Category Archives: tollywood interview template

‘‘যে ছবির কনটেন্ট স্ট্রং হবে, সেই ছবি দর্শকদের মন জয় করে নেবে’’

jeet4
‘বস ২’ -এর গল্প তাঁর নিজের লেখা। তাই নিয়ে বেশ উত্তেজিত তিনি। ছবির মিউজ়িক লঞ্চের ব্যস্ততার মধ্যেই কথা বললেন টলিউডের হার্টথ্রব নায়ক জিৎ। শুনলেন আসিফ সালাম

‘বস ২’-র গল্প তো আপনার লেখা?
হ্যাঁ। এই প্রথমবার আমার গল্প নিয়ে ছবি। আমি প্রার্থনা করি যাতে দর্শকের আমার গল্প ভাল লাগে। এইটুকু বলতে পারি, ‘বস ২’র কনটেন্ট ইজ় ভেরি স্ট্রং।

কিন্তু নিজের গল্প নিয়ে ছবি করার পিছনে কোনও বিশেষ কারণ?
বিশেষ কারণ কিছু নেই। আসলে ‘বস’ সাফল্য পাওয়ার পরেই আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে এই ছবির সিকোয়েল করা হবে। আমার ফ্যানরা প্রায় সময়ই আমার কাছে ‘বস’-এর সিকোয়েলের জন্য আবদার জানাত। সিকোয়েলের জন্য আমি এমন একটা গল্প চেয়েছিলাম যেটা ঠিক ‘বস’ যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকে শুরু হবে। বেশ অনেকদিন ভাবনাচিন্তার পর এই গল্পটা ডেভেলপ করে।

jeet-11

প্রেস মিটে বললেন এই ছবির ইউএসপি হল অ্যাকশন…
হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত এরকম অ্যাকশন সিকোয়েন্স বাংলা ছবিতে আগে কখনও দেখা যায়নি। আমাদের ফাইট মাস্টার অ্যালেন আমিন অসামান্য কাজ করেছে। একটি গাড়ি চেজ় সিকোয়েন্সে আমি একটি দুর্ঘটনার কবলেও পড়েছিলাম। সকলেই ভেবেছিল যে, আমার জন্য হয়তো শুটিং কয়েকদিন পিছোতে হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। ধন্যবাদ জানাই আমার সকল ফ্যানদের, যাদের জন্য আমি যে কোনও পরিস্থিতিতে, আরও ভাল কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই। ব্যাংককে ‘বস ২’-এর শুটিংয়ে আমার সঙ্গে আমার মেয়ে নবন্যাও গিয়েছিল। ও-ও ভীষণ মজা করেছে। শুধু মাঝে একটু জ্বর চলে এসেছিল কারণ জলের মধ্যে অনেকক্ষণ লাফালাফি করেছিল!

জিৎ-শুভশ্রী জুটি কিন্তু টলিউডে জুটি হিসেবে সকলের মন জয় করে নিচ্ছে।
প্রপার নায়ক-নায়িকা অর্থে, ‘বস ’-এর পর এই ছবি আমার এবং শুভশ্রীর দ্বিতীয় ছবি। এত কম সময়ের মধ্যেই আমাদের জুটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, সেটা জেনে খুব ভাল লাগে। আগেও বলেছি, আবার বলছি। শুভশ্রী ইজ় ভেরি ভেরি ট্যালেন্টেড অ্যান্ড আ হার্ড ওয়র্কিং গার্ল। আই উইশ হার অল দ্য বেস্ট।

jeet-10

ছবির মিউজ়িকও তো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে…
হ্যাঁ, আমার কানেও সেরকম খবরই এসেছে। অল ক্রেডিট গোজ় টু জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আমার অনেকদিনের পুরনো বন্ধু এবং একজন অসামান্য শিল্পী। ‘বস ২’ ইজ় অ্যাবাউট ‘জিৎ ত্রায়াঙ্গেল’। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ এবং আমি জিৎ মদনানি!

‘বস ২’-এর সঙ্গে একইদিনে মুক্তি পাচ্ছে ‘টিউবলাইট’ এবং ‘চ্যাম্প ২’।
আই উইশ এভরিওয়ান অল দ্য ভেরি বেস্ট। সত্যি বলতে, ‘টিউবলাইট’-এর সঙ্গে আমাদের কোনও তুলনাই হয় না। ওদের স্কেল অনেক হাই। তবে আমার ছবি নিয়ে আমি খুবই কনফিডেন্ট। আমি বিশ্বাস করি, সব কিছু নির্ভর করছে কনটেন্টের উপর। যে ছবির কনটেন্ট স্ট্রং হবে, সেই ছবি দর্শকদের মন জয় করে নেবে। ২৩-শে জুন, সকলে মিলে হলে গিয়ে ‘বস ২’ দেখুন। আমার বিশ্বাস, আপনারা কেউ নিরাশ হবেন না।
jeet-1

‘‘আমি না নিলে ঝুঁকিটা নেবে কে?’’

‘চ্যাম্প’ -এর মিউজ়িক লঞ্চে এক অদ্ভুত সমাহার! এ ছবিতে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-অনুপম রায়-অরিজিৎ সিংহ-অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়-শ্রীজাত-রাজা চন্দ-মুম্বইয়ের জনপ্রিয় র‌্যাপার রফতার… সবাই কাজ করেছেন এ ছবির সঙ্গীতে! আছেন তিন নিউ কামারও। সেই মিউজ়িক লঞ্চের পর, অভিনেতা-প্রযোজক দেবের মুখোমুখি ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়
dev1
মিউজ়িক লঞ্চের সময় কেঁদে ফেলছিলেন… কী চলছে মনে? আবেগ, আনন্দ নাকি ভয়?
সবই। কারণ মিউজ়িক লঞ্চটা যে হল, সেটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। এই ছবিটার কাজ যেদিন শুরু করেছিলাম, তা প্রায় দু’-আড়াই বছর আগে হবে… আমার কাছে কিছুই ছিল না। রাজকে যখন আমি ছবিটার দায়িত্ব নিতে বলি, ও জিজ্ঞেস করেছিল আমার কাছে টাকা বা সময় আছে কিনা। আমি বলেছিলাম, কোনওটাই নেই। শুধু এফর্টটা দিতে পারি সবাই মিলে। অবশেষে আজ কাজটা শেষ হল। তাই প্রত্যেকটা মানুষকে আমি জিজ্ঞাসা করছি, কেমন লাগছে।

চ্যাম্প-এ কিন্তু দেবকে একদম অন্যরকম লাগছে। দেব প্রযোজক বলেই কি অভিনেতা দেব নিজেকে আরও ঢেলে দিয়েছে?
আমি কিন্তু সেই ‘চাঁদের পাহাড়’ থেকেই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি। ‘বুনোহাঁস’ বা ‘জ়ুলফিকর’ দেখুন… ব্যাপারটা এই যে এই ছবিতে আমি নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটাও অনেক বেশি পেয়েছি। বরাবরই অনেক কিছু করার ইচ্ছে ছিল আমার। dev2কিন্তু সুযোগ… আমি তো প্রযোজকদের কাছে গিয়েছি, কেউ আমায় ব্যাক করেনি বলেই তো আমি প্রযোজনায় এলাম। সবার কাছে নিজেকে প্রমাণ করার একটা তাগিদ তো থাকে? ‘ডু অর ডাই’ সিচুয়েশন। যে হ্যাঁ, বাংলা ছবিতেও এরকম করা যায়। কমপ্লিট মেকওভার আনা যায়। ছবির একটা বড় অংশে আমার ওজন ১০৭ কেজি। ভুঁড়ি নিয়ে ফাইট। সেখান থেকে টোন করে, সিক্স প্যাক এনেছি।

এ ছবির বোধহয় শুরু থেকে শেষ, সবটাই দেব…
আসলে কী বলুন তো, গল্পটা আমার লেখা বলে পুরোটা আমার কাছে খুব ক্লিয়ার ছিল। কেমন কাস্টিং করতে হবে, কোথায় কোন গানটা ফিট করবে, কী ধরনের মিউজ়িক চাই… সবটাই। ইন ফ্যাক্ট, আপনি আজ প্রেস-কনে কী খাবেন, সেটাও আমি ঠিক করেছি। কোনও জিনিসে কোনও খামতি রাখিনি। প্রত্যেকটা বাড়িতে ছবিটাকে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। সিইএসসি যেমন এক্ষেত্রে বিরাট সাহায্য করেছে। তিন মাসের প্রতিটা বিলে ‘চ্যাম্প’ ফ্ল্যাশ্‌ড হয়েছে।

আজ যাঁরা-যাঁরা স্টেজে বসে আছেন, সেই কম্বিনেশনটাও তো…
মারাত্মক! এটা আমার বিরাট গর্ব যে হ্যাঁ, এদের এক করা হয়তো আমার পক্ষেই সম্ভব ছিল। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রথম কারও সঙ্গে বাংলায় অ্যালবাম শেয়ার করলেন।

কেরিয়ারের এই সময়ে প্রযোজনার ঝুঁকিটা তো বেশ বড়ই…
একদম। বিরাট রিস্ক।

dev3তাহলে নিচ্ছেন কেন?
আপনি আমায় আর একটা নাম বলুন, যার পক্ষে এই ঝুঁকিটা নেওয়া সম্ভব ছিল। এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আমার একটা দায়িত্ব আছে তো? আজ যখন বাংলায় ‘বাহুবলী ২’ রমরমিয়ে চলে, আমার কি হিংসে হয় না? বাঙালি দর্শক একে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করছেন, ‘‘‘বাহুবলী ২’ দেখেছিস? কী ছবি বানিয়েছে! এখানে তোরা কী করছিস?’’ আমার গায়ে লাগে না? সেখান থেকে ধরে নিন, আমার সম্মানরক্ষার্থেই এই ছবিটা করা। যাতে বাঙালি দর্শক অন্তত একঘণ্টা আলোচনা করতে পারে যে এখানেও একটা ছেলে আছে যে সাহস দেখাতে পারে। তার কাছে করণ জোহর নেই তাই…

প্রিমিয়ারের প্ল্যান কী?
করছি না। ফ্রি-তে আমি কাউকে এ ছবি দেখাব না। সবাইকে কষ্ট করে ডাকব, ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করব, তারপর দশজন দশরকম কথা বলবে। আপনারা তো আমার পরিশ্রম দেখতে পাচ্ছেন। আপনাদের কি কর্তব্য নয় সেটুকুকে সম্মান করে ৫০-১০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সিনেমাটা দেখা? আমি তো সেটাই দেখতে চাই যে এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ, বাংলা ছবির দর্শক বাংলা ছবির পরিশ্রমকে টাকা দিতে চায় কিনা। ‘বাহুবলী’ তো অনেক টাকা খরচ করেও আমরা দেখেছি।

দেবের পরবর্তী পরিকল্পনা কী? ইন্ডাস্ট্রির জন্য এভাবেই নতুন কিছু করে যাওয়া?
আমি তো এটুকুই পারি। অন্য কিছু শিখিওনি আর এ ছাড়া কিছু করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

dev-1

‘‘মহিলাদের সম্মান করাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এর জন্য উইমেনস ডে সেলিব্রেট করার কী প্রয়োজন?’’

