magazine_cover_12_october_19.jpg

Tolly News

এনআরআই প্রযোজককে ঠকানোর অভিযোগ। অভিযুক্ত পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সাংবাদিক!

সম্প্রতি ফেসবুকের একটি পোস্ট ঘিরে হইচই শুরু হয়েছে বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিবাসী জনৈক আইটি প্রফেশনাল রূপক চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বাংলারই কোনও এক পরিচালককে তিনি একটি ছবি বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু সেই পরিচালক ছবি বানানোর পর (২০১৮ সালে অক্টোবর মাসে শুটিং হয় ছবিটির এবং পুরো ছবিটিই শুট করা হয় আমেরিকায়) এডিটিং এবং রিলিজ়ে বিস্তর সময় লাগাচ্ছেন। রিলিজ় নিয়ে প্রযোজক ক্রমাগত তাগাদা দিলেও, ‘আজ হবে-কাল হবে’ করে ঘোরাচ্ছেন সেই পরিচালক। একটা সময়ের পর হতাশ হয়ে, রূপকবাবু নিজে কলকাতায় আসেন এবং বিষয়টি ফলো আপ করার চেষ্টা করেন। ফল, তাঁকে সেই পরিচালক অর্থাৎ দেবপ্রতিম দাশগুপ্ত নাকি দেন অন্য টোপ! বলেন, প্রোডাকশন হাউজ় তৈরি করতে গেলে পরপর ছবি বানানো প্রয়োজন। তাই দ্বিতীয় ছবির প্ল্যানিংও সেরে ফেলা প্রয়োজন! ইন্ডাস্ট্রিতে সবে পা দেওয়া রূপকবাবু কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিচালক দেবপ্রতিম প্রযোজকের সামনে এনে হাজির করেন নিজের ঠিক করা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের! অগত্যা, ছবিটি প্রযোজনা করতে নিমরাজি হন রূপকবাবু। সেই ছবি করতে গিয়ে লাগল আর এক প্রস্থ ঝামেলা। দ্বিতীয় ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে রূপাঞ্জনা মিত্র, সন্দীপ্তা সেন, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের বায়নার চোটে প্রয়োজক নাকি চোখে সরষে ফুল দেখতে শুরু করেন! প্রযোজকের অভিযোগ, ‘চূড়ান্ত অপেশাদার মনোভাব নিয়ে কাজটা করা হয়। তাঁরা কাজ কম, আমেরিকায় এসে ঘুরে বেড়িয়েছেন বেশি। বিষয়টি যাচাই করতে আমরা যোগাযোগ করি রূপাঞ্জনা এবং সন্দীপ্তার সঙ্গে। দু’জনেই দাবি করেছেন, তাঁরা প্রতিশ্রুতি মতো অর্থ পাননি। এমনকী, খুব খারাপ অবস্থার মধ্যেই তাঁরা শুটিং করতে বাধ্য হয়েছেন।
শুধুমাত্র ছবির কলাকুশলীদের দিকেই নয়, জনৈক দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও রূপকবাবু তীক্ষ অভিযোগের তীর ছুড়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সেই দুই সাংবাদিক দীর্ঘদিন আমেরিকায় এসে বসে থেকেছেন, রূপকবাবুর টাকাতেই ঘুরে বেড়িয়েছেন। সেটাও তিনি মেনে নিয়েছিলেন কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এত দাবি মেনে নেওয়ার পরেও, তাঁরা নাকি প্রতিশ্রুতি মতো কভারেজ দেননি। দু’জনের মধ্যে একজন একটি ছোট্ট খবর বের করেছেন বটে, কিন্তু রূপকবাবুর বক্তব্য, ‘ওই খবরের জন্য আমেরিকায় এসে, দশ-বারোদিন বসে থাকার কোনও প্রয়োজন ছিল না।’ অপর সাংবাদিক এখনও ওই ছবি সংক্রান্ত একটি খবরও করেননি। পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে প্রযোজক রূপকবাবু আরও বলেছেন, ‘প্রথম ছবির এডিটিং করার নামে মাসের পর মাস সময় লাগিয়েছেন পরিচালক। প্রথমে ডিস্ট্রিবিশনের দায়িত্ব নিলেও পরে দেবপ্রতিম সেই দায়িত্ব পালনে গড়িমসি করেন।’ অন্যদিকে দেবপ্রতিমের বক্তব্য, ‘এডিটিংয়ে সময় লাগে, রূপকবাবু সিনেমার টেকনিক্যাল দিকটা একেবারেই বোঝেন না বলে এমন বলছেন। আর ছবি রিলিজ়ের চেষ্টা আমি করছি। সেটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’
ইতিমধ্যে প্রথম ছবির জন্যই নাকি রূপকবাবুর খরচ হয়ে গিয়েছে ৬৭ লক্ষ টাকা এবং দ্বিতীয় ছবির জন্য ৪৯ লক্ষ টাকা (শুধুমাত্র শুটিং বাবদ)!
চাপানউতোর চলছেই। আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজ খবর করছি যা বিশদে প্রকাশ করা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর সংখ্যায়। বাংলা ছবির জগতের অন্ধকারময় দিকের খোঁজটাও নেওয়া দরকার বইকী।

ঋষিতা মুখোপাধ্যায়

NRI RUPAK CHATTERJEE | SANDIPTA SEN | RUPANJANA MITRA | DEBOPRATIM SENGUPTA | CHEATING