Music Interview

মুক্তি পাচ্ছে ‘কৌশিক ও নগর সংকীর্তন’-এর দ্বিতীয় মিউজ়িক ভিডিয়ো। তার আগে কৌশিক চক্রবর্তী কথা বললেন সায়ক বসুর সঙ্গে

Standy-Maya-big

‘মায়া লাগাইছে’ আমাকে আমার মূলে ফিরিয়েছে। লোকসঙ্গীতের প্রতি ভালবাসার মূলে: কৌশিক চক্রবর্তী

 

প্র: আগামী পরশুই তো ‘মায়া লাগাইছে’ মিউজ়িক ভিডিয়োর অফিশিয়াল রিলিজ়… উত্তেজনা কতটা?
উ: প্রতিটা গান রিলিজ়ের সময়ই উত্তেজনাটা থাকে। তা সে ‘পৃথিবী’র গানই হোক বা ‘কৌশিক ও নগর সংকীর্তন’-এর। ফলে প্রাথমিক একটা উত্তেজনা ছিলই। কিন্তু এবার ‘আনন্দলোক’ এক্সক্লুসিভ মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত হওয়াতে উত্তেজনাটা বেশ খানিকটা বেড়ে গিয়েছে। ফেসবুকে আমার টাইমলাইনটা দেখলেই বুঝতে পারবেন, লাইক আর শেয়ারের বন্যায় উত্তেজনাটা বাকিদের মধ্যেও কীভাবে ছড়িয়েছে! আশা করি, ‘মায়া লাগাইছে’ সাফল্যের দিক থেকে আমাদের আগের মুক্তি পাওয়া গান ‘লোকে বলে রে’-কেও ছাপিয়ে যাবে।

 

প্র: কিন্তু এটা তো ঠিক, এই মিউজ়িক ভিডিয়ো মুক্তির সাহসটা ‘লোকে বলে রে’-ই দিয়েছে…
উ: তা তো বটেই। একটা ভিডিয়োর ভিউ এক মিলিয়ন ছাড়াচ্ছে, এটা তো যে –কোনও শিল্পীকেই সাহস জোগাবে। আসলে আমার বাড়ির রিহার্সাল-ঘরটায় সবসময় চিৎকার-চেঁচামেচি হয়। কেউ না কেউ, কোনও না কোনও সময় হল্লা করছেই। তো আমি একটা প্রজেক্ট শুরু করি, ‘নয়েজ় জ়োন ডায়েরিজ়’ নামে। ওই ঘরে গান রেকর্ড করা আর কী! সেই ডায়েরির প্রথম গান ছিল ‘লোকে বলে রে।’ আর দ্বিতীয় এটা।

 

প্র: তবে ‘পৃথিবী’র সূত্রে আপনি যে ধরনের গান গেয়ে অভ্যস্ত, সেখানে কিন্তু বিশ্বাসই করা সম্ভব নয় যে, লোকসঙ্গীতও আপনি এত ভাল গান…
উ: আসলে ছোটবেলায় আমার গানের শিক্ষা তো লোকসঙ্গীত দিয়েই। চন্দ্রশেখর রায়ের কাছে শিখতাম। পরে কলেজে এসে রকসঙ্গীত, বাংলা ব্যান্ডের প্রতি ভালবাসা জন্মায়। লোকসঙ্গীতের প্রতি ভালবাসাটা আমি কোনওদিনই অবহেলা করতে পারিনি। ফলে একদিকে ‘পৃথিবী’র কাজ চললেও, অন্যদিকে আমি আমার ছাত্রদের নিয়ে লোকসঙ্গীত, বাউলগানের সঙ্গে যাপনটা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। পরে মনে হয়, এই গানগুলোকে নিয়েও তো কাজ করা যেতে পারে। তাই আমার ছাত্ররা আধুনিক ও লোক আঙ্গিকের গান নিয়ে ‘কৌশিক ও নগর সংকীর্তন’-এর কাজ শুরু করে। আর আমি যোগ দিই। বলতে পারেন, এটা আমার সোলো প্রজেক্ট। আলাদা একটা সত্তা। শেখার তো কোনও শেষ নেই। তাই ‘পৃথিবী’র কাজ আরও ভাল করে করার জন্য, বলতে গেলে খানিকটা স্বাদবদল করতেই, লোকসঙ্গীতে ফিরেছি আমি।

