আমার সমসাময়িক অন্যান্যরা যেভাবে কাজ পায়, আমি একেবারেই সেভাবে কাজ পাইনি:সায়নী দত্ত"/>
magazine_cover_12_november_18.jpg

 

Home tollywood interview template আমার সমসাময়িক অন্যান্যরা যেভাবে কাজ পায়, আমি একেবারেই সেভাবে কাজ পাইনি:সায়নী দত্ত

আমার সমসাময়িক অন্যান্যরা যেভাবে কাজ পায়, আমি একেবারেই সেভাবে কাজ পাইনি:সায়নী দত্ত

SAYANI-big
‘মাইকেল’এবং ‘কায়া-দ্য মিস্ট্রি আনফোল্ডস, পরপর দু’টি রিলিজ়ের অপেক্ষায় তিনি। একটা সময় অবধি নিজের কেরিয়ার নিয়ে সিরিয়াস না হলেও, এখন নতুন করে মাঠে নামতে চলেছেন
সায়নী দত্ত। সেই গল্প শুনলেন আসিফ সালাম।

আপনি তো খুব ব্যস্ত এখন?
কেন বলুন তো?

‘মাইকেল’, তারপর ‘কায়া-দ্য মিস্ট্রি আনফোল্ডস’, পরপর দুটো রিলিজ়…
হ্যাঁ, তা ঠিক। দুটো ছবিই আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং। ‘মাইকেল’-এ আমি একটা মজার চরিত্রে অভিনয় করছি। আর ‘কায়া…’ তো একটা মিস্ট্রি ফিল্ম। তাই এই ছবি সম্পর্কে কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে এখানে কৌশিকদার (সেন) সঙ্গে কাজ করতে পেরে অনেক কিছু শিখেছি।

২০১৩ সালে ‘ন হন্যতে’ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেন। তারপর থেকে আজ অবধি আপনার কেরিয়ার যেরকমভাবে গড়ে উঠেছে তাতে কি আপনি খুশি?
আমি জীবনে সবসময় খুশি থাকতেই পছন্দ করি। কোনওকিছু নিয়ে দুঃখ করে আদতে লাভ হয় না। আসলে প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে অভিনয় করব। পরিবারের কেউ-ই এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই প্রথমদিকে বুঝতেই পারতাম না কীভাবে এগোব। কার সঙ্গে কথা বলব? কোথায় যাব? আর সত্যি বলতে, মনে-মনে অভিনয় করার ইচ্ছে থাকলেও, কখনওই নিজের কেরিয়ার নিয়ে খুব বিশেষ সিরিয়াস ছিলাম না। সিরিয়াসনেস আসে গতবছর থেকে যখন লোকেরা আমার কাজের প্রশংসা করতে শুরু করল। আসলে দর্শকদের প্রশংসা পেলে সেটা কিন্তু আপনাকে অনেকটা অনুপ্রেরণা জোগায়।

অভিনয় করতে চান বলে পরিবার থেকে কোনও আপত্তি আসেনি?
একেবারেই নয়। মাই ফ্যামিলি ইজ় দ্য কুলেস্ট ফ্যামিলি। আমার মা আর দাদা লন্ডনে থাকে। এখানে আমি বাবার সঙ্গে থাকি। ওরা সবসময়ই আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে।

বাবা সুভাষ দত্ত শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পরিবেশ কর্মী। আপনিও কি পরিবেশরক্ষণ সংক্রান্ত কাজকর্মে আগ্রহ নেন?
অবশ্যই নিই। আমি বাবার কাছ থেকে সবসময়ই এই বিষয়ে খোঁজখবর রাখি। এই খোঁজ শুধু আমার নয়, যে কোনও দায়িত্বশীল নাগরিকেরই রাখা উচিত।

আচ্ছা, ‘ন হন্যতে’র পর ‘সাদা কালো আবছা’, ‘জিজিবিশা’, ‘রোম্যান্টিক নয়’ সহ আপনার সবকটি ছবিই প্যারালেল ছবির জঁরে পড়ে। আপনি কি ইচ্ছাকৃতভাবেই কমর্শিয়াল ছবি এড়িয়ে চলেন?
একেবারেই নয়। আমি তো হার্ডকোর কমর্শিয়াল ছবির নায়িকা হতে চাই। আসলে আমার প্রথম ছবি ‘ন হন্যতে’ সিরিয়াস টাইপের ছিল। তারপর থেকে অনেক পরিচালকদের মনেই একটা ইমেজ জন্মে যায় যে আমি বুঝি সিরিয়াস টাইপের চরিত্রেই ফিট করি। অবশেষে ‘মাইকেল’-এ আমি মজার চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাচ্ছি। এরপর আমি একটা ব্রেক নিয়ে নিজের ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। এবার কমর্শিয়াল ছবি করতে চাই।

