‘‘আমি না নিলে ঝুঁকিটা নেবে কে?’’"/>
magazine_cover_12_september_17.jpg

Tolly Interview

‘‘আমি না নিলে ঝুঁকিটা নেবে কে?’’

‘চ্যাম্প’ -এর মিউজ়িক লঞ্চে এক অদ্ভুত সমাহার! এ ছবিতে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-অনুপম রায়-অরিজিৎ সিংহ-অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়-শ্রীজাত-রাজা চন্দ-মুম্বইয়ের জনপ্রিয় র‌্যাপার রফতার… সবাই কাজ করেছেন এ ছবির সঙ্গীতে! আছেন তিন নিউ কামারও। সেই মিউজ়িক লঞ্চের পর, অভিনেতা-প্রযোজক দেবের মুখোমুখি ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়
dev1
মিউজ়িক লঞ্চের সময় কেঁদে ফেলছিলেন… কী চলছে মনে? আবেগ, আনন্দ নাকি ভয়?
সবই। কারণ মিউজ়িক লঞ্চটা যে হল, সেটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। এই ছবিটার কাজ যেদিন শুরু করেছিলাম, তা প্রায় দু’-আড়াই বছর আগে হবে… আমার কাছে কিছুই ছিল না। রাজকে যখন আমি ছবিটার দায়িত্ব নিতে বলি, ও জিজ্ঞেস করেছিল আমার কাছে টাকা বা সময় আছে কিনা। আমি বলেছিলাম, কোনওটাই নেই। শুধু এফর্টটা দিতে পারি সবাই মিলে। অবশেষে আজ কাজটা শেষ হল। তাই প্রত্যেকটা মানুষকে আমি জিজ্ঞাসা করছি, কেমন লাগছে।

চ্যাম্প-এ কিন্তু দেবকে একদম অন্যরকম লাগছে। দেব প্রযোজক বলেই কি অভিনেতা দেব নিজেকে আরও ঢেলে দিয়েছে?
আমি কিন্তু সেই ‘চাঁদের পাহাড়’ থেকেই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি। ‘বুনোহাঁস’ বা ‘জ়ুলফিকর’ দেখুন… ব্যাপারটা এই যে এই ছবিতে আমি নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটাও অনেক বেশি পেয়েছি। বরাবরই অনেক কিছু করার ইচ্ছে ছিল আমার। dev2কিন্তু সুযোগ… আমি তো প্রযোজকদের কাছে গিয়েছি, কেউ আমায় ব্যাক করেনি বলেই তো আমি প্রযোজনায় এলাম। সবার কাছে নিজেকে প্রমাণ করার একটা তাগিদ তো থাকে? ‘ডু অর ডাই’ সিচুয়েশন। যে হ্যাঁ, বাংলা ছবিতেও এরকম করা যায়। কমপ্লিট মেকওভার আনা যায়। ছবির একটা বড় অংশে আমার ওজন ১০৭ কেজি। ভুঁড়ি নিয়ে ফাইট। সেখান থেকে টোন করে, সিক্স প্যাক এনেছি।

এ ছবির বোধহয় শুরু থেকে শেষ, সবটাই দেব…
আসলে কী বলুন তো, গল্পটা আমার লেখা বলে পুরোটা আমার কাছে খুব ক্লিয়ার ছিল। কেমন কাস্টিং করতে হবে, কোথায় কোন গানটা ফিট করবে, কী ধরনের মিউজ়িক চাই… সবটাই। ইন ফ্যাক্ট, আপনি আজ প্রেস-কনে কী খাবেন, সেটাও আমি ঠিক করেছি। কোনও জিনিসে কোনও খামতি রাখিনি। প্রত্যেকটা বাড়িতে ছবিটাকে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। সিইএসসি যেমন এক্ষেত্রে বিরাট সাহায্য করেছে। তিন মাসের প্রতিটা বিলে ‘চ্যাম্প’ ফ্ল্যাশ্‌ড হয়েছে।

আজ যাঁরা-যাঁরা স্টেজে বসে আছেন, সেই কম্বিনেশনটাও তো…
মারাত্মক! এটা আমার বিরাট গর্ব যে হ্যাঁ, এদের এক করা হয়তো আমার পক্ষেই সম্ভব ছিল। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রথম কারও সঙ্গে বাংলায় অ্যালবাম শেয়ার করলেন।

কেরিয়ারের এই সময়ে প্রযোজনার ঝুঁকিটা তো বেশ বড়ই…
একদম। বিরাট রিস্ক।

dev3তাহলে নিচ্ছেন কেন?
আপনি আমায় আর একটা নাম বলুন, যার পক্ষে এই ঝুঁকিটা নেওয়া সম্ভব ছিল। এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আমার একটা দায়িত্ব আছে তো? আজ যখন বাংলায় ‘বাহুবলী ২’ রমরমিয়ে চলে, আমার কি হিংসে হয় না? বাঙালি দর্শক একে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করছেন, ‘‘‘বাহুবলী ২’ দেখেছিস? কী ছবি বানিয়েছে! এখানে তোরা কী করছিস?’’ আমার গায়ে লাগে না? সেখান থেকে ধরে নিন, আমার সম্মানরক্ষার্থেই এই ছবিটা করা। যাতে বাঙালি দর্শক অন্তত একঘণ্টা আলোচনা করতে পারে যে এখানেও একটা ছেলে আছে যে সাহস দেখাতে পারে। তার কাছে করণ জোহর নেই তাই…

প্রিমিয়ারের প্ল্যান কী?
করছি না। ফ্রি-তে আমি কাউকে এ ছবি দেখাব না। সবাইকে কষ্ট করে ডাকব, ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করব, তারপর দশজন দশরকম কথা বলবে। আপনারা তো আমার পরিশ্রম দেখতে পাচ্ছেন। আপনাদের কি কর্তব্য নয় সেটুকুকে সম্মান করে ৫০-১০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সিনেমাটা দেখা? আমি তো সেটাই দেখতে চাই যে এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ, বাংলা ছবির দর্শক বাংলা ছবির পরিশ্রমকে টাকা দিতে চায় কিনা। ‘বাহুবলী’ তো অনেক টাকা খরচ করেও আমরা দেখেছি।

দেবের পরবর্তী পরিকল্পনা কী? ইন্ডাস্ট্রির জন্য এভাবেই নতুন কিছু করে যাওয়া?
আমি তো এটুকুই পারি। অন্য কিছু শিখিওনি আর এ ছাড়া কিছু করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

dev-1