magazine_cover_27_november_18.jpg

Tolly Interview

‘‘ক্যামেরা দেখলে আমার মন ভাল হয়ে যায়…’’

Ena-Saha-big0
আসছে তাঁর নতুন ছবি ‘হ্যাকার’। অভিনয়, বিগ বস, সব নিয়ে মন খুলে কথা বললেন এনা সাহা । শুনলেন ইন্দ্রাণী ঘোষ।

 
 

অনেক ছোটবেলা থেকেই তো আপনি অভিনয়ে আছেন, তা অভিনয়ই করবেন, এটা ভাবলেন কবে?

আসলে ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করব, এই সিদ্ধান্তটা আমাকে নিতেই হয়নি। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আমি এখানে চলে এসেছিলাম। সবাই যেমন মা-বাবার সঙ্গে বড় হয়, স্কুলে বড় হয়, আমি সেরকম ক্যামেরার সামনে বড় হয়েছিলাম। আমার খুব ভাল লাগত সেটা। ক্যামেরা জিনিসটা এমনিতেই আমার কাছে প্রচণ্ড ফ্যাসিনেটিং। ক্যামেরা দেখলে আমার মন ভাল হয়ে যায়। ভালই লাগে এই কাজটা করতে।

 

কত বছর বয়সে আপনার প্রথম অভিনয়?

যতদূর মনে পড়ে ছ’বছর বয়স থেকে।

 

বাড়ির লোক আপত্তি জানাননি?

আসলে বাড়ির লোকজনেরাই তো নিয়ে আসতেন এখানে। তখন তো আমি নিজে আসতে পারতাম না। আমি যখন বিষয়টা বুঝতে শিখেছি, তখন অলরেডি আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে অভ্যস্ত।

 

আপনার প্রথম অভিনয় কী ছিল?

প্রথমে আমি টেলিভিশন করতাম। এখানে আমি নাম নিতে পারছি না। টেলিভিশনে প্রায় সাত-আট বছর কাজ করেছি।

Ena-Saha-big2

পড়াশোনার সঙ্গে অভিনয় ম্যানেজ করতেন কী করে?

ওভাবেই আমার বড় হওয়া… আমি স্কুলে যেতাম, স্কুল থেকে ফেরত এসে টিউশন, তারপর শুটিং, শুটিং থেকে এসে আবার টিউশন… হোমওয়ার্ক শেষ করে ঘুমোতে যেতাম, ঘুম থেকে উঠে আবার স্কুল। স্কুল থেকে আবার শুটিং… এভাবেই ছিল ব্যাপারটা। বাচ্চারা যেমন আলাদা করে খেলাধুলো করতে যায়, সেই সময় আমি পেতাম না। সবকিছু আমার স্কুলেই…

 

স্ট্রাগল কেমন ছিল শুরুর দিনগুলোতে?

সত্যি কথা বলতে কী, স্ট্রাগলই যদি বলেন, সে তো আমি এখনও স্ট্রাগল করছি। আমার মনে হয় স্ট্রাগল এমন একটা জিনিস, যেটা আমাকে ছেড়ে কখনও যাবে না। আর সবারই তো নিজস্ব স্ট্রাগল থাকে, লক্ষ্য থাকে… স্ট্রাগল কিন্তু আসলে একটা ফান!

 

সিরিয়াল এবং সিনেমার মধ্যে বেছে নিতে হলে?

আমি আসলে অভিনয়টাকেই বাছব। দুটোর প্রস্তুতি যদিও দু’রকম, পুরোপুরিই আলাদা, একজন অভিনেতার জন্য প্রতিটা চরিত্রই কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটা টেলিভিশনের জন্যই করুন, কী সিনেমার জন্যই করুন!

 

‘বিগ বস’-এর অভিজ্ঞতা কেমন?

‘বিগ বস’ আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়েছে। ভুল, ঠিক… এটা আমার গোটা জীবনেরই শিক্ষা। ওরকম একটা শো-তে বাবা-মাকে ছাড়া, পরিারকে ছাড়া তেরো-চোদ্দজন অজানা লোকের সঙ্গে থাকতে গেলে সারভাইভাল যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা শিখিয়েছে ‘বিগ বস’। কিছু ভুল আছে, কিছু ভালমন্দ আছে… অনেক বেশি প্র্যাক্টিকাল বানিয়েছে আমায়…

 

‘বিগ বস’-এর মতো একটা প্ল্যাটফর্মে, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত জীবনকে, আবেগকে প্রায় খোলাখুলি দেখানো হয়… তখন তো প্রচুর বিতর্ক হত… সব কিছু সামলাতেন কী করে?

ওখানে আসলে কতটা সত্যি দেখাচ্ছে, কতটা মিথ্যা দেখাচ্ছে সেটা তো বাইরে বসে বোঝা যায় না, এমনকী আমরাও জানতে পারি না ভিতরে বসে যে বাইরে আদতে কী দেখানো হচ্ছে… এটা একটা গেম শো, যার জন্য আমাকে টাকা দেওয়া হয়েছিল… সবারই নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি ছিল, আমারও… ওই সারভাইভ করাটাই ওখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

Ena-Saha-big3

অবসর কাটান কী করে?

প্রচুর বই পড়ি, সিনেমা দেখি, বোনেদের সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। তাছাড়া সুইমিং ক্লাস, নাচের ক্লাস, জিম, স্কোয়াশ…

 

বয়ফ্রেন্ড?

সময় নেই আপাতত…

 

‘আনন্দলোক’ ফলো করেন?

অবশ্যই। সবসময় ফলো করি। ‘আনন্দলোক’-এর আগের দুটো সংখ্যায় আমি ছিলাম। ‘আনন্দলোক’ সবসময়েই আমার কাছে খুব প্রিয়। ফোটোশুটগুলো খুব ভাল লাগে। খুব ভালবাসি পড়তে, যাঁরা লেখেন তাঁদেরও খুব ভাল লাগে। অনেকের লেখা আমার খুব পছন্দের। আমি আলাদা-আলাদা করে কারও নাম নিলাম না। ‘আনন্দলোক’-এর জন্য অল দ্য বেস্ট!