কিন্ত মনমতো কাজ পেতে গেলে তো পিআর করতে হবে। পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে যেতে হবে…
আমি একেবারেই পিআর করতে পারি না। আমার বন্ধুরা এই নিয়ে আমাকে প্রচুর কথা শোনায়। আরে হঠাৎ করে কাউকে গিয়ে বলা যায়, আমাকে একটা কাজ দিন! বিশ্বাস করুন, এতদিন অবধি যতটুকু কাজ পেয়েছি, পুরোটাই ওয়র্ড অফ মাউথ পাবলিসিটির সৌজন্যে। ইন্ডাস্ট্রিতে কয়েকজন বন্ধু আছে। তারাই সাহায্য করেছে। আমার সমসাময়িক অন্যান্যরা যেভাবে কাজ পায়, আমি একেবারেই সেভাবে কাজ পাইনি। তা ছাড়া, একবছর আগে অবধি তো আমি নিজের কেরিয়ার নিয়ে সেরকম সিরিয়াসও ছিলাম না। তবে এবার নিজেকে বদলাতে হবে। পিআর-টা ভাল করতে হবে। প্রোডাকশন হাউজ়ের দরজায় কড়া নাড়তে হবে!

SAYANI-big2

নায়িকাদের তো শুনেছি পরিচালকদের সঙ্গে কফি ডেটেও যেতে হয়?
আগে প্রোডাকশন হাউজ় অবধি তো পৌঁছাই! কফি ডেটে কোনওদিন যেতে হলে তখন আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব। তবে একটা কথা আমি বিশ্বাস করি। লবি করে কিংবা পার্টিতে গিয়ে কাজ পাওয়া যায় না। আমার মতো একশোটা মেয়ে পার্টিতে যাচ্ছে। পার্টিতে প্রোডিউসাররা হয়তো খুব ভালভাবে কথা বলবে, কিন্তু পার্টি থেকে বেরোলেই তারা সব ভুলে যায়!

আচ্ছা আপনি তো ট্রেনড বেলি ডান্সারও?
আমার তখন ১৭ বছর বয়স। লন্ডনের ফ্লাইটে এক বিদেশি মহিলার সঙ্গে আলাপ হয়। উনি লন্ডনে বেলি ডান্সিং করেন। ওঁর থেকেই বেলি ডান্স শিখি। যখনই লন্ডনে মায়ের কাছে যেতাম, আমি ওঁর স্টুডিয়োতে চলে যেতাম। আমার মনে হয় বেলি ডান্সিং ইজ় দ্য টাফেস্ট ডান্স ফর্ম।

চরিত্রের খাতিরে খোলামেলা পোশাক পরতে আপনি কতটা কমর্ফটেবল?
আমি সাহসী পোশাক পরতেই পারি। আমার কোনও অসুবিধে নেই। তবে সেটা একটা-দুটোর দৃশ্যের জন্য হতে পারে। কেউ যদি আমাকে বলে যে ছবি জুড়ে আমাকে শুধু বিকিনি পরে শুয়ে থাকতে হবে সেটার কোনও সেন্স হয় না।

একটা সময় পরিচালক রিংগোর গার্লফ্রেন্ড হিসেবে আপনার পরিচিতি ছিল। বেশ কয়েকবছর হল আপনাদের বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। এখন যোগাযোগ রয়েছে?
সে তো অনেকবছর আগের ব্যাপার। একটা সম্পর্ক যখন শেষ হওয়ার থাকে তখন কারও হাতে কিছু থাকে না। ভাগ্যে লেখা থাকলে হবেই। আমাদের মধ্যে আটবছরের সম্পর্ক ছিল। এখন সেটা অতীত।

রিংগোর সঙ্গে কথা হয়?
না। ওর সঙ্গে কথা বলার কোনও আগ্রহও নেই। আর খামোকা নিজেক এক্সের সঙ্গে কথা বলবই বা কেন?

কিন্তু ভবিষ্যতে যদি রিংগো আপনাকে নিয়ে ছবি করতে চান?
ওয়র্ক ইজ় ওয়র্ক!