magazine_cover_12_mayl_19.jpg

Tolly Interview

‘নিজেকে স্টার বলে মনে করি না’ : হিরণ চট্টোপাধ্যায়

hiran-big মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি ‘থাই কারি’। ছবি নিয়ে কথা বলার ফাঁকে মেয়ে নিয়াসা থেকে আরম্ভ করে নেপোটি‌জ়ম, অনেক কথাই বললেন হিরণ চট্টোপাধ্যায় । শুনলেন দোলনা রায়

 

কী কারণে ‘থাই কারি’-তে অভিনয় করতে রাজি হলেন?
আসলে পরপর তিনটে জামাইকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করে, একটু অন্যরকম কিছু করতে মন চাইছিল। তাই যখন এই ছবির পরিচালক অঙ্কিত বলল যে এই ছবি তিন ব্যাচেলরকে নিয়ে, তখন এককথায় লাফিয়ে উঠেছিলাম। তাছাড়া পদ্মনাভদার চিত্রনাট্যও ফাটাফাটি লেগেছিল। আর অন্যান্য অভিনেতা, যেমন সোহম, রুদ্রদা, শাশ্বতদা, পল্লবীদির সঙ্গে ভাল ইকুয়েশন থাকায় ভেবেছিলাম মজা করতে-করতেই শুটিং হবে।

 

থাইল্যান্ডে এর আগেও শুটিং করেছেন, এবারকার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
বলতে গেলে, থাইল্যান্ড আমার কাছে ‘সেকেন্ড হোমই’ হয়ে উঠেছে। কলকাতার বাগবাজার যেমন আমার পরিচিত, থাইল্যান্ডের অলিগলিও তেমনি পরিচিত। ওখানে যতবার গিয়েছি, দেশটাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। ওখানকার মানুষজন আদর-আপ্যায়নের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়। তাছাড়া থাই ফুডের কোনও তুলনা হয় না!

 

অঙ্কিত নতুন পরিচালক। কেমন লাগল ওঁর সঙ্গে কাজ করে?
হি ইজ ভেরি রিসেপ্টিভ। শুটিং থেকে আরম্ভ করে ডাবিং, সব কাজই আমরা আলাপ-আলোচনা করে সম্পন্ন করেছি। ও সবসময় চেষ্টা করেছে যাতে টিম স্পিরিটটা থাকে। প্রথম ছবিতেই পরিচালক হিসেবে যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে।

 

এই ছবির শুটিং এর কোনও স্পেশ্যাল অভিজ্ঞতা…
পাটায়ার একটি বক্সিং স্টেডিয়ামে শুটিং চলছিল। সেখানে অনেক দর্শকও শুটিং দেখছিলেন। হঠাৎ দেখলাম যে তাঁদের মধ্যে ১৯ জন এগিয়ে এসে ‘হিরণদা’ বলে দৌড়ে এসে ছবি তুলতে লাগলেন! তাঁরা আবার পরিষ্কার বাংলায় আমার অটোগ্র্যাফও চাইলেন। পরে জানতে পারলাম ওঁরা বর্ধমানের মানুষ। এখানে বেড়াতে এসেছেন। দর্শকদের ভালবাসার এই বিভিন্ন নমুনাই আমায় অনুপ্রাণিত করে।

 

আপনি উলুবেড়িয়ার ছেলে। উলুবেড়িয়াতে স্টার হিরণের কেমন সমাদর?
এ বিষয়ে আমি সত্যিই কিছু জানি না, জানতেও চাই না। তাছাড়া আমি নিজেকে এখনও স্টার বলে মনে না করে, স্রেফ অভিনেতাই মনে করি। আই আম নট আ স্টার। দেখুন উলুবেড়িয়া ছেড়েছি ১৯৯৪ সালে। তার পর থেকে কম স্ট্রাগল করতে হয়নি। নগেন্দ্র মঠের অনাথ আশ্রম থেকে আরম্ভ করে, দমদমের বস্তি, অনেক জায়গাতেই থেকেছি এক সময়। বোধহয় খুব বেশি অভিজ্ঞতা এ জীবনে হয়ে গিয়েছে বলেই স্টারডম নিয়ে আদিখ্যেতা নেই আমার।

 

এত ব্যস্ত শিডিউল সামলে মেয়ে নিয়াসাকে সময় দেন কী করে?
আমার জীবনের বেশিরভাগ সময়টা বাড়িতেই কাটে। স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা হোক বা প্রোডাকশনের খুঁটিনাটি, বাড়িতেই কাজ সারতে আমি আগ্রহী। এতে একটা সুবিধা হয়, মেয়ের কাছাকাছি থাকা যায়। ওর খেলাধুলায় খুব আগ্রহ রয়েছে। তাই সুযোগ পেলেই ওর সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলি। ও দারুণ দৌড়োতে পারে। প্রতি বছরই দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়। ওকে এ বিষয়ে যতটা সম্ভব উৎসাহ জোগাই।

 

বাবা হিসেবে হিরণ কি খুব কড়া?
একেবারেই না! ইন ফ্যাক্ট আমি ওকে আমায় বাবা বলে সম্বোধন করতেই বারণ করেছি। আমার ডাকনাম পাপাই। আমি ওকে এ নামে ডাকতেই বলেছি। পড়াশোনা নিয়ে নিয়ম জারি করা তো দূর অস্ত, আমি ওকে শরীরচর্চা এবং খেলাধুলা করতেই বেশি উৎসাহ দিই! আমার কাছ থেকে স্কুল বাঙ্ক করারও অনুমতি রয়েছে (একটু হেসে)! এই নিয়ে আমার এবং আমার স্ত্রীর অশান্তির শেষ নেই!

