magazine_cover_12_november_17.jpg

Tolly Interview

‘মৌরি’র ইমেজ থেকে বেরনোর জন্য ‘ঈশানী’র চরিত্রটা পারফেক্ট ছিল: মানালি দে ভট্টাচার্য

manali finalতিনি অবসর সময়ে স্বামীর সঙ্গে চুটিয়ে কম্পিউটার গেমস খেলেন! বড় পর্দায় অভিনয় করতে চান, কিন্তু তাঁর ঠিক করা চারটে ‘শর্ত’ মিলে গেলে, তবেই! ‘বউ কথা কও’- এর শান্ত ঘরোয়া ‘মৌরি’ থেকে ‘সখী’র সাহসী ‘ঈশানী’, এক বছর অভিনয় থেকে অবসর, তারই ফাঁকে নিজের লুক চেঞ্জ, সঙ্গীত শিল্পী সপ্তক ভট্টাচার্যকে বিয়ে…সব কিছু নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিলেন মানালি দে ভট্টাচার্য, শুনলেন ঊর্মি নাথ

 

বিয়ের পর মানালি কতটা বদলে গিয়েছেন?

দুটো বদল হয়েছে, পদবি আর বাড়ি। ‘মানালি দে’ থেকে ‘মানালি দে ভট্টাচার্য’ হয়েছি। বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি এসেছি। ছ’-সাত মাস হল বিয়ে হয়েছে। তার মধ্যে সাড়ে চার মাস বাপের বাড়ি থেকেছি, সাড়ে চার মাস শ্বশুরবাড়ি!

 

এবিয়ের পর এতদিন বাপের বাড়ি! শ্বশুরবাড়িতে এই নিয়ে কোনও অসুবিধে হয় না?

নাঃ। আমার শ্বশুর-শাশুড়িমা দু’জনেই দারুণ ভাল মানুষ। এই ভালটা কিন্তু স্রেফ বলার জন্য বলছি না। আমি বাবা-মা’র একমাত্র সন্তান। এই ব্যাপারটা মাথায় রেখে ওঁরা বলেন, “তুমি যেমন আমাদের ও সপ্তকের জন্য কতর্ব্য কর, তেমন তোমার বাবা-মা’র প্রতিও করবে।” মাঝে-মাঝেই আমার মামণি মানে শাশুড়িমা বলেন, ‘‘যা না, দু’দিন মায়ের কাছে থেকে আয়।” অনেক সময় লেট নাইট হলে মায়ের কাছে চলে যাই। এই যেমন, সপ্তক কাজের জন্য ক’দিন বাইরে যাবে। মামণি বললেন যে, ‘‘ক’দিন সপ্তক বাইরে থাকবে, তুই মায়ের কাছ থেকে ঘুরে আসিস।’’ আমার বাড়ি বদল হয়েছে, কিন্তু বদলটা বুঝতে পারি না। এটা আমার কাছে ভগবানের আশীর্বাদ। টাচ উড! টাচ উড (হাসি)!

 

বোঝাই যাচ্ছে, অনেক স্বাধীনতা পান আপনি। কিন্তু তা-ও কেরিয়ার আর সংসারের মধ্যে একটা ব্যালেন্স তো করতেই হয়…

ব্যালেন্স কিছুই করতে হয় না। শ্বশুরবাড়িতে আমাকে দুটো কাজ করতে হয়। এক, জল ভরতে হয় আর দুই, কখনও-কখনও চা করতে হয়। রান্নাঘরে কাজ করতে গেলে মামণি বলেন, “পালা তো! শুটিং আছে, রান্না করতে গিয়ে তেল ছিটকে ফোসকা পড়ে গেলে মুশকিল হবে।” মামণি আর সপ্তক দু’জনেই সব সময় বলে, কেরিয়ারে মন দাও, কেরিয়ারে মন দাও (হাসি)। ছুটির দিনে চেষ্টা করি সংসারে একটু সময় দিতে। আমার স্বাধীনতা আছে ষোলোআনা। এর জন্য সপ্তকের কথা বলতেই হয়। ওর সাপোর্ট না থাকলে কিছুই হত না। একটা উদাহরণ দিই। বিয়ের পর আমরা হনিমুনে ভুটান গিয়েছিলাম মাত্র তিন-চার দিনের জন্য। এসেই আমার শুটিং ছিল। ও তো ইচ্ছে করলেই বলতে পারত, নতুন বিয়ে, এখন ছুটি নাও। বললে, আমাকে নিতেই হত। কিন্তু ও বলেনি। আমার কাজটা ও বোঝে, সবচেয়ে বড় ব্যাপার, আমার কাজের প্রতি ভালবাসাটা ও বোঝে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

 

এবার একটু পিছনে যাই। আপনার অভিনয় জীবন শুরু হল কীভাবে?

