Category Archives: tollywood interview template

হিরো এবং ফ্যানগার্লের গল্প

jeet-sayantika-big
‘বাঘ বন্দি খেলা’র প্রথম গল্প ‘বাঘ’ কাজ করেছেন জিৎ-সায়ন্তিকা। এই জুটি এর আগেও আমাদের চার-চারটে ছবি উপহার দিয়েছে। । তা জুটির গোপন কথাটা কী? আর জিৎ-ই বা কী সাজেশন দেন সায়ন্তিকাকে? উত্তর খুঁজল, আসিফ সালাম এবং ঋষিতা মুখোপাধ্যায়

 
 

প্রথমে তো ‘বাঘ বন্দি খেলা’র ওয়র্ল্ড টিভি প্রিমিয়ার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বড় পরদায় রিলিজ় হল। আপনারাও নিশ্চয় ওয়র্ল্ড টিভি প্রিমিয়ারের কথাই জানতেন। তাহলে কি জিৎ বা সায়ন্তিকা, দু’জনেই মানেন, পৃথিবীটা এখন অনেক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে? ছবি হলে রিলিজ় হওয়ার আগে টিভি প্রিমিয়ার হবে…

জিৎ: না আমি মোটেই তা বিশ্বাস করি না। এটা একটা এক্সপেরিমেন্টের জন্য ভাবা হয়েছিল। এটা আরও একটা পথ হতে পারে, কিন্ত এটাই পথ নয়।
সায়ন্তিকাও জিতের কথায় মাথা নাড়লেন।

 

আচ্ছা ‘বাঘ বন্দি খেলা’ তিনটে গল্প নিয়ে তৈরি। তিনটেই আলাদা গল্প। কিন্তু আপনাদের মতে কোন গল্পটা এগিয়ে আছে?

সায়ন্তিকা: ছবিটা রিলিজ়ের আগে আমাদের তো অন্য ছবিগুলো দেখা হয়নি। তাই এখনও সেটা নিয়ে বলছি না। তবে ‘বাঘ’-এর প্রতি আলাদা ভালবাসা থাকাটাই স্বাভাবিক নয় কি? আমার মনে হয়, দর্শকের তিনটে গল্পই ভাল লাগবে। তিনটে একেবারে তিনরকম স্বাদের। ভাল-মন্দের বিচার দর্শকের হাতেই থাক না হয়।

জিৎ: না-না বায়াস্ড হওয়ার কোনও মানে হয় না। সবক’টাই ভাল।

 

‘বাঘ’-এর ভূমিকায় জিতের অ্যাকশন তাক লাগিয়ে দেয়। কিন্তু জিৎ আপনার ‘বাঘিনী’ ওরফে সায়ন্তিকাও অসম্ভব ফিট। তাঁকে অ্যাকশন করতে দেখা গেল না কেন?

জিৎ: আরে, আমি অ্যাকশন ডিরেক্টর অ্যালান আমিন নই, আমি জিৎ। আমি জানি ও অ্যাডভেঞ্চারাস। যদি কোনওদিন সুযোগ পাই, নিশ্চয় ওকে দিয়ে স্টান্ট করাব।

সায়ন্তিকা: এবার আমি উত্তর দিই, বাঘিনী কখনও কিন্তু নিজের শক্তি বাঘকে দেখায় না। সে বাঘের অ্যাকশন দেখে, করে না। তবে ‘পার্ট টু’ যদি হয়, সেখানে বাঘিনী কিছু করতে পারে।

জিৎ: ও তো মুখ দিয়েই কন্ট্রোল করে রেখেছে, অ্যাকশনের কী দরকার!

 

সে তো গেল ছবির ব্যাপার। সেটে জিতের কাছ থেকে বকুনি খেয়েছেন?

জিৎ: আমি ওকে বকুনি দেব কেন!

সায়ন্তিকা: উল্টে পাম্প্যার করে আমাকে। সত্যি বলতে কী, আমি জিতের ফ্যানগার্ল। আমার সঙ্গে ছবি করুক বা ছাই না করুক, ওঁর ছবি পরদায় এলেই আমি হাঁ করে জিতকে দেখি। এখনও সেই মুগ্ধতা কাটেনি।

 

জিতের সঙ্গে কোন নায়িকাকে দেখতে সবচেয়ে ভাল লাগে?

সায়ন্তিকা: কাউকে না, আমাকে। আর হ্যাঁ মোহনাকে।

 

তা জিৎ বিয়ে সম্পর্কে কোনও সাজেশন দিলেন সায়ন্তিকাকে?

সায়ন্তিকা: সত্যি! জিতদা কোনও সাজেশন দাওনি তো।

জিৎ: আগে ও ঠিক করুক বিয়ে করবে। ঠিক ছেলে খুঁজে পাক। তারপর দেখা যাবে।

 

আপনাদের জুটির চারটে ছবি হয়ে গেল। এই জুটির সাফল্যটা কোথায়?

জিৎ: আমাদের প্রথম ছবি ‘আওয়ারা’ থেকেই দর্শক কানেকশনটা ধরতে পেরেছিল। এখন প্রত্যাশাটা অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই বেছে-বেছে ছবি করতে হবে আমাদের। অ্যাকশন ফিল্ম করার ইচ্ছে আমার।

 

আচ্ছা বিগত কয়েক মাস ধরে হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবি কি একটু দুর্বল হয়ে পড়েছে? মানে সেভাবে সাফল্যের মুখ দেখছে না?

