magazine_cover_12_July_19.jpg

Tolly Interview

আমরা পার্টিতে সবাই দেখা করি, জড়াজড়ি করি… কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই আসলে আলাদা-আলাদা দ্বীপ: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়

Kaushik-Ganguly-big
নিজের পরিচালক সত্তা ছাপিয়ে উৎসাহিত পিতার সত্তা বেরিয়ে আসে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের। যখন ‘রসগোল্লা’য় অভিনয় করা তাঁর পুত্র উজানের কথা ওঠে। সেখান থেকে তাঁকে নিজের কথায় ফেরাতে বেশ বেগই পেতে হয়। কিন্তু তারপর মনের কথা, ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুত্বের কথা, অনেক কিছুই বললেন ইন্দ্রাণী ঘোষকে

 

ছেলে উজানের প্রথম সিনেমা ‘রসগোল্লা’ তো রিলিজ় করল। খুবই ভাল রেসপন্স পাওয়া যাচ্ছে, উজানও তো বেশ ভাল অভিনয় করেছেন…

হ্যাঁ, খুব ভাল রেসপন্স… হাউজ়ফুল হচ্ছে। এই শনিবার থেকে শুরু হয়েছে হাউজ়ফুল হওয়া…আনন্দ লাগছে। দেখুন, আসলে যাঁরা অভিনয় করেন, তাঁরা তো আসলে এন্টারটেনার, মানুষকে আনন্দ দিতে চান। সেই আনন্দ অনেক সময় মানুষের কাছে পৌঁছয় না। সেই আনন্দ যখন পৌঁছে যায়, তখন নিজেকে কেমন যেন সফল মনে হয়। আমি, চূর্ণী দু’জনেই যথেষ্ট লেখাপড়া করি, আমরা শিক্ষক ছিলাম দু’জনেই। সেই সব ছেড়ে দিয়ে আমি আর চূর্ণী এই জগতে এসেছিলাম। উই আর ফ্যামিলি অফ এন্টারটেনার্স। মানুষের বিনোদন করার জন্যই এই পরিবার, অন্তত আমরা। এই কাজই করেছি সারা জীবন। চূর্ণী পরিচালক-অভিনেত্রী হিসাবে, আমিও পরিচালক-অভিনেতা-চিত্রনাট্যকার হিসেবে। কাজেই আমাদের ভাল থাকা, মন্দ থাকা, ঝুঁকি, সাফল্য সবই এই বিনোদনের জগতে। আমার বাবা যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও ছিলেন বিনোদনের জগতে, এইচ এম ভি-তে বাবার রেকর্ড অ্যালবাম বেরত। এই ব্যাপারটা বাবার কাছ থেকে আমাদের কাছে এসেছে। সেখানে পরের প্রজন্ম, পুত্র, সেও বিনোদনের জন্য, মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য একটা ছবি করল, মানুষের ভাল লাগল সেই ছবিটা… এটাই আমার কাছে আনন্দের। ও শিখবে আরও। ভাল ছাত্র, আস্তে-আস্তে নিজেকে গড়ে তুলবে…

 

উজান তো পরে পরিচালনাতেও আসতে পারেন…

করুক যা ওর ভাল লাগে, যেখানে আনন্দ পাবে। এমন কাজ কর, যেখানে নিজে আনন্দ পাও। সেখানে দারিদ্রের কষ্টও মুছে যায় যদি আপনি নিজে সত্যিই আনন্দ পান। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, এবং আমি সত্যই তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি এমন একটা কাজ করি যে কাজটা করতে আমার ভাল লাগে। কত মানুষ কত বড়-বড় চাকরি করে, তাদের বেশিরভাগের মনেই তো শান্তি নেই। অনেকের কাছে তাদের কাজটা বাধ্যতামূলক। এত আনন্দ পাই আমি কাজটা করে, এবং সেই কাজটা করতে গিয়ে আমি আর্থিক অভাবের মধ্যে দিয়েও গিয়েছি। হয়তো ভবিষ্যতেও যাব। কিন্তু আমার ভাল লাগে যে, যে কাজটা আমি করছি, সেটা নিজের মতো করে করতে পারছি, আমার একটা গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারছি। তবে উজানের জন্য আনন্দ হচ্ছে যে মানুষ ওকে গ্রহণ করছে।

 

প্রথম সিনেমা, সেটাও যে বড় ব্যানারে… আচ্ছা, স্ক্রিপ্ট বাছার ব্যাপারে উজানকে কোনও পরামর্শ কখনও দিয়েছেন?

