magazine_cover_12_august_19.jpg

Tolly News

‘#MeToo’-র তির এবার পাভেলের দিকে!

pavel-big সম্প্রতি বলিউড এবং টলিউডে অনেকেই ‘মি টু’ আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন। অনেকেরই নাম জড়িয়ে পড়ছে। এবার উঠল ‘বাবার নাম গান্ধীজি’, ‘রসগোল্লা’ খ্যাত পরিচালক পাভেলের নাম। অনুরূপা চক্রবর্তী নামের এক অভিনেত্রী পাভেলের নামে অভিযোগ করেছেন যে, বছর দুয়েক আগে পাভেল নিজের বাড়িতে ডেকে অনুরূপার শ্লীলতাহানি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার পরেও তাঁকে নাকি পাভেল ক্রমাগত বিরক্ত করে গিয়েছেন। ঘটনাটি আরও বিশদে জানান অনুরূপা নিজেই। ‘‘তখন আমি খুবই নতুন। পাভেলের একটি ছবির জন্য আমি অডিশনে যাই। ছবিটি ছিল ‘রসগোল্লা’। আমাকে সিলেক্ট করা হয়। তারপর থেকে প্রায়দিনই নাকতলাতে পাভেলের বাড়িতে যেতে হত, স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ের জন্য। সেই সময় ব্যক্তিগতজীবনে আমি একটা ক্রাইসিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। তাই পাভেলের বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি বিনা মেকআপে, চুলে ভর্তি তেল দেওয়া অবস্থাতেই যেতাম। স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ের সময় ওর দু’জন সহকারী থাকত যাদের নাম মনে নেই। তবে তাদের মধ্যে একজন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। যাই হোক, একদিন পাভেলের বাড়ি গেলাম। সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। আর আমরা কেউ জানতাম না যে পাভেল বিবাহিত। আমার হাতে স্ক্রিপ্ট দিয়ে পাভেল আমাকে বলে, ও নাকি আমাকে ছবিতে লিড হিরোইন হিসেবে ভাবছে। সেটা শুনে আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম কারণ তখন আমার চেহারার যা অবস্থা ছিল, তাতে লিড হওয়ার কোনও যোগ্যতাই ছিল না। পাভেল আমাকে রাধিকা আপটের সঙ্গেও তুলনা করে। এরপর ও আমার দিকে এগিয়ে আসে ও আমাকে পিছন থেকে ধরে কিস করার চেষ্টা করে। আমি কোনওক্রমে ওকে সরিয়ে দিয়ে পালিয়ে আসি। এরপর ও আমাকে সারাক্ষণ ফোনে বিরক্ত করে গিয়েছে। আমাকে বলত, ‘আমার সঙ্গে থাক। তোকে আমি সুপারস্টার করে দেব।’ আমি বলি, আমার প্রয়োজন নেই। এও বলে যে শুভশ্রী সহ অনেক নায়িকাই নাকি ওর পিছনে পড়ে আছে! এরপর ও আমাকে বলে, আমাকে বিয়ে করতে চায়। এরইমধ্যে এক কমন ফ্রেন্ডের মারফত আমি জানতে পারি পাভেল বিবাহিত। এই কথা ওকে বললে ও আর একটা গল্প দেয়। বলে, পুরুলিয়াতে মাওবাদীদের উপর একটা প্রজেক্ট করতে গিয়েছিল। ওর এখনকার স্ত্রীও নাকি মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ওর থেকে ভিতরের খবর সংগ্রহ করার জন্য পাভেল নাকি বাধ্য হয়ে বিয়েটা করে! আমি ওকে ব্লক করে দেওয়ার পর, আমার রুমমেটের নম্বরে ফোন করতে থাকে। অলটারনেটিভ নম্বর হিসেবে আমার রুমমেটের নম্বর দেওয়া ছিল। যাই হোক, অনেক কষ্টে ওর পিছু ছাড়াই। তবে গতকাল ফেসবুকে আমার পোস্ট দেখে ও আবার আমার সেই রুমমেটকে ফোন করে। আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়।’’ অনুরূপের এই অভিযোগের কথা জানিয়ে পাভেলকে যখন আনন্দলোক-এর তরফ থেকে ফোন করা হয় তিনি বলেন, ‘‘এগুলো সব নন সেন্স। এসব নিয়ে কথা বলা মানে এদের গুরুত্ব দেওয়া। আর হঠাৎ কালকেই কেন আমার নামে অপবাদ দেওয়ার কথা মনে হল? আজ আমার ছবি (পড়ুন ‘বাচ্চা শ্বশুর’) রিলিজ় হচ্ছে বলে?’’