বন্ধুত্ব কথা বলে…"/>
magazine_cover_12_november_18.jpg

 

Home tollywood interview template বন্ধুত্ব কথা বলে…

বন্ধুত্ব কথা বলে…

meer-jishu-home
পার্ক হোটেলে বসে, নতুন বাংলা ছবি ‘অরণ্যদেব’-এর দুই অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত এবং মীর চুটিয়ে আড্ডা দিলেন। সাক্ষী রইলেন রূপকিনী সেনগুপ্ত।

 
 

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ছবিতে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

মীর: না, না। আমরা তো অভিনয় করেছি একটা ছবিতে। এবার সেই ছবির ডিস্ট্রিবিউশনটা কেমন করে হবে, কোথায় দেখানো হবে, সেটা তো আর আমাদের সিদ্ধান্ত নয়! যাঁরা ছবিটা বানিয়েছেন তাঁদের সিদ্ধান্ত।
যিশু: আমার অভিনয় করতে ভাল লাগে। ছবির গল্পটা ভাল ছিল। তাই করেছি।

ডিজিটাল মাধ্যমটাই কি তাহলে ভবিষ্যৎ?

যিশু: হ্যাঁ, আমার মনে হয় এটাই ভবিষ্যৎ। আমরা খুব খুশি যে একটা বাংলা ছবির প্রিমিয়ার এই প্রথমবার কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হচ্ছে। এবং শুধু একটা ভাষায় নয়, আরও পাঁচটা ভাষায় ছবিটি হচ্ছে। তামিল, মলায়লম, তেলগু, মরাঠি আর হিন্দি। এটা ভবিষ্যতের দিকে একটা বিশাল পদক্ষেপ।
মীর: ধরুন একটা ছবি বড় পর্দায় রিলিজ় হল। সেটা কিন্তু একটা ভাষাতেই রিলিজ় হচ্ছে। অন্যান্য প্রান্তের দর্শকরা ছবিটি সেভাবে দেখতে পাচ্ছেন না। হ্যাঁ, খুব বেশি হলে সাব টাইটেল যাচ্ছে। কিংবা কোনও ফিল্ম ফেস্টিভালে গেলে, সেখানে তাঁরা দেখছেন। এখন যদিও বেশ কিছু বাংলা ছবি অন্যান্য বড় শহরে রিলিজ় করছে। কিন্তু এখানে অরিজিনাল বাংলা কনটেন্ট, দেশের বাইরে প্রোমোট হচ্ছে। তাও আবার পাঁচটা ভাষায়। বাংলা ছবির ক্ষেত্রে এরকম আগে কখনও হয়নি।

‘অরণ্যদেব’ ছবিটাকে বলা হচ্ছে ‘প্রথম বাংলা সুপার হিরো ছবি’। কিন্তু আমরা সুপার হিরো ছবি বলতে যা বুঝি, এই ছবিটা কি সত্যিই সেরকম?

মীর: ঠিকই, এখানে ‘সুপার হিরো’-টা উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে একজন সুপার হিরোর কাছ থেকে আমরা যা-যা আশা করি, তার কিছু উপাদান আপনারা এই ছবিটায় পাবেন।
যিশু: সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা একজনের জীবন বাঁচাবো।

সুপার হিরো ছবি বাংলায় সেভাবে দেখা যায় না কেন?

যিশু: এই প্রশ্নটা প্রযোজকদের করলে ভাল হয়!
মীর: আমরা ৮০-র দশকে কিন্তু বেশ কিছু ছবি দেখেছিলাম। তখন সুখেন দাসরা ছিলেন। সেখানে নায়করা ভিলেনদের উড়ে-উড়ে মারতেন! আমাদের কাছে তো সেগুলোই সুপার হিরো ছবি! মিঠুন চক্রবর্তী ২০ জনকে একসঙ্গে মারছেন! তিনিই তো আমাদের সুপার হিরো!
যিশু: সুপার হিরো মানে কারও-কারও কাছে শুধুই সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যান, বা অরণ্যদেব বা বাঁটুল দি গ্রেট। আমার কাছে আবার আমার বাবা ছিলেন সুপার হিরো। এটা যার যেরকম পারসেপশন।

বাংলা ছবির দর্শক কী ধরণের ছবি দেখতে চায় বলে মনে হয়?

মীর: এটা তো দর্শকদের জিজ্ঞাসা করতে হবে!
যিশু: আমরা যা ছবিই করি, সেটাই যেন দর্শক দেখেন!

নিজেকে দর্শকের জায়গায় বসালে কী মনে হয়?