 ‘দুর্গা সহায়’-এর ফার্স্ট লুক লঞ্চ অনুষ্ঠানের জন্য দক্ষিণ কলকাতার এক নামী পুস্তক বিপণীতে নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত তনুশ্রী চক্রবর্তী। প্রেস কনফারেন্স শুরুর আগে কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। শুনলেন স্বর্ণাভ দেব  

‘দুর্গা সহায়’ ছবিতে তো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আপনাকে দেখা যাবে…
হ্যাঁ, আমার চরিত্রের নাম মানসী। সে বাড়ির বউ। তার মধ্যে একটা অভিজাত ব্যাপার রয়েছে। মানসী পজ়িটিভ চিন্তাভাবনা করে। সে-ই দুর্গাকে গড়ে তোলে। ব্যস, আর কিছু বলব না, বাকিটা জানতে হলে ছবিটা দেখতে হবে।

এই ছবির পরিচালক অরিন্দম শীল বলছিলেন, ‘‘এই ছবিতে একেবারে অন্যধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তনুশ্রীকে’’…
এটা পুরোটাই অরিন্দমদার জন্যই সম্ভব হয়েছে। কারণ, একজন পরিচালকই পুতুলের মতো চরিত্রগুলি গড়ে তোলে। সেদিক থেকে বলা যায়, আমার অভিনয় যদি দর্শকদের ভাল লাগে তার পুরো কৃতিত্বটাই অরিন্দমদার। উনিই আমার ভিতর থেকে অভিনয় বের করে এনেছেন। সেদিক থেকে আমাকে ডিরেক্টরস অ্যাকট্রেস বলতে পারেন।

আপনি নাকি মনে করেন, এই ইউনিটের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা একেবারেই স্বতন্ত্র?
সত্যিই। সেটে পরিবেশটা একেবারেই যেন বাড়ির। সারাদিন হট্টগোল, আড্ডা চলছে। শুটিং তো আছেই তার পাশাপাশি আমাদের খাওয়াদাওয়া… সব মিলে এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। আমাদের ১৭ দিনের শেডিউল সত্যিই মনে থেকে যাবে।
tanushree-interview-2

এই ছবিতে তো সোহিনী সরকারও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ওঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
শুধু সোহিনীর কথা কী বলব, এই ছবির প্রত্যেক অভিনেতাই শক্তিশালী। বাবানদা (কৌশিক সেন), দেবযানীদি (চট্টোপাধ্যায়), ঋক (ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়)… সকলের সঙ্গে কাজের সুযোগটাই অসাধারণ।

ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই বলছেন, তনুশ্রী দিনে-দিনে ক্রমাগত সুন্দরী হয়ে উঠছেন… এর সিক্রেট কী?
এর কোনও আলাদা সিক্রেট কী বলি! আসলে আমার মা যেভাবে আমাকে বড় করে তুলেছেন সম্পূর্ণ ক্রেডিটটাই ওঁর। এর পাশাপাশি পরিচালকদের কথা বলতে হয়। পরিচালকরাই তো তাঁদের মনের মাধুরী মিশিয়ে চরিত্রগুলি গড়ে তোলেন। সেজন্যই নায়িকাদের স্ক্রিনে এত সুন্দর দেখায়। তবে সত্যি বলতে আমি আয়ুর্বেদিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। আর অর্গ্যানিক ফুড খাই। এটাই হয়তো সৌন্দর্যের রহস্য!

আপনি তো মডেলিং থেকে অভিনয়ে এসেছেন। আবার কি মডেলিংয়ে ফেরার ইচ্ছে রয়েছে?
হোয়াই নট? ভাল প্রস্তাব পেলে তবেই ভাবব। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করলাম। আবার ভাল সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই মডেলিং করব।

কাজের থেকে বিরতি নিয়ে আপনি নাকি কিছুদিন পরেই কানাডা ও ইউএসএ টুরে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ। তবে সেটাও কাজের সূত্রেই। ব্যাপারটা খুলেই বলি। আমি একটি পার্লারের সঙ্গে যুক্ত। সেই ব্র্যান্ড ইউএসএ এবং কানাডাতেও লঞ্চ করা হবে শীঘ্রই। সেই উপলক্ষেই যাচ্ছি। কানাডা, লাস ভেগাস ও আরও কয়েকটি জায়গায় যাব। তবে সুযোগ পেলে ঘুরতেও বেরিয়ে পড়ব।

এখন তো আপনার রেস্তোরাঁ নিয়েও খুব চর্চা হচ্ছে…
শুধুমাত্র ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নয়, আমি তো খাওয়াতে ভালবাসি বলেই রেস্তোরাঁ খুলেছি। আমি চাই সকলে আমার রেস্তোরাঁয় আসুক। বার্গার, স্টেক, এশিয়ান কুইজ়িন, থাই স্পেশ্যাল, লেবানিজ়… প্রভৃতি নানাধরনের খাবার রয়েছে। আমি নিশ্চিত, এখানকার খাবার সকলের রসনা তৃপ্তি করবেই।

সম্প্রতি উইমেনস ডে পালিত হল। এই বিশেষ দিনটি সম্পর্কে আপনার কী অভিমত?
আমি কোনও একটা দিন উদযাপনে বিশ্বাসী নই। আমরা তখনই মহিলাদের রেসপেক্ট দিতে পারব, যখন ইকুয়ালিটির কিংবা হিউম্যানিটির কথা বলতে পারব। মহিলাদের নিরাপত্তা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু সমস্যা হল, কিছু মানুষ নিয়ম ভাঙে। সত্যি বলতে মানুযকে যথার্থ সম্মান দেওয়াটা জরুরি। যেহেতু মহিলাদের মধ্যে মায়ের সত্তা রয়েছে, তাই মহিলাদের সম্মান করাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার দরকার আছে কি?

Interview | Tollywood Actress | Tanusree Chakraborty | Durga Sohay | Bengali Movie

‘‘আমি অতটাও ডেসপারেট নই!’’: প্রিয়ঙ্কা সরকার

Priyanka-big

ডুয়ার্সের জঙ্গলে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘ছায়া ও ছবি’র শুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার। সন্ধে সাতটা থেকে পরেরদিন দুপুর সাড়ে এগারোটা অবধি ল-ম-বা ঘুম দিয়ে ওঠা অভিনেত্রীকে ধরা গেল ঠিক ফ্লাইট ধরার আগে। তাতেও আড্ডা হল যথেষ্টই। সঙ্গী থাকলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

 
এত লম্বা ঘুম? এখনও ক্লান্ত দেখাচ্ছে। শরীর খারাপ নাকি?
আরে, এই ছবিটার জন্য এই নিয়ে তিনবার উত্তরবঙ্গে আসা-যাওয়া করলাম। এর আগে শুট করেই কলকাতা ফিরেছি, শুট করেছি। তারপরই এখানে এলাম। এবার ট্রেনে এসেছি। ট্রেনে আবার আমার ভাল ঘুম হয় না। এসেই মেক-আপ করে শুটিংয়ে চলে গিয়েছি। এই এতবড় পেন্ডিং ঘুমটা বোধহয় এখন হচ্ছে। তবে এই পরিশ্রমটা ভাল। টাচ উড, যেন থাকেও। দুশ্চিন্তা থাকে শুধু একটাই, সহজ (প্রিয়ঙ্কার পুত্র)।
 
এমনিতে সহজকে শুটিংয়ে নিয়েই যান?
দু’-একদিনের শুট হলে ওকে নিয়ে আসি না। এবার সেটাই হয়েছে। এমনিতে ও এখন অনেকটাই বোঝে। কিন্তু জানে, মা রাতে ফিরবেই। তাই সকালটা আমায় খুব মিস করে, ঘ্যানঘ্যান করে খুব।
 
কাল দেখলাম আপনাকে চালসার জঙ্গলে। শুটিং সিকোয়েন্সে ঘোড়ায় চড়ে, বর্ম-টর্ম পরে… ব্যাপারটা বোঝাবেন?
এই ছবিতে ‘ফিল্ম উইদিন আ ফিল্ম’-এর একটা ব্যাপার আছে। সেটারই একটা সিকোয়েন্স ওটা। ছবিতে আমার চরিত্র মউ। সে এখনও বড় স্টার হয়ে ওঠেনি। লিডিং অভিনেত্রী (যে চরিত্রটি কোয়েল করছেন) রাইকে দেখে সে হয়তো একটু হিংসেই করে। প্রশ্ন করে, স্টারের ট্রিটমেন্ট এত আলাদা কেন।
 
ব্যাপারটি একটু বাস্তব জীবনেও মিলে যাচ্ছে কি? প্রিয়ঙ্কা একটা সময় স্টার ছিলেন। তারপর বেশ কিছুদিন তাঁকে দেখা যায়নি। স্টারডমে ফেরার পথটা তো সামনে অনেকটাই লম্বা! তা ছাড়া, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই বলছেন প্রিয়ঙ্কাকে একদম অন্য ফর্মে এখন দেখা যাচ্ছে। অনেক সাহসী, অনেক ইস্পাত কঠিন। বর্ম পরে কি সেই মোডেই ঢুকে গিয়েছিলেন?
দেখুন, রিলেট করতে না চাইলেও, কিছু জিনিসে রিলেট করাই যায়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা, একজন নতুন অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রোডাকশনের ব্যবহার আর স্টারের সঙ্গে ব্যবহারে হাজার-হাজার গুণ তফাত থাকে। আমি যখন ক্লাস সিক্সে কাজ শুরু করেছি, বা তারপরেও… ধরুন, লাঞ্চে যা দিল তো দিয়ে দিল। তার বাইরে এক পিস বেশি মাছ চাইলে, হয়তো অপমানই করে দেবে! এটা এই ছবির ক্ষেত্রে হচ্ছে বলছি না, কিন্তু সাধারণত এরকমই হয়ে থাকে। আর নতুন ফর্মের কথা বা স্টারডমের কথায় বলি… আমি এতদিন নিজেই নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলাম। আসলে সহজের জন্মের পর আমার যা চেহারা হয়েছিল, আমি টাইপকাস্ট হয়ে পড়তাম। এখন নতুন করে তৈরি হচ্ছি, নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করছি।
 
এটাকে তাহলে সেকেন্ড ইনিংস হিসেবেই দেখছেন?
ঠিক তা হয়তো নয়। আমি তো কাজ করছিলামই। তবে এটুকু বলব, সহজকে যদি জীবন ধরি… সহজের পরই এখন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রায়োরিটি হল কাজ। সেকেন্ড ইনিংস না হলেও, কাজে যে আবার মন দিয়েছি, তা তো ঠিকই।
 
কাজ থেকে দূরে থাকার একমাত্র কারণ তাহলে সহজ?
একদমই। আর কোনও ব্যক্তিগত কারণ নেই।

Priyanka-big2.pg

অনেকে কিন্তু বলছেন, প্রিয়ঙ্কা যেহেতু নতুন করে শুরু করছে, সব কাজই ও করবে…
না, আমি অতটা ডেসপারেটলি কাজ করব না। আমি কাজ করতে ভীষণ ভালবাসি। কিন্তু সেটা প্রশ্রয় দেওয়াটা উচিত হবে না। বুঝে গিয়েছি, একটু বেছে কাজ করতেই হবে। আমার বেশ কয়েকটি ছবি রিলিজ়্‌ড হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি ভাল হলে অডিয়েন্সের একটা এক্সপেক্টেশন তৈরি হয়। টানা কাজ করলে সেই জায়গাটা একেবারেই রাখতে পারব না। দশজন পরিচালক কাজের অফার দিলে, তাঁদের মধ্যে যে দু’জন ভাল, তাঁদেরটা আমায় বেছে নিতে হবে। সেজন্যই রাজদা (চক্রবর্তী), রাজাদা (চন্দ), কৌশিকদার (গঙ্গোপাধ্যায়) কাজ করছি। ওদিকে মার্চে বাংলাদেশী একটি ছবিতে কাজ করব। ওতে লাভ হবে এই, আমি বেশ কিছুটা ফিনানশিয়াল সিকিয়োরিটি পাব। যার ফলে আর একটু সময় নিয়ে কাজের ব্যাপারে ভাবতে পারব।
 
লুক চেঞ্জ, ইমেজ চেঞ্জের ব্যাপারটা কনশাসলি করছেন? অনেকটা ওজন কমিয়েছেন। তাছাড়া একসময় ছিলেন বাবলি ‘স্কুলগার্ল’, তারপর ‘মা’… এই মুহূর্তে আবার খুব ‘গথিক’ দেখাচ্ছে। অল্প ঘসে যাওয়া কাজল, গ্রে টি-শার্ট, ব্ল্যাক ডিসট্রেস্‌ড জিন্‌স…
মনটাই ভাল করে দিলেন আমায় ‘গথ’ বলে। ছোটবেলা থেকে ওটিই আমার প্রিয়তম লুক কিনা! আমার ওয়র্ডরোবে চোখ চালালে শুধুই কালো রংয়ের সমাহার। বাকি লুক চেঞ্জের ব্যাপারটা এই, আমায় যদি ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন চরিত্র পেতে হয়, ওজনটা কমাতেই হবে। কারণ স্ক্রিনে পাঁচ-ছ’ কেজি এমনিতেই বেশি দেখায়। তাই পুরো গ্রীষ্মকালটা আমি সাঁতার কেটেছি, হাঁটছি রোজ, ডায়েট করছি মন দিয়ে… এখনও অবশ্য আগের শেপটায় ফিরিনি পুরোপুরি।
 
কাজের কথা এত বললেন, কমার্শিয়াল ছবিতে লিড হিসেবে আসবেন না?
অনেস্টলি, সেরকম কোনও অফার এখনও পাইনি। পেলে, ভাবব। এখন যে চরিত্রগুলি করছি, একটু অন্যরকমই।
 
কাল ঘোড়ায় চড়লেন। এই কি প্রথমবার? না ট্রেনিং ছিল?
ছোটবেলায় বোধহয় দীঘায় একবার ঘোড়ায় চড়েছিলাম! তারপর এই… ফলে ট্রেনিংয়ের কোনও গল্প নেই। বরং ঘোড়াটা শেষ ‘ব্যোমকেশ’ ছবিটায় ছিল। ফলে ওর ট্রেনিং আছে কিছু!
 
