magazine_cover_12_april_17.jpg

Anandalok Review

চেষ্টা ছিল, কিন্তু হায়…

মেহের আলি
meher-ali-still2
পরিচালনা: অরিন্দম দে
অভিনয়: হিরণ চট্টোপাধ্যায়, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়, শতরূপা পাইন

হিরণ চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সেই চেষ্টা বাস্তবে মুখ থুবড়ে পড়ল। একটি পরিচিত বিষয়কে গল্পের আকারে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, অভিনয়, এডিটিং এবং অবশ্যই ক্যামেরা কাজ ডুবিয়ে দিল ছবিটিতে। গ্রামের ছেলে মেহের আলি (হিরণ) কলকাতায় পড়তে এসে প্রেমে পড়ে হিন্দু মেয়ে উজ্জয়িনী বা উজানের (শতরূপা)। কিন্তু উজানের বাড়ি সেই সম্পর্ক মেনে নেয় না। অন্যদিকে মেহেরের বন্ধু জাভেদ আবার সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যুক্ত। পাকেচক্রে মেহেরও জড়িয়ে পড়ে। মেহেরের জেল হয়। জেল ভেঙে পালিয়ে সে যেতে চায় উজানের কাছে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে কিডন্যাপ করে রিয়াকে (অমৃতা)। রিয়া আবার পুলিশের বড়কর্তার মেয়ে। রিয়া জানতে পারে মেহেরের সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠার গল্প। মেহের কি উজানের খোঁজ পায়? উজান কি মেহেরকে মনে রেখেছে? পুলিশ কি মেহেরকে ধরতে পারে? রিয়ার-ই বা কী হয়? উত্তর আছে শেষে! হিরণের অভিনয় ভাল লাগে (বিশেষত লুকটা বেশ ভাল)। কিন্তু অমৃতা বা শতরূপা ছবিতে যা করেছেন, সেটাকে আর যাই বলা হোক না কেন, অভিনয় বলা যায় না। হাসি-কান্না কোনওটাই তাঁদের মুখে ফোটে না। অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও তথৈবচ। ক্যামেরার কাজও ভাল নয়। ছবিটিকে অনাবশ্যক দীর্ঘ করা হয়েছে। ছবিটি কোনও কারণ ছাড়াই দীর্ঘ। যে ছবি খুব সহজেই এক থেকে দেড় ঘণ্টায় শেষ করে দেওয়া যেত, সেটাকে টানতে-টানতে আড়াই ঘণ্টা করা হয়েছে। কিছু দৃশ্যের মানে খুঁজে পাওয়া যায় না (যেমন হিরণের পাহাড়ের উপর হাঁটতে-হাঁটতে বরফের রাজ্যে পৌঁছে যাওয়া এবং আবার বরফ ভ্যানিশও হয়ে যাওয়া। তেল না ভরেই এক গাড়িতেই কলকাতা থেকে উত্তর বঙ্গ হয়ে পাহাড়ে উঠে পড়া)। তবে ছবির গানগুলো বেশ ভাল। পরিশেষে এটাই বলা যায়, আরও একটু যত্নবান হলে হয়তো ছবিটি দৃষ্টিনন্দন হত।