magazine_cover_27_november_18.jpg

Anandalok Review

ঈগলের চোখ দিয়ে না দেখলেও ভাল লাগবে

ঈগলের চোখ
পরিচালক: অরিন্দম শীল
অভিনয়: শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পায়েল সরকার, জয়া এহসান, শুভ্রজিত্‌ দত্ত

বাংলার চলচ্চিত্র সমাজ যখন ফেলুদা, ব্যোমকেশ (পরিচালক নিজেও সেই লিগে আছেন) এবং কাকাবাবু নিয়ে দড়ি টানাটানিতে সামিল, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে লালবাজারের গোয়েন্দা শবর নিঃসন্দেহে টাটকা বাতাস। বলতে দ্বিধা নেই, শবর সিরিজ়ের দুটো ছবির পরই তাকে ক্লিয়ার উইনার ঘোষণা করাই যায়। এর কতগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের শবর-কাহিনি সময়োপযোগী এবং কোনও নির্দিষ্ট টাইম-ফ্রেমকে রিক্রিয়েট করার চেষ্টায় আটকে থাকতে হয় না। দ্বিতীয়ত, রহস্যের ঘূর্ণাবর্তের চেয়ে মানবসম্পর্কের জটিলতা এখানে বেশি প্রাধান্য পায়। তৃতীয়ত, আগের কোনও রেফারেন্স না থাকায়, সেই ভারে ক্লিষ্ট হয় না স্ক্রিপ্ট। আর শবর সিরিজ়ের দ্বিতীয় ছবি ‘ঈগলের চোখ’-এ এই সবক’টি সুবিধেরই সদ্ব্যবহার করেছেন পরিচালক অরিন্দম শীল। ছবির অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘বিষাণ রায়’ একজন লেডিজ় ম্যান, যার সঙ্গে জীবনের বিভিন্ন সময়ে নারীদের জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আর তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জেরেই বাড়িতে এক বিশাল অঘটন ঘটে যায়। ইতিমধ্যে যদি ‘ঈগলের চোখ’ উপন্যাসটি না পড়ে থাকেন, তাহলে গল্প এর চেয়ে বেশি না বলাই ভাল।
গল্পের মূল নির্যাস ছবিতে অক্ষত এটুকু বলা যায়। এমনকী, ছবির শেষে পরিচালক যে টুইস্টটি তৈরি করেছেন, সেই সিনেম্যাটিক লিবার্টিও প্রশংসনীয়। অভিনয়ের দিক থেকে বলতে গেলে, শাশ্বত ‘শবর’ চট্টোপাধ্যায় একাই এক-একটা ফ্রেম গিলে খেয়েছেন অনবদ্য অভিনয়ে।বিশেষ করে, প্রথম চেজ়িং সিকোয়েন্সের শেষে অপরাধীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শবরের থমকে যাওয়ার অভিব্যক্তি শাশ্বতর অভিনয়ে মূর্ত হয়ে উঠেছে। শবরের সেন্স অফ হিউমারের দিকটিও তিনি খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। মাঝেমধ্যেই ‘এমনি বললাম’ বলে যেভাবে উল্টোদিকের মানুষকে হতভম্ব করে দেয় সে, তা এই সিরিয়াস ছবিতে কমিক রিলিফ। ‘বিষাণ’-এর চরিত্রে অনির্বাণের অভিনয়ও বেশ ভাল। তবে যাকে দেখে বা যার ব্যক্তিত্বে মহিলারা পটাপট প্রেমে পড়তে পারেন, সেই ফ্যাক্টরটি তাঁর মধ্যে পাওয়া গেল না। পরিচালকের তৈরি গোয়েন্দার দক্ষিণ হস্ত ‘নন্দলাল’-এর ভূমিকায় শুভ্রজিত্‌ দত্ত একেবারে যথাযথ। তবে অরুণিমা ঘোষ বাদে ছবির মহিলা চরিত্রদের অভিনয় বেশ নড়বড়ে এবং স্ক্রিনস্পেসও অপর্যাপ্ত। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জায়গা পেয়েছেন জয়া এহসান এবং বেশ স্বাভাবিক অভিনয় করেছেন। শুধু কলকাতার অভিজাত মহিলার কথা বলার ধরন, বিশেষত অ্যাকসেন্ট আর একটু মার্জিত হওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে তাঁরই বোনের চরিত্রে রয়েছেন মডেলকন্যা ঊষসী, যার সংলাপের জড়তা বেশ কানে লাগে। পায়েল সরকারকে খান তিনেক দৃশ্যে দেখা যায় এবং তাঁকে অতিথি শিল্পী বললেও অত্যুক্তি হয় না। বরং নবাগতা রিয়া বণিক চরিত্র অনুযায়ী মন্দ কাজ করেননি। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর যেন ‘এবার শবর’-এর একটু খারাপ কার্বন কপি। কোনও নতুনত্ব নেই।
তবে এই সমস্ত খামতি তৈরিও হয়েছে যেমন পরিচালকের জন্য, আবার ঢেকেও গিয়েছে পরিচালকেরই গুণে। এই ছবিতে শবরের কনশাস এবং সাব-কনশাসের যে অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখানো হয়েছে, তা একটা প্রশ্ন আবার তুলে ধরে, একটা সময়ের পর গোয়েন্দাও কি নিজেকে অপরাধীর অল্টার ইগো হিসেবে দেখে? উত্তর ছবিতে মেলে না, তবে প্রশ্নটি ক্ষণে-ক্ষণেই দর্শককে খোঁচা দেয়। সব মিলিয়ে ‘ঈগলের চোখ’ শবর সিরিজ়ের প্রতি প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিল।

এখন আপনার রিভিউ প্রকাশিত হতে পারে আনন্দলোক-এ। সিনেমা দেখে
চটপট লিখে ফেলুন রিভিউ আর ইমেল করুন

[email protected]