magazine_cover_12_april_17.jpg

 

Home tollywood interview template ‘‘আমি অতটাও ডেসপারেট নই!’’: প্রিয়ঙ্কা সরকার

‘‘আমি অতটাও ডেসপারেট নই!’’: প্রিয়ঙ্কা সরকার

Priyanka-big

ডুয়ার্সের জঙ্গলে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘ছায়া ও ছবি’র শুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার। সন্ধে সাতটা থেকে পরেরদিন দুপুর সাড়ে এগারোটা অবধি ল-ম-বা ঘুম দিয়ে ওঠা অভিনেত্রীকে ধরা গেল ঠিক ফ্লাইট ধরার আগে। তাতেও আড্ডা হল যথেষ্টই। সঙ্গী থাকলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

 
এত লম্বা ঘুম? এখনও ক্লান্ত দেখাচ্ছে। শরীর খারাপ নাকি?
আরে, এই ছবিটার জন্য এই নিয়ে তিনবার উত্তরবঙ্গে আসা-যাওয়া করলাম। এর আগে শুট করেই কলকাতা ফিরেছি, শুট করেছি। তারপরই এখানে এলাম। এবার ট্রেনে এসেছি। ট্রেনে আবার আমার ভাল ঘুম হয় না। এসেই মেক-আপ করে শুটিংয়ে চলে গিয়েছি। এই এতবড় পেন্ডিং ঘুমটা বোধহয় এখন হচ্ছে। তবে এই পরিশ্রমটা ভাল। টাচ উড, যেন থাকেও। দুশ্চিন্তা থাকে শুধু একটাই, সহজ (প্রিয়ঙ্কার পুত্র)।
 
এমনিতে সহজকে শুটিংয়ে নিয়েই যান?
দু’-একদিনের শুট হলে ওকে নিয়ে আসি না। এবার সেটাই হয়েছে। এমনিতে ও এখন অনেকটাই বোঝে। কিন্তু জানে, মা রাতে ফিরবেই। তাই সকালটা আমায় খুব মিস করে, ঘ্যানঘ্যান করে খুব।
 
কাল দেখলাম আপনাকে চালসার জঙ্গলে। শুটিং সিকোয়েন্সে ঘোড়ায় চড়ে, বর্ম-টর্ম পরে… ব্যাপারটা বোঝাবেন?
এই ছবিতে ‘ফিল্ম উইদিন আ ফিল্ম’-এর একটা ব্যাপার আছে। সেটারই একটা সিকোয়েন্স ওটা। ছবিতে আমার চরিত্র মউ। সে এখনও বড় স্টার হয়ে ওঠেনি। লিডিং অভিনেত্রী (যে চরিত্রটি কোয়েল করছেন) রাইকে দেখে সে হয়তো একটু হিংসেই করে। প্রশ্ন করে, স্টারের ট্রিটমেন্ট এত আলাদা কেন।
 
ব্যাপারটি একটু বাস্তব জীবনেও মিলে যাচ্ছে কি? প্রিয়ঙ্কা একটা সময় স্টার ছিলেন। তারপর বেশ কিছুদিন তাঁকে দেখা যায়নি। স্টারডমে ফেরার পথটা তো সামনে অনেকটাই লম্বা! তা ছাড়া, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই বলছেন প্রিয়ঙ্কাকে একদম অন্য ফর্মে এখন দেখা যাচ্ছে। অনেক সাহসী, অনেক ইস্পাত কঠিন। বর্ম পরে কি সেই মোডেই ঢুকে গিয়েছিলেন?
দেখুন, রিলেট করতে না চাইলেও, কিছু জিনিসে রিলেট করাই যায়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা, একজন নতুন অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রোডাকশনের ব্যবহার আর স্টারের সঙ্গে ব্যবহারে হাজার-হাজার গুণ তফাত থাকে। আমি যখন ক্লাস সিক্সে কাজ শুরু করেছি, বা তারপরেও… ধরুন, লাঞ্চে যা দিল তো দিয়ে দিল। তার বাইরে এক পিস বেশি মাছ চাইলে, হয়তো অপমানই করে দেবে! এটা এই ছবির ক্ষেত্রে হচ্ছে বলছি না, কিন্তু সাধারণত এরকমই হয়ে থাকে। আর নতুন ফর্মের কথা বা স্টারডমের কথায় বলি… আমি এতদিন নিজেই নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলাম। আসলে সহজের জন্মের পর আমার যা চেহারা হয়েছিল, আমি টাইপকাস্ট হয়ে পড়তাম। এখন নতুন করে তৈরি হচ্ছি, নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করছি।
 
এটাকে তাহলে সেকেন্ড ইনিংস হিসেবেই দেখছেন?
ঠিক তা হয়তো নয়। আমি তো কাজ করছিলামই। তবে এটুকু বলব, সহজকে যদি জীবন ধরি… সহজের পরই এখন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রায়োরিটি হল কাজ। সেকেন্ড ইনিংস না হলেও, কাজে যে আবার মন দিয়েছি, তা তো ঠিকই।
 