জিৎ: সেটা যদি হয়, তাহলে খুবই খারাপ ব্যাপার। সাম্প্রতিককালে হয়তো কিছু ছবি চলেনি, কিন্তু এত নেতিবাচক ভাবনারও কিছু নেই। হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে কিন্তু সিঙ্গল প্লেক্স হলের কালেকশন বেড়েছে। আর হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবির জন্য সিঙ্গল প্লেক্সই আসল। এখন বাংলায় কী হচ্ছে, সেটা আমি ঠিক বলতে পারব না। তবে যে কোনও ইন্ডাস্ট্রির অক্সিজেন কিন্তু কমার্শিয়াল ছবিই। তাই আমাদের সবাইকে চেষ্টা করতে হবে ওই ছবিগুলোর জন্য।

‘‘ক্যামেরা দেখলে আমার মন ভাল হয়ে যায়…’’

Ena-Saha-big0
আসছে তাঁর নতুন ছবি ‘হ্যাকার’। অভিনয়, বিগ বস, সব নিয়ে মন খুলে কথা বললেন এনা সাহা । শুনলেন ইন্দ্রাণী ঘোষ।

 
 

অনেক ছোটবেলা থেকেই তো আপনি অভিনয়ে আছেন, তা অভিনয়ই করবেন, এটা ভাবলেন কবে?

আসলে ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করব, এই সিদ্ধান্তটা আমাকে নিতেই হয়নি। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আমি এখানে চলে এসেছিলাম। সবাই যেমন মা-বাবার সঙ্গে বড় হয়, স্কুলে বড় হয়, আমি সেরকম ক্যামেরার সামনে বড় হয়েছিলাম। আমার খুব ভাল লাগত সেটা। ক্যামেরা জিনিসটা এমনিতেই আমার কাছে প্রচণ্ড ফ্যাসিনেটিং। ক্যামেরা দেখলে আমার মন ভাল হয়ে যায়। ভালই লাগে এই কাজটা করতে।

 

কত বছর বয়সে আপনার প্রথম অভিনয়?

যতদূর মনে পড়ে ছ’বছর বয়স থেকে।

 

বাড়ির লোক আপত্তি জানাননি?

আসলে বাড়ির লোকজনেরাই তো নিয়ে আসতেন এখানে। তখন তো আমি নিজে আসতে পারতাম না। আমি যখন বিষয়টা বুঝতে শিখেছি, তখন অলরেডি আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে অভ্যস্ত।

 

আপনার প্রথম অভিনয় কী ছিল?

প্রথমে আমি টেলিভিশন করতাম। এখানে আমি নাম নিতে পারছি না। টেলিভিশনে প্রায় সাত-আট বছর কাজ করেছি।

Ena-Saha-big2

পড়াশোনার সঙ্গে অভিনয় ম্যানেজ করতেন কী করে?

ওভাবেই আমার বড় হওয়া… আমি স্কুলে যেতাম, স্কুল থেকে ফেরত এসে টিউশন, তারপর শুটিং, শুটিং থেকে এসে আবার টিউশন… হোমওয়ার্ক শেষ করে ঘুমোতে যেতাম, ঘুম থেকে উঠে আবার স্কুল। স্কুল থেকে আবার শুটিং… এভাবেই ছিল ব্যাপারটা। বাচ্চারা যেমন আলাদা করে খেলাধুলো করতে যায়, সেই সময় আমি পেতাম না। সবকিছু আমার স্কুলেই…

 

স্ট্রাগল কেমন ছিল শুরুর দিনগুলোতে?

সত্যি কথা বলতে কী, স্ট্রাগলই যদি বলেন, সে তো আমি এখনও স্ট্রাগল করছি। আমার মনে হয় স্ট্রাগল এমন একটা জিনিস, যেটা আমাকে ছেড়ে কখনও যাবে না। আর সবারই তো নিজস্ব স্ট্রাগল থাকে, লক্ষ্য থাকে… স্ট্রাগল কিন্তু আসলে একটা ফান!

 

সিরিয়াল এবং সিনেমার মধ্যে বেছে নিতে হলে?

আমি আসলে অভিনয়টাকেই বাছব। দুটোর প্রস্তুতি যদিও দু’রকম, পুরোপুরিই আলাদা, একজন অভিনেতার জন্য প্রতিটা চরিত্রই কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটা টেলিভিশনের জন্যই করুন, কী সিনেমার জন্যই করুন!

 

‘বিগ বস’-এর অভিজ্ঞতা কেমন?

‘বিগ বস’ আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়েছে। ভুল, ঠিক… এটা আমার গোটা জীবনেরই শিক্ষা। ওরকম একটা শো-তে বাবা-মাকে ছাড়া, পরিারকে ছাড়া তেরো-চোদ্দজন অজানা লোকের সঙ্গে থাকতে গেলে সারভাইভাল যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা শিখিয়েছে ‘বিগ বস’। কিছু ভুল আছে, কিছু ভালমন্দ আছে… অনেক বেশি প্র্যাক্টিকাল বানিয়েছে আমায়…

 

‘বিগ বস’-এর মতো একটা প্ল্যাটফর্মে, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত জীবনকে, আবেগকে প্রায় খোলাখুলি দেখানো হয়… তখন তো প্রচুর বিতর্ক হত… সব কিছু সামলাতেন কী করে?

ওখানে আসলে কতটা সত্যি দেখাচ্ছে, কতটা মিথ্যা দেখাচ্ছে সেটা তো বাইরে বসে বোঝা যায় না, এমনকী আমরাও জানতে পারি না ভিতরে বসে যে বাইরে আদতে কী দেখানো হচ্ছে… এটা একটা গেম শো, যার জন্য আমাকে টাকা দেওয়া হয়েছিল… সবারই নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি ছিল, আমারও… ওই সারভাইভ করাটাই ওখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

Ena-Saha-big3

অবসর কাটান কী করে?

