magazine_cover_12_february_19.jpg

Tolly Interview

চাকরিতে ফাঁকি দিলেও থিয়েটারের কাজে কোনও ফাঁকি থাকত না। থিয়েটারকে আমার বউয়ের সতীন বলা যেতে পারে: পরান বন্দ্যোপাধ্যায়

paran-img2
কর্মক্ষেত্র থেকে ব্যক্তিগতজীবন, সবকিছু নিয়ে মুখ খুললেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রোতা, জয়াশিস ঘোষ

 

আপনার সাম্প্রতিক ছবি ‘কলের গান’। এই ‘কলের গান’কে ঘিরে আপনার ব্যক্তিগত কোনও অভিজ্ঞতা আছে?

অবশ্যই আছে। আমার শৈশব, কৈশোর কেটেছে কলের গান শুনে। গান শুনতে-শুনতে নিজেও অনেকসময় গুনগুন করে গলা মিলিয়েছি। এইসব কাজে আমার সঙ্গী ছিল আমার ভাগ্নে। যৌবনেও কলের গান আমাদের সঙ্গে-সঙ্গেই এগিয়েছে। তখন গ্রামাফোন কোম্পানিগুলো প্রতিবছর শারদীয়া রেকর্ড বের করত, বুকলেট বের করত। তারপর সেই সব গান রেডিয়োতে বাজত। এখন যেমন জগঝম্প হচ্ছে, তখন কিন্তু এরকম ছিল না। সেই সময় গানের সুর কানে প্রবেশ করলে মোহিত হয়ে যেতে হত। চাকরিতে ঢোকার পর নিজের পয়সা জমিয়ে আমি প্রথমেই একটা সেকেন্ড-হ্যান্ড গ্রামাফোন কিনেছিলাম। বহুদিন সেটা শুনেছিলাম। তারপর ভাইপোকে দিয়ে দিই। তবে গ্রামাফোনের স্মৃতি আমার মনের মধ্যে রয়ে গিয়েছে। আসলে সব মানুষের মনের মধ্যেই কিছু না কিছু স্মৃতি থাকে। অল্পবয়সে সেটা স্বীকার করার সাহস হয় না। কিন্তু প্রৌঢ়ত্বে এসে সেই স্মৃতি তাকে পীড়িত করবেই।

 

এতদিন পর্যন্ত যে-যে ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, তার মধ্যে আপনার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র কোনটি?

এই প্রশ্নটা কিন্তু একটা রহস্যের জন্ম দেবে। তবে আমি এইসব ভেবে অভিনয় করি না। আমি সবসময় চিত্রনাট্য পড়ে দেখি যে আমার কাজ করার পরিসর কতটা। তবে ওভাবে দুম করে একটা চরিত্রের কথা বলাটা ঠিক হবে না। কারণ আমার কেরিয়ারে আমি সবরকমের চরিত্র করেছি। সেখান থেকে একটা বাছা কঠিন।

 

এমন কোনও চরিত্র কী রয়েছে, যাতে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে? এখনও করা হয়নি…

না, আমি এরকম করে ভাবি না। এসব আদেখলার ভাবনা।

 

নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর আপনি পাকাপাকিভাবে অভিনয়ে আসেন। তারপর থেকে একের পর এক সাফল্য। একটু আগে শুরু করলে ভাল হত না?

কখনওই না। আমি তো ওইসব ভেবে আসিনি। আমি আসলে থিয়েটারের মানুষ। ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে থিয়েটার করছি। তখন অবশ্য আবেগতাড়িত হয়ে করতাম। এরপর ‘আই.পি.টি.এ’-তে যোগ দিয়েছিলাম। তখন প্রকৃতপক্ষে বুঝতে শিখলাম থিয়েটার আসলে কী জিনিস। তারপর আস্তে-আস্তে নিজেকে আরও পরিণত করে তোলার চেষ্টা করলাম। এখনও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোনওদিনও ভাবিনি যে সিনেমা করব বা সেলিব্রিটি হব। সত্যি কথা বলতে অত স্বপ্ন দেখার সুযোগ আমার ছিল না। আমি শুধু পথ হেঁটেছি, এখনও হেঁটে চলেছি।

 

নিজের থিয়েটার দল নিয়ে আগামী পরিকল্পনা কী?

সেই কাজও চলছে। নতুন নাটক শুরু করেছি একটা।

 

চাকরির পাশাপাশি থিয়েটারও করে গিয়েছেন। তখন সবদিক কী ভাবে সামলাতেন?

চব্বিশ ঘণ্টা সময়টা তো খুব একটা কম নয়। তবে আমি অফিসে কম সময় দিতাম। এ ব্যাপারে বেশ অবাধ্য ছিলাম! এর ফলে মাইনেও অনেক কাটা যেত। কিন্তু থিয়েটারের কাজে কোনওদিনও ফাঁকি দিইনি। থিয়েটারকে আমার বউয়ের সতীন বলা যেতে পারে!

 

নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্পর্কে আপনার কী মতামত?

আমার কিছুই মতামত নেই। এখন যা সময়, তার মধ্যে যারা সতর্ক থাকবে, একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সততার সঙ্গে কাজ করবে, তারাই পথ খুঁজে পাবে। আর কেউ যদি একটু খ্যাতি পেয়েই ভেবে নেয় যে সব পেয়ে গিয়েছে, সে পস্তাবে। শুধু সিনেমা বলে নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই এই বার্তা প্রযোজ্য।

 

এখনকার নতুন ট্রেন্ড তো ওয়েব সিরিজ়। এই সম্পর্কে আপনার কী মতামত? এটা কি কোনওভাবে বড় পরদাকে আঘাত করতে পারে?

আমি এসব নিয়ে কিছুই ভাবি না। কালের নিয়মে অনেক কিছুই নতুন আসবে। তার মধ্যে ভাল-মন্দ দুটোই থাকবে। তার থেকেই বেছে নিতে হবে। আরে বাবা, হাতে ছোট যন্ত্রটা না থাকলে তো আর ওয়েব সিরিজ়ের স্বাদ পাওয়া যাবে না! আর কেউ যদি ঘাড় নিচু করে, পরিপার্শ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ওর স্বাদ নিতে চায়, তাহলে সে তাতেই আনন্দ পাক। এতে কত সুখ আছে, তা আমি জানি না।

 

আপনার কি কোনও ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করার পরিকল্পনা রয়েছে?

না, তেমন কিচ্ছু নেই।

 

এখন বাংলা সিনেমার ধারাটা একটু বদলেছে। তথাকথিত নায়ক-নায়িকাভিত্তিক ছবির থেকে সরে গিয়ে এখন অনেক বিষয়ভিত্তিক ছবি তৈরি হচ্ছে। এই ধারাটা কি বাংলা সিনেমাকে নতুন কোনও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে?

আসলে, আমি এসবের ধার ধারি না। একটা জিনিস দেখব, আর সেটাই ভাল বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দেব, আমি ওতে নেই। কোনটা ভাল কোনটা খারাপ, সেটা বলার আমি কে! আমি শুধু পথ হাঁটছি। তবে একটা সুবিধে হল, আমি ভাল-মন্দর পার্থক্যটা বুঝতে শিখেছি। কিন্তু আমি মনে করি, যতক্ষণ না জিজ্ঞাসা করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ভাল-মন্দ বলার অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই।

Paran Bandopadhyay | Interview | Tollywood