না। আসলে বিষয়টা যখন শুনেছিলাম, ভাল লেগেছিল। ছবির ভাল-মন্দের বাইরেও তো একটা সামাজিক গুরুত্ব থাকে, এই ছবিটা বাংলার একটা ইতিহাস। মিষ্টি দই, রসগোল্লা দিয়ে লোকে বাংলা চেনে। সেই রসগোল্লা কীভাবে সৃষ্টি হল, এইটা দেখাতে গেলে কিন্তু একটা সামাজিক সময়ের দলিল তৈরি করতে হয়। এই ইতিহাসটা কিন্তু আজকের ফাস্টফুডের জগতে কেউ জানতে যেত না। নবীনচন্দ্র দাশ সম্পর্কে শুধু উজানের কেন, কারওরই কোনও ধারণা নেই। সেই নবীনচন্দ্র দাশকে তৈরি করে ফেলা তার নিজের মতো করে… সেটা শুনেই আমাদের মনে হয়েছিল যে, সত্যিই, এমন ছবিতেই কাজ করা উচিত, এমন ছবি দিয়েই শুরু করা উচিত যাত্রা। কাজেই ও এই ছবিটা যে বেছেছিল, সেই ছবিটাতে অংশ নেওয়ার জন্য ওর একটা গৌরব আছে। এই ধরনের ছবিতে অংশ নেওয়া মানে তো একধরনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা, আজ নবীনচন্দ্র দাশের কথা উঠলে ওর মুখটা মনে পড়বে মানুষের। সেটা খুব ইন্টারেস্টিং, সেটা ও নিজের মতো করে করেছে।

 

ছবিটা আপনি দেখেছেন?

হ্যাঁ, দেখেছি। ছবিটা আমার খুব ভাল লেগেছে। ছবিটা সম্পর্কে আমার যা-যা বলার, সেটা নিয়ে আমি-চূর্ণী, উজানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ও পড়াশোনায় খুব ভাল এবং ভাল ছাত্র বলে ও অভিনয়ের ক্ষেত্রেও নিশ্চয় ভাল ছাত্র হবে, তাড়াতাড়ি বুঝবে কোনটা ভাল আর কোনটা ভাল নয়। প্রথম ও যখন পরদায় দেখছে, তখন ও নিজেই বুঝতে পারছে কোনটা ভাল লাগবে আর কোনটা করবে না! মানুষ ওকে গ্রহণ করছে। ও যখন বিভিন্ন হলে যাচ্ছে, সকলে খুব খুশি।

 

বাড়িতে রসগোল্লা খেয়েছেন?

হ্যাঁ, উজান বাড়িতেও রসগোল্লা বানিয়েছে।

 

এবার আপনার কথায় আসা যাক। পরপর এত ভাল সিনেমা করে চলেছেন, এত গল্প বলার আইডিয়া আসে কী করে?

আসলে এটা একটা অভ্যেস। লোকে তো ভাল সময় গেলে পার্পল প্যাচ-ট্যাচ বলে। আসলে ওসব পার্পল প্যাচ নয়, এটা আমার চলছে অনেকদিন ধরেই। আমি আর অন্য কিছু পারি না তো একেবারেই। এটাই পারি, এটাই ভালবাসি, দিন-রাত এটা নিয়েই ভাবনা-চিন্তা করি। ভাগ্য ভাল যে এখনও মাথা কাজ করছে। এখনও কিছু আইডিয়া মাথায় আসছে। আমার দুঃস্বপ্ন হল, আমি আর নতুন কিছু পারছি না বানাতে। যদি সেরকম হয়, তা হলে আমি কিছুদিন স্ট্রাগল করব, তারপর অবসর নিয়ে নেব…

 

অর্থাৎ কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় কখনও জোর করে সিনেমা বানাবেন না?