প্রচুর বই পড়ি, সিনেমা দেখি, বোনেদের সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। তাছাড়া সুইমিং ক্লাস, নাচের ক্লাস, জিম, স্কোয়াশ…

 

বয়ফ্রেন্ড?

সময় নেই আপাতত…

 

‘আনন্দলোক’ ফলো করেন?

অবশ্যই। সবসময় ফলো করি। ‘আনন্দলোক’-এর আগের দুটো সংখ্যায় আমি ছিলাম। ‘আনন্দলোক’ সবসময়েই আমার কাছে খুব প্রিয়। ফোটোশুটগুলো খুব ভাল লাগে। খুব ভালবাসি পড়তে, যাঁরা লেখেন তাঁদেরও খুব ভাল লাগে। অনেকের লেখা আমার খুব পছন্দের। আমি আলাদা-আলাদা করে কারও নাম নিলাম না। ‘আনন্দলোক’-এর জন্য অল দ্য বেস্ট!

রুক্মিণীকে না নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছি বলছেন! দেব

dev-big0
‘হইচই আনলিমিটেড’-এর মিউজ়িক লঞ্চে এসে ছবি তো বটেই আরও কয়েকটি বিষয় নিয়েও মুখ খুললেন দেব। শুনলেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায়

 

‘হইচই’ নামটা কিন্তু সিগনিফিকেন্ট… এক তো এই নামটা নিয়ে মহেন্দ্র সোনির সঙ্গে আপনার একটা মিষ্টি বাক্যালাপ হয়ে গিয়েছে টুইটারে (যেখানে মহেন্দ্র সোনি ভেবেছিলেন (মজা করেই বটে) দেব হইচই টিভির প্রোমোশন করছেন। দেবও মিষ্টি করে উত্তর দিয়েছেন, ‘হইচই আনলিমিটেড’-এর মাধ্যমে সেটা করে দেবেন)। আর দ্বিতীয় এই ছবিতে রুক্মিণী মৈত্র নেই?

মানে, রুক্মিণীকে না নিয়ে ‘হইচই’ ফেলে দিয়েছি বলতে চাইছেন (হাসি)। আসলে ছবি করার সময়ই আমার মনে হল, এই নামটা ভীষণভাবে সুটেবল। আমরা উজ়বেকিস্তানে মজা করতে যাচ্ছি, পুরো ছবিটাই মজার, সেখানে আমার ফুর্তি বা হুল্লোড় শব্দটা পছন্দ হয়নি। তখন ভাবলাম, হইচই রাখি। আমি সবার আগে মণিদাকে ফোন করে বললাম, ‘আমার হইচই’ নামটা পছন্দ। সিনেমার জন্য নিচ্ছি।’ দেখুন কাউকে ছোট করা বা আঘাত দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। আমার সিনেমার জন্য যে নামটা যায়, সেটাই ব্যবহার করেছি। আপনি তো গান দেখলেন, ট্রেলার দেখলেন, আপনার মনে হচ্ছে না, নামটা ভাল যাচ্ছে?

 

‘চ্যাম্প’, ‘ককপিট’, তারপর ‘কবীর’…পরপর সিরিয়াস ছবি। অনেকদিন বাদে আবার সেই পুরনো দেবকে ‘হইচই আনলিমিটেড’ খুঁজে পাওয়া গেল। আপনার নিজেরও কোথাও গিয়ে আরাম লেগেছে কি?

হ্যাঁ। আমাদের বাংলা সিনেমাকে দেখুন, গত এক-দেড় বছর ধরে সব সিরিয়াস ছবি তৈরি হচ্ছে। কী কঠিন-কঠিন বিষয়! আগের পুজো, এই পুজোতে সব সিরিয়াস ছবি রিলিজ় করছে। বাঙালি হাসতে ভুলে যাচ্ছে। বাস্তব জীবনেও সমস্যার শেষ নেই। খবরের কাগজ খুললে সেটা আরও ভাল বোঝা যায়। এই পরিস্থিতি আমি মানুষকে আনন্দ দিতে চাই। এই পুজোয় ‘হইচই আনলিমিটেড’ মানুষকে হাসাবে। আমি এর আগে তিনটে তিনরকমের ছবি করেছি। সেগুলো কারও বেশি ভাল লেগেছে, কারও কম, কিন্তু খারাপ লাগেনি। ‘হইচই…’ সেই ভাল লাগা আরও একটু বাড়িয়ে দেবে। আমি কিন্তু কমার্শিয়াল ছবি করতে চাইনি। আমি ভাল হাসির ছবি করতে চেয়েছি। তাই কাস্টিংও অন্যরকম। তিনজন ভিন্ন বয়সের মানুষকে ধরতে চেয়েছি।

 

আপনার সব ছবিতেই একটা বিশেষত্ব থাকে। নতুন কিছু একটা হয়। এই ছবির বিশেষত্বটা কী?

