magazine_cover_12_may_17.jpg

Tolly Interview

বাঙালি তো বরাবরই পিছিয়ে থাকে কিন্তু আমি যতটা সম্ভব এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি…

অন্য ধরনের ছবি থেকে শুরু করে বাঙালি কতটা সাবালক হয়ে উঠতে পারল দর্শক হিসেবে প্রভৃতি বিষয় নিয়ে মৈনাক ভৌমিকের সঙ্গে আড্ডা দিলেন স্বর্ণাভ দেব।

 

‘কলকাতা কলিং’-ও কি আপনার অন্যান্য ছবির মতো মাল্টিপ্লেক্সের দর্শকদেরই ছবি?

এই ছবিটার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় আমি সাঁতরাগাছি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছি। সেখানে সল্টলেকও আমার কলকাতায় পড়ছে, সাঁতরাগাছিও আমার কলকাতায় পড়ছে। উচ্চ মধ্যবিত্তও আমার কলকাতায় পড়ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তও আমার কলকাতায় পড়ছে। সমাজকে এই আলাদা শ্রেণিতে না ভেঙে প্রত্যেকের মানসিকতার যে একটা কমন ব্যাপার আছে, সেটাকে রিপ্রেসেন্ট করতেই আমি ভালবাসি।

 

কমন ব্যাপার বলতে কী বোঝাতে চাইছেন?

সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে, সবাই কিছু করতে চায়। এই জায়গায় প্রত্যেকেই সমান। প্রেমে পড়ে ভালবাসাটা তো আলাদা হতে পারে না। একে শ্রেণি বা লিঙ্গের ভিত্তিতে ভাগ করা সম্ভব নয়।

 

আপনার আগের ছবিগুলো দেখে যাঁদের ভাল লাগেনি তাঁরা কেন ‘কলকাতা কলিং’ দেখবেন?

এটা একটা নতুন একটা ছবি। একে অন্যান্য ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দিলে চলবে না। এটা একটা স্বপ্ন দেখার ছবি। যাঁরা স্বপ্ন দেখেন না তাঁদের ভাল না-ই লাগতে পারে।

 

মানে আপনার কোনও প্রত্যাশা নেই?

এই ছবির বিষয়বস্তুর মধ্যেই আছে যে, এক্সপেকটেশনটাই সব নয়, কিন্তু মানুষের অনেক এক্সপেক্টেশন রয়েছে, আমার মা-বাবার-ই হয়তো আছে আমার ওপর। কিন্তু আমি হয়তো সেই এক্সপেক্টেশনটা পূরণ করতে পারছি না। দর্শকের হয়তো একটা প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু তার বাইরেও আমি কী করতে চাই সেটা আলাদা ব্যাপার। আমি কী ভাবতে চাই। আমি সেটা ভেবে উঠতে পারব কি না সেটা আমার কাছে ইম্পর্ট্যান্ট। তাই উপায় হচ্ছে প্রত্যাশা বন্ধ করা। এত প্রত্যাশা নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। এটাই ছবির বিষয়।

 

আপনার কি কোনও টার্গেট অডিয়েন্স আছে, যাদের কথা মাথায় রেখেই আপনি ছবি তৈরি করেন?

আমি যখন ‘বেডরুম’ তৈরি করেছিলাম, তখন রিলিজ় হওয়ার দু’দিন আগেও আমি ও আমার ছবির প্রযোজক রানা সরকার, আমরা বুঝে উঠতে পারিনি দর্শক দেখতে যাবে কি না! বাস্তবে দেখতে যাওয়ার কথাও তো নয়। হার্ড রক, হেভি মেটাল গান, খুব কমপ্লিকেটেড ও নীরস একটা সত্যি বলা। এটা কী ভাবে মানুষ রিলেট করবে, এই ছবির দর্শক কলকাতায় রয়েছে নাকি পারিবারিক ছবি দেখতেই দর্শকরা পছন্দ করবেন, তা বুঝতে পারিনি। যখন দর্শক সমাগম হল, তখন বুঝলাম এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অন্য ধরনের ছবি দেখতে চায়। আর ‘মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর’ রিলিজ় করার পরে সেই অভিজ্ঞতা আরও দৃঢ় হল। তবে আমার ছবি হিট করে কিনা, সেটা বলতে পারব না। এরজন্য হয়তো একটা তামিল, তেলুগু ডিভিডি কোথাও থেকে জোগাড় করতে হবে।

 

কর্মাশিয়াল ছবির ক্ষেত্রে দক্ষিণী ছবিকে টুকে দেওয়াই না হয় টলিউডের লেটেস্ট ট্রেন্ড। সেখানে কিন্তু প্রযোজকের ঘরে টাকা ফেরত দেওয়ার দায়বদ্ধতাও আছে। আপনার সেই দায়বদ্ধতা আছে কি?