যিশু: সব দর্শককে একই জায়গায় ফেললে তো ব্যাপারটা বেশ কঠিন, তাই না? কিছু দর্শক থ্রিলার দেখতে ভালবাসেন, কেউ প্রেমের গল্প, কেউ বা আবার গোয়েন্দা গল্প। এবার আপনি কার জন্য ছবিটা বানাবেন? একসঙ্গে একটা ডার্ক, রোম্যান্টিক, সুপার হিরো, থ্রিলার, স্পাই বানাতে পারবেন না তো!
মীর: না, আগে হত। নায়িকা, টক, ঝাল, দুষ্টু, মিষ্টি!
যিশু: আপনি বাঁধতে পারবেন না দর্শককে। আমি যেমন থ্রিলার আর অ্যাডভেঞ্চার ছবি খুব ভালবাসি।
মীর: আমি কমেডি!
যিশু: মানে, আমি তো একসঙ্গে দুটো ছবি বানাতে পারি না। আমার জন্য একজন পরিচালক ছবি বানাবেন, ওর জন্য অন্য একজন পরিচালক ছবি বানাবেন। তাই দর্শক কী চায় এটা বলাটা খুব মুশকিল। তা না হলে প্রত্যেকটা ছবি সিলভার জুবিলি, গোল্ডেন জুবিলি, প্ল্যাটিনাম জুবিলি হতো।
মীর: সেরকম নির্দিষ্ট কোনও ফরমুলা নেই। সেটা জানলে তো হয়েই যেত। ল্যাটা চুকে যেত!
যিশু: তাহলে অ্যাপলই একমাত্র আই ফোন বানাতো। আর কোনও ফোনই আসত না!

বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে কি আজকাল কমেডি ছবি বানানোর ট্রেন্ডটা বেড়ে গেছে?

যিশু: তাই, কোথায়?
মীর: মানে আপনি বলতে চাইছেন যে দেখতে গিয়ে হাসি পাচ্ছে? সেটা কিন্তু তাহলে আলাদা ব্যাপার!

meer-jishu-big

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

কিন্তু একটা বিষয়ে সকলেই নিশ্চয়ই সহমত হবেন। এখনকারদিনে দর্শকদের জোর করে হাসানোর চেষ্টা করা হয়। বাংলা কমেডির এরকম অবস্থা হল কেন?

যিশু: এটা কী করে বলি বলুন তো! এটার উত্তর আমার কাছে নেই।
মীর: আমি বলছি। যদি কেউ একশো শতাংশ কমেডি ছবি বানাতে চায়, তাহলে আমি বলব, গো অল আউট! স্টেপ-আউট করে চার-ছয় মারো, আজগুবি জিনিস দেখাও! যেমন ‘আন্দাজ় অপনা-অপনা’।
যিশু: একদম ঠিক! কমেডির মধ্যে ওটা সেরা ছবিগুলোর একটা!
মীর: হ্যাঁ। কিন্তু যদি আবার সেই ‘হাসির মোড়কে মোড়া একটি সাংসারিক ছবি’ তৈরি করতে গিয়ে কেউ ছড়িয়ে ফেলে, তখন তো দর্শক রিঅ্যাক্ট করবেই! সেরকমভাবে জমল না, টাকা খরচ করলাম, এইসব বলবেই। মনে রাখতে হবে, আজকাল কিন্তু হলে গিয়ে ছবি দেখাটা বেশ খরচের ব্যাপার।
যিশু: দু’জন গেলে কমপক্ষে ১০০০ টাকা তো খরচ হবেই।
মীর: সুতরাং দর্শক এখন যত বেশি খরচ করছে, তত বেশি কিন্তু খুঁতখুঁতে হয়ে গিয়েছে।
যিশু: এই যে আপনি জিজ্ঞেসা করছিলেন, কেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম… আসলে ১০০০ টাকা খরচ করার চেয়ে ৬৫০ টাকা দিয়ে কোনও ডিজিটাল মাধ্যম যদি নিই, আমি এক মাসে কিন্তু প্রচুর ছবি দেখতে পাব।

যে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে একসময় ‘বসন্ত বিলাপ’, ‘চারমুর্তি’-র মতো কাল্ট কমেডি ছবি তৈরি হয়েছে, সেখানে এখনকার ছবিগুলো কতটা বদলে গিয়েছে?
মীর: আসলে আমাদের টেস্ট আর চাহিদা বদলে গিয়েছে। আমরা আগে এক রকমের ছবি দেখতে ভালবাসতাম, এখন অন্যরকম দেখতে ভালবাসি। একটা ছবি দেখে আমার দেখে মনে হতে পারে যে সেটা একটা মোটা দাগের কমেডি ছবি। কিন্তু সেই ছবিটা দেখে আরেকজনের মনে হতেই পারে, না, এটা ঠিক জমল না।

যিশু, এই বছরের শুরুর দিকে আপনি ‘ঘরে অ্যান্ড বাইরে’ করলেন। রমকম ছবিতে অভিনয় করে কেমন লাগল?
যিশু: ভাল লাগল। আমি খুবই এনজয় করেছি।