মানুষ হাসতে-হাসতে পাগল হয়ে যাবে। এই ফরম্যাটের ছবি গত দশ বছরে বাংলায় হয়নি। আগে হত। এখন হারিয়ে গিয়েছে। ‘হইচই…’এর মাধ্যমে সেটা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি।

 

প্রযোজক দেব কিন্তু বেশ কঠোর। আর যাই হোক নেপোটিজ়মের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা যাবে না। যে নিন্দুকরা বলত, দেবের ছবি মানেই রুক্মিণী…

আমার কাছে বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার যদি মনে হয়, নতুন কাউকে নিতে হবে, আমি তাকেই নেব। আমার মনে হয়েছিল, এই ছবিতে রুক্মিণীকে দরকার নেই। তাই নিইনি। অনেকে অনেক কিছু বলে। আমি কিন্তু জানি আমার ছবিতে কী দরকার। পরে দরকার পড়লে আবার নেব। বিষয়টা আগে দেখতে হবে।

 

আপনাকে আর যাই বলা হোক, একঘেয়ে অভিনেতা বলা যাবে না। বিশেষত শেষ কয়েক বছরে নানা ধরনের চরিত্রে আপনাকে দেখা গিয়েছে। সেটা কী কোথাও গিয়ে স্যাটিসফেকশন দেয়?

না একদমই না। যা করছি বাংলা সিনেমার জন্য করছি, সিনেমার উন্নতি হলেই খুশি।

আমি দেখি, রাস্তায় বাচ্চারা সেলফি তুলছে আমার চেয়েও ভাল-ভাল ফোন দিয়ে: পার্নো

parno-home
এই বছর অনেকগুলো ছবি রিলিজ় পার্নো মিত্রর। করলেন ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর প্রথম সিনেমাও। সব নিয়ে কথা বললেন তিনি। শুনলেন রূপকিনী সেনগুপ্ত।

 
 

‘চুপকথা’-য় আপনার অভিনীত চরিত্রটা নিয়ে একটু বলুন…
আমার চরিত্রটা একেবারে চরিত্রহীন! চরিত্রটা নিয়ে আমি কিছু বলব না। চাই, সকলে ছবিটা দেখুক।

ডিজিটাল মাধ্যমে এটা তো আপনার প্রথম কাজ। এই প্ল্যাটফর্মটা কেন বাছলেন?
হ্যাঁ, এটা প্রথম। আসলে মিডিয়মটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কাজটা গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারেস্টিং কাজ যেখানে হবে, আমাকে সেখানেই পাবেন।

ওয়েব সিরিজ়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
এখনও সেটা ভাবিনি। তবে যেটা বললাম, ইন্টারেস্টিং কিছু থাকলে আমি করবই। আসলে ভীষণ বেশি কাজ করতে হবে ওয়েব সিরিজ় করতে গেলে! কাজের দিক দিয়ে দেখতে গেলে খুব টায়ারিং! কারণ খুব কম সময় থাকে, তাই অনেক বেশি ঘণ্টা ধরে শুটিং হয় তো… খুব ভাল কিছু না হলে মনে হয় না আমি সময় দিতে পারব।

ডিজিটাল মাধ্যমটা কি এখনও কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের কাছেই সীমবদ্ধ নয়?
না, কেন? এখন ঘরে-ঘরে স্মার্টফোন… আমি তো দেখি, রাস্তায় লোকে সেলফি তোলে আমার চেয়েও ভাল-ভাল সব ফোন দিয়ে! তাই এটা একেবারেই ভুল ধারণা। সকলের কাছেই ফোন আছে, কারণ ফোন আজকাল এত সস্তা। তা ছাড়া ল্যাপটপ আছে। আজকাল বেশিরভাগ অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদেরই ফোন আছে। তাই আমার মনে হয় সকলেই দেখতে পাবে।

সম্প্রতি বেশ কিছু ছবি করলেন, ‘হ্যাপি পিল’, ‘আহারে মন’, ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’… আপনি এক বছরে বেশি ছবি করেন না টাইপের একটা ধারণা ছিল। সেই দুর্নাম ঘুচলো তাহলে?
হ্যাঁ, এবার ভেঙে দিয়েছি সব! আসলে গত বছর যে ছবিগুলো করেছিলাম, সেগুলো এবছর এসে রিলিজ় করেছে। তাই মনে হচ্ছে অনেকগুলো ছবি করে ফেলেছি। কিন্তু, আমি বছরে তিনটে ছবিই করি।

parno-home2

আগে এত কম ছবি করছিলেন কেন?
না, আগেও বছরে তিনটেই করতাম। আপনারা শুধু ভালগুলো মনে রেখেছেন!

এরপর আপনাকে কোথায় দেখতে পাবে দর্শক?
এরপর বুদ্ধদার ছবিটা রিলিজ় হওয়া বাকি আছে। ব্যস এই! সম্প্রতি আর একটা ছবির কাজ পিছিয়ে গিয়েছে। এবার সেটা কবে হবে, সেটা হয়তো পরেই জানতে পারব।

‘চুপকথা’ তো একটা ভূতের ছবি। আপনি নিজে ভূতে বিশ্বাস করেন?
যেটা দেখি না, সেটায় বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমার মনে হয়, ভাল যদি থাকে পৃথিবীতে, তাহলে খারাপও আছে। কে জানে, স্পিরিটস আছে হয়তো…

বাস্তব জীবনে কোনও ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা আছে?
ছোটবেলায় আমি শুধু গল্প বানিয়ে-বানিয়ে লোকজনকে বলতাম, “আমি একজন মহিলাকে দেখেছি… সে হেঁটে যেতে-যেতে হঠাৎ কাক হয়ে উড়ে চলে গেল!” স্কুলে বলতাম সেসব! তখন আমি ক্লাস ওয়ান বা টু-তে পড়ি। তা ছাড়া, নিজের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। তবে ছোটবেলায় আমার পিসি আমাকে প্রচুর ভূতের গল্প শুনিয়েছেন। মানে সত্যি ঘটনা একেবারে! সেসব নাকি ঘটেছে ওঁদের জীবনে! আশা করছি, সেগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে, আমিও কোনওদিন এক্সপিরিয়েন্স করব এরকম কিছু!