সে কী! ঘোড়ার পিঠে আপনাকে দেখে তো এমনটা মনে হল না!
হুঁ… আসলে আমি খুব ভাল অভিনেত্রী তো, তাই টেনশনটা ঢেকে রাখতে পেরেছিলাম! তাছাড়া ঘোড়া আমার প্রচণ্ড প্রিয় একটি পশু। ছোটবেলায় তো ফ্যান্টাসি ছিল, একটা ঘোড়া পুষবই। তাই সব মিলিয়েই হয়তো…
 
আপনাকে নিয়ে কোনও নতুন গসিপ কানে এসেছে?
না, কিন্তু প্লিজ় আপনারা শুনলে আমায় বলবেন। আমি শুনে মজা পেতে চাই।
 
রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে কোনও গসিপ হয়নি? কারা যেন বলছিল…
এ কী! প্লিজ় এরকম করবেন না! রাজদার তো বিয়ে এবছর। বিয়েটা অন্তত হতে দিন! অবশ্য আমি কিন্তু বিয়ে নিয়ে কিছু কনফার্ম করছি না। আমিও সব কথা মিডিয়ার মাধ্যমেই জেনেছি। বিয়ের আশেপাশেও কোনও কথা কখনও রাজদার সঙ্গে হয়নি। তবে রাজদাকে নিয়ে আমার সঙ্গে কোনও লিঙ্ক-আপ, আমি একেবারেই শুনতে চাই না।
 
সিনেমায় কাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন?
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাউকেই মনে হয় না। তবে আমার খুব হিংসে হয় জেনিফার লরেন্স এবং আলিয়া ভট্টকে দেখে। ওদেরও বয়স আমারই মতো, ২৬ বছর। অথচ ওরা নিজেদের ভাঙার কত সুযোগ পায়! তার সঙ্গে ওদের নিজেদের ভাঙার সেই ক্ষমতাটাও আছে। ‘উড়তা পঞ্জাব’ দেখুন, কী অভিনয় করেছে আলিয়া। আমার এটাও প্রশ্ন, সুযোগ পেলেও আমি কাজটা করতে আদৌ পারব কি না!

“আমি টিপিক্যাল গ্ল্যামারগার্ল নই!”: কায়রা দত্ত

মুম্বইয়ে ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’-এ শুরু করে, কলকাতায় কায়রা দত্ত পা দিলেন ‘জ়ুলফিকর’-এ অভিনয় দিয়ে! তাঁকেই একটু চেনার চেষ্টায় তাঁর মুখোমুখি হলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়।

kayra-big

রেস্তোরাঁয় ইন্টারভিউ। এসেই আপনি খাবার খুঁজছেন! আপনি না গ্ল্যামার মডেল! রেজিমের কী হবে?
ও শিট! ধরা পড়ে গিয়েছি! দেখুন, রেজিম তো আছেই। কিন্তু আমি ফুডি। আর এতদিন পর কলকাতায় এসে ডায়েট করা সম্ভব না। মা অসাধারণ রান্না করেন। তাছাড়া মুম্বইয়ের তুলনায় কলকাতার খাবার অনেক ভাল। তা সে রেস্তোরাঁরই হোক, বা রাস্তার। ফলে এখানে ডায়েট মেনটেন করা সম্ভব না মোটেই। জিম মেম্বারশিপ নেওয়া আছে। পেটপুরে খেয়ে নিই! সকালে জিমে দৌড়ব!

কলকাতায় এতদিন পর মানে… আপনি মুম্বইয়েই বড় হয়েছেন?
না, আমার স্কুলজীবনটা কলকাতাতেই কেটেছে। লা মার্টিনিয়রে আমার স্কুলিং। তখনই মডেলিং শুরু করি। কলকাতায় তো পুরো ব্যাপারটাই পরিবারের মতো। ‘অ্যাই, গয়নার শুট আছে, চলে আয়,’ বলে ডেকে নেয়! এই ছোট্ট মেয়েটা এভাবেই সব জায়গায় বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট করে বেড়াত। কলেজে পড়তে যাই মুম্বইয়ে। মডেলিংয়ের ইচ্ছেটা ছিলই। তবে শিয়োর ছিলাম না খুব একটা। যা-ই হোক, মুম্বইয়ে গিয়ে মডেলিংটা আরও সিরিয়াসলি শুরু করি। তারপর অভিনয়ের পোকাটা কামড়ায়। ওখানে অশ্বিন গিদওয়ানি প্রোডাকশনে নাটক করেছি বেশ কয়েকদিন। তারপর অনুপম খেরের অ্যাকাডেমি থেকে কোর্স করি। সিদ্ধান্ত নিই যে অভিনয়টাই করব। মডেলিং আর নয়!

দাঁড়ান দাঁড়ান… আপনি অভিনয় শিখেছেন! এ কী! ইমেজ ভেঙে যাচ্ছে তো!
এ বাবা! সবাই জেনে গেল! আসলে মডেলদের বিষয়ে কিছু স্টিরিয়োটাইপ থাকেই। এরা শুধুই গ্ল্যামার দেখাবে, অভিনয় পারবে না! আমি মোটেই টিপিক্যাল গ্ল্যামার গার্ল নই। মুম্বইয়ে থাকি বলেই বাংলা বলতে পারে না, বুঝতেই পারছেন এই ধারণাও আমার ব্যাপারে চলবে না!

এগজ়্যাক্টলি! লা মার্টিনিয়রে পড়া ট্যঁাশ মেয়ে…
হাঃ হাঃ! সত্যি! আমি একেবারেই ‘ট্যঁাশ’ নই। আর আমার আশা, আমি এরকমই থাকব বরাবর।

kayra-small
‘জ়ুলফিকর’-এ তো আপনি আলবিনা, ওরফে অক্টেভিয়া! কীভাবে কাজটি পেলেন?
প্লেন লাক! ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’-এর পর যখন কলকাতায় প্রচারে এসেছিলাম, বলেছিলাম একটা বাংলা সিনেমা করব। কিন্তু ভাবিনি সেটা এত তাড়াতাড়ি হবে এবং তা-ও এমন স্কেলে। সৃজিতস্যার (মুখোপাধ্যায়) যখন আমায় ফোন করেন, তখন আমি মুম্বইয়ে। এমন অফার পেয়ে না বলার তো প্রশ্নই ছিল না। তাছাড়া আমার লুকটা এমন, সবাই আমায় গ্ল্যামারাস রোল অফার করে। কিন্তু এই ছবিতে আমি একেবারেই ডিগ্ল্যাম। সেটাও খুব ইন্টারেস্টিং…

এমন কাস্ট, ভয় করেনি?
আমি মুম্বইয়ে দুটো সিনেমা করেছি বটে, কিন্তু এটা আমার প্রথম বাংলা সিনেমা। এমন কাস্ট, আর আমি একমাত্র নিউকামার। বাংলা সিনেমা দেখা শুরুই তো করলাম খুব সম্প্রতি। ফলে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক! কিন্তু এখানে এসে দেখলাম সবাই প্রচণ্ড কাইন্ড। এমন করে আপন করে নিল, এটাই বোধহয় বাঙালি ওয়ে। প্রথম ছবিতেই এতকিছু পেলাম! বললাম না, দারুণ লাকি!

এত লাকি হওয়ার কারণ কী বলুন তো?
ভাবতেই বা যাব কেন? টাচউড! আমার মনে হয় এটা বিগিনার্স লাক! যেন এরকমই থাকে!

আপনার বয়ফ্রেন্ড কোথায় থাকেন? কলকাতা না মুম্বই?
ও মাই গড! দেখলেন, আপনি ধরেই নিলেন আমি ট্যঁাশ গার্ল, তা-ও উইথ আ বয়ফ্রেন্ড! আমি কিন্তু সিঙ্গল!

সব সেলেব্রিটিরা যেমন বলে?
না না, আমার সত্যিই বয়ফ্রেন্ড নেই। এবার কলকাতায় খুঁজব, যদি কাউকে পাই!

আপনার হাতের ট্যাটুতে ওটা কী? ‘ফেথ’!
আমি নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখার চেষ্টা করি। আশা করি এই বিশ্বাসটাই আমায় টিকিয়ে রাখবে! বয়ফ্রেন্ড পাওয়ারও বিশ্বাস রাখছি কিন্তু!

প্রসেনজিত্-রাইমার আড্ডা

আজই মুক্তি পেল প্রসেনজিত্-রাইমা অভিনীত ‘ক্ষত’। সেই ছবি ও নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলাপচারিতায় মাতলেন প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়রাইমা সেন

সাক্ষী থাকলেন স্বর্ণাভ দেব

prasenjit-1-new

প্রসেনজিত্ এই মুহূর্তে তো আপনি স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন…‘শঙ্খচিল’, ‘প্রাক্তন’, ‘মহানায়ক’…
প্রসেনজিত্: আপনি দেখবেন এই প্রতিটি ছবির টার্গেট অডিয়েন্স আলাদা। বিভিন্ন ধরনের ছবিতে আলাদা-আলাদা চরিত্রে আমার অভিনয় যে মানুষের ভাল লেগেছে এটা বড় পাওনা। এক কথায় বলতে পারি আই অ্যাম ব্লেসড। অভিনয়টা ছাড়া আমি তো অন্য কিছু করতে পারি না। ৩৫ বছর কাজ করার পরেও মানুষের ভালবাসা আমার সঙ্গে রয়েছে। এটা বিরাট পাওয়া। কখনও বলি না, আমি প্রতিভাবান অভিনেতা কিন্তু হলফ করে বলতে পারি পরিশ্রমে কোনও ফাঁক রাখি না। ইশ্বরও হয়তো সেটা বুঝতে পারেন। প্লিজ় প্রার্থনা করুন, এই ফর্ম যেন বজায় রাখতে পারি। সকলে আমার কাজ দেখেন। আমাকে ভালবাসেন।

 

‘ক্ষত’ তেও তো আপনার অন্যরকম চরিত্র…
প্রসেনজিত্: হ্যঁা, এরকম চরিত্র খুব একটা দেখা যায় না। চ্যালেঞ্জিং শব্দটা বলতে চাই না। কিন্তু সত্যি খুব ডিফিকাল্ট ক্যারেকটার। এই ছবিতে আমি একজন লেখকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাম, নির্বেদ লাহিড়ি। ডার্ক গল্প লেখেন। ভীষণ জনপ্রিয়। আমরা সমাজের নিয়মের মধ্যে বাধা থাকি। কিন্তু কিছু মানুষ প্রথাগত ছক না মেনে চলে নিয়ম ভাঙতে চায়। নির্বেদ লাহিড়ি বলেন, ‘আমি আজকে যা লিখি লোকে সেটাই কাল করে।’ বোল্ড ক্যারেক্টার। সে মনে করে, খিদে পেলে যেমন খাবার খাই, তেমনই ওর মনে হয় যেটা করতে ইচ্ছে হচ্ছে সেটা করবই।

prasenjit-2

এই ছবির প্রস্তাবটা নাকি অনেক দিন আগেই পেয়েছিলেন?
প্রসেনজিত্: ঠিকই। কমলেশ্বর (মুখোপাধ্যায়) আমাকে প্রায় আট-ন’ বছর আগে ‘ক্ষত’র স্ক্রিপ্ট শুনিয়েছিলেন। সেই সময়ে ডাক্তারি ছেড়ে এসে সবে এখানে কাজ শুরু করেছে। আমি বলেছিলাম, ছবিটা অবশ্যই করব। কিন্তু একটু অপেক্ষা কর। কারণ, এই সাবজেক্ট সেই সময় দর্শকদের রিলেট করা কঠিন হত। এতদিনে দর্শকরা অনেক তৈরি হয়ে গিয়েছেন। এতদিনে ছবির আঙ্গিকও অনেকটাই বদলেছে। মাঝের সময়টায় অভিনেতা, পরিচালক, কাজের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর কমলেশ্বরের কাজ করার সবচেয়ে সুবিধে হল ও অ্যাক্টরস ডিরেক্টর।

