magazine_cover_27_march_17.jpg

Music Interview

পটা ও মরুদ্যানের অ্যালবাম লঞ্চ অনুষ্ঠানে ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বললেন সুরকার জয় সরকার।

প্র: এই অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণপত্রে আপনার নামও নেই। অথচ আপনি সবার আগে পৌঁছেছেন…
উ: আসলে আমায় মৌখিক ভাবে একবার আসতে বলেছিল। ব্যস, সেটাই যথেষ্ট আমার পক্ষে! আরও কতগুলো কাজ ছিল। বেশ ক্লান্তও। তবে পটাদের গান…

 

প্র: তার মানে এই সিডির গান আপনি শুনেছেন আগেই!
উ: না! তাই তো কিনলাম এক্ষুনি। কিন্তু পটার গান, মরুদ্যানের গান তো আমি বহুদিন ধরে শুনছি। এখানে এসেছি আমি পটার টানে। ওর গানের আমি প্রচণ্ড ভক্ত। পটা মানুষটারও আমি প্রচণ্ড ভক্ত। যতক্ষণ ওরা গান করছিল, আমি চিয়ার করচিলাম। কী জানেন তো, আজকাল তো চারদিকে নকল পাগলে ভর্তি হয়ে গিয়েছে, পটা কিন্তু একটা সত্যিকারের জেনুইন পাগল। গান-পাগল! বেসিক বাংলা গানের দুনিয়াটা এখন মোটামুটি মরুভূমি হয়ে গিয়েছে। আমার আশা, পটা ও মরুদ্যান সেখানে ফুল ফোটাতে পারবে।

 

প্র: বেসিক গান তো সত্যিই মানুষ এখন অতটা শোনেন না…
উ: কারেক্ট করছি। শোনেন না নয়, প্রোমোট করা হয় না। টিভি বা রেডিওতে বেশির ভাগ সময় সিনেমার গানই বাজে।

 

প্র: তাই না হয় হল। তার মধ্যে পাইরেসি। মোট কথা, বাজার মন্দা। অথচ মুক্তিপ্রাপ্ত সিডিতে মাত্র দু’টি গান! বিক্রি হবে?
উ: আমার মনে হয়, বরং এই সিদ্ধান্তটাই ঠিক। বাজার যখন মন্দা, তখন আটটা গানের পিছনে ওই পরিমাণ অর্থ, সময় এবং পরিশ্রম ইনভেস্ট করার দরকার কী? বরং ওই এফর্টটা দুটো গানের পিছনে দেওয়া হোক, যাতে ওই দুটো গান খুব ভাল হয়। ওই টাকাটা দিয়ে প্রোমোশনটাও হয়ে যায় ভালভাবে। তাছাড়া আটটা গানের অ্যালবাম করলেও, সবক’টা গানই তো সমান ভাল হয় না। সবক’টা গান মানুষ শোনেন, তাও নয়। আগে যখন গ্রামাফোন রেকর্ড ছিল, তখনও তো এই কনসেপ্টই ছিল!

 

প্র: এতজন এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন আজ, সলিডারিটি ফর বেঙ্গলি মিউজ়িক, নাকি?
উ: দেখুন, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে, এক হয়ে দাঁড়াতেই হয়। আমরা বুঝে গিয়েছি, বাংলা গানের ইন্ডাস্ট্রিকে যদি আবার দাঁড় করাতে হয়, আমাদের এক হতেই হবে। তাই…

প্র: আপনাকে সম্প্রতি একটি রিয়্যালিটি শোয়ের সেটে দেখা গিয়েছিল। সেই শো-টির তো এখন দারুণ একটা ক্রেজ়…
উ: হ্যাঁ, যে রিয়্যালিটি শো-টির কথা আপনি বলছেন, সেটি কম্পিটিশন নয়, বরং কার্নিভালের মতো হচ্ছে। এতে একটা দারুণ ব্যাপার হচ্ছে এই যে সবাই খুব এনজয় করতে পারছেন। থাকছে অনেক ভ্যারাইটিও। গায়ক-গায়িকাদের হয়তো পরিশ্রম হয়, কিন্তু ওরা অনেক নিশ্চিন্তে গাইতে পারে।

 

প্র: পুজোর গান করছেন কিছু?
উ: এবারে কিছু করা হচ্ছে না। তাই যাঁরা করছেন, তাঁদের সমর্থন করতে এভাবে ছুটে-ছুটে আসা। তবে হ্যাঁ, কুমার শানু আর অলকা ইয়াগনিককে নিয়ে একটা অ্যালবাম করেছি, সেটা মুক্তি পাবে। ‘শহর’-এর একটা অ্যালবাম মুক্তি পাবে, তাতে গেস্ট কম্পোজ়ার হিসেবে আমার একটা গান আছে। এছাড়াও দু’-একটা কাজ আছে। তবে যে কাজের চাপ আছে, তা হচ্ছে পুজোর থিমসং কম্পোজ় করার। পাঁচটি পুজোর থিম সং এবার আমি কম্পোজ় করছি!

 

প্র: লোপামুদ্রা আর আপনি মিলে কোনও প্রজেক্টের কথা ভাবছেন?
উ: এক্ষুনি নয়। তবে শিগগিরই করব, এটা বলতে পারি।