magazine_cover_12_october_18.jpg

Music Interview

গানের জগতে যাঁদের কিছুমাত্র অবদান আছে, তাঁরাই আমার সঙ্গীতের প্রেরণা: বিশাল মিশ্র

‘মুন্না মাইকেল’ বীরে দি ওয়েডিং, থেকে ‘রেস ৩’-এর ‘সেলফিশ’ … তাঁর সুরে এখন নাচছে নব প্রজন্ম। বলিউডের নতুন সুরকার বিশাল মিশ্রর সঙ্গে আড্ডা দিলেন ইন্দ্রাণী ঘোষ

Visha-big2

আপনার গান শেখার শুরুর দিনগুলোর কথা জানতে ইচ্ছে করছে…
যখন থেকে আমার বোধ তৈরি হয়েছে, তখন থেকেই গান আমাকে টানত। গান আসলে একটা প্রসেস, যার সঙ্গে আমার যোগাযোগ বহুদিনের। বাবা মা গান গাইতেন না। কিন্তু সারাদিন বাড়িতে গান চলত। ফলে যোগসূত্রটা ঠিক কবে থেকে শুরু, বলতে পারব না!

কারও কাছে প্রথাগতভাবে শিখেছেন?
গান শিখতে কোনওদিনই কারওর কাছে যাইনি। আমি যা পারি, তা নিজে-নিজেই শিখেছি। এটা আসলে ঈশ্বরের ইচ্ছা, তাঁরই আশীর্বাদ। গান জিনিসটা আমার সহজাত। আমি মনে করি যা কিছু আমার সঙ্গে হচ্ছে বা আমি যা-যা করছি, সবই ঈশ্বরের আশীর্বাদ। আর আমি এর জন্য তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

কিন্তু কোনও একটা ইন্সপিরেশন বা প্রভাব তো থাকে…
সেরকম নির্দিষ্ট করে কেউ নেই, আমার ইন্সপিরেশন সব্বাই। যাঁরা-যাঁরা আজ পর্যন্ত গান গেয়েছেন, গানের জগতে যাঁদের কিছুমাত্র অবদান আছে, এমনকী যাঁরা চেষ্টা করেছেন, তাঁরাও আমার ইন্সপিরেশন।

আপনি তো ‘ভারত কী শান— সিঙ্গিং স্টার’ রিয়েলিটি শো-তেও অংশ নিয়েছিলেন…
আমার এক বন্ধুকে অডিশনে ছাড়তে গিয়েছিলাম। অডিশনে খুব একটা ভিড় ছিল না। আর আমি তখনও গান গাইতাম। সেই বন্ধুই আমাকে বলে অডিশনে অংশ নিতে। লোভ হয়েছিল খুব, ফলে অডিশনে গেলাম। তারপর… জিতেও গেলাম। ওই শোয়ের জন্যই সুযোগ হল মুম্বই আসার। ২০১৩ সালে উত্তরপ্রদেশ থেকে মুম্বই আসার পর বুঝেছি, এটা এমন একটা শহর, যে তোমাকে একদম নিজের করে নেবে। কিন্তু খানিকটা সময় নেবে।

কখনও ভেবেছিলেন যে গানকেই পেশা হিসেবে নেবেন?
নাহ্। এমনকী, এখনও এটা নিয়ে ভাবি না। আমি তো শুধু আমার যেটা ভাল লাগে, সেটাই করছি। আমি খুবই ভাগ্যবান যে তার জন্য আমার খানিক নাম, পয়সা হচ্ছে।

Visha-big

উত্তরপ্রদেশ থেকে আসার কথা বললেন… বাড়ি কোথায় আপনার?
লখনউয়ের কাছে উন্নাওতে। সুন্দর জায়গা…

মুম্বইতে এসে কারও কাছে গিয়েছিলেন সুযোগের জন্য?
কারওর কাছেই যাইনি। সবাই আমার কাছে এসেছেন! আর সকলের কাছ থেকেই সাহচর্য পেয়েছি। যাঁর-যাঁর সঙ্গে দেখা করেছি, সবাই আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছেন। আসল ব্যাপারটা হচ্ছে ঠিক সময়ে ঠিক লোকের সঙ্গে দেখা হওয়া। সেটা আমার বরাবরই হয়ে এসেছে। এতজনের কাছ থেকে এত সাহায্য পেয়েছি, আমি সবার কাছেই খুব ঋণী।