বন্ধুত্ব কথা বলে…

meer-jishu-home
পার্ক হোটেলে বসে, নতুন বাংলা ছবি ‘অরণ্যদেব’-এর দুই অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত এবং মীর চুটিয়ে আড্ডা দিলেন। সাক্ষী রইলেন রূপকিনী সেনগুপ্ত।

 
 

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ছবিতে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

মীর: না, না। আমরা তো অভিনয় করেছি একটা ছবিতে। এবার সেই ছবির ডিস্ট্রিবিউশনটা কেমন করে হবে, কোথায় দেখানো হবে, সেটা তো আর আমাদের সিদ্ধান্ত নয়! যাঁরা ছবিটা বানিয়েছেন তাঁদের সিদ্ধান্ত।
যিশু: আমার অভিনয় করতে ভাল লাগে। ছবির গল্পটা ভাল ছিল। তাই করেছি।

ডিজিটাল মাধ্যমটাই কি তাহলে ভবিষ্যৎ?

যিশু: হ্যাঁ, আমার মনে হয় এটাই ভবিষ্যৎ। আমরা খুব খুশি যে একটা বাংলা ছবির প্রিমিয়ার এই প্রথমবার কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হচ্ছে। এবং শুধু একটা ভাষায় নয়, আরও পাঁচটা ভাষায় ছবিটি হচ্ছে। তামিল, মলায়লম, তেলগু, মরাঠি আর হিন্দি। এটা ভবিষ্যতের দিকে একটা বিশাল পদক্ষেপ।
মীর: ধরুন একটা ছবি বড় পর্দায় রিলিজ় হল। সেটা কিন্তু একটা ভাষাতেই রিলিজ় হচ্ছে। অন্যান্য প্রান্তের দর্শকরা ছবিটি সেভাবে দেখতে পাচ্ছেন না। হ্যাঁ, খুব বেশি হলে সাব টাইটেল যাচ্ছে। কিংবা কোনও ফিল্ম ফেস্টিভালে গেলে, সেখানে তাঁরা দেখছেন। এখন যদিও বেশ কিছু বাংলা ছবি অন্যান্য বড় শহরে রিলিজ় করছে। কিন্তু এখানে অরিজিনাল বাংলা কনটেন্ট, দেশের বাইরে প্রোমোট হচ্ছে। তাও আবার পাঁচটা ভাষায়। বাংলা ছবির ক্ষেত্রে এরকম আগে কখনও হয়নি।

‘অরণ্যদেব’ ছবিটাকে বলা হচ্ছে ‘প্রথম বাংলা সুপার হিরো ছবি’। কিন্তু আমরা সুপার হিরো ছবি বলতে যা বুঝি, এই ছবিটা কি সত্যিই সেরকম?

মীর: ঠিকই, এখানে ‘সুপার হিরো’-টা উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে একজন সুপার হিরোর কাছ থেকে আমরা যা-যা আশা করি, তার কিছু উপাদান আপনারা এই ছবিটায় পাবেন।
যিশু: সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা একজনের জীবন বাঁচাবো।

সুপার হিরো ছবি বাংলায় সেভাবে দেখা যায় না কেন?

যিশু: এই প্রশ্নটা প্রযোজকদের করলে ভাল হয়!
মীর: আমরা ৮০-র দশকে কিন্তু বেশ কিছু ছবি দেখেছিলাম। তখন সুখেন দাসরা ছিলেন। সেখানে নায়করা ভিলেনদের উড়ে-উড়ে মারতেন! আমাদের কাছে তো সেগুলোই সুপার হিরো ছবি! মিঠুন চক্রবর্তী ২০ জনকে একসঙ্গে মারছেন! তিনিই তো আমাদের সুপার হিরো!
যিশু: সুপার হিরো মানে কারও-কারও কাছে শুধুই সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যান, বা অরণ্যদেব বা বাঁটুল দি গ্রেট। আমার কাছে আবার আমার বাবা ছিলেন সুপার হিরো। এটা যার যেরকম পারসেপশন।

বাংলা ছবির দর্শক কী ধরণের ছবি দেখতে চায় বলে মনে হয়?

মীর: এটা তো দর্শকদের জিজ্ঞাসা করতে হবে!
যিশু: আমরা যা ছবিই করি, সেটাই যেন দর্শক দেখেন!

নিজেকে দর্শকের জায়গায় বসালে কী মনে হয়?

যিশু: সব দর্শককে একই জায়গায় ফেললে তো ব্যাপারটা বেশ কঠিন, তাই না? কিছু দর্শক থ্রিলার দেখতে ভালবাসেন, কেউ প্রেমের গল্প, কেউ বা আবার গোয়েন্দা গল্প। এবার আপনি কার জন্য ছবিটা বানাবেন? একসঙ্গে একটা ডার্ক, রোম্যান্টিক, সুপার হিরো, থ্রিলার, স্পাই বানাতে পারবেন না তো!
মীর: না, আগে হত। নায়িকা, টক, ঝাল, দুষ্টু, মিষ্টি!
যিশু: আপনি বাঁধতে পারবেন না দর্শককে। আমি যেমন থ্রিলার আর অ্যাডভেঞ্চার ছবি খুব ভালবাসি।
মীর: আমি কমেডি!
যিশু: মানে, আমি তো একসঙ্গে দুটো ছবি বানাতে পারি না। আমার জন্য একজন পরিচালক ছবি বানাবেন, ওর জন্য অন্য একজন পরিচালক ছবি বানাবেন। তাই দর্শক কী চায় এটা বলাটা খুব মুশকিল। তা না হলে প্রত্যেকটা ছবি সিলভার জুবিলি, গোল্ডেন জুবিলি, প্ল্যাটিনাম জুবিলি হতো।
মীর: সেরকম নির্দিষ্ট কোনও ফরমুলা নেই। সেটা জানলে তো হয়েই যেত। ল্যাটা চুকে যেত!
যিশু: তাহলে অ্যাপলই একমাত্র আই ফোন বানাতো। আর কোনও ফোনই আসত না!

বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে কি আজকাল কমেডি ছবি বানানোর ট্রেন্ডটা বেড়ে গেছে?

যিশু: তাই, কোথায়?
মীর: মানে আপনি বলতে চাইছেন যে দেখতে গিয়ে হাসি পাচ্ছে? সেটা কিন্তু তাহলে আলাদা ব্যাপার!

meer-jishu-big

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

কিন্তু একটা বিষয়ে সকলেই নিশ্চয়ই সহমত হবেন। এখনকারদিনে দর্শকদের জোর করে হাসানোর চেষ্টা করা হয়। বাংলা কমেডির এরকম অবস্থা হল কেন?

যিশু: এটা কী করে বলি বলুন তো! এটার উত্তর আমার কাছে নেই।
মীর: আমি বলছি। যদি কেউ একশো শতাংশ কমেডি ছবি বানাতে চায়, তাহলে আমি বলব, গো অল আউট! স্টেপ-আউট করে চার-ছয় মারো, আজগুবি জিনিস দেখাও! যেমন ‘আন্দাজ় অপনা-অপনা’।
যিশু: একদম ঠিক! কমেডির মধ্যে ওটা সেরা ছবিগুলোর একটা!
মীর: হ্যাঁ। কিন্তু যদি আবার সেই ‘হাসির মোড়কে মোড়া একটি সাংসারিক ছবি’ তৈরি করতে গিয়ে কেউ ছড়িয়ে ফেলে, তখন তো দর্শক রিঅ্যাক্ট করবেই! সেরকমভাবে জমল না, টাকা খরচ করলাম, এইসব বলবেই। মনে রাখতে হবে, আজকাল কিন্তু হলে গিয়ে ছবি দেখাটা বেশ খরচের ব্যাপার।
যিশু: দু’জন গেলে কমপক্ষে ১০০০ টাকা তো খরচ হবেই।
মীর: সুতরাং দর্শক এখন যত বেশি খরচ করছে, তত বেশি কিন্তু খুঁতখুঁতে হয়ে গিয়েছে।
যিশু: এই যে আপনি জিজ্ঞেসা করছিলেন, কেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম… আসলে ১০০০ টাকা খরচ করার চেয়ে ৬৫০ টাকা দিয়ে কোনও ডিজিটাল মাধ্যম যদি নিই, আমি এক মাসে কিন্তু প্রচুর ছবি দেখতে পাব।

যে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে একসময় ‘বসন্ত বিলাপ’, ‘চারমুর্তি’-র মতো কাল্ট কমেডি ছবি তৈরি হয়েছে, সেখানে এখনকার ছবিগুলো কতটা বদলে গিয়েছে?
মীর: আসলে আমাদের টেস্ট আর চাহিদা বদলে গিয়েছে। আমরা আগে এক রকমের ছবি দেখতে ভালবাসতাম, এখন অন্যরকম দেখতে ভালবাসি। একটা ছবি দেখে আমার দেখে মনে হতে পারে যে সেটা একটা মোটা দাগের কমেডি ছবি। কিন্তু সেই ছবিটা দেখে আরেকজনের মনে হতেই পারে, না, এটা ঠিক জমল না।

যিশু, এই বছরের শুরুর দিকে আপনি ‘ঘরে অ্যান্ড বাইরে’ করলেন। রমকম ছবিতে অভিনয় করে কেমন লাগল?
যিশু: ভাল লাগল। আমি খুবই এনজয় করেছি।

এই ধরণের ছবি আরও করার ইচ্ছে আছে?
যিশু: হ্যাঁ, ভাল গল্প হলে নিশ্চয়ই। কেন করব না!
মীর: আমার তো কোয়েল আর যিশুর একটা ছবি এখনও মনে আছে, ‘বর আসবে এখুনি’। ওটাও রমকম ছিল। আমার খুব ভাল লেগেছিল ছবিটা। মিউজ়িকও দারুণ ছিল। আমার মনে আছে, রেডিওতে গানগুলো অনেকদিন ধরে চালানো হয়েছিল। ওদের কেমিস্ট্রিটাও খুব ভাল। যদিও আমি এই কেমিস্ট্রি বিষয়টাতে বিশ্বাস করি না, বায়োলজিকেও বিশ্বাস করি না! কিন্তু ওদেরকে দেখতে ভাল লাগে।

মীর, ‘অরণ্যদেব’-এ আপনার যে চরিত্রটা, সেটা পরিচিত মীরের চেয়ে অনেকটাই আলাদা…
যিশু: থ্যাঙ্ক গড!

