magazine_cover_12_october_18.jpg

 

Home review detail পুরনোদিনের সেই স্মৃতিকথা

পুরনোদিনের সেই স্মৃতিকথা

ওপেন টি বায়োস্কোপ

পরিচালনা: অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়
অভিনয়: ঋদ্ধি সেন, ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়, ধী মজুমদার, রাজর্ষি নাগ, সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত, কৌশিক সেন, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়

ধন্যবাদ অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। প্রথম পরিচালিত ছবিতেই এক টুকরো ছোটবেলা উপহার দেওয়ার জন্য। যদিও এই ‘ছোটবেলা’ সব বয়সের দর্শকদের নয়, তাও। আসলে ‘ওপেন টি…’র মাদকতাই বোধ হয় তার সারল্যে। নয়ের দশকের কলকাতা এবং মানুষজনের যে সারল্যের গল্প পরিচালক সারল্যের সঙ্গে সত্ভাবে বলেছেন তাতে খুব সহজেই আকৃষ্ট হওয়া যায়। না-ই বা থাকল কোনও নিদিষ্ট গল্প, তাতে কী? ফোয়ারা যেভাবে দূরবীন দিয়ে বাবাকে ‘দেখতে’ চায়, পাশের বাড়ির মেয়েটিকে বন্ধুর হয়ে চিঠি দিতে গিয়ে প্রেমে পড়ে, সাতদিন ব্যাপী সাইকেল চালানোর উত্‌সবে মাতে বা বন্ধুদের সঙ্গে সোনাগাছিতে পরিচিত গুরুজনদেরই অপরিচিত চেহারাটা দেখে, তাতে কখন যেন একটা না থাকা গল্পও আদতে গল্প হয়ে ওঠে। অনিন্দ্য খুব মুন্সিয়ানার সঙ্গে বাঙালির হারিয়ে যাওয়া নস্ট্যালজিয়াগুলোকে উস্কেছেন। ফলে ছবির শুরু থেকেই ফোয়ারা, কুচুয়া, চরণ, তিতির বা গোপেশ্বরদা-রা খুব কাছের, চেনা মানুষ বলেই মনে হয়। তবে এই চেনা চরিত্রগুলোকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে সাহায্য করেছে ঋদ্ধি, ঋতব্রতরা। এই নবীন প্রজন্মের অভিনেতারা যে কী দুর্দান্ত শক্তিশালী, তা তাদের স্ক্রিন প্রেজ়েন্সই বুঝিয়ে দেয়। আর এই নবীনদের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়েছেন রজতাভ, পরান, সুদীপ্তা, কৌশিকের মতো তথাকথিত পোড়খাওয়া শিল্পীরাও। ফলে ছবি শেষ হলেও, এই চরিত্রগুলো মনে একটা মন খারাপের রেশ রেখেই দেয়। কিন্তু তা বলে কি এই ছবিতে কোনও অসঙ্গতি নেই? নিশ্চয়ই আছে। স্পোর্টস হওয়ার সময় বোম খামোকা বোম কেন ফাটল, কেনই বা শুধু চরণ ছাড়া অন্য কারও গায়ে কোনও আঁচ পর্যন্ত লাগল না, এসব প্রশ্নের কোনও সদুত্তর পাওয়া যায় না। এমনকী ফুটবল ম্যাচ হওয়ার কারণটাও তেমন জোরালোভাবে তৈরি হয় না। কিন্তু এসব কিছু প্রশ্নই। কারণ ওই…‘ওপেন টি…’র সততা এবং সারল্যই সব খটকাগুলোকে ঢেকে দেয়। সঙ্গে শুধু থেকে যায় একরাশ মনখারাপ করা নস্ট্যালজিয়া আর অসাধারণ কিছু গান, যেগুলো অনেকদিন আগেই ছোটবেলার সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছে।

স্বপ্ননীল রায়, শ্যামবাজার