আমি আপনাকে অনেস্টলি বলছি, এই ধরনের ছবির জন্যে যে সমস্ত প্রযোজকেরা এগিয়ে এসেছেন, তাঁরা নিশ্চয় শুধুই ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে আসেননি। আমার ধারণা, সিনেমা তৈরির পিছনে তাঁদের প্যাশনটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। যদি এখান থেকে ব্যবসা করাটাই মূল উদ্দেশ্য হত, তাহলে ব্যাঙ্কে টাকা রেখেও তাঁরা অনেক বেশি রোজগার করতে পারতেন। এই রিস্ক ফ্যাক্টরটা তাঁদের থাকত না। সিনেমা হল একটা প্যাশন, এর সঙ্গে অনেক রিস্ক জড়িত। আমি যখন রানাদার প্রযোজনায় ‘বেডরুম’ তৈরি করেছিলাম, রানাদা ইচ্ছুক ছিলেন বলেই করেছিলাম। মনে হয় না ছবি কেমন চলবে সেইটা ভেবে তৈরি হয়েছিল বলে। আমরা কখনও ভাবিনি, ইনফ্যাক্ট আমার আর রানাদার মধ্যে অনেকবার ঝগড়াও হয়েছে বাঙালি দর্শকেরা কি ছবিতে রূপম ইসলামের গান অ্যাকসেপ্ট করতে পারবে? কিন্তু রিলিজ়ের পরে দেখা গেল একটা প্রজন্ম এই ধরনের ছবি দেখতে আসে। ছবিগুলো তৈরির সময় এত ক্যালকুলেট করা হয়তো উচিত নয়। আমরা হয়তো অনেকক্ষেত্রেই দর্শকদের আন্ডারএস্টিমেট করি। ওরা হয়তো সব বুঝবে না। কিন্তু দর্শক সব বোঝে। তাদের বোকা ভাবাটাই আমাদের বোকামি।

 

মাল্টিপ্লেক্সে আপনার সিনেমা চললেও গ্রামে আপনার আপনার ছবির দশর্র্ক নেই কেন?

প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রিয়া, মিত্রা, নবীনার মতো ভাল সিনেমাহল থাকলে একটা কালচার তৈরি হবে। ফলে সেখানকার আধুনিক মনস্ক দর্শক আমার সিনেমা দেখবেন। কিন্তু আমাদের সেই ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা প্রোভাইড তো করতে হবে। এইধরনের ছবির দর্শকেরা হয়তো সেই পরিবেশকে মেনে নিতে পারছেন না।

 

যে সমস্ত দর্শক মশলামুভি দেখতে পছন্দ করেন তাঁদের রুচি বদলের ক্ষেত্রে আপনার কোনও দায়িত্ব নেই?

তাহলে তো আমি প্রশ্ন করতে পারি ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ দেখেন যে সব দর্শক তাঁদের কি ‘ওয়ে লাকি লাকি ওয়ে’ দেখানোর কোনও দায়বদ্ধতা নেই দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের? আসলে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর ঘরানার ছবি আই কিউ লেভেলটাকে ভাঙতে-ভাঙতে সকলের কাছে পৌঁছে যায়। তাই সবসময়ই যে, সমস্ত দর্শকের কাছে পৌঁছতে হবে সেটা আমি মনে করি না। আমার দায়িত্ব বরং নিজের কাজটাকে প্রজেক্ট করা। প্রতিটা ফিল্মমেকার তো আলাদা হবেই। রবি কিনাগী অন্যরকমের ছবি তৈরি করেন। তাঁর কাজের ধরণটা আমার থেকে আলাদা হতেই পারে। তিনি অনেক বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছতেই পারেন। আমার ছবি দেখলে যে তথাকথিত বাণিজ্যিক ছবির দর্শকের খারাপ লাগবে এমনটা না-ও হতে পারে। আসলে তাঁদের তো একবার ট্রাই করে দেখতে হবে। তাঁদের হয়তো এখনও ঋত্বিক চক্রবর্তী বা রাইমা সেনকে দেখার ইচ্ছে নেই। বরং তাঁরা জিত্‌ বা দেবকে দেখতে বেশি পছন্দ করেন। সেটা যদি তাঁদের মাপকাঠি হয়ে থাকে তাহলে তাঁরা দেখবেন না। বাণিজ্যিক ছবির বিষয়বস্তু যথেষ্ট আকর্ষণীয়। তাঁরা হয়তো বাস্তবে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে আমার ছবিতে সেই প্লট থাকছে যা তাঁদের রিলেট করতে সুবিধে হবে। তাই তাঁদের ভাল না লাগার কোনও কারণ নেই।

 

বলিউডে ‘ওয়েক আপ সিড’ বা ‘ভিকি ডোনার’-এর মতো ছবি হওয়ার পরে কি টলিউডেও একটা দিগন্ত খুলে গিয়েছে অন্য ধারার ছবির ক্ষেত্রে? এর আগে তো এতটা সাবালক ছিল না ইন্ডাস্ট্রি?