পরিচালকরা আপনাকে সিরিয়াস চরিত্রে সেভাবে কাস্ট করেন না। আপনি কি কিছুটা একই ধরণের চরিত্রে ট্র্যাপড্ হয়ে যাচ্ছেন?
মীর: না ট্র্যাপড্ হইনি তো। ‘অরণ্যদেব’ তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আমি যখন ‘খাস খবর’-এ নিউজ় রিডার ছিলাম, তখনও আমাকে একজন পরিচালক অ্যাপ্রোচ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘প্রসেনজিৎ আর ঋতুপর্ণাকে নিয়ে ছবি হচ্ছে। প্রসেনজিতের রাস্তায় কিছু একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যায়। ঋতুপর্ণা টিভিতে নিউজ় দেখতে-দেখতে খবরটা পায়। আর আপনি সেই নিউজ়টা পড়ছেন!’ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র। কিন্তু আমি ওটাকে রিফিউজ় করি। তারপর আবার একটা সময় এল যখন বলা হল, ‘আপনি একটা ছবিতে আর জ়ে’! আমি বললাম, “কথাটা তো প্রথমত ‘আর জ়ে’ নয়, ‘আর জে’!” আমি এগুলো খুব ভেবেচিন্তেই এড়িয়ে গিয়েছি। কিন্তু কোনও কারণে লোকে সবসময় আমার মধ্যে থেকে কমেডিটাই বের করে আনতে চায়। সেই কারণেই সেরকম চরিত্রই অফার করে। এমন না যে আমি সেরকম ছবি করিনি। তার জন্য কোনও রিগ্রেট নেই। আসলে নতুন কিছু যদি আমাকে অফার না করা হয়, আমি কী করব? আমি কি রাস্তায় গিয়ে ধর্না দেব? বিক্ষোভ করব? নাকি অবরোধ করব?

আপনি নিজে কি ধরনের ছবি করতে ভালবাসেন?
মীর: আমি একজন অভিনেতা। আপনি যেরকম আমাকে অভিনয় করতে বলবেন, আমি সেরকম করব। এই ছবিতেও যিশু আর আমি, যেভাবে দেবাশিস সেনশর্মা (পরিচালক) ভেবেছেন, যেভাবে আমাদের প্রজেক্ট করতে চেয়েছেন, আমরা শুধু সেই নির্দেশই মেনে গিয়েছি। আমাদের কাজ সেটাই করা।

এই ছবিটায় অভিনয় করতে গিয়ে কোনও মজার অভিজ্ঞতা হল??
যিশু: প্রচুর আছে, প্রচুর! একটা বলা মুশকিল। আসলে এই ছবিটা করার আগে মীরের সঙ্গে আমার ‘হাই-হ্যালো’ সম্পর্ক ছিল। আর এই ছবিটার পর আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম! এই নয় যে আমাদের রোজ কথা হচ্ছে বা রোজ দেখা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তা ছাড়া, আমরা এমনিতে প্রচুর মজা করেছি। পরিচালককে পাগল করে দিয়েছি! মাঝে-মাঝে টেকনিশিয়ানদেরও। বিশেষ করে আমাদের ডিওপি তো পাগল হয়ে গিয়েছিল আমাদের জন্য!

মানে, বন্ধুত্বের ছবি শুট করতে গিয়ে নতুন বন্ধু হয়ে গেল?
যিশু: হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন।
মীর: মানে, আমাদের জায়গায় যদি অন্য দু’জনও থাকত, ধরুন দেব আর জিৎ যদি থাকত, তাদেরও বন্ধুত্ব হয়ে যেত! কারণ এই গল্পটাই এরকম।

যিশু, আপনাকে এর পরে কোথায় দেখতে পাচ্ছি আমরা?
যিশু: ‘এক যে ছিল রাজা’ মুক্তি পাবে পুজোর সময়। দুটো হিন্দি ছবির শুটিং চলছে। এছাড়া একটা তেলগু ছবি আর একটা বাংলা ছবির শুটিং শুরু হবে।

আর মীর, আপনাকে?
মীর: আমাকে এরপর আপনি এই হোটেলের লবিতে দেখতে পাবেন!

আপোসের রাস্তা রাহুলই রাখেনি: প্রিয়ঙ্কা

Priyanka-big
মিউচুয়াল ডিভোর্স নয়, রাহুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রিয়ঙ্কা সরকার। অভিযোগ প্রচুর। শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা, সেপারেশনের দু’বছর পরও ছেলে সহজের ভরণপোষণের দায়িত্ব না নেওয়া… আনন্দলোককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল ইতিমধ্যে নিজের কথা জানিয়েছেন। এবার মুখ খুললেন প্রিয়ঙ্কা।

 
 

রাহুলের দাবি, আপনার কামালগাজির ফ্ল্যাটের অনেকটা টাকাই রাহুল দিয়েছেন। আপনার কী বক্তব্য?
এই কথাটা মোটেই ঠিক নয়। ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট করা হয়েছিল আমার আর রাহুলের জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে। তাতে দু’জনের টাকাই ছিল। তবে এটুকু বলতে পারি, রাহুলের অংশটি একেবারেই নগণ্য! গত দু’বছরে সহজের জন্যও ও কোনও টাকাপয়সা দেয়নি।

আপনি বলেছেন, রাহুল আপনাকে মারধর করতেন বিয়ের পর থেকে। তাহলে আপনি এতদিন ওঁর সঙ্গে থাকলেন কেন?
আশা ছিল বলে! আমি তো মা-বাবা, পরিবার সব ছেড়ে রাহুলের সঙ্গে সংসার পেতেছিলাম। সেটা সবাই জানেন। ভালবাসতাম বলেই এত কিছু করেছিলাম। যে সম্পর্কটার জন্য বাকি সব ছেড়েছিলাম, তা এত সহজে ছেড়ে দেব? অবশ্যই না। তাই এতগুলো বছর আশা করে গিয়েছি রাহুল বদলে যাবে।