সম্প্রতি আনন্দলোক-এ পাওলি বলেছেন, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়কে এত বোল্ড এর আগে দেখা যায়নি…
প্রসেনজিত্: আমার মনে পড়ে না বাংলায় এরকম দুঃসাহসিক চরিত্র দেখেছি বলে। বিদেশি ছবিতে অবশ্যই দেখেছি। কিন্তু ভারতে ইরোটিক থ্রিলার খুব কমই হয়েছে।

 

আপনি কি মনে করেন টলিউডে এই ছবি একটা নতুন দিক খুলে দেবে?
প্রসেনজিত্: আমি সেভাবে বলব না। কিন্তু ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর আগে ওই ধরনের ছবি কি এখানে দেখা গিয়েছে? ‘তিন ইয়ারি কথা’ রিলিজ় করতেও আমার তিনটে বছর সময় লেগেছিল। দিনে-দিনে সিনেমার ভাষা পাল্টাচ্ছে। সেখানে আমরা কেন বাধা গতে বাধা পড়ে থাকব? আমি এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে থাকি। সেক্সুয়ালিটি, শরীর, দেহ যদি স্ক্রিপ্টে ডিম্যান্ডে করে তাহলে সেটা তুলে ধরতেই হবে। দর্শকরা তো ওয়র্ল্ড সিনেমা দেখেনই। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে যদি হাফ হার্টেড সিনেমা করা হয় সেটা আমাদের অন্যায় হবে। সৃজিতের সাহস ছিল বলে ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর মতো ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছিল। মানুষ তো অ্যাকসেপ্ট করেছিলেন।

 

আচ্ছা, রাইমা আপনার চরিত্রটা সম্পর্কে বলবেন?
রাইমা: এই ছবিতে আমি নির্বেদ লাহিড়ি স্ত্রী সৃজিতার চরিত্রে অভিনয় করছি। একজন শিক্ষিত মহিলা। নির্বেদ লাহিড়ির সঙ্গে ওঁর ইন্টেলেক্ট মেলে বলেই দু’জনে বিয়ে করেছে।

 

এই ছবিতে আপনার আর পাওলির সম্পর্কটা কী?
রাইমা: ছবিতে পাওলি আমার ছোটবেলার বন্ধু। পাওলির সঙ্গে রাহুলের বিয়ে হয়। একসময় গিয়ে বোঝা যাবে না পাওলির চরিত্রটা সত্যিই কোনও বাস্তব চরিত্র নাকি নির্বেদ লাহিড়ির ক্রিয়েশন। বেশ জটিল ব্যাপার।
প্রসেনজিত্: সৃজিতার চরিত্রে অনেক ডায়মেনশন রয়েছে। এখানে সে তার বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাচ্ছে। খুব শক্ত মনের মহিলা। অন্যদিকে স্বামীর প্রতিও তার অগাধ প্রেম রয়েছে। বাকিটা জানতে সিনেমাটা দেখতে হবে।

prasenjit-34

এতদিন কাজের পরে আপনাদের দু’জনের কেমিস্ট্রিটা কতটা দানা বেঁধেছে?
প্রসেনজিত্: ‘অটোগ্রাফ’-এর পরে দু’-একটা ছবি বাদ দিলে (‘অপরাজিতা তুমি’, ‘প্রাক্তন’) দেখবেন আমার ছবিতে কোনও নায়িকা নেই। এই ছবির কাস্টিং নিয়ে যখন বসা হয়, প্রথমেই আমাদের মাথায় রাইমার নাম আসে। কমলেশ্বরও মনে করেছিল বুম্বাদার পাশে একজন শিক্ষিত স্ত্রীয়ের চরিত্রে রাইমাই সবচেয়ে অ্যাপ্রোপিয়েট। একটা সময়ে টলিউডে জুটি বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন চরিত্র অনুযায়ী কাস্ট ঠিক করা হয়। ‘প্রাক্তন’-এ দেখবেন আমার স্ত্রী হিসেবে অপাকে (অপরাজিতা আঢ্য) দুর্দান্ত মানিয়েছে। একটা সময়ে তো আমি রোম্যান্টিক হিরো ছিলাম। তখন আমার স্ত্রী হিসেবে কেউ অপাকে ভাবতে পারতেন? কিন্তু আজকে বিষয়টার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শিবুকে (শিবপ্রসাদ) বলেছিলাম, এমন কাউকে কাস্টিং কর যে অসামান্য অভিনেত্রী। সেই সুবাদেই অপাকে নেওয়া হয়েছিল। আজ দেখুন তার ফলাফল। এখন গুরুত্বপূর্ণ, কোন চরিত্রে কাকে মানাচ্ছে? অভিনয়টাই মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এই ছবিতেও রাইমা, পাওলি নিজেদের চরিত্রে মানানসই। ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর শেষ দৃশ্যে তো আমি সাহস করে পরমকে সংলাপটা বলেছিলাম, ‘আমার ছেলে থাকলে তোমার মতো পুলিশ অফিসার হত’, তার মানে কি আমি বাবা হয়ে গেলাম? তারপরেও তো ‘প্রাক্তন’-এ কাজ করেছি। ‘জাতিশ্মর’-এ কুশল হাজরার ওরকম গেট আপ করার পরে ফের নায়ক হিসেবে আমার প্রত্যাবর্তন অনেকেই ভাবতে পারেননি।

 

পাওলি আর রাইমাকে একসঙ্গে…
প্রসেনজিত্: আমার সঙ্গে এমন কাউকে ভাবতে হবে স্ক্রিনে দেখে যাকে মনে হবে ম্যাচিয়োর। আমি কিন্তু বয়সের দিক থেকে বলছি না। ‘চোখের বালি’তে যখন রাইমার সঙ্গে কাজ করলাম তখন ও একেবারেই নরম কাদার মতো। বিগত ১০-১২ বছরে অভিনেত্রী হিসেবে রাইমা অনেক উন্নতি করেছে। অর্পিতাকে বাদ দিলে ঋতুও (ঋতুপর্ণা) অনেক ম্যাচিয়োর। আর বাকি যারা আছে তাদের মধ্যে ভাবতে হবে। পাওলি শ্যামাঙ্গী আর রাইমা অসম্ভব ফর্সা। এটা ছবির ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘ক্ষত’-র কাস্ট ঠিক করতে প্রায় ১০-১২ দিন আলোচনা করতে হয়েছে। সাধারণত, রাইমা সেন বলতেই একেবারে শিক্ষিত, পলিশ, সফিস্টিকেটেড একজনের কথা মনে পড়ে। কিন্তু ‘শব্দ’তে ওকে দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একটা লোয়ার মিডল ক্লাস গৃহবধূর চরিত্রে ওর অভিনয় অনবদ্য। ও নিজেও জানে না, কী করেছে! ঋত্বিকের কথা আমি বলছিই না। ও বিশ্বমানের অভিনেতা। এটাই আজকের পরিচালকদের কৃতিত্ব। অন্যদিকে পাওলিও খুব ভাল অভিনেত্রী।

prasenjit-4

‘মহানায়ক’-এ পাওলির কাজ সকলের নজর কেড়েছে কিন্তু রাইমা
প্রসেনজিত্: রাইমার করার কথা ছিল। কিন্তু ওর একটা ডেটের সমস্যা হয়েছিল। দর্শকদের কাছে ইমেজারি রিফ্লেক্ট করত। কিন্তু আমরা ওইভাবে রিফ্লেকশন করতে চাইনি। আমি তো এই ধারাবাহিকে উত্তমকুমারের মতো কথাও বলিনি। আমি যখন সেটে ঢুকতাম লোকে বলত বিশ্বজিতের এন্ট্রি হচ্ছে। কারণ আমার সঙ্গে বাবার চেহারের মিল আছে। রেট্রো লুকে মানুষ আমাকে বাবার সঙ্গে তুলনা করছে। রাইমা করলে অনেক বেশি মিসেস সেনের মতোই দেখাত। কিন্তু আমরা সেভাবে ভাবিইনি।

 

রাইমা মহানায়ক-এ কাজ করতে না পারায় কোনও আক্ষেপ রয়েছে?
রাইমা: একেবারেই না। আমাকে এই ধারাবাহিকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরেকটা প্রজেক্টের সঙ্গে ডেট ক্ল্যাশ করছিল। এই নিয়ে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। তা ছাড়া পাওলি ‘মহানায়ক’-এ খুব ভাল অভিনয় করেছে। (পাশ থেকে প্রসেনজিত্ বললেন,) আরেকটা সমস্যা তো বলছিই না। (হেসে) দেখুন ছোটদের এমন কিছু প্রবলেম রয়েছে যা এই লোকটাই (নিজেকে দেখিয়ে) জানে।

prasenjit-raima-text

প্রসেনজিত্ আপনাকে কতটা সাহায্য করেছেন?
রাইমা: বেশ কিছু ডিফিকাল্ট দৃশ্য ছিল। সেখানে বুম্বাদার ভীষণ সাহায্য করেছেন। অবশ্য বুম্বাদা প্রতিটি ছবিতেই হেল্প করেন। তবে কমলেশ্বর খুব ভাল গাইড করেন, তাই কোনও সমস্যা হয়নি।
পাশ থেকে প্রসেনজিত্: ধাক্কা মারার দৃশ্যটা বল।
রাইমা: হ্যঁা, একটি ঝগড়ার সিনে আমি ধাক্কা মেরেছিলাম। বুম্বাদা উল্টে পড়ে গিয়েছিল।
প্রসেনজিত্: আমি জানতাম পড়ব পাথরের উপরে পড়ব। কিন্তু রাইমা ভীষণ ভয় পেয়েছিল ধাক্কাটা মারার পরে।
রাইমা: সত্যিই, আমি ভাবলাম বুম্বাদার বোধহয় মাথা ফেটে গিয়েছে। আমি ভীষণ জোরেই ধাক্কাটা মেরেছিলাম।

 

পড়ে যাওয়ার পরে ভয় লাগেনি?
প্রসেনজিত্: ও তো কেঁদে ফেলেছিল। আমার কিছুই হয়নি। এদের সঙ্গে মজা করছিলাম।

 

কিন্তু অনেকেই বলেন, সেটে প্রসেনজিত্ নাকি ভীষণ সিরিয়াস…
প্রসেনজিত্: কী রে বল না, কখন আমাকে সিরিয়াস হতে দেখেছিস?
রাইমা: না, না এটা ঠিক নয়।
প্রসেনজিত্: আমি ওদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেলামেশা করি। তবে হ্যঁা, আমি ওদের অভিভাবকও। আমি যখন সেটে ঢুকি ওদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমার মনে আছে, ‘অটোগ্রাফ’-এর সেটে প্রথমদিকে দেখতাম সবাই আমাকে দেখে তটস্থ হয়ে থাকত। শেষে আমি ওদের একজনের থেকে সিগারেট চেয়ে খেলাম। তারপরেই সম্পর্কটা সহজ হয়ে গেল। এটা আমারই দায়িত্ব। প্রসেনজিতের ইমেজটা ভেঙে বেরিয়ে আমি ওদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমাকে করতেই হবে। তা ছাড়া আমি ভীষণ ধৈর্যশীল। কেউ ভুল করলে আমি ওদের বকুনি না দিয়ে মোটিভেট করার চেষ্টা করি। আমি ক্যামেরার পাশে বসে আমার ডায়লগের কিউ দিই। কারণ, আমি জানি এটা টিম এফোর্ট। এখানে প্রত্যেকের সেরাটা নিংড়ে বের করতে হবে। মুম্বইতে একটা ছবির করার সময়ে সম্প্রতি আমি আর কে কে মেনন প্রত্যেককে কিউ দিচ্ছিলাম। ক্ষত-তেও আমার শট হওয়ার পরে পাওলির শটের সময়েও একটা সমস্যা হচ্ছিল। আমি গিয়েই কিউ দিতে আই কন্ট্যাক্ট সঠিক হল। সিনটাও দুর্দান্তভাবে শেষ হল।

 

