magazine_cover_12_august_17.jpg

Tolly Interview

যেমন-তেমন করে গ্র্যাজুয়েট হতে চাই না, তাই যখন ফাঁক পাই বই খুলে বসি…

মডেলিং করতে-করতে সিরিয়ালে চান্স পাওয়া, পরপর তিনটে সিরিয়ালে অভিনয় করার পরও এখনও তাঁর ফার্স্ট প্রায়োরিটি পড়াশোনা। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ পর আর সিরিয়ালে অভিনয় নয়, এবার থিয়েটারে কাজ করতে চান ‘পাখি’ ওরফে মধুমিতা সরকার। জীবনের বিভিন্ন কথা, কেরিয়ার, ভবিষ্যতের প্ল্যানিং এবং বয়ফ্রেন্ড নিয়ে তিনি আড্ডা দিলেন ঊর্মি নাথের সঙ্গে।

mad1

দর্শক ‘মধুমিতা’ নামটা তো প্রায় ভুলেই গিয়েছে, আপনি তো এখন বাংলা ধারাবাহিক ‘বোঝে না সে বোঝে না’-এর ‘পাখি’।
তাই নাকি! দেখুন, এই ব্যাপারটা আমি এনজয় করছি, আপনার মুখে কথাটা শুনে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেল। কিন্তু যতটা আনন্দিত হলাম তার চেয়ে অনেক বেশি ভয় পাচ্ছি!

 

ভয়! কেন?

আমি স্বনামে পরিচিত হতে চাই, কোনও চরিত্রের নামে নয়। ওয়ান ক্যারেকটার ওয়ান্ডার হয়ে থাকতে চাই না। কোনও একটা চরিত্রে আটকে গেলে আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভুগব। বাংলা বা হিন্দি সিরিয়ালের ক্ষেত্রে এটা খুব হয়। নাম করতে চাই না, কিন্তু এখন এমন অনেক সিরিয়ালের অভিনেত্রী আছেন, যাঁরা ডেবিউ করেই সাংঘাতিক বিখ্যাত। কিন্তু সকলে তাঁদের চরিত্রের নামে চেনে। পরে তাঁদের অন্য চরিত্রে দর্শক ঠিক মেনে নিতে পারেনি।

 

আপনি তো মডেলিং দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন, হঠাত্‌ করে অভিনয়ে বাঁক নিলেন কেন?

স্কুলে পড়ার সময় থেকেই আনন্দবাজার পত্রিকার ‘উনিশ কুড়ি’ ম্যাগাজ়িনের জন্য মডেলিং করতাম। সেখান থেকেই ‘সানন্দা’ টিভিতে ‘সবিনয়ে নিবেদন’ সিরিয়ালটির অফার আসে। একটি অবাঙালি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। ওটা শেষ করতে না করতেই অন্য একটি চ্যানেল থেকে ‘কেয়ার করি না’র জন্য অফার এল। ওটা শেষ করার পর ‘বোঝে না সে বোঝে না।’ পরপর অফার পেয়েছি বলে অভিনয় করেই চলেছি।

 

বোঝে না সে বোঝে না’-র পর আবার সিরিয়াল নাকি সিনেমা?

এরপর আর সিরিয়াল নয়। পড়াশোনাটা মন দিয়ে করতে হবে। আমি এখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন নিয়ে পড়ি। শুটিংয়ের চাপে ক্লাসে যেতে পারি না। আমি যেমন-তেমন করে গ্র্যাজুয়েট হতে চাই না। গ্র্যাজুয়েশনে বেশ ভাল নম্বর যাতে থাকে তার চেষ্টায় আছি। তারপর ফিল্ম স্টাডিজ নিয়ে মাস্টার্স করতে চাই। পাশাপাশি থিয়েটারে অভিনয় করতে চাই।

 

এতো পুরো উলটপুরাণ, সাধারণত পড়াশোনা করতে-করতে যাঁরা অভিনয়ে আসেন, তাঁরা অধিকাংশই আর পড়াশোনায় ফিরে যান না, নাম-যশ-অর্থ সব পাওয়ার পর দু’-একজন ছাড়া পড়াশোনা বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে দেখা যায়নি

 আমার ছোট থেকে ইচ্ছে ছিল অধ্যাপনা করার। কাকতালীয়ভাবে অভিনয়ে এসে পড়েছি ঠিকই কিন্তু স্বপ্নটা এখনও মুছে যায়নি। তাই ভাল রেজার্ল্ট করতে চাই। যদিও এখন ফিল্ম মেকিংয়ে ইন্টারেস্টটা বাড়ছে। তাই ভাবছি ফিল্ম স্টাডিজ পড়ব।

mad2

 

ফিল্ম মেকিং! অর্থাত্‌ পরিচালনা করার কথা ভাবছেন?

