magazine_cover_12_June_19.jpg

Music Interview

তনিষ্ক বাগচী সাক্ষাৎকার

tanishk-asif-big

বর্তমানে বলিউডে সুরের যাদুকর বললে তাঁর কথাই বলতে হয়। কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ডিজে হিসেবে আর সেখান থেকে তিনি এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সাউন্ড রেকর্ডিস্ট এবং মিউজ়িক কম্পোজ়ার। কিন্তু তাঁর যাদু অন্য জায়গায়। যে কোনও পুরনো গানকে তিনি রিক্রিয়েট করে এক নতুন মোড়কে পেশ করেন। তা সে হালফিলের ‘আঁখ মারে ও লড়কি আঁখ মারে’ হোক কিংবা ‘তু চিজ় বড়ি হ্যায় মস্ত-মস্ত’। তিনি, তনিষ্ক বাগচী। মুম্বইয়ে বসে তনিষ্ক কথা বললেন আসিফ সালামের সঙ্গে।

 

পুরনো গানকে রিক্রিয়েট করে আপনি নতুনভাবে তৈরি করেন। কিন্তু আপনার এই কাজ নিয়ে সমালোচনা কম হয় না। এমনিতেই লোকদের একটা প্রবণতা থাকে পুরনো জিনিসের প্রশংসা করা আর নতুন কিছুকে উৎসাহ না দেওয়া…
আমার কাজটা কিন্তু সত্যি খুব কঠিন। পুরনো গানকে রিক্রিয়েট করাটা একটা বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমদিকে প্রচুর সমালোচনা সহ্য করেছি। আসলে কী জানেন তো, আমি এমন সব গানকে বেছে নিই যে গানগুলো একজন মানুষের বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাই শ্রোতারা এই গানগুলো নিয়ে এমনিতেই খুব সেনসেটিভ। তবে আমার কম্পোজ়িশন যদি আপনি শোনেন তা হলে বুঝতে পারবেন, আমি পুরনো গানের ফ্লেভারটা ধরে রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু তার সঙ্গে নিজের মতো করে একেবারে নতুন গান তৈরি করি। এটাও কিন্তু শিল্প। ধীরে-ধীরে শ্রোতারা আমার কাজের ধরনটা বুঝতে পেরেছেন এব প্রশংসাও করছেন। হালফিলে লোকদের সমালোচনা কিছুটা হলেও কমেছে। ‘সিম্বা’র ‘আঁখ মারে’, ‘বদ্রিনাথ…’-এর ‘তম্মা তম্মা’, ‘বাদশাহো’র ‘মেরে রশকে কমর’, এই গানগুলোর তুমুল জনপ্রিয়তা কিন্তু সেই কথাই বলে। আমি আশা করি ভবিষ্যতে লোকেরা নতুন কাজকে আরও খোলা মনে স্বাগত জানাবেন।

 

আচ্ছা কোনও গান নিয়ে কাজ করার আগে, সেই গানের অরিজিনাল কম্পোজ়ারের সঙ্গে কথা বলে নেন? তাঁদের কোনও পরামর্শ নেওয়া হয়?
অবশ্যই। যদি সেই গানের সুরকাররা জীবিত থাকেন, তা হলে তাঁদেরকে জানানো হয় যে তাঁদের অমুক গানটা রিক্রিয়েট করা হচ্ছে। তাঁদের গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া আমি এগোই না। আর আমার ক্ষেত্রে বরাবরই অরিজিনাল কম্পোজ়াররা আমার কাজের প্রশংসা করেছেন, আমাকে সাহস দিয়েছেন।

 

আপনার তো জন্ম কলকাতায়। আপনার বাবা নন্দ কুমার বাগচীও একজন সফল কম্পোজ়ার ছিলেন। তার মানে কি ছেলেবেলা থেকেই মিউজ়িক নিয়ে কেরিয়ার করার ইচ্ছে ছিল?
ছেলেবেলা থেকেই মিউজ়িক আমার রক্তে। বাড়িতে সারাক্ষণ গান-বাজনা নিয়ে চর্চা হচ্ছে। আমার পরিবার সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছে যাতে আমি মিউজ়িকের প্রশিক্ষণ নিই। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করতাম, মিউজ়িক নিয়ে চর্চা করা যেতেই পারে, কিন্তু সেটা আমার কেরিয়ার হতে পারে না। আমি পাইলট হতে চেয়েছিলাম। একদিন একটি কলেজ ফেস্টে আমি আমার বাবার কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে স্টেজে পারফর্ম করতে দেখি। ওদের পারফরম্যান্স দেখে আমার মনে হয়, আমিও তো মিউজ়িক নিয়ে কেরিয়ার করতেই পারি। এরপর আর আমি পিছন ফিরে দেখিনি।

 

বাবা বাদে মিউজ়িক ইন্ডাস্ট্রির আর কে আপনার অনুপ্রেরণা ছিলেন?
এ আর রহমান স্যার। এখনও মনে আছে, রহমান স্যারের নতুন কোনও কম্পোজ়িশন এলেই আমি সেগুলো সারাদিন বাড়িতে বসে শুনতাম আর নাচতাম!

 

বলিউডে প্রথম ব্রেক পেলেন কী করে?
আমি বিভিন্ন ট্র্যাক নিয়ে কাজ করছিলাম। কিন্তু সেগুলো আমার বাড়ির ড্রয়িংরুমেই সীমাবদ্ধ থাকত। লোকের কাছে পৌঁছত না। তারপর একদিন আমি ‘উপর উপর’ বলে একটা ট্র্যাক কম্পোজ় করে সেটার ভিডিয়ো বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়ে দিই। ইউটিউবে ভিডিয়োটি ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী এক ব্যক্তি দেখেন। তাঁর সূত্রেই আমরা ‘বন্নো তেরা…’ গানটি কম্পোজ় করার সুযোগ পাই।

 

ভবিষ্যতের কী পরিকল্পনা রয়েছে?
বলিউডে আমি একটা জায়গা করে নিতে পেরেছি। সেটা অক্ষত রাখতে চাই। তা ছাড়া আমি আন্তর্জাতিক বাজারটা ধরতে চাই। বেশি করে দেশ-বিদেশের তারকাদের সঙ্গে জোট বেধে কিছু ক্রিয়েট করতে চাই।