 

ও তো বড় হচ্ছে, ও কি আপনার স্টারডম সম্পর্কে সচেতন?
ইন্টারনেটের দৌলতে ও আমার প্রায় সব ছবিই ইউটিউবে দেখে ফেলেছে। তা ছাড়া, আমার সম্পর্কে ও খুব খবরও রাখে। ফলে আমার তথাকথিত বান্ধবীর লিস্ট সম্পর্কেও জানে!

 

জামাইকেন্দ্রিক তো অনেকগুলো ছবিই করলেন। জামাই হিসেবে হিরণ কেমন?
খুব ভাল এমনটা দাবি করতে পারি না, কারণ, শ্বশুরবাড়িতে তেমন একটা যাওয়া হয় না। আমার শ্বশুরের সঙ্গেও কোনও সম্পর্ক নেই। শ্বাশুড়িকে আমি মা হিসেবেই দেখি। যেহেতু ওঁর কোনও ছেলে নেই, তাইআমি ছেলেই হয়ে গিয়েছি। আমার যখন অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল, তখন উনি দিনরাত আমার পাশে থেকেছেন। মা ছাড়া কে আর এমন করে বলুন!

 

স্বামী হিরণকে কত নম্বর দেবেন?
স্বামী হিসেবে যা কর্তব্য তার প্রায় কোনওটাই আমি করি না! বাজার করি না, মেয়ের স্কুলে যাই না, স্ত্রীকে নিয়ে যে খুব নামীদামি রেস্তোরাঁয় নিয়ে গিয়েছি তাও কিন্তু নয়… তবে হ্যাঁ, ওকে অনেক জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গিয়েছি। আমরা দু’জনেই বেড়াতে খুব ভালবাসি। লং ড্রাইভেও বেড়িয়ে পড়ি মাঝে-সাঝে।

 

নেপোটিজ়ম এখন চর্চার কেন্দ্রে। ‘আউটসাইডার’ দের ব্রেক পেতে অসুবিধা হয়। আপনার এই ব্যাপারে কী মতামত?
দেখুন, অন্যদের কথা বলতে পারব না, কারণ সবার অভিজ্ঞতা তো সমান নয়। আউটসাইডার হও বা ফিল্মি পরিবারের সদস্য, এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে সবাইকে সংগ্রাম করতে হবে। আমি তো একেবারেই আউটসাইডার ছিলাম। কোনও ‘গডফাদারও’ ছিল না। তাও প্রথম ছবিতে হরনাথ চক্রবর্তীর মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবার সুযোগ পেয়েছি, যার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। বলতে পারেন, যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে উনিই আমার জন্মদাতা। আজকের হিরণ হয়ে উঠতে পেরেছি ওঁরই আশীর্বাদে। তবে নিজে এককালে ‘আউটসাইডার’ ছিলাম বলেই হয়তো নতুনদের স্ট্রাগলটা বুঝতে পারি। আমি তাই নতুন পরিচালক বা অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

 

আপনাকে সেভাবে ফিল্মি পার্টিতে দেখা যায় না কেন?
পার্টিতে গিয়ে কী করব? না খাই মদ বা সিগারেট, আবার গসিপ করাও পোষায় না। পার্টিতে গিয়ে তো বোর হয়ে যাব। কেরিয়ারের শুরুতে কয়েকটা ফিল্মি পার্টিতে গিয়েছিলাম, দেখলাম সেখানে আমি একেবারেই খাপ খাই নই। মাঝে-সাঝে নিজের বাড়িতেই পার্টি করি, ফ্যামিলি ফ্রেন্ডদের সঙ্গে। সেখানে ইন্ডাস্ট্রির কেউ থাকে না।

 

কেন? ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার কোনও বন্ধু নেই?
না। আমি চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি যদিও। তবে এটুকু বলব যে, প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারও পরোয়া করে না। এ নিয়ে আর কোনও কথা বলতে চাই না।

 

এখনও পর্যন্ত কোনও নায়িকার প্রেমে পড়েছেন?
পড়েছি তো। এক সময় প্রায় রোজই অনেক পত্রিকা থেকে জানতে পারতাম যে অমুক নায়িকার প্রেমে পড়েছি! জোকস আপার্ট, এখনও অবধি কোনও কো-স্টারের প্রেমে পড়িনি। ভবিষ্যতে কী হবে জানি না।

 

২০০৭ সালে আপনাদের বিয়ে হয়েছে। ১৩ বছরের এই সফল দাম্পত্যের রহস্য কী?
কোনও রহস্য নেই! একে অপরের প্রতি অটুট বিশ্বাসের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে।

 

একে অপরকে দেওয়া উপহারের মধ্যে সবচেয়ে স্পেশ্যাল কোনটি?
ওর তরফ থেকে নিয়াসা। আর আমার তরফ থেকে… ( একটু ভেবে) ওর ছোটবেলা যে খুব আনন্দে কেটেছে তা বলা যায় না। তাই আমি যতটা পেরেছি ওকে সুখে রাখার চেষ্টা করেছি। ভালবাসা দিয়ে ওর অতীতের না-পাওয়াগুলোকে অনেকটাই মুছে দিতে পেরেছি।