magazine_cover_12_March_19.jpg

Tolly Interview

রিপিটেশনের কারণে এখানে অনেক কাজ ছেড়েছি, পরে বাংলাদেশের অন্য আর্টিস্টরা সেটা করেছেন: জয়া আহসান

Jaya-Ahsan-big
কলকাতায় এসেছেন ‘বিজয়া’র প্রোমোশনে। চুটিয়ে কাজ করছেন দুই বাংলায়। ‘বিজয়া’কে নিজের পছন্দের কাজ নিয়ে কথা বললেন জয়া আহসান, ইন্দ্রাণী ঘোষের সঙ্গে।

 

‘বিজয়া’ মুক্তি পেতে চলেছে নতুন বছরে শুরুতেই… আপনি তো এখন বাংলা ছবির পরিচিত মুখ। নিয়মিত টলিউডে কাজ করছেন…

হ্যাঁ, নতুন বছরের একেবারে শুরুতেই আসতে চলেছে আমার ছবি, এটা দারুণ ব্যাপার। আশা করছি বছরটা বেশ ভালই কাটবে। ‘বিসর্জন’ তো বেশ ভাল চলেছিল… আমার তো মনে হয় ‘বিসর্জন’ সিনেমাটা যতটা না আমার, তার থেকেও বেশি দর্শকের।
চরিত্রগুলো তাদের এত কাছের, এত ভালবাসার… এত কষ্ট করে আমরা কাজ করি, এটাই তো সেরা পাওনা। ‘বিজয়া’কেও যেন দর্শক সেভাবেই আপন করে নেয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস দর্শক এটা আরও ভালবাসবে। আমার কাজ যদি কারওর ভাল লেগে থাকে, কেউ যদি মনে করেন আমি মন দিয়ে কাজ করি, তা হলে তাঁরা যেন হলে গিয়ে সিনেমাটা দেখেন। আর ‘বিজয়া’ কিন্তু খুব সুন্দর, মিষ্টি একটা ছবি, যা আসলে প্রেমের কথা বলে, ভালবাসার কথা বলে। আমরা প্রেমের কথা কিন্তু নানাভাবে বলি, এই সিনেমাটাও সেরকম। খুব সরল একটা প্রেমের গল্পকেই ‘বিজয়া’ অন্যরকমভাবে বলে।

 

আচ্ছা, ভারত-বাংলাদেশ দু’জায়গাতেই চুটিয়ে কাজ করছেন। পরপর এতগুলো কাজ করার তো একটা প্রবল চাপ থাকে। এই চাপটা ম্যানেজ করেন কী করে?

উত্তরটা আমারও জানা নেই (হাসি)। মাঝে-মাঝে ভাবলে নিজেরই অবাক লাগে। আমার নিজের প্রোডাকশন ‘C-তে সিনেমা’, তার কাজও তো চলছে এখন। ‘দেবী’ বেরিয়ে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু পরের ছবি ‘ফুডুৎ’-এর প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। মজাই লাগছে আসলে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার আমার কাছে তা হল, দিনের শেষে আমি সিনেমাটা নিয়ে তো থাকতে পারছি! ক’জন মানুষ পারে নিজের ভাল লাগার কাজটা করতে? এখন তো প্রোডাকশনও করছি। এর আগে অভিনয়ের বাইরে অন্য কিছুই করিনি। প্রযোজনাটা কিন্তু ভালই লাগছে।

 

ভারতে ছবি প্রোডাকশনের কথা ভাবছেন কিছু?

নিঃসন্দেহে। তবে আগে ওর জন্য আমায় আরও পোক্ত হতে হবে।

 

দুই বাংলাতেই আপনি সফল। পরপর পুরস্কার, সাফল্য…

পুরস্কার আমার কাছে একেবারেই ম্যাটার করে না, ফলে ওই হ্যাংওভারটা আমার নেই। আমি কাজ করতে ভালবাসি, আর নতুন-নতুন চরিত্র করতে চাই নিজের জন্যই। অন্য মানুষ, তাদের বক্তব্য আমার কাছে ম্যাটার করে না। আমার কাছে আমার কাজ আসলে নিজেকেই বোঝা। ‘এক যে ছিল রাজা’ করলাম, তারপর ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’। প্রত্যেকটা ছবিতে যদি চরিত্রগুলো অন্য চরিত্রের থেকে আলাদা থাকে এবং সব চরিত্রগুলোই যদি দর্শকের কাছে প্রশংসা পায়, তা হলে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওনা।

 

সিনেমার চিত্রনাট্য বাছার ক্ষেত্রে কোন জিনিসটা জয়াকে বেশি ভাবায়?