ছিল তো! ঋতুপর্ণ ঘোষ এর আগেও কাজ করতেন।

 

সেটা তো হাতে গোনা কয়েকটা। অনেকেই মনে করতেন সারা বছর অন্যান্য ছবির পাশাপাশি একটা ঋতুর ছবি করতে পারলে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পৌঁছনোর রাস্তাটা সোজা হয়ে যায়, রেড কার্পেটে হাঁটা যাবে। মৈনাক ভৌমিক কি নিজেকে ওই সরণীতে দেখেন?

একটা সময় শুনেছিলাম সত্যজিত্‌ রায়ের উত্তরসূরী ঋতুপর্ণ ঘোষ। কিন্তু কেন? সত্যজিত্‌ রায় তাঁর নিজের মতো ছবি তৈরি করতেন। হ্যাঁ বাস্তবিকই উনি ভাল ছবি তৈরি করতেন। কিন্তু এই হ্যাঙওভারটা কাটানো উচিত। সত্যজিত্‌ রায় ছাড়া কি ভারতবর্ষে কেউ ভাল ছবি তৈরি করেননি? আমার প্রিয় পরিচালক মৃণাল সেন। তাঁকে কি ভাল লাগতে পারে না? আমার মনে হয় কো এক্সিস্ট্যান্সটাই সব। ঋতুদা ওঁর নিজের মতো সিনেমা তৈরি করতেন। তিনি একভাবে বাঙালির কৃষ্টি, সমাজকে তুলে ধরেছেন। আমি আমার মতো সেই কাজটা করছি।

 

কিন্তু ব্যাটনটাও তো কাউকে এগিয়ে নিয়ে হয়?

দেখুন, আমাদের ছবি দেখতে তো দর্শক আসছে,  হলগুলোও ভর্তি হচ্ছে। ফলে কিছুটা কাজ তো আমরা করতে পেরেছি।

 

সত্যজিত্‌ রায়, মৃণাল সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষকে কিন্তু বলিউডও সম্মান করে। সেখানেও সেলেব্রিটিরা এঁদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন..

আপনি কি বলিউডকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন? আমার কাছে সেটা কোনও মাপকাঠি নয়। বিপাশা বসু আমাকে পছন্দ করল কি না তাতে আমার কিছু এসে যায় না।

 

কিন্তু এক্সপোজ়ারটাও তো বড় বাপার…

বাঙালি তো ছবি দেখছে। আমি এখনও জাতীয় পুরস্কার পাইনি, ভবিষ্যতেও পাব কি না জানি না। কিন্তু পেলেই মুম্বইয়ের স্টাররা আমার কাছে ছুটে আসবে আমি এইভাবে ভাবি না। ছবি তৈরি করার সময় অনেস্ট থাকাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ফারহান আখতারের ‘দিল চাহতা হ্যায়’ কিন্তু জাতীয় পুরষ্কার পায়নি, কিন্তু ছবিটা তো খুবই ভাল। ‘মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর’ অস্কার পাবে কি না তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল মানুষের কেমন লেগেছে? আমার কাছে দর্শকের ভাল লাগাটাই সব। আমার ছবির নির্দিষ্ট দর্শক আছে যারা ছবি দেখতে আসে। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। শাহরুখ খান আমার ছবি সম্পর্কে জানতে পারল কি না সেটা আমার কাছে বিশেষ ইম্পর্ট্যান্ট নয়। সম্প্রতি যে চলচ্চিত্র উত্‌সব কলকাতায় হয়ে গেল, সেখানে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের চেয়েও শাহরুখ খানকে নিয়ে বেশি হইচই হচ্ছে। এটা আমি মেনে নিতে পারি না। তাহলে বলিউড ফিল্ম ফেস্টভ্যাল বলা হয় না কেন? আমার ঋতুদার উপর রাগের প্রধান কারণ হল কেন তিনি বলিউড থেকে সেলিব্রেটিদের নিয়ে আসতেন? মানে কলকাতায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভাব আছে? বর্তমানে ঋত্বিকের মতো অভিনেতা ক’জন আছে?

 

ঋতুপর্ণ ঘোষের থেকে কোন জিনিসটা শিখেছেন?

