যতদিন বাঁচব, অভিনয় করব: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত"/>
magazine_cover_12_august_18.jpg

Tolly Interview

যতদিন বাঁচব, অভিনয় করব: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

ritu1
এই প্রথমবার ছোট পরদায় ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ। ‘শুভদৃষ্টি’ সিরিয়ালে কিছু এপিসোডের জন্য আসবেন তাঁরা। রায়চকে দিন-রাত ব্যস্ত শুটের মধ্যেই কিছুক্ষণের জন্য ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে পেলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

এতদিন পর সিরিয়ালে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?
দেখুন, আমি এমনিতে টেলিভিশন থেকে একটু দূরেই থাকতে চাই। সিনেমা নিয়ে আসলে এতটা ব্যস্ত থাকি যে সময় করাটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আর সিরিয়াল তো রাউন্ড দ্য ক্লক কমিটমেন্টের ব্যাপার। ফলে নিজের কাজের স্বাধীনতাটা কমে যায়। কিন্তু এই সিরিয়ালের জন্য প্রযোজক শিবাজি পাঁজা যখন আমায় অ্যাপ্রোচ করলেন, আমি ভাবতে বাধ্য হলাম। এই সিরিয়ালে চ্যানেল অনেক নতুন ভাবনা লঞ্চ করছে। খুব প্রাইম প্রজেক্ট। আমি বরাবর নতুন ভাবনা, নতুন মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। তাই আমি আর প্রসেনজিৎ এই সিরিয়ালের প্রচারের জন্য ঝলকের মতো কয়েকটি এপিসোডে আসছি। আসলে কী নতুন সৃষ্টি করছি, এটা একটা বড় ব্যাপার। সবাই হয়তো ভাবে না, কিন্তু আমাদের মতো কিছু মানুষের অন্তত দায়িত্বটা নেওয়া উচিত।

তার মানে আপনি আর প্রসেনজিৎ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আসছেন?
অবশ্যই। এই ব্র্যান্ডের পিছনে অনেকদিন ধরে, অনেক পরিশ্রম করে, আজকের এই ব্যাপারটা তৈরি হয়েছে। সেটা আমাদের কাজের পূর্ণতা… এর আগে বোধহয় সিরিয়ালের কোনও কাজ এভাবে প্রোমোট করা হয়নি।

টিভি সিরিয়ালে নতুন কিছুর কথা বলছিলেন। কিন্তু সেট দেখে তো সেই অতিরঞ্জিত ব্যাপারটাই লাগছে।
এখানে আমার একটা বক্তব্য আছে। আজকাল মনে হয়, সিরিয়ালে যা দেখাচ্ছে, তা যতটাই অতিরঞ্জিত মনে হোক, সত্য এর চেয়ে খুব দূরে নয়। তিনটে বিয়ে, পরিবারে খুন, কিডন্যাপ… আকছার হচ্ছে। হয়তো একটু কমই দেখানো হয়। প্রেজ়েন্টেশনটা একটু মেলোড্রামাটিক… এই যা। আসলে টেলিভিশনের প্রতিযোগিতা এতটা বেড়ে গিয়েছে যে এই মেলোড্রামাটা এসেই যায়।

ritu2

তবু, সিরিয়ালের তো যথেষ্ট রিগ্রেসিভ বলেই বদনাম, তাই না?
খুব একটা ভুলও নয় কিন্তু। একটা ব্যালেন্সের অভাব কিন্তু তৈরি হয়েছে। আমরা আগে যে সিরিয়ালগুলি দেখতাম… ‘বুনিয়াদ’, ‘কচ্চি ধুপ’, ‘মালগুড়ি ডেজ়’, ‘নুক্কড়’… কমার্শিয়াল সিরিয়ালে সঙ্গে-সঙ্গে এই ধরনের কাজ হয়তো আর একটু বেশি হলে দর্শকের জন্যও ভাল।

পুরো সময়ের জন্য ছোট পরদায় আসার কথা ভাববেন কি?
না, তবে সিরিয়াল প্রযোজনা করার কথা ভাবতে পারি। কিছু কাজ আমরা ইতিমধ্যে করেছি। হয়তো পরের বছর একটা কাজ করতে পারি। আমার ইচ্ছে, ছোট-ছোট লভস্টোরি নিয়ে একটা সিরিজ় করার। সাহিত্যধর্মী একটা অনুষ্ঠান।

আচ্ছা, এখনও আপনি আর প্রসেনজিৎ যে জায়গাটা নিয়ে আছেন ইন্ডাস্ট্রিতে, সে জায়গায় তো আর কেউ উঠে আসছেন না। এর কারণ কী বলে মনে হয়?
ঠিক জানি না… প্রতিভা তো প্রচুর আছে। কিন্তু আরও বেশি ডিসিপ্লিনের বোধহয় প্রয়োজন। আসলে আমাদের ওয়র্ক কমিটমেন্টটা একটু অন্যরকম। সিনেমাটা নিয়েই বাঁচি। কত লাইক-শেয়ার হল, কত টাকা পেলাম… এটা নিয়ে একমাত্র বাঁচা নয়। সবসময় মনে হয়, সময় কম, কাজ বাকি অনেকটা। ‘রাজকাহিনি’-র সেটে সেদিন ওই বন্দুকের লড়াইয়ের দৃশ্য, ভোররাতে শুট করছি… সিউড়িতে তখন তিন ডিগ্রি তাপমাত্রা। হি-হি করে কাঁপছি। তারই মধ্যে সৃজিত (মুখোপাধ্যায়) আমায় বলল, ‘কি, বায়োস্কোপ আর করবে?’ সঙ্গে-সঙ্গে উত্তর দিয়েছিলাম, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, করব।’ আসলে আমরা একটা পোস্টার থেকে একশো হোর্ডিংয়ের যুগে এসেছি তো… সেসময়ে শুক্রবার কাগজে মাত্র একটা সিনেমার খবর বেরোত। ওই একটা পোস্টারই প্রযোজককে টাকা এনে দিত। হয়তো এখন অল্পেই অনেকটা পাওয়া যায় বলে…