না,না, জোর করে কখনই সিনেমা বানাব না। আমি সিনেমা বানানোর নামে লোককে হতাশ করতে পারব না। ভাবতে পারব না যখন, তখন রিটায়ার করে যাব। এখনও যখন বসে-বসে ভাবি, ছোট-ছোট জিনিসের ভিতর থেকেই গল্প বেরিয়ে আসে, এবং আমার অভ্যেস যেরকম… তুচ্ছাতিতুচ্ছ জিনিসের থেকেও গল্প বেরয়। যতক্ষণ মাথা কাজ করবে… আমি গল্প বলতে পারি, সেটা আমাকে আনন্দ দেয়, লোকে কাগজ-পেনে গল্প লেখে আর আমি গল্পটা লিখি পরদাতে। বিশ্ব-সিনেমা তোলপাড় করে দেব, সে-কথা আমি ভাবি না। সমস্ত সাধারণ জিনিসের মধ্যেই সৌন্দর্য আছে, বাউল গান যেরকম, বা গ্রামের রাস্তা যেমন সোজা চলে যায় দূরে কোথাও… এই ধরনের সরল জীবনযাত্রা, সরল শিল্প-সাহিত্যের মধ্যেও গভীরতা আছে। গভীর জিনিসকে নিয়ে বেশি জটিল করলে, তাতে নাগরিক জটিলতা ঢুকিয়ে ফেললে সেই গল্পে কোনও মজা থাকে না…

 

তবে মানুষের মনে ‘বিসর্জন’-এর প্রভাব কিন্তু মারাত্মক ছিল…

হ্যাঁ… ‘বিজয়া’র প্রভাবটা হয়তো আরও মারাত্মক হবে… ‘বিজয়া’ দেখার পর দর্শকের মানসিক অবস্থাটাই অন্যরকম হয়ে যাবে… ‘বিজয়া’ খুব পরিণত একটা ছবি। সাধারণত সিকোয়েল হলে সকলে বলে যে পরেরটা আর আগের মতো হয়নি। আমরা খুব কেয়ারফুল ছিলাম যাতে ‘বিজয়া’ ‘বিসর্জন’কেও টপকে যায়। এটা আমি বিশ্বাস করি। খুব বড় একটা ছবির উদাহরণ দিই, ‘পথের পাঁচালী’র থেকে আমার ‘অপরাজিত’ বেশি ভাল লাগে। তেমনই আমার ‘বিসর্জন’-এর থেকে ‘বিজয়া’ বেশি ভাল লাগে। ‘বিজয়া’ অনেক স্ট্রং, ব্যাকরণগত দিক দিয়ে অনেক গভীর একটি ছবি।

 

‘বিজয়া’র পরেও নাকি আরও গল্প রয়েছে…

হ্যাঁ, গল্প তো আছে। ‘বিসর্জন’-এর আগে একটা পার্ট আছে, যেটা আমরা করিনি। আর ‘বিজয়া’র পরেও একটা পার্ট আছে। ‘বিজয়া’ যদি দর্শকের ভাল লাগে, তাঁরা যদি আগ্রহ প্রকাশ করেন, তখন আমরা আর একটা পার্ট বানাব।

 

‘বিজয়া’ আদৌ হবে কি না, সেটা নিয়েও তো অনেক কনফিউশন ছিল…

হ্যাঁ। তবে ‘বিসর্জন’ যখন শুটিং করছিলাম, তখনই এটা নিয়ে আলোচনা হত যে এরকম একটা গল্প আছে। ক্যানভাসটা যে কী, সেটা দর্শককে জানানোর একটা পরিকল্পনা তখন থেকেই ছিল। ‘বিসর্জন’-এ সাফল্যটা দৃষ্টান্তমূলক ছিল। ওটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা বক্স অফিস সাফল্য। তারপরেই প্রযোজক বলতে শুরু করেন যে পরের গল্পটাও হোক। তখনই আমরা সিদ্ধান্তটা নিয়ে নিই। যাঁরা-যাঁরা ‘বিসর্জন’-এ ছিলেন, সকলেই কিন্তু ‘বিজয়া’তে আছেন।

 

পেশাদার জগতে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সাফল্য তো এসেছে অনেকদিন পরেই…

প্রথম সাফল্য দেখেছিল ‘শূন্য এ বুকে’,আমার দ্বিতীয় ছবি। বক্স অফিসেও খুব ভাল করেছিল। তারপরে আস্তে-আস্তে চলেছে, ডিজ়াস্টার হয়নি কখনও। প্রথম বড় সাফল্য ‘শব্দ’, ‘আর একটি প্রেমের গল্প’। তারপরে তো ‘অপুর পাঁচালি’ হয়েছে, ‘সিনেমাওয়ালা’ হয়েছে… ‘কেয়ার অফ স্যার’ও খুব ভাল…

 