একটা ছবিকে সুন্দরভাবে প্রেজ়েন্টেশন করার ক্ষেত্রে ওঁর জুড়ি মেলা ভার। ঋতুদার ছবিতে কোনও সংলাপকে কৃত্রিম মনে হত না। চরিত্রগুলি যেন জীবন্ত হয়ে উঠত সংলাপের মাধ্যমে। আমিও চেষ্টা করেছি আমার প্রজন্মের মানুষের মুখের কথাটা পর্দায় তুলে ধরতে। সেই জন্যেই একটা প্রজন্ম আমার ছবি দেখতে আসে। কারণ, তারা আমার ছবির সঙ্গে নিজেদের রিলেট করতে পারছে।

 

রিয়া আর রাইমাকে নিয়ে ‘কলকাতা কলিং’-এ কাজ করেছেন। ওদের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল?

রাইমার সঙ্গে আমার অনেক দিনের বন্ধুত্ব। রাইমা আর ঋতুদাই আমাকে রিয়ার সঙ্গে আলাপ করিয়েছে। রিয়ার সঙ্গে কাজ করে খুব ভাল লাগল। ইন্ডাস্ট্রি এখনও ওকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। রিয়া একজন দুর্দান্ত অভিনেত্রী। আশা করি ও অনেকদূর যাবে। রিয়া আসলে সেভাবে কলকাতার সঙ্গে মিশে যেতে পারেনি। ও খুবই ইন্ট্রোভার্ট। যে ধরনের মানুষের সঙ্গে কাজ করলে সকলেরই ভাল লাগবে বলে আমি মনে করি। ও একেবারেই ডিপ্লোম্যাটিক নয়, ও নিজে যেটা মনে করে সেটা পরিষ্কার বলে।

 

আপনি ডিপ্লোম্যাট বলতে কাদের কথা বোঝাতে চাইছেন?

আমার নিজের কথাই বলতে পারি। আমার কোনও জিনিস পছন্দ না হলেও মানিয়ে নেব। কিন্তু রিয়া সেটা করবে না। স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হলে, ও ছবিটাই করবে না, কিন্তু অনেকেই সেটা করবে কি? তার সঙ্গে রিয়া ভীষণ লাজুকও।

 

আপনি ওদের দু’জনকে কী ভাবে দেখছেন?

রাইমা একজন এনার্জেটিক মানুষ। ও আমার বন্ধু হওয়ার ওর সঙ্গে কমফোর্ট লেভেলটা তৈরি হয়ে গিয়েছে ফলে কাজ করতে সুবিধে হয়েছিল। অন্যদিকে রিয়া খুব দ্রুত চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। ওর ট্রান্সফর্মেশনটা ভাবা যায় না।

 

এরপর কী কাজ করেছেন?

কিছুদিন পরেই ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’ নামে একটি ছবি আসছে।

 

এই টলিউডে কাকে সবচেয়ে পাওয়ারফুল অ্যাকট্রেস মনে করেন?

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। এখনও এই বয়সে দাঁড়িয়েও উনি একের পর এক ছবিতে কাজ করছেন। উনি একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ছবির সঙ্গে-সঙ্গে আর্ট ফিল্মেও সফল। জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন। কলকাতায় ওঁর আশেপাশে এখনও কেউ নেই।

 

অভিনেতাদের মধ্যে কার কথা মনে হয়?

এই প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে অবশ্যই ঋত্বিক ও অনুব্রত।

 

অনুব্রতকে কি টলিউড সেভাবে ব্যবহার করতে পারল না, শুধু মৈনাক ভৌমিকের প্রোডাক্ট হয়েই থেকে গেলেন?

আসলে বাঙালি তো বরাবারই পিছিয়ে থাকে। সাম প্লেস এলসে গেলে, এখনও ছয়ের দশকের গান শুনতে পাবেন। এখনও মানুষ বাড়িতে কিশোর কুমারের গান শোনেন। লোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা না পড়লেও স্বীকার করতে লজ্জা পায়। পড়ার ইচ্ছে নেই, সেটা বলার সাহস নেই। ফলে বাঙালি ভীষণ পিছিয়ে। আমার মনে হয় অনুব্রতর এখনও অনেক সময় লাগবে।

 

এই পিছিয়ে থাকা বাঙালিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনার দাওয়াই কী?

আমি যতটা সম্ভব এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। জলে ফেলে সাঁতারটা শেখানোর চেষ্টা করছি। বাঙালি বারবার নস্টালজিয়ায় ভুগবে, কিন্তু আমি বছরে দুটো বা তিনটে ছবির মাধ্যমে বাঙালিকে ২০১৪-এ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চাইব। চেষ্টা টুকু করেই যাব। ছাড়ব না…