magazine_cover_27_november.jpg

Anandalok Review

সেই একই রকম!

ফোর্স ২
rockon2-still
পরিচালক: অভিনয় দেও
অভিনয়: জন এব্র্যাহাম, সোনাক্ষি সিন্‌হা, তাহির রাজ ভাসিন

আজই মুক্তি পেল বছর কয়েক আগের অ্যাকশন ফিল্ম ‘ফোর্স’-এর সিকোয়েল ‘ফোর্স ২’। ছবির প্রধান চরিত্রে সশরীরে উপস্থিত এসিপি যশবর্ধন (জন)। আগের চেয়েও বেশি মাংসপেশিতে সুসজ্জিত। প্রথম ছবিতে তিনি মোটরবাইক তুলেছিলেন, এবার তুলেছেন গাড়ি। হাততালি পড়ল, সিটি বাজল। কিন্তু ছবির কী হল? সে কথায় আসা যাক। জেমস বন্ড বা বোর্ন সিরিজ়ের হলিউডি ছবি যাঁরা দেখে ফেলেছেন, তাঁদের বোরিং লাগতে পারে কারণ ছবির একের পর এক দৃশ্য, চেজ় সিকোয়েন্স ‘কপি-পেস্ট’। ও, এতক্ষণে যদি বোঝা না গিয়ে থাকে, আরও পরিষ্কার করে বলি… এই ছবিটি একটি স্পাই থ্রিলার। চিনে ‘র’-এর তিন এজেন্টের মৃত্যুর তদন্ত করতে যশবর্ধন ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ সেই এজেন্টদের মধ্যে একজন তার বন্ধু। ‘র’-এর নিজের ক্ষমতা নেই কিনা, কেন মুম্বই পুলিশের একজন এসিপি (যাকে কোনও একটু গুন্ডা ‘ইন্সপেক্টর’ বলে) আদৌ এই সুযোগ পাবে, এইসব প্রশ্ন অবান্তর। যা-ই হোক, এই মিশনে যশকে ‘লিড’ করছে ‘কে কে’ নামের এজেন্ট। এই ভূমিকায় আছেন সোনাক্ষি। বলাই বাহুল্য, আদতে সোনাক্ষিকেই ‘লিড’ করেন জন আর সেই স্টিরিয়োটিপিক্যাল দুর্বল মেয়ে হিসেবেই ধরা পড়ে তাঁর চরিত্রটি। এমন ‘র’ এজেন্ট যে গুলি চালাতে পারে না! বুদাপেস্তের ভারতীয় দূতাবাসে লুকিয়ে আছে একজন স্পাই, যে কিনা সব খবর সাপ্লাই করছে চিনাদের (পাকিস্তান অনেক হল, আমাদের দেশ পালটে গিয়েছে)। যশের বন্ধু এমনটাই জানিয়ে গিয়েছে কোডে ( সেই কোড এত বেসিক হওয়া সত্ত্বেও শত্রুরা তা ছাঁকনিতে আটকাল না, এ-ও এক আশ্চর্য)। সেই স্পাইকে খুঁজে বের করে যশ-কে কে। যশের ‘গাট ফিলিং’-এর ভরে পাওয়া যায় স্পাই শিব শর্মাকে। তারপর আর কী… পলায়ন, তাড়া, মারপিট, শিব শর্মার রুদ্রপ্রতাপ হয়ে ওঠা… প্রশ্নের অবকাশ নেই। নতুন কিছু পাবেন না। এসব বহুবার দেখা। তবে অকারণ গান ইত্যাদি না থাকায় ছবিটি প্রথমদিকে দেখতে খুব একটা খারাপ লাগে না। একটিই গান আছে, ‘কাটে নহীঁ কাটতে’-র রিমিক্স… তা-ও বুদাপেস্তের পাবে ( কেন, প্রশ্ন করবেন না)। বিশেষত ইন্টারভ্যাল যেখানে নেওয়া হচ্ছে, সেই জায়গাটি ব্রিলিয়ান্ট। এরপর থেকে ছবিটি অকারণে বড্ড বেশি মারপিটের ফলে ভারী হয়ে যায়। ‘র’ যে এতটাই দুর্বল, এ-ও নতুন একটি বার্তা। হাই-রিস্ক একজন অপরাধীকে নিয়ে কেন বুলেটপ্রুফ গাড়ি বা কোনও কভার ছাড়া যাতায়াত করবে ‘র’, বা ভিলেনটি বিদেশে এত হাজার-হাজার লোক কোথা থেকে হাজির করল, এসব প্রশ্নও চেপে যান। অভিনয়ের কথায় আসি। জন বা সোনাক্ষিকে নিয়ে বলার কিছু নেই। তাঁরা বেশ সাধারণ। তবে ‘ফোর্স’ যেমন বিদ্যুৎ জামওয়ালের মতো একজন অসাধারণ ভিলেন উপহার দিয়েছিল, তেমনই ‘ফোর্স ২’ উপহার দিয়েছে তাহির রাজ ভাসিনকে। রুদ্রর চরিত্রে তাহির চমকিয়েছেন। ‘মর্দানী’র খলনায়ক এই ম্যাড়ম্যাড়ে ছবিতেও যথেষ্ট ঝকঝকে। তিনি ‘বিফি’ নন, ফলে পুরোটাই মগজাস্ত্র। অ্যাকশন দৃশ্যর কথায় আসি। অগুন্তি মারপিটের মধ্যে, সোনাক্ষি বা বিদেশি সুন্দরীকে ব্যবহার করে অ্যাকশন এবং শেষের দিকে ভিডিয়ো গেমসের কায়দায় পিওভি অ্যাকশন অন্যরকম লাগে। এছাড়া ছবি ওই এক খাতে বাঁধা।

আর একটি কথা। ‘পিঙ্ক’ শিখিয়েছে, ছবি শেষ হলেও এন্ড ক্রেডিটের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। অনেক ‘সত্য’ উদঘাটিত হতে পারে। ‘ফোর্স ২’-তেও এমনই কিছু দেখা গেল। ছবির অ্যাঙ্গল স্পাইদের দেশভক্তি ইত্যাদির দিকেই নিবদ্ধ। এন্ড ক্রেডিটের গানেও জনের আবৃত্তি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, সেনার ক্ষমতা, পালটা মার দেওয়া ইত্যাদির উপর ফোকাস করে একরকম বিজ্ঞাপন করে ফেলল। প্রয়োজন ছিল?