দেখুন, অনেকসময় অনেক ভাল কাজও কিন্তু আমি ছেড়ে দিই যদি সেই চরিত্রটার মধ্যে রিপিটেশন থাকে। এই রিপিটেশন জিনিসটা আমার একদম ভাল লাগে না। এখানে এমন অনেক সিনেমা ছেড়েছি আমি এই কারণে, যেটা বাংলাদেশের অন্য আর্টিস্টরা করেছেন। ছবির নাম আমি নিচ্ছি না, কিন্তু এরকম আছে কিছু-কিছু। আর সত্যি কথা বলতে কী, প্রচুর কাজ করে বোঝা বাড়ানোর কি আদৌ কোনও মানে হয়?

 

আলাদা চরিত্র মানেই তো তার জন্য আলাদা এক্সপেরিমেন্ট…

আমাকে আসলে চিত্রনাট্যই অনেকটা সাহায্য করে দেয় এ ব্যাপারে। আর কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় আলাদা করে এমন একজন পরিচালক, যে তাঁর সিনেমায় অভিনয় করলে আলাদা করে বেশি কিছু আর করতে হয় না। মানে একটু বুদ্ধিশুদ্ধি থাকলে কৌশিকদা যেভাবে গাইড করে, গোটা বিষয়টা মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়, তাতে যে কেউই সেটা সহজে করতে পারে।

 

সৃজিত মুখোপাধ্যায় না কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়?

দু’জনের সঙ্গেই কাজ করতে ভাল লাগে। দু’জনেই দু’রকম চান। সব কিছুর ক্ষেত্রেই দু’জনে স্বাধীনতা দেয়। কৌশিকদা যেটা করেন, সেটা হল আগেই সব কিছু বুঝিয়ে দেন আর সৃজিতের ব্যাপারটা হল, আমি যেটা করি, সেটাকেই উনি সুন্দরভাবে নেন।

 

ভারত ও বাংলাদেশ, এই দু’জায়গায় কাজের তফাৎটা ঠিক কোন জায়গায় বলে মনে হয় আপনার?

পরিবেশের তফাৎ খুব একটা নেই। তবে এখানে কাজটা কিন্তু একটু বেশি প্রফেশনাল অ্যাটিটিউডে হয়। আর বাংলাদেশে মাঝে-মাঝে এলোমেলো হলেও ওখানে সকলে ভালবেসে কাজটা করেন। কাজ নিয়ে বাংলাদেশে একটা পাগলামি আছে। পরে কী হবে, ছবিটা কী করে চলবে, সেটা না দেখেই ওখানে কোনও একটা ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করে ফেলা হয়।

 

তা হলে বলছেন এখানে সেটা হয় না?

না, এখানে সেটা যে হয় না, তা বলব না। তবে এখানে গোটা ব্যাপারটা খুব সুন্দর গুছিয়ে হয়। কোথায় ছবিটা বিক্রি করা যাবে, কারা সেটা দেখবেন, টার্গেট অডিয়েন্স কারা, এসব সুন্দর করে হিসেব করে নেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে নানারকম প্রতিকূল পরিবেশ, রাজনৈতিক অস্থিরতার ভিতরেও তাঁরা ছবিটা বানানোর জন্য অস্থির হয়ে থাকেন। ভাল ছবি তৈরি করতে চান।

 

টলিউডে বন্ধুত্ব…

হ্যাঁ, কেন হবে না? এখানে সবাই বন্ধু আমার, সবার সঙ্গেই তো কথা হয়।

 

সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়… বড়-বড় অনেকের সঙ্গেই তো কাজ করে ফেলেছেন। এবার কোন-কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে চান?

আমি একদম নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।

 

ওয়েবসিরিজ়ের ব্যাপারে কী বলবেন? এখন তো ওয়েবসিরিজ়ের খুবই রমরমা!

দেখুন, ওয়েবসিরিজ়ে কাজ করার অফার আমার কাছে এসেছে। তবে কাজ করতে হলে কিন্তু একটু বেছেই করব। খুব যদি ডায়নামিক হয়, তবে করাই যায়।

 

আচ্ছা, জয়া আহসান কখনও বলিউডে কাজ করতে চান?

হ্যাঁ, কেন নয়! আর শুধু বলিউডই বা কেন, আমাকে যদি চিন, জাপান থেকেও ডাকে, আমার চেহারা, অভিনয়ের সঙ্গে মেলে, তা হলে অবশ্যই করব।

 

এত কাজ, ব্যস্ততার মধ্যেও অবসর কাটাতে পারেন?

অবসর একদম পাই না। ফ্লাইটেই কেটে যায় অবসর…।

 

নিউ ইয়ারের পরিকল্পনা কী?

আপাতত সিনেমা নিয়েই ব্যস্ত। এই করেই কেটে যাবে…আর বাংলাদেশেও এখনই ফেরার পরিকল্পনা নেই। এখানেই রয়েছি কিছুদিন।

Jaya Ahsan | Bijoya | bishorjon | tolly interview