magazine_cover_12_decemberr_18.jpg

 

Home music interview template একদশক ধরে গানকে পেশা করেছেন। জিঙ্গল থেকে শুরু করে ‘গব্বর’-এর ‘কফি পিতে পিতে’, ‘ওকে জানু’র ‘কারা ফনকারা’র মতো গান রয়েছে ঝুলিতে। কলকাতার মেয়ে পরমা দাশগুপ্ত কথা বললেন আনন্দলোকের অংশুমিত্রা দত্ত সঙ্গে।

একদশক ধরে গানকে পেশা করেছেন। জিঙ্গল থেকে শুরু করে ‘গব্বর’-এর ‘কফি পিতে পিতে’, ‘ওকে জানু’র ‘কারা ফনকারা’র মতো গান রয়েছে ঝুলিতে। কলকাতার মেয়ে পরমা দাশগুপ্ত কথা বললেন আনন্দলোকের অংশুমিত্রা দত্ত সঙ্গে।

paroma-dasgupta

প্র: আপনার নতুন সিঙ্গল ‘মন কে’, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের উপর মা-বাবার চাপসৃষ্টি করা নিয়ে বার্তা দিয়েছেন, সেটা কি ব্যক্তিগতজীবনের প্রতিচ্ছবি?
উ:এই গানটা কিন্তু শুধু ছাত্রছাত্রী বা পড়াশোনার চাপ নিয়ে নয়। গানের কথাগুলোকে ইন্টারপ্রিট করলে দেখবেন এখানে ভালবাসার মুক্তির কথা বলা হয়েছে। আমি চেয়েছি, এখানে ছাত্রদের উপরে মা-বাবা যে চাপসৃষ্টি করেন, সেটার মুক্তি হোক। আজকাল যেভাবে সুইসাইড বাড়ছে… বাচ্চার যেটা ভাল লাগে, বা সে নিজে যা হতে চায়, সেটাই তাকে করতে দেওয়া উচিত। বাচ্চা, মা-বাবা সবার জন্য এই গানটা। কিন্তু এই ব্যক্তিগতজীবনের প্রশ্নটা করলেন কেন?

 

প্র: কারণ, গান আপনার প্যাশন অথচ আপনার পড়াশোনার গ্রাফ তো বেশ লম্বা! সেটা ভাল লাগা থেকে নাকি বাড়ির চাপে?
উ: আমি ইংরেজিতে স্নাতক, লরেটো কলেজ থেকে। তারপর যাদবপুরে মাস কম নিয়ে পড়েছি। মুম্বই ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্সও করেছি। সেটা কিন্তু গানের জন্য মুম্বইতে শিফ্‌ট করার পর। সুতরাং বাড়ির চাপ বলা যাবে না। ছোটবেলায় একটা জিনিস ছিল, সব বাঙালি বাড়ির মতোই, গান-বাজনা যা-ই করো, পড়াশোনা ছাড়া চলবে না। আমারও মনে হয় পড়াশোনাটা ইম্পর্ট্যান্ট। আর আমি ছোটবেলায় কি আর জানতাম যে গায়িকা হব!

 

প্র: সঙ্গীতশিক্ষা কীভাবে শুরু?
উ: মায়ের কাছে। মা সঙ্গীত রিসার্চ অ্যাকাডেমিতে নিসার হুসেন খান সাহেবের কাছে গান শিখতেন। আমি আর দিদিও মায়ের সঙ্গে যেতাম। সেই গান শুনে-শুনেই ছোটবেলা কেটেছে। তারপর বাদল ধরচৌধুরীর কাছে গান শিখেছি। উনি গুলাম আলি, হরিহরণ, জগজিৎ সিংহকে নিয়ে কলকাতায় প্রচুর শো অ্যারেঞ্জ করতেন, ওঁরাও কলকাতায় এলে আমাদের কিছু ক্লাস নিতেন। তখনই বুঝতে পারি, গানই আমার ভালবাসা। তবে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভেবেছি অনেক পরে। বরং আমার দিদি অনেক সিরিয়াসলি গান করত। ও পরে আর জে হয়ে যায়। আর আমি এই প্রফেশনে চলে আসি।

 

প্র: আপনার প্রথম ব্রেক কোনটি?
উ: আমি মুম্বই আসি একটি ভয়েসওভার করতে। খুব বড় একটা হেলথ ড্রিঙ্ক ব্র্যান্ডের জন্য। তারপর থেকে প্রচুর বড় ব্র্যান্ডের জিঙ্গল গেয়েছি। প্লেব্যাকের প্রথম ব্রেক পাই কঙ্কনা সেনশর্মা, ইরফান খান, রাহুল বসুর ‘দিল কবড্ডি’ ছবিতে। কিন্তু লাইমলাইটে আসি ‘ডিপার্টমেন্ট’ বলে একটি ছবির ‘ড্যান ড্যান চিনি’ আইটেম সং দিয়ে। সেখানে সঞ্জয় দত্ত, অমিতাভ বচ্চন ছিলেন। তারপর ‘গব্বর’-এর ‘কফি পিতে-পিতে’, এ আর রহমানের সঙ্গে ‘কারা ফনকারা’ ইত্যাদি।

 

প্র: সপরিবার মুম্বইতে শিফ্‌ট করেছেন বহুদিন। কলকাতাকে মিস করেন না?
উ: করি তো। ক্রিসমাসের সময় পার্কস্ট্রিট মিস করি, কারণ কলেজ ছিল ওখানে। দুর্গাপুজো মিস করি। এক্সটেন্ডেড পরিবারের অনেকে ওখানে রয়েছে। ওদের সঙ্গে দেখা করি। কিন্তু ছুটিতেই যাই। বেশিদিন থাকলে বোর লাগে। কেউ কাজ দিলে হয়তো ভাল লাগবে। কিন্তু কাজ ছাড়া থাকতে কার ভাল লাগে বলুন।

 

প্র: প্রবাসে গিয়ে দশবছর কাজ করছেন। কিন্তু কলকাতায় কেউ ডাকছেন না কেন?
উ: সেটা আমি জানি না। আমার খুব ইচ্ছে করে কাজ করতে। কিন্তু আমি সেভাবে কাউকে চিনিও না। জিৎদাকে (জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়) চিনি। কীভাবে কাকে অ্যাপ্রোচ করব, জানি না। কিন্তু যাঁরা ইতিমধ্যে বাংলা গান গাইছেন, তাঁদের নিয়েই সব কাজ হচ্ছে বোধহয়!