হ্যাঁ, তা তো মাথায় আছেই, তবে সেটা অনেক-অনেক দেরি। এখন আমি অভিনয়টা ভাল করে শিখতে চাই, অভিনয় বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। নিজেকে আরও পারফেক্ট করতে চাই, আরও বিউটিফুল হতে চাই (হাসি)।

 

সিরিয়াল করবেন না বলছেন, কিন্তু হঠাত্‌ করে বড় পর্দায় অফার পেলে কী করবেন?

অভিনয় করব, যদি গল্পটা ভাল হয়। যেখানে শুধু নায়িকা না, অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারব।

 

আপনার তো রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে বরবাদছবিটি করার কথা ছিলকিন্তু সেটা বরবাদ হয়ে গেল কেন?

বুঝলাম না!

 

মানে, হঠাত্‌ আপনি রিপ্লেসড হয়ে গেলেন কেন?

হ্যাঁ, কথা হয়েছিল। কিন্তু হল না।

 

কেন হল না?

(কিছুটা ইতস্তত করে) আমার সঙ্গে রাজদার সম্পর্ক খুব ভাল। আসলে দু’জনের সময় ম্যাচ করল না। তারপর এই সিরিয়ালটা চলে আসতে আমি ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

 

এই মুহূর্তে আপনি সেকেন্ড ইয়ারে পড়েন, পাশাপাশি একটি মেগা সিরিয়ালের লিড ক্যারেকটারপ্রায় ১৫-১৬ ঘন্টা শুটিং হয়পড়াশোনা করার সময় পান?

অফ ডে-তে পড়ি, শটের ফাঁকে পড়ি, রাত জেগে পড়ি। যখনই সময় পাই পড়ি। কোনওদিন ছুটি পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে ঘরে বসে পড়ি। সত্যি বলতে কী এখন আমার রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে, একটা কথাই মাথায় ঘুরছে, ভাল রেজ়াল্ট করতে হবে। এক বছর ধরে একটা সিরিয়াল টানা করে চলেছি, একটা মনোটনি তো চলে আসে, পড়াটা আমার কাছে রিফ্রেশমেন্টের কাজ করে!

 

তার মানে অবসরে শুধু ঘাড় গুজে পড়া….

অনেক সময় হেট ফোনে গানও শুনি, রবীন্দ্রসঙ্গীত বা লালনের গান আমার প্রিয়। গল্পের বইও পড়ি, রবীন্দ্রনাথ, শরত্‌চন্দ্র, নবারুণ ভট্টাচার্য আমার প্রিয় লেখক। ডাউনলোড করে, বিদেশি সিনেমাও দেখি। থিয়েটার দেখতে যাই, এই তো কিছুদিন আগে ‘ম্যাকবেথ’ দেখলাম, চেতনার ‘এলা ও বিমলা’ দেখলাম। আমার অবশ্য দর্শক হিসেবে থিয়েটার দেখার চেয়ে থিয়েটারের রিহার্সালটা বেশি দেখা হয়। এতে অভিনয়টাও শেখা যায়। এখন মুখটা পরিচিত হওয়ায় রিহার্সাল দেখার ছাড়পত্র পেতে অসুবিধা হয় না (হাসি)।

 

আপনার কখনও প্রিয় লেখকদের লেখা কোনও চরিত্র পড়ে আপনার সেই চরিত্রে অভিনয় করতে ইচ্ছে হয়েছে?