কিন্তু পরিচালক হিসাবে সাফল্য পাওয়া ও ‘ভাল’ সিনেমা বানানো তো এক জিনিস নয়…

না, এ দুটোর একেবারেই যোগাযোগ নেই। আপনি যদি লেখকদের ভাল-ভাল বই দেখেন, দেখবেন সেগুলো সবচেয়ে কম বিক্রি হয়। এর চাপ নিতে নেই। বড়-বড় প্রযোজক তো আমার সঙ্গে সকলেই কাজ করেছেন।

 

কিন্তু এটা কি মানবেন যে, ওই বড় প্রযোজক বা বড় ব্যানার যদি না থাকে, তা হলে পরিচালক হিসেবে নামটা আসে না?

না না, একেবারেই নয়। বড় প্রযোজক না, ছবি বড় হতে হয়। কাজেই সব প্রযোজকই জানেন যে ছবি যদি বড় না হয়, তা হলে কিছুই হবে না। অনেক প্রযোজকের প্রথম ছবিই তো সাফল্য পেয়েছে। সুপর্ণকান্তি করাতি যেমন… আবার ভেঙ্কটেশ, সুরিন্দর, অশোক ধানুকাও সাফল্য পাচ্ছেন… ছবি ভাল হলেই চলবে। আপনি তো আর দর্শককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! একটা ছবিকে কম শো দিয়ে আটকে রাখা যায়, কিন্তু দর্শককে আটকানো যায় না।

 

পরপর এত ভাল সিনেমা, এত সাফল্য… এই পরিসংখ্যান, বক্স অফিস সাফল্য এগুলোর চাপ তো আছেই, সে ব্যাপারে কী বলবেন?

এগুলো নিয়ে চাপ লাগে না, কিন্তু হ্যাঁ, পরিসংখ্যান, বক্স অফিস সাফল্য তো ম্যাটার করেই। তবে প্রত্যেকবারই যখন ছবি রিলিজ় করে, তখন অস্বস্তি লাগে যে মানুষ দেখবে কি না। এরকম অনেক ছবিই আছে, যেগুলো ছবি হিসেবে খুব ভাল, কিন্তু দর্শক হলে আসেনি। এর কোনও ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে। খুব রাগ হয় তখন, দর্শকের উপর অভিমান হয়। যেমন ‘ছোটদের ছবি’… আমার বানানো অন্যতম সেরা একটা ছবি, আমার প্রচণ্ড প্রিয় একটা ছবি। কিন্তু মানুষ এল না দেখতে। এই না-আসাটা তো আর আপনি আটকাতে পারবেন না। তাঁরা টিভিতে দেখবেন ছবিটা, তখন ফোন করে বলবেন অপূর্ব হয়েছে ছবিটা, তখন বুঝিনি। যেমন ‘ছায়া ও ছবি’। এগুলো মেনে নিতে হয়। এটাই এই জগতের ম্যাজিক। খুব মন খারাপ হয়। সেই মন খারাপটা নিয়ে আবার পরের কাজ শুরু করতে হয়। হাজার-হাজার রানের মালিক সচিন তেন্ডুলকর যখন জ়িরো করেন, তখন কি তাঁর মন খারাপ হয় না? ব্যর্থতা না ভুললে তো জীবনে এগনোই যাবে না! তা হলে তো ডিপ্রেশনে চলে যাবে মানুষ। চেষ্টা করি সেটা থেকে বেরিয়ে আসার। একজন সাধারণ মানুষ কোনও ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে যা-যা চলে তাঁর মনের মধ্যে, আমার মধ্যেও ঠিক তাই-ই হয়।

 

পরিবারের সকলেই এক পেশায়। এর সুবিধাটা ঠিক কী?

একে অপরের কাজের জায়গাটা বুঝতে শেখা, একে অপরের জায়গাটাকে সম্মান করা। প্রয়োজনের বেশি কেউ কাউকে পরামর্শও দিই না। তবে উজান এই পেশায়… আমি এখনও বলব না। সবে একটা ছবি করেছে, ও তো অধ্যাপকও হয়ে যেতে পারে। ও কী করবে, সেটা ও ঠিক করবে, সেটা আমাদের ঠিক করে দেওয়াটা ঠিক হবে না। বাবা-মা হিসেবে আমি বা চূর্ণী, কেউই চাপিয়ে দিই না কিছু। চূর্ণী উজানকে বড়ই করেছে অপশন দিতে-দিতে, যাতে ওর কখনও অতৃপ্তি না হয়। স্কুলেও ও ভাল রেজ়াল্ট করত, সেখানেও ওকে থিয়েটার, গান সব করতে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে থেকেই ওর জীবনটা গড়ে উঠেছে। ও ভাল হোক, মানুষ ওকে ভালবাসুক। সবচেয়ে বড় কথা, ও সফল হিরো বা ব্যর্থ হিরো যাই হোক না কেন, লোকে যেন ওকে ভাল মানুষ হিসেবে জানে। সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

 

আর এক পেশায় থাকার অসুবিধে?

