magazine_cover_12_november_17.jpg

Tolly Interview

আমি না বারবার প্রেমে পড়ি: লাভলি মৈত্র

কাজ অনেকদিন আগে শুরু করলেও ‘জল নূপুর’ তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে। কিন্তু এই পরিচিতি বদলাতে পারেনি ভিতরের লাভলি মৈত্রকে। কেরিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি কথা বললেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে

 

‘জল নূপুর’ দিয়ে পরিচিতি। কিন্তু শুরুটা কী করে হয়েছিল?

অভিনয়ের জন্য একটি রিয়েলিটি শোয়ে অডিশন দিয়েছিলাম, জিতেও ছিলাম জানেন। কিন্তু পরে রিয়েলিটি শোটাই বাতিল হয়ে যায়। যাইহোক তারপর ‘তোমাকে চাই’ টেলি সিরিজ়ের একটি গল্পে অভিনয় করি। ‘ইচ্ছেডানা’, ‘ষোলো আনা’, ‘বিন্নি ধানের খই’-এ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করি। এরপরই ‘জল নূপুর’-এর অফার পাই। এর সাফল্য আমার চারপাশটা অনেক বদলে দিয়েছে।

 

তা বিখ্যাত হয়ে কেমন লাগছে?

খুব ভাল। এটাই তো আমি চেয়েছিলাম। লোকে রাস্তাঘাটে চিনতে পারছে। একটা ঘটনা বলি। তখন লোকে একটু-আধটু চিনতে পারছে। আমি একটা অনুষ্ঠানে বাঘাযতীনে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, খাঁটি দক্ষিণ কলকাতায় বাঘাযতীনের মতো জায়গায় আমাকে কে আর চিনবে? গিয়ে দেখলাম, প্রচণ্ড ভিড়। সকলে আমাকে একবার ছুঁতে চায়, কথা বলতে চায়। নতুন শাড়ি ছিঁড়ে সে এক যাচ্ছেতাই কাণ্ড। কী ভাল যে লাগছিল। তবে একটা কথা বলতে চাই। আজকে হয়তো আমি বিখ্যাত হয়েছি, কিন্তু মনের দিক থেকে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।

 

বাড়িতে কেউ অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

না, কস্মিনকালেও না। তবে আমার ইচ্ছেয় বাধা দেননি। এই যে গভীর রাত অবধি শুটিং করি। পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠানে যেতে পারি না। এর জন্য বাবা-মা আমাকে কিছু বলেন না। মা রাতের পর রাত জেগে অপেক্ষা করেন। আসলে তাঁরা জানেন আমি যা করব, ভালই করব। অন্যায় আমি করি না এবং কেউ অন্যায় করলে বাধা দেব।

 

বাপরে আপনি তো বেশ প্রতিবাদী চরিত্রের!

হ্যাঁ, বলতে পারেন। অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকতে পারি না। রাস্তা ঘাটে কতবার এমন হয়েছে। এই তো কিছুদিন আগে আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে বেরিয়েছি। রাস্তায় দেখি একজন লোককে কয়েকজন মিলে খুব মারছে। আমি অমনি দৌড়ে গিয়ে ওদের থামিয়ে জানতে চাই ব্যাপারটা। ওরা বলল, ওই লোকটাকে চোর সন্দেহ করে মারছে। আমি বললাম, ‘চুরি না করেই, চোর সন্দেহে মারছ!’ তারপর একজন সার্জেন্টকে ডেকে ওদের থামাই। বাবা-মা বকুনি দিলেও আমি শুনি না।

 

তা লাভলির সঙ্গে ‘জল নূপুর’-এর ‘কাজুর’ কতটা মিল?

বিয়ের আগের ‘কাজু’র সঙ্গে লাভলির মিল ছিল। তখন কাজুও অন্যায়ের প্রতিবাদ করত, ছটফটে ছিল। কিন্তু বিয়ের পর ‘কাজু’ একদম বদলে গিয়েছে। চুপচাপ হয়ে গিয়েছে। এখন ‘কাজু’ আর লাভলির কোনও মিল নেই।

 

‘কাজু’র কোনও স্বভাবটা আপনি পরিবর্তন করতে চাইতেন?

‘কাজু’ অপমান সহ্য করে। লোকে ওকে যা খুশি বলে যায়, সেটা ও মুখ বুজে সহ্য করে। এটাই আমার ভাল লাগে না। আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে সবচেয়ে আগে এটা পরিবর্তন করতাম।

 

‘ইষ্টিকুটুম’-এর ‘বাহা’ আর ‘জল নূপুর’-এর ‘কাজু’, দুটো চরিত্রের মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। দু’জনেই ভিন্ন টানে বাংলা বলে। অন্য পরিবেশে মানুষ হয়েছে। দু’জনের শ্বশুরবাড়িতে এসে সমস্যার সম্মুখীন হয়। এটাই কী এখন সিরিয়ালের হিট ফর্মুলা?

এই রে এটা আমি বলতে পারব না। তবে ‘বাহা’ বা ‘কাজু’র মধ্যে কয়েকটা মিল হয়তো আছে, অমিলও আছে। ‘বাহা’ পুরুলিয়ার মেয়ে, ‘কাজু’ উড়িষ্যার। দু’জনের স্বভাবেও অমিল আছে। দু’জনের ক্ষেত্রে একটাই মিল, বিবাহ পরবর্তী জীবনে তারা সুখী হতে পারেনি।

 

আচ্ছা, সিরিয়ালে একটানা কাজ করে যেতে হয়। একটু একঘেয়ে লাগে না?

আমার খুব একটা লাগে না। আমরা সপ্তাহে একদিন ছুটি পাই। তাছাড়া আমাদের টিমটা ভীষণ ভাল। বেশ একটা পিকনিকের মুডে কাজ হয়। সকলের সঙ্গে সকলের সম্পর্ক খুব ভাল। সবসময় ঠাট্টা ইয়ারকি হচ্ছে। কোথা দিয়ে যে সময় কেটে যায়, বুঝতেই পারি না। তবে পরিশ্রমটা হয় এটা ঠিক।

 

বড়পর্দায় কাজ করবেন?

আপাতত ইচ্ছে নেই। মন দিয়ে আগে ‘জল নূপুর’ করি। তারপর না হয় ভেবে দেখা যাবে।

 

অনেকক্ষণ কেরিয়ার নিয়ে কথা হল, এবার বলুন তো, প্রেম করেন?

আমি না বারবার প্রেমে পড়ি। এবং আমার প্রচুর বয়ফ্রেন্ডস (মানে শুধুই ছেলে বন্ধু) আছে।

 

কিন্তু জীবনে কোনও স্পেশ্যাল পার্সন?

এই রে এই প্রশ্নটার উত্তর দিতেই হবে! (একটু ভেবে) একজন আছেন। এই ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে। তবে নাম-ধাম কিছুই বলব না। আর ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়েও মন্তব্য করব না বাবা।