magazine_cover_12_may_17.jpg

Music Interview

‘গেম’ ছবির মিউজিক রিলিজে সঙ্গীত পরিচালক জিত ‘হিট মেশিন’ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বললেন অংশুমিত্রা দত্ত।

জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা আপনাকে। জন্মদিন কীভাবে কাটাচ্ছেন?

অনেক ধন্যবাদ। আজকে তো ‘গেম’-এর মিউজিক রিলিজেই অনেক সময় কেটে গেল। এবার মুম্বইয়ের ফ্লাইট ধরব। তবে জন্মদিনের আসল উপহার তো ৩০ জুন পেতে চলেছি। সেদিন আমার সুর করা দু’টো ছবি ‘গেম’ এবং ‘সিটি লাইট্স’ মুক্তি পাচ্ছে। দু’টো পুরো আলাদা ধরনের ছবি। গানের শৈলীও পুরোপুরি আলাদা।

 

‘গেম’ তো অ্যাকশন ছবি। এরকম ছবিতে গান কি খুব দরকার?

হ্যাঁ, ‘গেম’ অবশ্যই অ্যাকশন ছবি। এখানে গান শুধু দর্শককে রিলিফ দেওয়ার জন্য আছে। মোটে চারটে গান আছে। গল্পের সঙ্গে গানগুলো সুন্দরভাবে মিশে গেছে। কিন্তু ছবিতে গানের ভূমিকা কী, সেটা এখনই বলব না। সেটা জানার জন্য ছবিটা দেখতে হবে। তবে ‘বম চিকি’, ‘পার্টি অল নাইট’, ‘ওরে মনওয়া রে’, সব গান তো এখনই হিট করে গেছে খবর পাচ্ছি।

 

অভিনেতা জিত আপনার সম্পর্কে বললেন, আপনিই নাকি টিমের ওপেনিং ব্যাটসম্যানের কাজটা করে দেন…

হ্যাঁ, কাল তো বলল, আমি নাকি কেকেআর-এর রবিন উত্থাপ্পার মতো। ব্যাট ওঠালেই ছক্কা হাঁকাই (হাসি)। তবে এই কথাগুলো আমার কাঁধে আরও দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়। সবসময় মনে হয়, যেন টিমের বিশ্বাসটা রাখতে পারি।

 

জিত-শুভশ্রী জুটির থেকেও সফল জুটি তো অভিনেতা জিত এবং সঙ্গীত পরিচালক জিতের…

২০০৬ সালে রিলিজ করে ‘প্রেমী’, যা জিতের সঙ্গে আমার প্রছম ছবি। তারপর প্রচুর ছবি আমরা একসঙ্গে করেছি। জিতের প্রথম প্রোডাকশন ‘বস’-এর মিউজিকও আমিই করি। কাজ করার পাশাপাশি আমরা ভীষণ ভাল বন্ধু। ঈশ্বর আছেন, ভাল কাজ করলে উনিই সাফল্য দেবেন। ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের জুটিকে এভাবে সফল করার জন্য। আর বন্ধুরা কাজ করলে কোথাও একটা পজিটিভিটি কাজ করে বলেই হয়তো কাজটাও ভাল হয়।

 

আরেক জিত, মানে গায়ক অরিজিত সিংহের সঙ্গে আপনার জুটিও তো অনবদ্য। এই জুটির রসায়নটা কী?

হ্যাঁ, এই জুটিটাও কিন্তু আমার খুব প্রিয়। অরিজিতকে আমি প্রথম ‘আশিকি ২’ ছবিতে গান গাওয়াই। তারপর ‘মন মাঝি রে’, ‘সুনো না সঙ্গে মরমর’, আরও প্রচুর গান বাংলা ও হিন্দি ছবির জন্য গেয়েছে আমার সুরে। ছেলেটা সব গান অবলীলায় গাইতে পারে। ওকে কোনও এক ধরনের গানে বাঁধা যাবে না। ওর মতো গায়কের এখন খুব দরকার। এখন তো ভাল কোনও গান বানালেই অরিজিতের কথা ভাবি।

 

মেয়েদের মধ্যে কার মধ্যে সব ধরনের গান গাওয়ার ক্ষমতা আছে বলে মনে হয় আপনার?

আমি সম্প্রতি নীতি মোহনের সঙ্গে কাজ করলাম। ওর মধ্যে এই ক্ষমতা আছে। আর বলতে পারি মোনালি ঠাকুরের কথা। ওরা দু’জনই বেশ ভার্সাটাইল সিঙ্গার।

আচ্ছা, আজকাল তো প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক বেসুরো গলা সুরে করে দেওয়া যায়। ইন্ডাস্ট্রিতে যে গায়কের ওপর এই প্রযুক্তির দাপট, এব্যাপারে আপনার কী মত?

না না, আমি এটাকে একদমই পছন্দ করি না। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক-দু’টো গান হিট করানো যায়, কিন্তু বেশিদিন টিকে থাকা যায় না।

 

তাহলে ভাল-ভাল সিঙ্গাররা হারিয়ে যাচ্ছেন কেন?

হারিয়ে ঠিক যাচ্ছে না। কিন্তু এখন মানুষের কাছে প্রচুর অপশন আছে। নতুন নতুন শিল্পীরা উঠে আসছে, যেটা খুব ভাল বলেই আমার মনে হয়। আগে তো অনেক ভাল মানের শিল্পীরা সুযোগই পেতেন না। ওই লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, রফি সাহেব বা কিশোর কুমারের মতো একচেটিয়া বাজার তৈরি হচ্ছে না।

 

কী ধরনের গান আপনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন?

দেখুন, আমি সবসময় যুবসম্প্রদায়ের জন্য গান বানাই। যুব সম্প্রদায় যেমন পার্টি বা ডিস্কে নাচার মতো গান শোনে, তেমনই মেলোডিও পছন্দ করে। তাই ‘ভজ গৌরাঙ্গ’-এর মতো গানের পাশাপাশি ‘কী করে তোকে বলব’-এর মতো মেলোডিয়াস গান আমি বানিয়েছি। তবে ব্যক্তিগতভাবে মেলোডি আমার সবচেয়ে প্রিয়।

 

আপনাকে নিয়ে রটনা আছে, আপনি নাকি দেবের ছবির থেকে জিতের ছবিতে বেশি ভাল সুর দেন…

না না, এটা ঠিক নয়। আগে বলা হত জিতের ছবির থেকে দেবের ছবিতে বেশি ভাল সুর দিই। আমি ওসব ভেবে গান বানাই না। যে ছবিটা যখন আমার কাছে আসে, সেটাকে পুরো মনযোগ দিয়ে নিজের সবটুকু দিই। এর আগে তো ‘রংবাজ’-এর গান সুপারহিট করল। আবার ‘বস’-এর গানও সুপারহিট। তাই এই অভিযোগটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

 

জিত যে আপনাকে রোগা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেটা কতদূর এগোল? জিম যাচ্ছেন? আর মাটন খাওয়া বন্ধ হয়েছে?

সে আর এ জন্মে হল না (হাসি)। আর কলকাতায় এলে তো বিশেষ করে ভালমন্দ খাওয়া হয়েই যায়। মুম্বইতেও কম কিছু হয় না। অঞ্জনদা, মানে অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মাঝে-মাঝেই ভাল কিছু রান্না করলে বাড়িতে দিয়ে যান। কিন্তু জিত এবং আমার স্ত্রী চন্দ্রাণী পারলে লাঠিপেটা করে তার জন্য। রোগা করেই ছাড়বে আমাকে!