‘ট্র্যাফিক’-এর পরে বলিউডে কোনও ছবি করছেন?
প্রসেনজিত্: সেপ্টেম্বরে ‘ত্রিদেব’ রিলিজ় করবে। আরেকটা ছবির কাজও শেষ। নীরজ কবির (ব্যোমকেশ-এ ভিলেনের ভূমিকায় ছিলেন) সঙ্গে একটা ছবি শুট করলাম। ছবিতে আমি একজন ভারতীয় সেনা অফিসার। নীরজ পাকিস্তান সেনা অফিসার। হিমাচল প্রদেশে ১৭ দিন শুটিং করলাম। আর দু’দিন শুট বাকি। ছবিটা বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে পাঠানো হবে। এখানে দেখা যাবে একজন সেনা অফিসার মানুষ হিসেবে কেমন।

প্রসেনজিত্: আপনার পাশাপাশি রাইমাও বলিউডে কাজ করছেন।

 

আপনি কী মনে হয়, টলিউডই রাইমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি হওয়া উচিত নাকি বলিউডে ফুল ফ্লেজেড কনসেনট্রেট করা উচিত্?
প্রসেনজিত্: ২০ বছর আগে আমার মুম্বইতে পাড়ি না দেওয়ার একটা কারণ, এখানকার ছবির কমিটমেন্ট। আরেকটা জিনিস আমি মনে করি, আমার উপর প্রচুর প্রযোজক টাকা ঢেলেছেন। তাদের প্রতিও আমার একটা দায়বদ্ধতা ছিল। শুধুমাত্র বেশি অর্থের লোভে অন্যত্র পাড়ি দিতে হবে, এটা আমার দর্শন নয়। তা ছাড়া এখানকার শক্ত জমি অহেতুক হাতছাড়া করতে যাব কেন! আজ আমার উপর সেই চ্যালেঞ্জটা নেই। এখন খোলা মনে ‘সাংহাই’, ‘ট্র্যাফিক’-এর মতো ছবি করতে পারি। ওরা বলেন, ভারতে আর কোনও অভিনেতাকে দেখেননি, যে মেনস্ট্রিম থেকে অন্যধরনের ছবিতে এত সহজে শিফ্ট করতে পেরেছেন। একটা সময় ছিল যখন নায়িকার পিছনে গুণ্ডা দৌড়লে সিনেমা হলে সিটি পড়ত, কারণ সবাই জানে এবার প্রসেনজিতের এন্ট্রি হবে। আমার কলার দেখলেও লোকে সিটি মারতেন। আমাকে এই লোভটা বিসর্জন দিতে হয়েছে। অমিতজী (বচ্চন) অনেক বয়স পেরোনোর পরে এটা করেছিলেন। রাইমার ক্ষেত্রে আমি বলব, টলিউডের ওকে দরকার। ওকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। সবকিছু ছেড়ে ওর মুম্বইতে যাওয়া ঠিক নয়।

 

আপনার কথা স্বার্থপরের মতো শোনাচ্ছে। আপনি শুধুই ইন্ডাস্ট্রির দিকটাই তো দেখছেন…
প্রসেনজিত্: সত্যিই ইন্ডাস্ট্রির রাইমাকে প্রয়োজন। ‘চোখের বালি’ থেকে শুরু করে রাইমা যেভাবে নিজের ফোকাস ধরে রেখেছে, তার জন্যই ও আজ এত খ্যাতি পেয়েছে। রিজিয়নাল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেও নিজের পরিচিতি গড়ে তোলা যায়। এটা ওর বলিউডেও কাজটা অনেক সুবিধে করে দেবে। বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে বাংলার মুখ হিসেবে যখন আমাকে উপস্থিত করা হয়, নিজেকে গর্বিত মনে করি।

 

কিন্তু রাইমা মুম্বইতে পরপর কাজ করতে গিয়ে যদি টলিউডে সময় দিতে না পারে?
প্রসেনজিত্: আমি তো বলিউডে কাজ করতে বারণ করিনি। আমার মনে হয় ডেট অ্যাডজাস্টমেন্টটা গুরুত্বপূর্ণ । একেবারে টলিউড ছেড়ে যাওয়াটা ঠিক হবে না। এটা দু’দিক থেকেই ভুল হবে। তার বদলে দু’জায়গাতেই সমানতালে কাজ করুক না। আজ রাইমা যে জায়গায় পৌঁছেছে সেটা ওঁর নিজের কৃতিত্ব। ওর ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে যত কথাই হোক না কেন, ওর মা কিংবা দিদিমা ওকে এই জায়গায় নিয়ে আসেননি। ও নিজের প্রচেষ্টায় এই জায়গাটা অর্জন করেছে। আমরা মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল একটা জায়গায় কাজ করি। সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে কেন হঠাত্ ছেড়ে চলে যাবে?
রাইমা: আমিও একমত। তা ছাড়া মুম্বইতে আমি তো সিলেক্টিভ ছবিতে কাজ করি। টলিউড ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।

 

রাইমা বাণিজ্যিক ছবিতে সেভাবে আপনাকে দেখা যায় না….
রাইমা: আমি অন্যধারার ছবিতে কাজ করেই খুশি। সেখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখন হঠাত্ করেই মেনস্ট্রিম ছবিতে কাজ করতে গেলে দর্শকরা আমার সম্পর্কে কী ভাববেন?
প্রসেনজিত্: একটা কথা বুঝতে হবে, রাইমা সেনকে টলিউডে ইনট্রোডিউস করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। ফলে ওর ব্র্যান্ডটাই তো অন্যরকম। ওকে এর মর্যাদা দিতে হবে। ঋতু বলত, আমার মেয়ে নেই, রাইমা আমার মেয়ে। কোনও অভিনেত্রী যদি এই আশীর্বাদ পেয়ে যায়, তারপরে কোন ছবি করল, আর কোন ছবি করল না তাতে কিছু এসে যায় না।

 

রাইমা সাধারাণত দেখা যায় দু’জন নায়িকার মধ্যে তেমন বন্ধুত্ব হয় না। কিন্তু আপনি আর পাওলি তো খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু…
রাইমা: আমার কারও সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতা নেই। আমি সব সময়েই নিজের সঙ্গেই কম্পিটিশন করে এসেছি। আমার আর পাওলির বন্ধুত্ব অনেকদিন ধরেই। আমরা মুম্বইতে থাকার সময়েই ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব দানা বাঁধে। ও যখনই মুম্বই যায় আমাকে জিজ্ঞেস করে তুমি কি এখানে? আমরা গেট টুগেদার করি। পার্নোও আমার ভাল বন্ধু।

 

রাইমা এই ছবিতেও নাকি আপনি আর পাওলি ভীষণ দুষ্টুমি করেছেন?
প্রসেনজিত্: এটা আমি বলতে চাই। কেওনঝড়ে আমাদের ট্রেন ছিল সকাল ছ’টায়। এসি ফার্স্ট ক্লাস। আমার সঙ্গে দুই নায়িকা। সহযাত্রী ছিল আর একজন ভদ্রলোক। প্রথমেই ওরা বলতে লাগল, বুম্বাদা ওকে তাড়াও। আমি ভাবছি এটা হয় নাকি। আরে বাবা, টিকিট কেটে উঠেছেন তো! আমি ভদ্রলোকের সঙ্গে গল্প করতে লাগলাম। ভদ্রলোককে তাড়ানোর ফন্দি আটল কেন জানেন? সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ দেখলাম পাওলি আর রাইমা উপরের বাঙ্কে উঠে দু’জনে মিলে আধঘণ্টার মধ্যে একটা গোটা ওয়াইনের বোতল শেষ করল। আমি তখন চা খাচ্ছি। তারপরে ওরা ঘুমলো।

prasenjit-5
রাইমা প্রতি বছর আপনার বিয়ের খবর শোনা যায়। সত্যি কবে বিয়ে করছেন?
প্রসেনজিত্: মোক্ষম প্রশ্ন। এটা আমি বলছি। ওটা আর হবে না। ফাইনালি দেখবেন বুড়ি হয়ে গিয়েছে। তারপর আমার বাড়িতে এসে থাকবে।
রাইমা: তোমরা এত চাইছ আমি বিয়ে করি, তাই নজর লেগে গিয়েছে। যখন হবে তখন হবে। বিয়ে ভাগ্যের ব্যাপার। আপনারা কেন চান আমি বিয়ে করি? এই মুহূর্তে বিয়ে করছি না। শান্তি (হেসে)। আপাতত কেরিয়ারেই মন দিতে চাই।

 

প্রসেনজিত্ রাইমাকে বিবাহিত জীবন সম্পর্কিত টিপস…
রাইমা: হ্যঁা বল-বল।
প্রসেনজিত্: দায়িত্ব নিয়ে বলছি দু’-একটা বিষয় বাদ দিলে ওর বিবাহিত জীবন খুব সুখী হবে।

আপনাদের আগামী ছবি ‘ক্ষত’র জন্য শুভেচ্ছা রইল।
থ্যাঙ্ক ইউ।

আমি মাঝে-মাঝে তো আমি কেঁদেও ফেলতাম

1

আজই সর্বত্র মুক্তি পেয়েছে ‘চিত্রা’। সেই ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন পূজারিণী। অভিনয়ে হাতেখড়ি থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মন খুলে কথা বললেন তিনি। শুনলেন স্বর্ণাভ দেব।

 
‘চিত্রা’য় আপনার চরিত্রটা কেমন?
আমার চরিত্রটা হল একজন কলেজ স্টুডেন্টের। যে সদ্য স্কুল পাশ করেছে। ছবিতে চিত্রার প্রেমটা বেশ ইম্পর্ট্যান্ট। চিত্রার লাইফে প্রেম সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। যেখানে সমাজও যুক্ত, সঙ্গে ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ও। ছবির মূল বক্তব্য হল ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট। কিন্তু মূল প্লটটা হল থ্রিলার।
 
‘চিত্রা’য় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ কীভাবে হল?
এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে আমি ডেবিউ করলেও টলিউডে এটাই আমার প্রথম ছবি নয়। এর আগে ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এ আমি অনিন্দ্যদাকে (চট্টোপাধ্যায়) অ্যাসিস্ট করেছি। মৈনাক ভৌমিকের ‘কলকাতা কলিং’-এ অভিনয় করেছিলাম। সেই সময় থেকেই আমি একটা ভাল চরিত্রের সন্ধানে ছিলাম। এরকম সময়েই হঠাত্ একদিন আমার কাছে এই ছবির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সাকেত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন আসে। প্রথমে আমি সাকেতকে চিনতে পারিনি। কিছুটা কনফিউজ় ছিলাম। তার আগেই ‘চিত্রা’ চরিত্রের জন্য অডিশন নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এই চরিত্রের সঙ্গে মানানসই কাউকে নাকি অভিজ্ঞান (পরিচালক) বা সাকেত খুঁজে পাচ্ছিল না। সেসময়ে ওদের সঙ্গে দেখা করতেই প্রথমদিনে আমাকে স্ক্রিপ্ট দিয়ে সংলাপ পড়তে বলেছিল সাকেত। আমার সংলাপ পড়ার সময়েই হাততালি দিয়ে উঠেছিল অভিজ্ঞান। পরে শুনেছি সেই সময়েই ও আমাকে চরিত্রটার জন্য সিলেক্ট করেছিল।
 
শুটিং সেটে নাকি সবাই আপনার লেগপুল করত?
ছবির সেটে সকলেই আমার পিছনে লাগত। এমন লেগপুল করত যে আমি মাঝে-মাঝে তো আমি কেঁদেও ফেলতাম। তবে সকলের বয়স কাছাকাছি হওয়ায় আমাদের মানসিকতা একই রকম ছিল। শুটিং হয়ে যাওয়ার পরে তো সারারাত আমরা আড্ডা মারতাম।
 
02

প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পরে কেমন ফিলিং হয়েছিল?
আসলে সেই অনুভূতি ফিল করার আগেই যেন সময়টা কেটে গিয়েছিল। আজই হয়তো বুঝতে পারব এরকম একটা ব্যাপার ঘটে হয়েছে, অথবা একমাস পরে সেটা বুঝতে পারলাম। আজকে যেমন ভেবে খুব ভাল লাগছে। কিন্তু প্রথম যখন অনুভব করলাম আমি একটা ছবির নায়িকা ততক্ষণে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করে ডেলিভার করতে শুরু করে ফেলেছি। এত অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপারটা ঘটে গিয়েছে যে ফিল করারও সময় পাইনি।
 
