magazine_cover_27_june_17.jpg

 

Home interior আমার পেন্টহাউজ় সব পেয়েছির আসর: শান মুখোপাধ্যায়

আমার পেন্টহাউজ় সব পেয়েছির আসর: শান মুখোপাধ্যায়

anandalok interior

anandalok interior
তাঁর ছোটবেলা, কৈশোর কেটেছে বান্দ্রায়। তাই নিজের পেন্টহাউজ় কেনার জন্য শানের ফার্স্ট অপশন ছিল বান্দ্রা।  তাঁর সুইট হোমে ক্যামেরা নিয়ে ‘এক্সক্লুসিভলি’ ঢুকে পড়ল আনন্দলোক! ফ্রেমবন্দি হল বলিউডের একনম্বর প্লে-ব্যাক গায়কের অন্দরমহল!

মুম্বইয়ের উত্তর-পূর্ব শহরতলির বান্দ্রার সেন্ট টেরেসা রোডে সাত তলা ‘ওয়ার্ডেন’ অ্যাপার্টমেন্টের টপ ফ্লোরে শান থাকেন। ফ্ল্যাট নয়, এটা তাঁর পেন্টহাউজ়। ডুপ্লেক্স তো বটেই। মোট আয়তন চার হাজার বর্গফুট। ‘ওয়ার্ডেন’-এর রিসেপশনের লাউঞ্জ দেখলে যে-কোনও পাঁচতারা হোটেলের রিসেপশন বলে ভুল হবে! এমনই তার জাঁকজমক। শানের পেন্টহাউজ়টিও সেরকমই দুর্দান্ত। পেন্টহাউজ়ের অন্দরসজ্জা করেছেন শানের বাল্যবন্ধু নুরু করিম।

সাত তলায় উঠেই চমক! দরজার বাইরের দেওয়ালে নানারকম ওয়াল হ্যাঙ্গিং ঝুলছে। অনেকগুলোতে আবার নানা মেসেজ লেখা! কোনও নেম প্লেট নেই। তবে একটা কাঠের বোর্ডের উপর ক্যালিগ্রাফি করে লেখা ‘হোম সুইট হোম’!

দরজা খুললে স্বাগত জানালেন স্বয়ং গৃহস্বামী! ঢুকেই বিরাট লিভিং রুম, আয়তনে অন্তত ৫০০ বর্গফুট তো হবেই! সেন্টার টেবিলের চারপাশ ঘিরে সোফা। পশ্চিম দিকের কোণে পিয়ানো। শানের খুব ফেভারিট কর্নার এটা। বাড়িতে অবসর সময়ে এই কর্নারে বসে একা-একা সুর সাধনা করেন তিনি। দুই ছেলে, সোহম আর শুভম, বাবার সেই একা থাকার দুর্লভ মুহূর্তেও সঙ্গী হতে চায়। তখন দু’জনকে নিয়ে সেখানেও পারিবারিক আনন্দের ভগ্নাংশ উপভোগ করেন শান! লিভিং রুমের মাঝখানে সেন্টার টেবিলে খুব সুন্দর একটা চেস বোর্ড রাখা আছে। বোর্ডের উপর কাচের মাথাওয়ালা ঘোড়া, মন্ত্রী, বোড়ে। বন্ধুদের সঙ্গে, ছেলেদের সঙ্গে শান অনেক সময়ই চেস খেলেন এখানে বসে। কখনও আবার একা-একাই খেলেন!

anandalok interiorদুটো ফ্লোরের ফ্লোরিং ওক উডের। লিভিং রুমের উল্টো দিকের ঘরটা শানের মায়ের। এই ঘরে মাখামাখি হয়ে আছে শানের বাবা স্বর্গীয় মানস মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি, ছোটবেলার সাগরিকা ও শানকে নিয়ে শানের মায়ের নস্ট্যালজিয়া। বিভিন্ন ছবি সাজানো আছে এই ঘরে। শানের বাবা-মা’র সাদা-কালো বিয়ের ছবি, ছোটবেলায় দিদি ও ভাইয়ের পাশাপাশি ছবি। শান সেখানেও ভীষণ ক্যাজ়ুয়াল। রেকর্ডিংয়ে, দেশ-বিদেশের জলসায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় বরাবর মাকে প্রণাম করে বেরোন তিনি। মায়ের ঘরের দেওয়ালে ঠাকুরের আসনও আছে।

নীচের ফ্লোর থেকে রুফটপে ওঠার জন্য আছে পলি ইউরিথিনের স্টেয়ার কেস। তাতে দুধ সাদা কার্পেট ব্যবহার করা হয়েছে। শানের ইন্টিরিয়র বিশেষজ্ঞের মতে, এই মেটিরিয়ালের সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা খুব আরামদায়ক! এমনকী, খেলতে-খেলতে ছোটরা পড়ে গেলেও খুব একটা ব্যথা লাগবে না। নীচ থেকে উপরের ফ্লোরে ওঠার বাঁ দিকে উত্তরের দেওয়ালটা পুরো কাচের। সেখানে কাঠের ডাইনিং টেবিল। ছ’জন লোক একসঙ্গে বসতে পারবেন। তার বাঁ দিকে সুদৃশ্য বাথরুম। কাচের দেওয়ালের পাশে বিভিন্ন আকারের পটে রাখা ইনডোর প্ল্যান্টস। যার সবুজ আভাসের সঙ্গে দিগন্তের আলো মিলেমিশে একাকার।

রুফটপটা শানের একদম নিজস্ব! “না, মানে, বাকি বাড়িটাও আমারই। কিন্তু টেরাসের একটা পোর্শন শু-ধু আমার!” রুফটপের বাঁ দিকে ছেলেদের জন্য আছে কিড্স জ়োন। ল্যাডার অ্যান্ড স্লাইডের সঙ্গে বেড, দেওয়ালে নানারকম পোস্টার। উল্টোদিকে ওয়ার্ডরোব। বাবা ছাদে এলেই সোহম এবং শুভম ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর উপর। শান ছেলেদের এই দুরন্তপনা দারুণ এনজ়য় করেন।

শানের বেডরুমে বিছানার পিছন দিকে সাদা রঙের কাঠের ডিজ়াইন করা উইঙ্গস বেডরুমকে অন্যমাত্রা দিয়েছে। বেডরুমের উত্তর দিকের দেওয়ালের বাইরে সুন্দর বসার জায়গা। মাথার উপর দেওয়াল বেয়ে নামছে লতানো গাছ। বসার জন্য কাজ করা হেলান দেওয়া বেঞ্চ। খোলা আকাশকে সামনে রেখে সুন্দর রিলিফ।

নীচের লিভিং রুমের উত্তর দিকের দেওয়ালের বাইরেও ওরকম কর্নার। শানের কথায়, এটা ‘স্মোকিং কর্নার’। “আসলে ছেলেদের সামনে স্মোক করা যায় না। রাধিকা (স্ত্রী) রাগ করে!” হেসে বললেন তিনি।

সব মিলিয়ে হিন্দি ছবির জনপ্রিয় গায়ক শানের বান্দ্রার পেন্টহাউজ় এক কথায় সব পেয়েছির আসর!