গানকে যে আপনার কেরিয়ার হিসেবে বাছলেন, আপনার বাড়ির লোকের বক্তব্য কী ছিল?
তাঁরা কেউই প্রথমে খুব একটা নিশ্চিত ছিলেন না। যেহেতু আমি কোনওদিনই গান শিখিনি। এমনিতেই সবাই যখন শোনে যে আমি গান শিখিনি কারওর কাছে, তখন তাঁরাও অবাক হন। ভাবেন আমি বুঝি মিথ্যে কথা বলছি। আমি কিন্তু সত্যিই কোথাও শিখিনি। ঈশ্বর শুরু থেকেই আমার উপর খুব দয়ালু। আর আমি যে এখন খানিক বিখ্যাত হয়েছি, এটা বাড়ির সবাইকে বেশ তৃপ্তি দিয়েছে।

বলিউডে প্রথম কাজের সুযোগ এল কী করে?
প্রথম কাজের সুযোগ এসেছিল প্রভুদেবার কাছ থেকে। তামিল, তেলুগু, মলায়লম, কন্নড় আর হিন্দি এই পাঁচ ভাষায়…

আপনার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কোনটাকে ধরা যায়?
এখনও তো টার্নই করেনি। সোজাই চলছে দিব্যি (হাসি)…

তাহলে বলুন শুরু থেকে বলিউডে আপনার জার্নিটা ঠিক কেমন? একদম শুরুতে ‘মুন্না মাইকেল’ ‘বীরে দি ওয়েডিং’, থেকে যে আজ ‘রেস ৩’-এর ‘সেলফিশ’ পর্যন্ত! এই যে আস্তে-আস্তে বিখ্যাত হচ্ছেন…
একই তো। আলাদা সেরকম কিছু নয়। প্রথম গানটা তৈরি করতে যতটা মজা হয়েছিল, যতটা আনন্দ পেয়েছিলাম, এখনও তো তাই… কিছুই বদলায়নি…

তা এই খানিক বিখ্যাত হওয়াটাকে কীভাবে উপভোগ করছেন?
আমি কিন্তু নিজেকে বিখ্যাত কিছু ভাবিই না! আমি তো এখনও সেই শার্টটাই পরি, যেটা আমি আগে পরতাম… আমি খুব সহজ, সাধাসিধে একটা মানুষ…

সকলেই তো মুম্বই আসার পর নিজেদের কষ্ট, স্ট্রাগলের কথা বলেন। কিন্তু আপনাকে তো দেখা যাচ্ছে না সেরকম স্ট্রাগলের কথা কিছু বলতে… নিশ্চয়ই আপনারও কিছু স্ট্রাগল আছে!
স্ট্রাগল তো এখনও আছে। অনেক জিনিস আছে, যেগুলো আমি পেতে চাই, কিন্তু পাইনি। আমার কাছে স্ট্রাগল হচ্ছে, সেগুলো পাওয়া। সেগুলো পাওয়ার জন্য যে জার্নি, ওটা আমার কাছে স্ট্রাগল… এটা খুব সুন্দর একটা জিনিস। যদি ৬০ বছর অবধি বাঁচি, তাহলে হয়তো এখনকার দিনগুলোর কথা ভাবব। মনে করব যে এরকম ছিল দিনগুলো… তখন হয়তো জীবনকে আরও বেশি করে উপভোগ করব। কিন্তু গান আমার কাছে বেণচে থাকার একটা প্রসেস, আর গান ছাড়া আমি কিচ্ছু জানি না।

কীরকম গান কম্পোজ় করতে ভালবাসেন?
সবরকম। আমি খুবই লোভী একটা মানুষ… যতরকম কাজ করা যায়, সবই করতে চাই। আর মেলোডি ছাড়া তো কিছু হয় না। খুব দ্রুত লয়ের গানেও মেলোডি লাগে। আর গান যেন খুব কঠিন না হয়। গানকে সহজ হতে হবে, যেন আমিও গাইতে পারি, আপনিও গাইতে পারেন। আমি এরকম গান তৈরিরই চেষ্টা করি।

আপনি তো ১৫-২০টা বাদ্যযন্ত্রও বাজাতে পারেন। গান না শিখেও কীভাবে ওগুলো শিখলেন?
আমি মিউজ়িক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট বাজানোও কিন্তু কোথাও শিখিনি। আমার মনে হয় যন্ত্রগুলো আমাকে বোঝে, কারণ আমি আমার মনের কথাই ওদের কাছে বলতে যাই।

আপনার প্রিয় কম্পোজ়ার কে?
যিনিই গান বানান, তিনিই আমার প্রিয়। সকলেরই কিছু না কিছু বৈচিত্র্য আছে। তবে জগজিৎ সিং আর পঞ্চমজির গান ভালবাসি।