এই ধরণের ছবি আরও করার ইচ্ছে আছে?
যিশু: হ্যাঁ, ভাল গল্প হলে নিশ্চয়ই। কেন করব না!
মীর: আমার তো কোয়েল আর যিশুর একটা ছবি এখনও মনে আছে, ‘বর আসবে এখুনি’। ওটাও রমকম ছিল। আমার খুব ভাল লেগেছিল ছবিটা। মিউজ়িকও দারুণ ছিল। আমার মনে আছে, রেডিওতে গানগুলো অনেকদিন ধরে চালানো হয়েছিল। ওদের কেমিস্ট্রিটাও খুব ভাল। যদিও আমি এই কেমিস্ট্রি বিষয়টাতে বিশ্বাস করি না, বায়োলজিকেও বিশ্বাস করি না! কিন্তু ওদেরকে দেখতে ভাল লাগে।

মীর, ‘অরণ্যদেব’-এ আপনার যে চরিত্রটা, সেটা পরিচিত মীরের চেয়ে অনেকটাই আলাদা…
যিশু: থ্যাঙ্ক গড!

পরিচালকরা আপনাকে সিরিয়াস চরিত্রে সেভাবে কাস্ট করেন না। আপনি কি কিছুটা একই ধরণের চরিত্রে ট্র্যাপড্ হয়ে যাচ্ছেন?
মীর: না ট্র্যাপড্ হইনি তো। ‘অরণ্যদেব’ তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আমি যখন ‘খাস খবর’-এ নিউজ় রিডার ছিলাম, তখনও আমাকে একজন পরিচালক অ্যাপ্রোচ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘প্রসেনজিৎ আর ঋতুপর্ণাকে নিয়ে ছবি হচ্ছে। প্রসেনজিতের রাস্তায় কিছু একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যায়। ঋতুপর্ণা টিভিতে নিউজ় দেখতে-দেখতে খবরটা পায়। আর আপনি সেই নিউজ়টা পড়ছেন!’ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র। কিন্তু আমি ওটাকে রিফিউজ় করি। তারপর আবার একটা সময় এল যখন বলা হল, ‘আপনি একটা ছবিতে আর জ়ে’! আমি বললাম, “কথাটা তো প্রথমত ‘আর জ়ে’ নয়, ‘আর জে’!” আমি এগুলো খুব ভেবেচিন্তেই এড়িয়ে গিয়েছি। কিন্তু কোনও কারণে লোকে সবসময় আমার মধ্যে থেকে কমেডিটাই বের করে আনতে চায়। সেই কারণেই সেরকম চরিত্রই অফার করে। এমন না যে আমি সেরকম ছবি করিনি। তার জন্য কোনও রিগ্রেট নেই। আসলে নতুন কিছু যদি আমাকে অফার না করা হয়, আমি কী করব? আমি কি রাস্তায় গিয়ে ধর্না দেব? বিক্ষোভ করব? নাকি অবরোধ করব?

আপনি নিজে কি ধরনের ছবি করতে ভালবাসেন?
মীর: আমি একজন অভিনেতা। আপনি যেরকম আমাকে অভিনয় করতে বলবেন, আমি সেরকম করব। এই ছবিতেও যিশু আর আমি, যেভাবে দেবাশিস সেনশর্মা (পরিচালক) ভেবেছেন, যেভাবে আমাদের প্রজেক্ট করতে চেয়েছেন, আমরা শুধু সেই নির্দেশই মেনে গিয়েছি। আমাদের কাজ সেটাই করা।

এই ছবিটায় অভিনয় করতে গিয়ে কোনও মজার অভিজ্ঞতা হল??
যিশু: প্রচুর আছে, প্রচুর! একটা বলা মুশকিল। আসলে এই ছবিটা করার আগে মীরের সঙ্গে আমার ‘হাই-হ্যালো’ সম্পর্ক ছিল। আর এই ছবিটার পর আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম! এই নয় যে আমাদের রোজ কথা হচ্ছে বা রোজ দেখা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তা ছাড়া, আমরা এমনিতে প্রচুর মজা করেছি। পরিচালককে পাগল করে দিয়েছি! মাঝে-মাঝে টেকনিশিয়ানদেরও। বিশেষ করে আমাদের ডিওপি তো পাগল হয়ে গিয়েছিল আমাদের জন্য!

মানে, বন্ধুত্বের ছবি শুট করতে গিয়ে নতুন বন্ধু হয়ে গেল?
যিশু: হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন।
মীর: মানে, আমাদের জায়গায় যদি অন্য দু’জনও থাকত, ধরুন দেব আর জিৎ যদি থাকত, তাদেরও বন্ধুত্ব হয়ে যেত! কারণ এই গল্পটাই এরকম।

যিশু, আপনাকে এর পরে কোথায় দেখতে পাচ্ছি আমরা?
যিশু: ‘এক যে ছিল রাজা’ মুক্তি পাবে পুজোর সময়। দুটো হিন্দি ছবির শুটিং চলছে। এছাড়া একটা তেলগু ছবি আর একটা বাংলা ছবির শুটিং শুরু হবে।

আর মীর, আপনাকে?
মীর: আমাকে এরপর আপনি এই হোটেলের লবিতে দেখতে পাবেন!