অভিনয় শিখেছেন?
ছোট থেকেই আমি থিয়েটার করতাম। ‘চার্বাক’ ও ‘জাহ্নবী সংস্কৃতি চক্র’ দুটো দলেই অভিনয় করেছি। ‘জাহ্নবী সংস্কৃতি চক্র’ বিভিন্ন কম্পিটিশনে অংশ নিত। সেই সুবাদেই ডিমাপুরে একটি জাতীয় স্তরের কম্পিটিশনে আমি বেস্ট অ্যাকট্রেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম। ওই সময়ে (২০১১) আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম স্টাডিজ়ে মাস্টার্স করছিলাম। সেই সময়েই ঠিক করলাম অভিনয়টা যখন প্যাশনেটলি করছি তাহলে এবার ফিল্মে ট্রাই করা যেতে পারে। হঠাত্ করেই সুজিত সরকারের সঙ্গে আলাপ হয়। উনি আমাকে ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এ কাজ করার প্রস্তাব দেন। সেই সুবাদেই অনিন্দ্যদার সঙ্গে দেখা করি।
 
সেটা তো ক্যামেরার পিছনের গল্প। ক্যামেরার সামনে এলেন কীভাবে?
এখন তো ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন অ্যাকটিং স্কুল গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু অভিনয়টা আমি শিখেছি থিয়েটার থেকেই। ফলে অভিনয়ের প্রাথমিক পাঠ তো আমার ছিলই। তাই নিজেকে গ্রুমিং করে আরও পরিণত হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। সেই জন্য আদর্শ পরিবেশ হল ক্যামেরার পিছনেই। কারণ সেখান থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। আর আপনার সামনে যখন একঝাঁক দুর্দান্ত অভিনেতারা অভিনয় করছেন, সেটা দেখে শেখা যায় অনেকটাই। তাই ওই সুযোগটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি ঠেকে শেখার থেকে দেখে শেখার চেষ্টা করি। ওখান থেকে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও স্টেজে অভিনয়ের পার্থক্যটা বুঝতে পারলাম। সেই সময়েই আমি বিভিন্ন জায়গায় পোর্টফোলিও জমা দিতে শুরু করেছি। হঠাত্ একদিন মৈনাক ভৌমিকের প্রোডাকশন থেকে আমাকে ফোন করে বলা হল ‘আপনাকে সিলেক্ট করা হয়েছে’। আরও গুরুত্বপূর্ণ গোটা শুটিং শেডিউলেই আমি ওই টিমের সঙ্গে ছিলাম।
 
কখনও মডেলিং করেছেন
না, আগে কখনও মডেলিং করিনি। ইন ফ্যাক্ট সেটা নিয়ে কখনও ভাবিওনি। তবে সম্প্রতি মুম্বইতে একটি শোয়ে শো স্টপার হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। তবে আমি প্রফেশনালি মডেলিং করতেও চাই না।
 
3

ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা
আমাদের প্রফেশন তো চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় রয়েছে। আগামী দিনে কীভাবে সবকিছু চলবে কেউই জানি না। তবে আপাতত আরও দুটো ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। শঙ্খ ঘোষের ‘সুন্দরী কমলা’। সেখানে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং রাজেশ শর্মাকে। অন্যদিকে সৃজন বর্ধনের ‘পোস্টমাস্টার’ ছবিতে রতনের চরিত্রেই অভিনয় করছি। আরও দু’-তিনটে ছবির কাজ নিয়ে কথা চলছে কিছুই এখনও ফাইনালাইজ় হয়নি।
 
ছোট থেকেই কি অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল?
খুব ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল। আসলে দিদা, পিসিও স্টেজে অভিনয় করেছেন। তবে আমার বাবা-মা-কে কনভিন্স করতে গিয়ে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছিলাম। রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হওয়ায় প্রথমে কিছুটা বাধা ছিল। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। অভিনয় সে অর্থে আমার কাছে নতুন না হলেও প্রেস মিট বা ইন্টারভিউয়ের সঙ্গে খুব একটা পরিচিত ছিলাম না।
 
এরকম রক্ষণশীল পরিবারের হওয়ায় তো বেশ বাড়িতে কনভিন্স করতে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন?
আমি সর্বভারতীয় স্তরে বেস্ট অ্যাকট্রেস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরে বাবা-মা-র বিশ্বাস ছিল অভিনয়টা আমি করতে পারব। তারা ভেবেছিলেন একটা সুযোগ দিয়ে দেখা যাক। আমার পরিবারের রীতি হল খুব ছোটবেলাতেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়। আমারও তো বিয়ের সম্বন্ধ এসেছিল। কিন্তু আমি বাড়িতে বলেছিলাম, এসব তো রয়েছেই কিন্তু আমাকে একটু দেওয়া হোক, আমি নিজের জীবনটাকে ইচ্ছেমতো সাজিয়ে নিতে চাই। যদি না পারি তাহলে এই অপশন রইলই। অভিনয় জগতে আসার পরে এত ভাল মানুষদের সংস্পর্শে এসেছি, যে কখনও আমার এখানে আনকমর্ফটেবল লাগেনি। অনিন্দ্যদা, উপলদা, সুদেষ্ণাআন্টি, রানাদা, মৈনাকের মতো মানুষদের সঙ্গে মিশেছি। অনিন্দ্যদা তো আমার বাড়িতেও এসেছেন। যে কোনও প্রফেশনেই ভাল খারাপ দুটোই রয়েছে। তাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মানেই খারাপ এটা ধরে নেওয়াটা বোকামি। খারাপটাকে এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।
 
4
আপনি কখনও প্রেমে পড়েননি?
প্রথমবার স্কুলে পড়ার সময়ে প্রেমে পড়েছি। ওটা সিরিয়াস কিছু ছিল না। ইনফ্যাচুয়েশন বলা যায়।
 
আর এখন?
এই মুহূর্তে সবটা ডিসক্লোজ় করতে চাই না। তবে ডেফিনিটলি একজনকে আমি পছন্দ করি। সে আমায় প্রোপোজ় করেছিল। তবে এখনই সবটা বলতে চাই না।
 
এখন বাড়ির প্রতিক্রিয়া কী? আর বিয়ের কথা বলছে না?
এখনও বাড়িতে আমাকে মাঝে-মাঝেই বিয়ের জন্য তাড়া দেয়। তবে পরিবারের সকলেই বুঝতে পারছেন এই মুহূর্তে আমি সিরিয়াসলি কাজটা করতে চাই। ফলে সেভাবে আমাকে চাপ দেওয়া হয় না। বাবা-মা-ও যেন আমার ব্যবহারে দুঃখ না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখি। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা পেতে সময় দিতে হবে। আমি সেই ধৈর্য রাখতে চাই।
 
এই মুহূর্তে আপনাকে যদি একটা বর দেওয়া হয় আপনি কী চাইবেন?
আমি প্রচুর কাজ করতে চাই। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গাটা তৈরি করতে চাই। ভাল পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখতে চাই। সেটাই আমার প্রায়োরিটি।
 

আপনারা তো কখনও বলবেন না আমাদের কাজ পাওয়া উচিত!

চট করে তাঁকে পরদায় দেখা যায় না। কেন? বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

 
অনেকদিন পরে ‘মণিহারা’তে আপনাকে পরদায় দেখা যাবে…
মাঝে কিছু ছবিতে কাজ করেছি। তবে শরীরটা ভাল ছিল না বলে গত কয়েকমাস কাজ একদম বন্ধ রেখেছিলাম। তাই অত বেশি করে কাজ করা হয়নি। আর ‘মণিহারা’র কথা বলি, এই ছবিতে একটা নিটোল গল্প আছে। কোনও মারদাঙ্গা, টার্মিনেটরের মতো কায়দাবাজি নেই। গল্প-টল্প তো আজকাল বেশ বিরল। তাছাড়া গল্পটা একদম আলাদাও বটে। সেটাই আমাকে আকৃষ্ট করেছে। অর্ঘ্যদীপের মতো কমবয়সি ছেলেদের (ছবির প্রযোজক অর্ঘ্যদীপ চট্টোপাধ্যায়) প্যাশনটাও কিন্তু দেখার মতো!
 
আপনার চরিত্রটা কীরকম?
যে বাড়ি ঘিরে ছবির ‘রহস্য’, সেই বাড়ির মালিকের চরিত্রটা আমি করেছি। বেশ খিটখিটে এক বুড়ো!
 
মঞ্চে কোনও কাজ করছেন?
একটা নতুন নাটকের রিহার্সাল দিচ্ছি। সেটা মঞ্চস্থ হতে একটু দেরি আছে।
 
আর সিনেমা?
অগস্ট থেকে আবার শুটিং শুরু করব। প্রবীর রায়ের একটা ছবি আছে। এছাড়াও একটা আছে…তবে আমি আর খুব একটা বেশি ছবি করতে পারব না। বলা ভাল, করব না!
 
শারীরিক কারণে?
না না, ওই মারদাঙ্গা হ্যানত্যান মার্কা সিনেমা আর ভাল লাগে না। নিটোল গল্প না হলে কাজ করা খুব মুশকিল হয়ে পড়ছে। সারা জীবন লোকে দেখেছে, পরদায় আমি চুরি, রাহাজানি, বাটপারি, ধর্ষণ, খুন করছি। সেই বয়সটা বোধহয় পেরিয়ে এসেছি…তবে এই বয়সেও কিন্তু নেগেটিভ চরিত্র করা যায়, যদি সেইভাবে গল্পটা কেউ সাজাতে পারে। একটা ইংরেজি ছবি ছিল, ‘ব্লো হট ব্লো কোল্ড’। সেইরকম ছবি এখানে কে করবে?
 
তাহলে সামনে এগনোর উপায় কী? আমূল পরিবর্তন?
(হেসে) ‘পরিবর্তন’-এর ফলে চারদিকের যা অবস্থা হয়েছে…তাই বেশি পরিবর্তনের কথা বলব না। তবে বাংলা ছবির ক্ষেত্রে গল্পের খুব দরকার। ভাল গল্প হবে, সেখানে ভাল অভিনয় হবে। নাহলে কী লাভ? এই যে এত ‘বড়-বড়’ সব ছবি বেরোল। ‘চাঁদের পাহাড়’! রেজ়াল্টটা কী? প্রযোজকরা হয়তো টাকা ঘরে তুলে নিল! কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির লাভটা কী হল? এই যে জিজ্ঞাসা করছেন, আমিও ফটফট বলে চলেছি, এরপর আর একটা কাজও পাব না। আপনারা তো বলবেন না, যে এই লোকগুলির কাজ পাওয়া উচিত! আমার অন্তত মনে হয় আমি নিজেকে যথেষ্ট প্রমাণ করেছি। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকভাবে অভিনয় করেছি বলেই মনে হয়। কিন্তু পরদায় তো সেই একই লোক, একই ধরনের চরিত্র দিনের পর দিন করে যাচ্ছে…সরি ভাই, হয়তো একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে পড়লাম! সরি!

ছবিতে নাইজেলের সঙ্গে বেড সিন আছে, চুমু খাওয়া আছে। এই রকম চরিত্র প্রথমবার করলাম।

‘সাঁই বাবা’র চরিত্র থেকে সমকামী পুরুষের চরিত্রে অভিনয়। ‘ভাল ছেলে’ ইমেজটা কি এবারে ভাঙতে চলেছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়? সিরিয়াল, সিনেমা, সংসার নিয়ে তিনি কথা বললেন ঊর্মি নাথের সঙ্গে

 

‘ভ্রষ্ট তারা’, ‘অপলা’, ‘ববির বন্ধুরা’, ‘গোরা’, ‘দুই অধ্যায়’, ‘পরম্পরা’… একটার পর একটা পর সিনেমায় ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। তা হলে কি এবার ছোট পরদা থেকে আপনি পাততাড়ি গোটাতে চলেছেন?
(হাসি)… না না একেবারেই না। এখনই তো দুটো সিরিয়ালে অভিনয় করছি। ‘ওম সাঁই রাম’ এবং ‘তুমি রবে নীরবে’। সিরিয়াল ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আসলে এবার পরপর সাত-আটটা ছবি করে ফেললাম।

 

অর্থাত্ বড় পরদার পরিচালকদের কাছে আপনার গুরুত্ব বাড়ছে। কিন্তু আপনি নিশ্চয় মানবেন, এর জন্যও ছোট পরদা দায়ী?
অবশ্যই। সিরিয়াল আমাকে পরিচিতি দিয়েছে, জনপ্রিয়তা দিয়েছে। তবে শুধু সিরিয়ালের জন্য এখন সিনেমায় সুযোগ পাচ্ছি, তা না। আগেও বেশ কিছু সিনেমা করেছি, যেমন ‘বালিগঞ্জ কোটর্’, ‘নামতে নামতে’, ‘রয়েল বেঙ্গল রহস্য’, ‘যেখানে ভূতের ভয়’, ‘গোগোলের কীর্তি’ ইত্যাদি। এই ছবিগুলোও সম্ভবত পরিচালকদের মধ্যে কনফিডেন্স তৈরি করছে যে ভাস্বরের উপর ভরসা করা যায়। শুধু ভরসা নয়, এই ৪১ বছর বয়সে এসে নতুন ধরনের চরিত্রও পাচ্ছি। সিনেমার গল্প আমাকে কেন্দ্র করে লেখা হচ্ছে। এটা কিন্তু বড় পাওয়া।

 

৪১! আপনার?
হ্যাঁ, এই বছর ৪১-এ পা দিয়েছি (হাসি)!