সেরকম অসুবিধে নয়, শুধু একে অপরের সঙ্গে একটু সময় কমে যায়। সেটা তো তিনজন তিনটে আলাদা পেশায় থাকলেও হতে পারত। তবে এই ধরনের পেশায় একটা যৌথ অনিশ্চয়তার জায়গা থাকে, কারণ জিনিসটা তো আদতে ফ্রিলান্সিং, আর তিনজনেই ফ্রিলান্সার বলে অবসরের কোনও স্থির বয়সও নেই, কোনও স্থির রোজগার নেই, সাফল্য-ব্যর্থতার কোনও আলাদা মানচিত্রও নেই। এটা একটা অন্ধকার ঘরের মধ্যে তিনজন আনন্দ করে এগিয়ে যাওয়ার মতো। শেষে কখনও আলো দেখা যাবে, কখনও যাবে না…

 

প্রতিযোগিতা তো আছেই…

আমার প্রতিযোগিতা শুধু আমার সঙ্গেই। পরের ছবি যেন আরও ভাল হয় বা অন্যরকম হয়…

 

তা হলে পরের ছবি আরও ভাল বানাতে হবে, এই চাপটা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের আছে?

দেখুন ভাল তো হয় না, অন্যরকম হতে পারে। আমার কাছে ভাল ছবির চাপ নেই, আমি সব ছবি ভাল করে বানাই। সব ছবি যেন একরকম দেখতে না হয়ে যায়, সেই চাপটা থাকে। সেটাই চেষ্টা করা, যাতে বদলে-বদলে করা যায়, নিজেকে এক্সাইট করে রাখা যায়। কারণ অনেক বছর ধরে তো কাজ করছি, নিজেই যদি উৎসাহ না পাই। ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ আমার তেইশ নম্বর ছবি… এটা তো আর মজার ব্যাপার নয়! তার আগে আমি প্রায় কুড়ি-পঁচিশটা ছবি বানিয়েছি টেলিভিশনের জন্য। এখন ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-এর শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ‘নগরকীর্তন’ মুক্তি পাবে। কাজেই ভালই তো হচ্ছে। নিজের আনন্দ যদি না থাকে, নিজের যদি খিদে কমে যায় তা হলে যত ভাল খাবারই তুমি দাও, কোনও মজা নেই! সেটাই চেষ্টা করা, চ্যালেঞ্জটা নিজের কাছেই রাখা… ছবি করার খিদেটাকে ধরে রাখা। আর মানুষের এত ভালবাসা, প্রত্যাশা তো আছেই। সব মিলিয়ে খিদে কমার লক্ষণ এখনও প্রকাশ পায়নি।

 

আচ্ছা, ইন্ডাস্ট্রির কোন জিনিসটা খারাপ লাগে?

ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত কিছু এখন ছোট-ছোট দ্বীপের মতো হয়ে গিয়েছে, একটা দেশ হয়ে উঠতে পারছে না কিছুতেই… সেটা আমাকে খুব পীড়া দেয়। আমরা পার্টিতে সবাই দেখা করি, জড়াজড়ি করি…কিন্তু সবাই আসলে আলাদা-আলাদা দ্বীপ। টলিউডটা যেন ডাল লেকের ছোট-ছোট শিকারাগুলোর মতো… একটা দেশ হয়ে ওঠা খুব দরকার, যৌথ হওয়া দরকার। কারণ আমরা একা-একা খুব দুর্বল। একত্রিত না হলে সবাই মিলে উতরোবে না, সব যাত্রী পার হবে না, কিছু লোক মাঝপথে ডুবে যাবে।

 

এরপরে কী কী ছবি আসতে চলেছে?

‘জ্যেষ্ঠপুত্র’, ‘নগরকীর্তন’… ‘ধুমকেতু’ তো রেডি হওয়ার কাজ চলছে…