 

প্র: কিন্তু নির্দিষ্টভাবে ‘মায়া লাগাইছে’-কেই দ্বিতীয় মিউজ়িক ভিডিয়ো হিসেবে বাছলেন কেন?
উ: বাংলাদেশের গানে ভীষণ মেঠো, মিষ্টি একটা ব্যাপার খুঁজে পাই আমি। ফলে শাহ আবদুল করিম, হাসন রাজা, লালন ফকিরের গানগুলো এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়। সত্যি বলতে কী, লোকসঙ্গীত নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন, তাঁদের সিংহভাগই তো বাউলগান নিয়ে মেতে থাকেন! শুরুর দিকে আমারও এরকম একটা প্রবণতা ছিল। পরে মনে হল, একটু অন্যদিকে গেলে কেমন হয়? সেই কারণেই শাহ আবদুল করিমের এই গানটি… গানটি আমি শুনেছিলাম বছর দশেক আগে বাংলাদেশের এক বন্ধু মিলটনের কাছে। তখন থেকেই সুরটা কানে লেগেছিল। পরে যখন গান বাছতে বসি, তখন আমার দলের ছাত্ররা বলেন, ‘আমরা ৬-৮ তালের গান গেয়েছি। এবার একটু ৪-৪ তালের গান বাছা যাক।’ একটু স্বাদবদল হবে… সেই কথা ভেবেই এই গানটা ফাইনাল হয়ে যায়। একটু প্রোগ্রেসিভ মিউজ়িক হিসেবে গানটি তৈরি করেছি আমরা। মানে, নিজেদের অ্যারেঞ্জমেন্ট দিয়ে। কিন্তু এটা বলতে পারি, মূল গানটির প্রতি কোনওরকম অশ্রদ্ধা হয়নি।

 

প্র: এই গানটির রেকর্ডিং, অ্যারেঞ্জমেন্ট, মিক্সিং… সব তো নিজের হাতে করেছেন!
উ: আসলে গানটা শেষ পর্যন্ত কী রকম শুনতে লাগবে, সেটা আমার মাথায় পরিষ্কার ছিল। তাই অন্য কাউকে বোঝানোর চেয়ে নিজে অ্যারেঞ্জ করে ফেলাটা অনেক সহজ বলে মনে হয়েছিল। তা ছাড়া বাজেটও একটা ব্যাপার। আমাদের এই ভিডিয়োগুলোর তো কোনও প্রোডিউসর নেই। টাকা পয়সা না থাকলে এই স্বাধীনতাগুলো নিজেকেই নিয়ে নিতে হয়।

 

প্র: আচ্ছা, এতে ‘পৃথিবী’র কৌশিক এবং ‘নগর সংকীর্তন’-এ কৌশিকের মধ্যে কখনও ঠোকাঠুকি হবে না?
উ: আমি নিজের অবস্থানটা এখানে পরিষ্কার করতে চাই। ‘পৃথিবী’ আমার ব্যান্ড। আমার পরিবারের মতো। খানিক ক্ষেত্রে পরিবারের চেয়েও বেশি। অন্যদিকে ‘নগর সংকীর্তন’ আমার ছাত্রদের তৈরি একটা ব্যান্ড। ওটাকে অবহেলা আমি করব না। কিন্তু জীবনে যদি কোনওদিন প্রায়োরিটির প্রশ্ন আসে, তা হলে আমার অবস্থানটা এভাবেই পরিষ্কার থাকবে।

Our Recent Interview