হয়েছে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি গল্প পড়ে। অনেকদিন আগে তাঁর একটি গল্প পড়েছিলাম, এই মুহূর্তে নামটি মনে নেই, গল্পটি ছিল একজন কল গার্লকে নিয়ে। গল্পটি এতটাই আমার মনে দাগ কেটেছিল যে, আমি ওই চরিত্রটি করতে চাই। আর ইতালিয়ান ফিল্ম ‘মালেনা’-এর যদি কোনওদিন বাংলায় হয় তা হলে অবশ্যই মালেনার চরিত্রে অভিনয় করতে চাইব। যেটা করেছিলেন মনিকা বেলুচি।

 

পার্টিতে যান?

সচারাচর যাই না। আমি সে সময় বাড়িতে বাবা, মা, দাদার সঙ্গে বা স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে বসে আড্ডা দিতে ভালবাসি।

 

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করেন? নাকি এখনই গাড়ির কাচ তুলে চলা ফেরা করতে হয়

শুটিংয়ে যাওয়ার সময় বাবা গাড়ি করে স্টুডিয়োয় পৌঁছে দিয়ে আসেন। তবে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গেলে অটো প্রেফার করি!

 

অটো?

অবাক হলেন তো (হাসি)? এটা কিন্তু আমার বাবাও জানেন না। ইন্টারভিউটা পড়ার পর জানতে পারবেন। অটো চড়তে দারুণ লাগে। সে সময় কোনও মেকআপ করি না, একটা চশমা পড়ি, শেডস নয় কিন্তু, সাদা চশমা। কখনও-কখনও দু’ একজন বলেনও, “আপনি মধুমিতা না?” আমি তখন গম্ভীর হয়ে বলি, “কে মধুমিতা? কোনও মধুমিতাকে আমি চিনি না, আপনি হয়তো কারও সঙ্গে ভুল করছেন।” (হাসি)

 

আপনি যথেষ্ট সুন্দরী তার উপর প্রকাশ্যে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করেন, নিশ্চয় প্রচুর প্রেমপত্র পান?

প্রচুর। বাড়ির সামনে একটি স্কুল আছে, কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত স্কুল, সেখানকার ছেলেরা আমার বাড়ির লেটার বক্সে গুচ্ছ-গুচ্ছ প্রেমপত্র ফেলে দিয়ে যায়। তারা সব আমার চেয়ে ছোট। কিন্তু ভারী ভাল লাগে প্রেমপত্র পড়তে, প্রবল হাসি পায় ।

 

শুধু হাসি পেত নাকি কারও প্রেম পত্রের উত্তরও দিয়েছেন?

(হাসি)… না-না, বললাম না তারা সকলেই আমার চেয়ে ছোট।

 

সত্যি আপনার বয়ফ্রেন্ড নেই?

আছে। আমাদের চার বছরের সম্পর্ক। আমার পড়াশোনা, অভিনয়, সব ব্যাপারে ওর দারুণ সার্পোট পাই। ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত।

 

তাঁর নাম কি ’?

না, না (হাসি)….কিন্তু এখনই নাম বলতে চাই না। বিয়েটা ফাইনাল হয়ে গেলেই ঢাক পিটিয়ে দেব (হাসি)।

 

আপনি কতটা ফিগার কনসাস?

প্রচণ্ড। আমি বরাবরই কম খাই। এই সিরিয়ালটি শেষ হলেই, সুইমিং ও জিম করা শুরু করব।

 

প্রথমে মডেলিং আর এখন অভিনয়, যথেষ্ট ছোট বয়স থেকে নিজে উপাজর্ন করছেন? কী করেন নিজস্ব আয় দিয়ে? সেভেং নিয়ে কতটা মাথা ঘামান?

প্রথমেই বলি, মডেলিংয়ে আসার আগে নিজের খরচের জন্য বাবা-মার কাছে হাত পারতাম, আজ মডেলিং ও তিনটে সিরিয়াল করার পরও তাঁদের কাছেই হাত পাতি (হাসি)। আমার টাকা-পয়সা, সেভিং সব বাবা দেখেন। এখনও সেভাবে নিজের আয় ব্যয় করার সুযোগ পাইনি। ইচ্ছে আছে নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানোর।

 

শ্বশুরবাড়ির কথা ভাবছেন, তার মানে কি বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক? বলেই ফেলুন না!

আরে বললাম না ঠিক হলেও ঢাক পিটিয়ে দেব।