অভিনয়ে আসার আগে টুকটাক মডেলিং করতাম। এবিপি গ্রুপের সঙ্গেও করেছি। মডেলিং করতে-করতে রবি ওঝা প্রোডাকশন থেকে ‘নীড় ভাঙা ঝড়’ সিরিয়ালে একটি ছোট চরিত্রের জন্য অফার পাই। ওটা করি। ওটার পরই ‘বউ কথা কও’-এ অডিশন নেওয়া হয় এবং সিলেক্টেড হই। তারপর তো সকলেই জানেন। আমার এই অভিনেত্রী হওয়ার জন্য স্টার জলসা, রবি ওঝা প্রোডাকশন্স ও পরিচালক বিশ্বজিত্ গঙ্গোপাধ্যায়, এই তিনটে নাম না বললেই নয়। বিশ্বজিত্দা ‘বউ কথা কও’-এর পরিচালক ছিলেন, এখন ‘সখী’রও পরিচালক।

 

কিন্তু ‘বউ কথা কও’-এর মৌরির মতো ‘সখী’র ঈশানী অত বিখ্যাত হয়েছে?

সত্যি বলতে গেলে, ঈশানী হয়তো মৌরিকে টপকে যেতে পারেনি এখনও! আসলে আমার মনে হয়েছিল, মৌরির ইমেজটা থেকে আমাকে বেরতে হবে, ‘মৌরি’ থেকে আবার ‘মানালি’ হতে হবে। তার জন্য এক বছর কোনও কাজ করিনি। মন দিয়েছিলাম নিজের লুক চেঞ্জ করার দিকে। একটা সত্যি কথা বলি, ‘বউ কথা কও’-এর পর আমি আবার অপেক্ষা করছিলাম রবি ওঝা প্রোডাকশন্সের সঙ্গে আবার কাজ করার জন্য। কাকতালীয়ভাবে ‘সখী’ও রবি ওঝা প্রোডাকশন্সের! আর ‘মৌরি’র ইমেজ থেকে বেরনোর জন্য ‘ঈশানী’র চরিত্রটাও পারফেক্ট ছিল।

 

এই এক বছরে নাকি আপনি অনেক ওজন কমিয়েছেন?

ওরে বাবা, ‘বউ কথা কও’ করার সময় ওজন বেড়ে গিয়েছিল, জানেন? এক বছর ধরে খুব ওয়র্কআউট করেছি, ডায়েট করেছি। মজার কথা হল, আগে রাস্তাঘাটে লোকে দেখে বলত, ‘ওই যে মৌরি।’ এখন দেখে অনেকে বলেন, ‘মৌরির মতো দেখতে, তাই না?’ (হাসি)

 

‘ঈশানী’র সঙ্গে মানালি দে ভট্টাচার্যর কোনও মিল আছে?

ঈশানী স্মার্ট, অসম্ভব সাহসী। ব্যক্তিগত জীবন জলাঞ্জলি দিয়েছে অন্য একটি মেয়ের জন্য। আমি এরকম হতেই পারব না। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি যে একটু স্বার্থপর, তা স্বীকার করতে আমার একটুও লজ্জা নেই! অন্য কোনও মেয়ের জন্য আমি হয়তো এতটা করতে পারব না।

 

বড় পর্দায় কাজ করার ইচ্ছে নেই?

অবশ্যই আছে। কিন্তু মনের মতো চরিত্র পাচ্ছি না। আসলে সিনেমা করার জন্য আমার চারটে শর্ত আছে। ভাল গল্প, ভাল পরিচালক, নামী প্রোডাকশন হাউজ় এবং ঠিকঠাক পাবলিসিটি। এগুলো না থাকলে ছবি করার কোনও অর্থ হয় না।

 

আপনি কি কমার্শিয়াল ছবি করতে চান, নাকি একটু হটকে?

কোনওটাতেই আপত্তি নেই। যদি ওই চারটে জিনিস পাওয়া যায়!

 

অবসর সময়ে কী করেন?

অবসর পাই খুব কম। আর যখন পাই, তখন সপ্তকের সঙ্গে চুটিয়ে কম্পিউটার গেম খেলি।

 

ফ্যামিলি প্ল্যানিং নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন?

এখনই নয়। সপ্তক ও আমি, দু’জনেই এখন কেরিয়ারে মন দিতে চাই।