কাজ থেকে দূরে থাকার একমাত্র কারণ তাহলে সহজ?
একদমই। আর কোনও ব্যক্তিগত কারণ নেই।

Priyanka-big2.pg

অনেকে কিন্তু বলছেন, প্রিয়ঙ্কা যেহেতু নতুন করে শুরু করছে, সব কাজই ও করবে…
না, আমি অতটা ডেসপারেটলি কাজ করব না। আমি কাজ করতে ভীষণ ভালবাসি। কিন্তু সেটা প্রশ্রয় দেওয়াটা উচিত হবে না। বুঝে গিয়েছি, একটু বেছে কাজ করতেই হবে। আমার বেশ কয়েকটি ছবি রিলিজ়্‌ড হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি ভাল হলে অডিয়েন্সের একটা এক্সপেক্টেশন তৈরি হয়। টানা কাজ করলে সেই জায়গাটা একেবারেই রাখতে পারব না। দশজন পরিচালক কাজের অফার দিলে, তাঁদের মধ্যে যে দু’জন ভাল, তাঁদেরটা আমায় বেছে নিতে হবে। সেজন্যই রাজদা (চক্রবর্তী), রাজাদা (চন্দ), কৌশিকদার (গঙ্গোপাধ্যায়) কাজ করছি। ওদিকে মার্চে বাংলাদেশী একটি ছবিতে কাজ করব। ওতে লাভ হবে এই, আমি বেশ কিছুটা ফিনানশিয়াল সিকিয়োরিটি পাব। যার ফলে আর একটু সময় নিয়ে কাজের ব্যাপারে ভাবতে পারব।
 
লুক চেঞ্জ, ইমেজ চেঞ্জের ব্যাপারটা কনশাসলি করছেন? অনেকটা ওজন কমিয়েছেন। তাছাড়া একসময় ছিলেন বাবলি ‘স্কুলগার্ল’, তারপর ‘মা’… এই মুহূর্তে আবার খুব ‘গথিক’ দেখাচ্ছে। অল্প ঘসে যাওয়া কাজল, গ্রে টি-শার্ট, ব্ল্যাক ডিসট্রেস্‌ড জিন্‌স…
মনটাই ভাল করে দিলেন আমায় ‘গথ’ বলে। ছোটবেলা থেকে ওটিই আমার প্রিয়তম লুক কিনা! আমার ওয়র্ডরোবে চোখ চালালে শুধুই কালো রংয়ের সমাহার। বাকি লুক চেঞ্জের ব্যাপারটা এই, আমায় যদি ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন চরিত্র পেতে হয়, ওজনটা কমাতেই হবে। কারণ স্ক্রিনে পাঁচ-ছ’ কেজি এমনিতেই বেশি দেখায়। তাই পুরো গ্রীষ্মকালটা আমি সাঁতার কেটেছি, হাঁটছি রোজ, ডায়েট করছি মন দিয়ে… এখনও অবশ্য আগের শেপটায় ফিরিনি পুরোপুরি।
 
কাজের কথা এত বললেন, কমার্শিয়াল ছবিতে লিড হিসেবে আসবেন না?
অনেস্টলি, সেরকম কোনও অফার এখনও পাইনি। পেলে, ভাবব। এখন যে চরিত্রগুলি করছি, একটু অন্যরকমই।
 
কাল ঘোড়ায় চড়লেন। এই কি প্রথমবার? না ট্রেনিং ছিল?
ছোটবেলায় বোধহয় দীঘায় একবার ঘোড়ায় চড়েছিলাম! তারপর এই… ফলে ট্রেনিংয়ের কোনও গল্প নেই। বরং ঘোড়াটা শেষ ‘ব্যোমকেশ’ ছবিটায় ছিল। ফলে ওর ট্রেনিং আছে কিছু!
 
সে কী! ঘোড়ার পিঠে আপনাকে দেখে তো এমনটা মনে হল না!
হুঁ… আসলে আমি খুব ভাল অভিনেত্রী তো, তাই টেনশনটা ঢেকে রাখতে পেরেছিলাম! তাছাড়া ঘোড়া আমার প্রচণ্ড প্রিয় একটি পশু। ছোটবেলায় তো ফ্যান্টাসি ছিল, একটা ঘোড়া পুষবই। তাই সব মিলিয়েই হয়তো…
 
আপনাকে নিয়ে কোনও নতুন গসিপ কানে এসেছে?
না, কিন্তু প্লিজ় আপনারা শুনলে আমায় বলবেন। আমি শুনে মজা পেতে চাই।
 
রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে কোনও গসিপ হয়নি? কারা যেন বলছিল…
এ কী! প্লিজ় এরকম করবেন না! রাজদার তো বিয়ে এবছর। বিয়েটা অন্তত হতে দিন! অবশ্য আমি কিন্তু বিয়ে নিয়ে কিছু কনফার্ম করছি না। আমিও সব কথা মিডিয়ার মাধ্যমেই জেনেছি। বিয়ের আশেপাশেও কোনও কথা কখনও রাজদার সঙ্গে হয়নি। তবে রাজদাকে নিয়ে আমার সঙ্গে কোনও লিঙ্ক-আপ, আমি একেবারেই শুনতে চাই না।
 
সিনেমায় কাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন?
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাউকেই মনে হয় না। তবে আমার খুব হিংসে হয় জেনিফার লরেন্স এবং আলিয়া ভট্টকে দেখে। ওদেরও বয়স আমারই মতো, ২৬ বছর। অথচ ওরা নিজেদের ভাঙার কত সুযোগ পায়! তার সঙ্গে ওদের নিজেদের ভাঙার সেই ক্ষমতাটাও আছে। ‘উড়তা পঞ্জাব’ দেখুন, কী অভিনয় করেছে আলিয়া। আমার এটাও প্রশ্ন, সুযোগ পেলেও আমি কাজটা করতে আদৌ পারব কি না!