 

আপনি তো দেখছি টলিউডের ‘রেখা’! এর পিছনের রহস্যটা কি বলা যাবে?
নিশ্চয় (হাসি)। আমি খুব সময় মেনে চলি। রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি, সকাল ছ’টায় উঠি। প্রতিদিন ব্যায়াম করি, সাঁতার কাটি। আমি ধূমপান করি না, মদ খাই না, লেট নাইট পার্টিতে যাই না। অনেক কিছুতে ‘না’ বলতে শিখেছি। শরীর ঠিক রাখার জন্য এই ‘না’ বলাটা খুব দরকারি।

 
সিরিয়াল ও সিনেমার শুটিংয়ের শেডিউল সামলে ঠিক সময়ে নাওয়া-খাওয়ার সুযোগ পান কী করে?
আমার গিন্নি নবমিতাও এই প্রশ্নটি করেন (হেসে)। ও বলে, “আমার ভাই (গৌরব চট্টোপাধ্যায়) সেই কোন সকালে বেরিয়ে রাত দুটোয় ফেরে, আর তুমি এত কিছু করে সন্ধ্যে সাতটার মধ্যে ঢোকো কি করে? আমার একটাই উত্তর, ভাল ব্যবহার। ভাল ব্যবহার করলে সব কিছুই ম্যানেজ করা যায়। সত্যি বলতে কী, আমি এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি। হয়তো এই কারণেই কাজ করতে পারছি। শুধু কেরিয়ার নিয়ে মেতে থাকি না। সংসার যখন করছি, তখন সেখানেও সময় দেওয়া উচিত বলে মনে করি। নবমিতা আর আমি দু’জনেই খুব ঘুরতে ভালবাসি। এইতো ক’দিন ছুটি পেয়েছি, নবমিতাকে নিয়ে লখনউ আর বেনারস ঘুরতে যাব। তখন অবশ্য নো ডায়েট। বেনারসে রাবড়ি আর লখনউয়ে কাবাব না খেলে ঘোরাটাই বৃথা হবে (হাসি)।

 
bassor-1
আবার কাজের কথায় ফিরে আসি। আপনি বলছিলেন সিনেমায় নতুন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন…
শতরূপা সান্যালের ‘অপলা’ ছবিতে একজন সমকামী পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করছি। এই ছবিতে নাইজেলের সঙ্গে বেড সিন আছে, চুমু খাওয়া আছে। এই রকম চরিত্র প্রথমবার করলাম। সত্যি বলতে কী, শট দেওয়ার আগে আমি বেশ টেনশনে ছিলাম। একে বেড সিন তার উপর পুরুষকে চুমু খাওয়া। ঘাম ছুটে যাওয়ার মতো অবস্থা। নাইজেলও টেনশনে ছিল। শতরূপাদির সাহায্যে আমরা দু’জনে টেনশন মুক্ত হতে পেরেছিলাম। এর আগে অবশ্য ‘নামতে নামতে’ ছবিটায় একটা বোল্ড সিন করেছিলাম, তবে পুরুষের সঙ্গে নয়। একজন পুরুষের সঙ্গে প্রেমের দৃশ্যটা ফুটিয়ে তোলা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

 

এই চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে কি ‘গুড বয়’ ইমেজটা ভাঙতে চাইছেন?
খুব যে সচেতন ভাবে করি তা নয়। তবে অন্য রকম চরিত্র পেলে অবশ্যই করতে চাই। যেমন ‘গোগোলের কীর্তি’-তে একজন ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। এতে যেমন বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করার আনন্দ পাই, একঘেয়েমি কাটে তেমন দর্শকরাও বোঝেন ভাস্বর ‘ভাল ছেলে’র বাইরে অন্য চরিত্রে অভিনয় করতে পারে।

এমন একটা চরিত্র যা অভিনয় করা আপনার স্বপ্ন?
‘কৌশিস’-এ সঞ্জীবকুমারের চরিত্রটি।

 

১৭ বছরের লম্বা কেরিয়ারে আর্থিকভাবে নিজেকে কতটা শক্ত করতে পেরেছেন?
bassor-3অনেকটা। আমি অভিনয়ে আসার আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। ১৭ বছর পর আর্থিকভাবে আমি নিশ্চিন্ত। প্রয়োজনীয় সব কিছুই আছে। আর্থিকভাবে নিজেকে সামলাতে পারি, প্রয়োজনে অন্যকেও সামলাতে পারব। যদি বলেন ১৭ বছরের কেরিয়ারে কি পেয়েছি? তা হলে বলব এই আত্মবিশ্বাস। আমি এমন অনেক বিখ্যাত মানুষকে দেখেছি, যাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কাজ নেই, কী দুর্দশা! ঈশ্বরের কৃপায় আমাকে কোনওদিন আর্থিক সংকটে পড়তে হয়নি।

 

পর্দার পিছনে কোনও দিন কাজ করার ইচ্ছে নেই? আপনি তো গল্প লেখেন। নিজের লেখা গল্প নিয়ে ছবি করার ইচ্ছে নেই?
ইচ্ছে আছে, পরিচালনায় আসার। জানি না কবে সেই দিন আসবে। তবে প্রোডাকশন শুরু করব। গল্প তো এখন সময় পেলেই লিখি, তবে সিনেমার জন্য নয়, আনন্দবাজার পত্রিকার বাংলা ম্যাগাজ়িনে প্রকাশ পেলে দারুণ ভাল লাগে।

 

বাঙালি তো বরাবরই পিছিয়ে থাকে কিন্তু আমি যতটা সম্ভব এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি…

অন্য ধরনের ছবি থেকে শুরু করে বাঙালি কতটা সাবালক হয়ে উঠতে পারল দর্শক হিসেবে প্রভৃতি বিষয় নিয়ে মৈনাক ভৌমিকের সঙ্গে আড্ডা দিলেন স্বর্ণাভ দেব।

 

‘কলকাতা কলিং’-ও কি আপনার অন্যান্য ছবির মতো মাল্টিপ্লেক্সের দর্শকদেরই ছবি?

এই ছবিটার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় আমি সাঁতরাগাছি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছি। সেখানে সল্টলেকও আমার কলকাতায় পড়ছে, সাঁতরাগাছিও আমার কলকাতায় পড়ছে। উচ্চ মধ্যবিত্তও আমার কলকাতায় পড়ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তও আমার কলকাতায় পড়ছে। সমাজকে এই আলাদা শ্রেণিতে না ভেঙে প্রত্যেকের মানসিকতার যে একটা কমন ব্যাপার আছে, সেটাকে রিপ্রেসেন্ট করতেই আমি ভালবাসি।

 

কমন ব্যাপার বলতে কী বোঝাতে চাইছেন?

সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে, সবাই কিছু করতে চায়। এই জায়গায় প্রত্যেকেই সমান। প্রেমে পড়ে ভালবাসাটা তো আলাদা হতে পারে না। একে শ্রেণি বা লিঙ্গের ভিত্তিতে ভাগ করা সম্ভব নয়।

 

আপনার আগের ছবিগুলো দেখে যাঁদের ভাল লাগেনি তাঁরা কেন ‘কলকাতা কলিং’ দেখবেন?

এটা একটা নতুন একটা ছবি। একে অন্যান্য ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দিলে চলবে না। এটা একটা স্বপ্ন দেখার ছবি। যাঁরা স্বপ্ন দেখেন না তাঁদের ভাল না-ই লাগতে পারে।

 

মানে আপনার কোনও প্রত্যাশা নেই?

এই ছবির বিষয়বস্তুর মধ্যেই আছে যে, এক্সপেকটেশনটাই সব নয়, কিন্তু মানুষের অনেক এক্সপেক্টেশন রয়েছে, আমার মা-বাবার-ই হয়তো আছে আমার ওপর। কিন্তু আমি হয়তো সেই এক্সপেক্টেশনটা পূরণ করতে পারছি না। দর্শকের হয়তো একটা প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু তার বাইরেও আমি কী করতে চাই সেটা আলাদা ব্যাপার। আমি কী ভাবতে চাই। আমি সেটা ভেবে উঠতে পারব কি না সেটা আমার কাছে ইম্পর্ট্যান্ট। তাই উপায় হচ্ছে প্রত্যাশা বন্ধ করা। এত প্রত্যাশা নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। এটাই ছবির বিষয়।

 

আপনার কি কোনও টার্গেট অডিয়েন্স আছে, যাদের কথা মাথায় রেখেই আপনি ছবি তৈরি করেন?

আমি যখন ‘বেডরুম’ তৈরি করেছিলাম, তখন রিলিজ় হওয়ার দু’দিন আগেও আমি ও আমার ছবির প্রযোজক রানা সরকার, আমরা বুঝে উঠতে পারিনি দর্শক দেখতে যাবে কি না! বাস্তবে দেখতে যাওয়ার কথাও তো নয়। হার্ড রক, হেভি মেটাল গান, খুব কমপ্লিকেটেড ও নীরস একটা সত্যি বলা। এটা কী ভাবে মানুষ রিলেট করবে, এই ছবির দর্শক কলকাতায় রয়েছে নাকি পারিবারিক ছবি দেখতেই দর্শকরা পছন্দ করবেন, তা বুঝতে পারিনি। যখন দর্শক সমাগম হল, তখন বুঝলাম এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অন্য ধরনের ছবি দেখতে চায়। আর ‘মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর’ রিলিজ় করার পরে সেই অভিজ্ঞতা আরও দৃঢ় হল। তবে আমার ছবি হিট করে কিনা, সেটা বলতে পারব না। এরজন্য হয়তো একটা তামিল, তেলুগু ডিভিডি কোথাও থেকে জোগাড় করতে হবে।

 

কর্মাশিয়াল ছবির ক্ষেত্রে দক্ষিণী ছবিকে টুকে দেওয়াই না হয় টলিউডের লেটেস্ট ট্রেন্ড। সেখানে কিন্তু প্রযোজকের ঘরে টাকা ফেরত দেওয়ার দায়বদ্ধতাও আছে। আপনার সেই দায়বদ্ধতা আছে কি?

আমি আপনাকে অনেস্টলি বলছি, এই ধরনের ছবির জন্যে যে সমস্ত প্রযোজকেরা এগিয়ে এসেছেন, তাঁরা নিশ্চয় শুধুই ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে আসেননি। আমার ধারণা, সিনেমা তৈরির পিছনে তাঁদের প্যাশনটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। যদি এখান থেকে ব্যবসা করাটাই মূল উদ্দেশ্য হত, তাহলে ব্যাঙ্কে টাকা রেখেও তাঁরা অনেক বেশি রোজগার করতে পারতেন। এই রিস্ক ফ্যাক্টরটা তাঁদের থাকত না। সিনেমা হল একটা প্যাশন, এর সঙ্গে অনেক রিস্ক জড়িত। আমি যখন রানাদার প্রযোজনায় ‘বেডরুম’ তৈরি করেছিলাম, রানাদা ইচ্ছুক ছিলেন বলেই করেছিলাম। মনে হয় না ছবি কেমন চলবে সেইটা ভেবে তৈরি হয়েছিল বলে। আমরা কখনও ভাবিনি, ইনফ্যাক্ট আমার আর রানাদার মধ্যে অনেকবার ঝগড়াও হয়েছে বাঙালি দর্শকেরা কি ছবিতে রূপম ইসলামের গান অ্যাকসেপ্ট করতে পারবে? কিন্তু রিলিজ়ের পরে দেখা গেল একটা প্রজন্ম এই ধরনের ছবি দেখতে আসে। ছবিগুলো তৈরির সময় এত ক্যালকুলেট করা হয়তো উচিত নয়। আমরা হয়তো অনেকক্ষেত্রেই দর্শকদের আন্ডারএস্টিমেট করি। ওরা হয়তো সব বুঝবে না। কিন্তু দর্শক সব বোঝে। তাদের বোকা ভাবাটাই আমাদের বোকামি।

 

মাল্টিপ্লেক্সে আপনার সিনেমা চললেও গ্রামে আপনার আপনার ছবির দশর্র্ক নেই কেন?

