magazine_cover_27_june_17.jpg

Bolly Interview

“আমি তো কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে রোল চাইতে পারি না”- ইলিয়েনা ডিক্রুজ়

- – - – - – - – - – - – - – - – - – -

বলিউডের নতুন হার্টথ্রব ইলিয়েনা ডিক্রুজ়ের সঙ্গে আড্ডা দিলেন আসিফ সালাম

- – - – - – - – - – - – - – - – - – -

ILEANA D’CRUZ INTERVIEW FOR ANANDALOK

|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||

কয়েকদিন আগে দেখলাম, আপনি একটা বেশ মজার টুইট করেছেন। সেখানে লিখেছেন, প্লেনে আপনি এমনভাবে খাবার খান যে, মনে হয় অনেকবছর ধরে আপনার খাবার জোটেনি! স্টুয়ার্ডকে খাবারের প্লেট ফেরত দেওয়ার সময় সেই প্লেটে নাকি একবিন্দু খাবারও পড়ে থাকে না!

এটা কিন্তু আমি মজা করে টুইট করিনি! সত্যি কথা। আমি ভীষণ পেটুক (হাসি)!

 

তা কী খেতে সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন?

মিষ্টি। যে কোনও ধরনের মিষ্টি আমার সামনে এনে দিন, আমি সব শেষ করে দেব! একটা মজার ব্যাপার শুনবেন, আমার পরিবারে কারও যদি বিয়ের সম্বন্ধ দেখতে যাওয়া হয়, আমি সবসময় সেই দলে থাকি। কেন বলুন তো? বিয়ের সম্বন্ধ দেখতে যাওয়া মানেই তো প্রচুর মিষ্টি খেতে পারব! একবার মনে আছে, এক বন্ধুর বাড়ি যাব বলে মিষ্টি দই কিনেছিলাম। পথে যেতে-যেতে পুরো দই আমি নিজেই খেয়ে ফেলেছিলাম!

 

কী বলছেন! বলিউডের নায়িকা, এরকম ছিপছিপে ফিগার। আর আপনি নাকি মনের আনন্দে মিষ্টি খান? এটা ঠিক মেনে নেওয়া গেল না…

বিশ্বাস করুন, আমি এতটুকুও বাড়িয়ে বলছি না। আমি নিজের ফিগার নিয়ে কোনওদিনই তেমন সচেতন ছিলাম না। একবার মনে আছে, বাড়িতে একটা টাইট শর্টস পরেছিলাম। বাবা হঠাত্‌ করে আমাকে দেখে মুচকি হেসে বলে, ‘এত কষ্ট করে টাইট জামাকাপড় পরার কী দরকার? আর এমনিতেও এই শর্টস সপ্তাহখানেক পর তোমাকে আর ফিট করবে না!’ বাবা কথাগুলি মজা করে বললেও, আমি খুব সিরিয়াসলি নিয়ে নিই। পরেরদিনই জিমে ভর্তি হই। কিন্তু আমার ট্রেনারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিই, সব এক্সারসাইজ় করতে রাজি আছি, কিন্তু মিষ্টি ছাড়তে পারব না!

 

আপনি কিন্তু বেশ সাহসীও…

এই কথা কেন বলছেন? মিষ্টি খাই বলে (হাসি)?

না, অবশ্যই মিষ্টি খাওয়ার জন্য আপনাকে সাহসী বলব না। কিন্তু আপনার সমসাময়িক অন্যান্য নায়িকারা যখন নিজেদের রিয়েল লাইফ প্রেমকাহিনি গোপন করতে উঠে-পড়ে লাগেন, আপনি কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য পথে হেঁটেছেন। আপনার অস্ট্রেলিয়ান বয়ফ্রেন্ড অ্যান্ড্রু নিবোনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক নিয়ে কখনও কোনও রাখঢাক করেননি।

এই বিষয়ে আগে অনেকবার কথা বলেছি। প্লিজ় এই বিষয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। এইটুকুই বলব, অ্যান্ড্রু ইজ় আ ভেরি ডিয়ার ফ্রেন্ড। ও আমাকে খুব ভাল বোঝে। আর অনেকেই হয়তো জানেন না, অ্যান্ড্রু ইজ় আ ব্রিলিয়ান্ট ফোটোগ্রাফার। অস্ট্রেলিয়ায় ওর প্রচুর নামডাক রয়েছে।

 

বছর দুয়েক আগে আপনার এক সাক্ষাত্‌কারে পড়েছিলাম, বিয়ে নয়, আপনি লিভ-ইনে বিশ্বাস করেন। কিন্তু মাস ছয়েক আগে এক সাক্ষাত্‌কারে দেখলাম আপনি বলেছেন, বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানে আপনার বিশ্বাস রয়েছে! হঠাত্‌ করে এই ম্যাজিকের কারণ কী?

সময়ের সঙ্গে মানুষের মত পাল্টাতেই পারে। তবে এটাও সত্যি যে, আমাকে বহু জায়গায় মিস কোট করা হয়েছে। আমি হয়তো একটা জিনিস বললাম, পরেরদিন খবরের কাগজে দেখি সেটা সম্পূর্ণ অন্য অ্যাঙ্গেলে লেখা হয়েছে।

 

এই সময়ের সঙ্গে মত পাল্টানোর পিছনে কি কোনও বিশেষ ব্যক্তির হাত নেই?

না নেই। প্লিজ় অন্য বিষয়ে কথা বলা যায়?

 

আচ্ছা, আপনি কি খুব সিলেক্টিভ কাজ করতে পছন্দ করেন?

কেন বলুন তো?

 

বলিউডে কেরিয়ার শুরু করেছেন ২০১২ সালে ‘বরফি’ দিয়ে। তারপর ২০১৩-তে ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’, ২০১৪-তে ‘মে তেরা হিরো’ এবং ‘হ্যাপি এন্ডিং’। তিন বছরে মাত্র চারখানা ছবি!

হঁ্যা, আমি একটু সিলেক্টিভ বটে। চারটে ছবি করতে পারি, তবে সেই চারটে ছবিতেই কিন্তু আমার চরিত্রগুলি বেশ পাওয়ারফুল। দর্শকেরা সিনেমাহল থেকে বেরিয়ে আমার চরিত্রটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেটাই আমার কৃতিত্ব। হাজারটা ছবি চাইলে করতেই পারি। কিন্তু দর্শকদের মনে জায়গা করতে পারলাম কী না, সেটাই গুরত্বপূর্ণ।

 

কিন্তু একমাত্র ‘ফাটা পোস্টার…’ বাদে, সবকটি ছবিই তো মাল্টিস্টারার। একাধিক নায়িকা রয়েছেন ছবিতে…

আমি তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। পাঁচ মিনিটের চরিত্র পেয়েও দর্শকদের মনে জায়গা করে নেওয়া যায়। আমাকে যদি কোনও পরিচালক সোলো নায়িকা হিসেবে ব্যবহার করতে না চান, তাতে আমার তো কিছু করার নেই। আমি তো কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে রোল চাইতে পারি না (হাসি)!

 

‘হ্যাপি এন্ডিং’-এ সেফ আলি খান এবং গোবিন্দর সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল?

দারুণ অনুভূতি। সেফ ইজ় অলওয়েজ় কুল। শুটিং চলাকালীন আমরা সবসময় একে-অপরের পিছনে লাগতাম। কিন্তু গোবিন্দজিকে আমি একটু সমীহ করে চলি। আফটার অল হি ইজ় সাচ আ সিনিয়র অ্যাক্টর।