভারেস্টে। তবে এখানেই শেষ নয়, একই অভিযানে এভারেস্টের সঙ্গে লোৎসে শৃঙ্গ জয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে পিয়ালির। রয়েছে অর্থাভাব, অভিযানের টাকার অনেকটাই এখনও জোগাড় হওয়া বাকি। তবুও অদম্য পিয়ালি! আপাত শান্ত জীবনের নীচে যে এক দুর্দমনীয় প্রাণ লুকিয়ে থাকতে পারে, পিয়ালি বসাকের মতো মানুষেরা তা মনে করিয়ে দেয় সততই।

শ্রেয়া ঠাকুর

Piyali Basak | Mountaineering | Everest Expedition | Chandannagar | Nepal