প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রিয়া, মিত্রা, নবীনার মতো ভাল সিনেমাহল থাকলে একটা কালচার তৈরি হবে। ফলে সেখানকার আধুনিক মনস্ক দর্শক আমার সিনেমা দেখবেন। কিন্তু আমাদের সেই ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা প্রোভাইড তো করতে হবে। এইধরনের ছবির দর্শকেরা হয়তো সেই পরিবেশকে মেনে নিতে পারছেন না।

 

যে সমস্ত দর্শক মশলামুভি দেখতে পছন্দ করেন তাঁদের রুচি বদলের ক্ষেত্রে আপনার কোনও দায়িত্ব নেই?

তাহলে তো আমি প্রশ্ন করতে পারি ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ দেখেন যে সব দর্শক তাঁদের কি ‘ওয়ে লাকি লাকি ওয়ে’ দেখানোর কোনও দায়বদ্ধতা নেই দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের? আসলে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর ঘরানার ছবি আই কিউ লেভেলটাকে ভাঙতে-ভাঙতে সকলের কাছে পৌঁছে যায়। তাই সবসময়ই যে, সমস্ত দর্শকের কাছে পৌঁছতে হবে সেটা আমি মনে করি না। আমার দায়িত্ব বরং নিজের কাজটাকে প্রজেক্ট করা। প্রতিটা ফিল্মমেকার তো আলাদা হবেই। রবি কিনাগী অন্যরকমের ছবি তৈরি করেন। তাঁর কাজের ধরণটা আমার থেকে আলাদা হতেই পারে। তিনি অনেক বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছতেই পারেন। আমার ছবি দেখলে যে তথাকথিত বাণিজ্যিক ছবির দর্শকের খারাপ লাগবে এমনটা না-ও হতে পারে। আসলে তাঁদের তো একবার ট্রাই করে দেখতে হবে। তাঁদের হয়তো এখনও ঋত্বিক চক্রবর্তী বা রাইমা সেনকে দেখার ইচ্ছে নেই। বরং তাঁরা জিত্‌ বা দেবকে দেখতে বেশি পছন্দ করেন। সেটা যদি তাঁদের মাপকাঠি হয়ে থাকে তাহলে তাঁরা দেখবেন না। বাণিজ্যিক ছবির বিষয়বস্তু যথেষ্ট আকর্ষণীয়। তাঁরা হয়তো বাস্তবে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে আমার ছবিতে সেই প্লট থাকছে যা তাঁদের রিলেট করতে সুবিধে হবে। তাই তাঁদের ভাল না লাগার কোনও কারণ নেই।

 

বলিউডে ‘ওয়েক আপ সিড’ বা ‘ভিকি ডোনার’-এর মতো ছবি হওয়ার পরে কি টলিউডেও একটা দিগন্ত খুলে গিয়েছে অন্য ধারার ছবির ক্ষেত্রে? এর আগে তো এতটা সাবালক ছিল না ইন্ডাস্ট্রি?

ছিল তো! ঋতুপর্ণ ঘোষ এর আগেও কাজ করতেন।

 

সেটা তো হাতে গোনা কয়েকটা। অনেকেই মনে করতেন সারা বছর অন্যান্য ছবির পাশাপাশি একটা ঋতুর ছবি করতে পারলে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পৌঁছনোর রাস্তাটা সোজা হয়ে যায়, রেড কার্পেটে হাঁটা যাবে। মৈনাক ভৌমিক কি নিজেকে ওই সরণীতে দেখেন?

একটা সময় শুনেছিলাম সত্যজিত্‌ রায়ের উত্তরসূরী ঋতুপর্ণ ঘোষ। কিন্তু কেন? সত্যজিত্‌ রায় তাঁর নিজের মতো ছবি তৈরি করতেন। হ্যাঁ বাস্তবিকই উনি ভাল ছবি তৈরি করতেন। কিন্তু এই হ্যাঙওভারটা কাটানো উচিত। সত্যজিত্‌ রায় ছাড়া কি ভারতবর্ষে কেউ ভাল ছবি তৈরি করেননি? আমার প্রিয় পরিচালক মৃণাল সেন। তাঁকে কি ভাল লাগতে পারে না? আমার মনে হয় কো এক্সিস্ট্যান্সটাই সব। ঋতুদা ওঁর নিজের মতো সিনেমা তৈরি করতেন। তিনি একভাবে বাঙালির কৃষ্টি, সমাজকে তুলে ধরেছেন। আমি আমার মতো সেই কাজটা করছি।

 

কিন্তু ব্যাটনটাও তো কাউকে এগিয়ে নিয়ে হয়?

দেখুন, আমাদের ছবি দেখতে তো দর্শক আসছে,  হলগুলোও ভর্তি হচ্ছে। ফলে কিছুটা কাজ তো আমরা করতে পেরেছি।

 

সত্যজিত্‌ রায়, মৃণাল সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষকে কিন্তু বলিউডও সম্মান করে। সেখানেও সেলেব্রিটিরা এঁদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন..

আপনি কি বলিউডকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন? আমার কাছে সেটা কোনও মাপকাঠি নয়। বিপাশা বসু আমাকে পছন্দ করল কি না তাতে আমার কিছু এসে যায় না।

 

কিন্তু এক্সপোজ়ারটাও তো বড় বাপার…

বাঙালি তো ছবি দেখছে। আমি এখনও জাতীয় পুরস্কার পাইনি, ভবিষ্যতেও পাব কি না জানি না। কিন্তু পেলেই মুম্বইয়ের স্টাররা আমার কাছে ছুটে আসবে আমি এইভাবে ভাবি না। ছবি তৈরি করার সময় অনেস্ট থাকাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ফারহান আখতারের ‘দিল চাহতা হ্যায়’ কিন্তু জাতীয় পুরষ্কার পায়নি, কিন্তু ছবিটা তো খুবই ভাল। ‘মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর’ অস্কার পাবে কি না তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল মানুষের কেমন লেগেছে? আমার কাছে দর্শকের ভাল লাগাটাই সব। আমার ছবির নির্দিষ্ট দর্শক আছে যারা ছবি দেখতে আসে। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। শাহরুখ খান আমার ছবি সম্পর্কে জানতে পারল কি না সেটা আমার কাছে বিশেষ ইম্পর্ট্যান্ট নয়। সম্প্রতি যে চলচ্চিত্র উত্‌সব কলকাতায় হয়ে গেল, সেখানে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের চেয়েও শাহরুখ খানকে নিয়ে বেশি হইচই হচ্ছে। এটা আমি মেনে নিতে পারি না। তাহলে বলিউড ফিল্ম ফেস্টভ্যাল বলা হয় না কেন? আমার ঋতুদার উপর রাগের প্রধান কারণ হল কেন তিনি বলিউড থেকে সেলিব্রেটিদের নিয়ে আসতেন? মানে কলকাতায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভাব আছে? বর্তমানে ঋত্বিকের মতো অভিনেতা ক’জন আছে?

 

ঋতুপর্ণ ঘোষের থেকে কোন জিনিসটা শিখেছেন?

একটা ছবিকে সুন্দরভাবে প্রেজ়েন্টেশন করার ক্ষেত্রে ওঁর জুড়ি মেলা ভার। ঋতুদার ছবিতে কোনও সংলাপকে কৃত্রিম মনে হত না। চরিত্রগুলি যেন জীবন্ত হয়ে উঠত সংলাপের মাধ্যমে। আমিও চেষ্টা করেছি আমার প্রজন্মের মানুষের মুখের কথাটা পর্দায় তুলে ধরতে। সেই জন্যেই একটা প্রজন্ম আমার ছবি দেখতে আসে। কারণ, তারা আমার ছবির সঙ্গে নিজেদের রিলেট করতে পারছে।

 

রিয়া আর রাইমাকে নিয়ে ‘কলকাতা কলিং’-এ কাজ করেছেন। ওদের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল?

রাইমার সঙ্গে আমার অনেক দিনের বন্ধুত্ব। রাইমা আর ঋতুদাই আমাকে রিয়ার সঙ্গে আলাপ করিয়েছে। রিয়ার সঙ্গে কাজ করে খুব ভাল লাগল। ইন্ডাস্ট্রি এখনও ওকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। রিয়া একজন দুর্দান্ত অভিনেত্রী। আশা করি ও অনেকদূর যাবে। রিয়া আসলে সেভাবে কলকাতার সঙ্গে মিশে যেতে পারেনি। ও খুবই ইন্ট্রোভার্ট। যে ধরনের মানুষের সঙ্গে কাজ করলে সকলেরই ভাল লাগবে বলে আমি মনে করি। ও একেবারেই ডিপ্লোম্যাটিক নয়, ও নিজে যেটা মনে করে সেটা পরিষ্কার বলে।

 

আপনি ডিপ্লোম্যাট বলতে কাদের কথা বোঝাতে চাইছেন?

আমার নিজের কথাই বলতে পারি। আমার কোনও জিনিস পছন্দ না হলেও মানিয়ে নেব। কিন্তু রিয়া সেটা করবে না। স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হলে, ও ছবিটাই করবে না, কিন্তু অনেকেই সেটা করবে কি? তার সঙ্গে রিয়া ভীষণ লাজুকও।

 

আপনি ওদের দু’জনকে কী ভাবে দেখছেন?

রাইমা একজন এনার্জেটিক মানুষ। ও আমার বন্ধু হওয়ার ওর সঙ্গে কমফোর্ট লেভেলটা তৈরি হয়ে গিয়েছে ফলে কাজ করতে সুবিধে হয়েছিল। অন্যদিকে রিয়া খুব দ্রুত চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। ওর ট্রান্সফর্মেশনটা ভাবা যায় না।

 

এরপর কী কাজ করেছেন?

কিছুদিন পরেই ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’ নামে একটি ছবি আসছে।

 

এই টলিউডে কাকে সবচেয়ে পাওয়ারফুল অ্যাকট্রেস মনে করেন?

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। এখনও এই বয়সে দাঁড়িয়েও উনি একের পর এক ছবিতে কাজ করছেন। উনি একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ছবির সঙ্গে-সঙ্গে আর্ট ফিল্মেও সফল। জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন। কলকাতায় ওঁর আশেপাশে এখনও কেউ নেই।

 

অভিনেতাদের মধ্যে কার কথা মনে হয়?

এই প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে অবশ্যই ঋত্বিক ও অনুব্রত।

 

অনুব্রতকে কি টলিউড সেভাবে ব্যবহার করতে পারল না, শুধু মৈনাক ভৌমিকের প্রোডাক্ট হয়েই থেকে গেলেন?

আসলে বাঙালি তো বরাবারই পিছিয়ে থাকে। সাম প্লেস এলসে গেলে, এখনও ছয়ের দশকের গান শুনতে পাবেন। এখনও মানুষ বাড়িতে কিশোর কুমারের গান শোনেন। লোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা না পড়লেও স্বীকার করতে লজ্জা পায়। পড়ার ইচ্ছে নেই, সেটা বলার সাহস নেই। ফলে বাঙালি ভীষণ পিছিয়ে। আমার মনে হয় অনুব্রতর এখনও অনেক সময় লাগবে।

 

এই পিছিয়ে থাকা বাঙালিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনার দাওয়াই কী?

আমি যতটা সম্ভব এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। জলে ফেলে সাঁতারটা শেখানোর চেষ্টা করছি। বাঙালি বারবার নস্টালজিয়ায় ভুগবে, কিন্তু আমি বছরে দুটো বা তিনটে ছবির মাধ্যমে বাঙালিকে ২০১৪-এ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চাইব। চেষ্টা টুকু করেই যাব। ছাড়ব না…