রাহুলের প্রশ্ন, এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকা সহজকে বড় করতে কেন লাগবে, সেব্যাপারেও তিনি সন্দিহান…
সহজের পিছনে মাসে কত টাকা খরচা হয়, সেব্যাপারে আমি রাহুলের সঙ্গে অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেছি। ও বারবার এড়িয়ে গিয়েছে। আর সহজকে মানুষ করতে কত টাকা লাগতে পারে, সেব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। সেটা উকিল ঠিক করবেন। আমিও ব্যাপারটা আইনিভাবে হ্যান্ডল করতে চাই।

আপোসের তাহলে কোনও সম্ভাবনা নেই?
আমি তো দু’বছর অপেক্ষা করেছি, বারবার বসতে চেয়েছি একটা সেটলমেন্টে আসার জন্য। রাহুল সময় দেয়নি। কিন্তু আমার ছেলে সহজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি কোনও কম্প্রোমাইজ় করব না। আর রাহুল সহজকেও মানসিকভাবে আমার বিরুদ্ধে উসকেছে। তাতে সহজ খুব কষ্টও পেয়েছে। আমি সহজকে নিয়ে রিস্ক নিতে পারি না। আপোস করাটা আমার কাছে আর কোনও অপশন নয়। বরং বলা ভাল, রাহুলই আপোস করার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রিয়ঙ্কা দ্বিচারিতা করছে: রাহুল

rahul-big
বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় প্রিয়ঙ্কার তোলা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবার মুখ খুললেন রাহুল

 

প্রিয়ঙ্কা আপনার বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছেন। আপনার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, খোরপোশ এবং বিবাহবিচ্ছেদ করতে বাধ্য হয়ে। ফলে আপনার বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর উত্তর খুব জরুরি হয়ে প়ড়েছে।
বলুন…

২০১৬ সালে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আপনাদের মিউচুয়াল ডিভোর্স হওয়ার কথা ছিল। আপনারা ভাল বন্ধুও ছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে আপনি আর প্রিয়ঙ্কার কোনও দায়িত্ব নেননি…
২০১৬ সালের জুলাইতে প্রিয়ঙ্কা যখন আলাদা হয়, তখন প্রিয়ঙ্কার কাজের সংখ্যাটা ঠিক কত ছিল? খুব একটা কাজ কি ছিল ওর হাতে সেই সময় যে, কামালগাজিতে একটা থ্রি বিএইচকে ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট করা সম্ভব? ওর পক্ষে কোনও টাকা দেওয়াই সম্ভব ছিল না। এই যে ফ্ল্যাটে নিজস্ব ছাদ, বিশাল এলইডি টিভি, ফোর ডোর ফ্রিজ, দুটো পোষা কুকুর… এগুলো প্রিয়ঙ্কা রাখতে পেরেছিল আমি ছিলাম বলে। আমি আক্ষরিক অর্থে নিঃস্ব হয়ে এগুলো ওকে করে দিয়েছি। পুরো টাকাটা আমার ছিল। তারপর সহজের বেবি ফুড, জামাকাপড় থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ আমি দিয়েছি। এমনকী, মাসে-মাসে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আমি প্রিয়ঙ্কার হাতে দিয়েছি… ক্যাশ। আমার ভুলটা হল, আমি তখন কোনও রসিদ কেটে রাখিনি। নিজের প্রাক্তন স্ত্রী, যে কিনা আমার ভাল বন্ধু ছিল, তাকে টাকা দিয়ে রসিদ কেটে রাখতে হবে, এতটা নীচ চিন্তা আমার মাথায় আসেনি। ফলে কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে শুরু থেকেই যথেষ্ট সচেতন ছিলাম।

আপনার বিরুদ্ধে এই অভিযোগও উঠেছে, আপনি প্রিয়ঙ্কাকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করতেন! এমনকী, নিজের হিসেবমতো প্রিয়ঙ্কার কেরিয়ারকে চালানোর চেষ্টা করতেন…
আচ্ছা। আমাদের বিয়ে হয়েছে ২০১০-এ। আমরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করি ২০০৮ থেকে। লিভ ইন মানুষ কেন করে? ও তো আমার সঙ্গে থাকার পরই আমাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

rahul-big2

বিয়ের পর তো অনেক মানুষ পালটে যান…
সেপারেশনের পরও কিন্তু আমরা বেস্ট অফ ফ্রেন্ডস থেকেছি। শেষ ছ’ মাস বাদ দিলে আমরা দু’জন একসঙ্গে পার্টি করতাম। সহজকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছি, ভিক্টোরিয়া গিয়েছি, তিনজনে একসঙ্গে দিওয়ালি, হোলি পালন করেছি… ফেসবুক থেকে টুইটার সর্বত্র তার প্রমাণ আছে। তখন কিছু মনে হয়নি ওর? আর আমরা তো দু’ বছর আলাদা আছি, আমি কি ওর বাড়িতে গিয়ে ওকে মেরে আসতাম? এখন যে-ই টাকার প্রয়োজন হয়েছে, তখনই আমি খারাপ মানুষ হয়ে গেলাম?

টাকার প্রয়োজন বলতে সেই ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা?
হ্যাঁ, প্রিয়ঙ্কা আমার কাছে এই টাকাটা দাবি করেছে সহজকে ‘বড়’ করার জন্য। আমি জানি না, কোন মধ্যবিত্ত ঘরের বাচ্চার বড় হতে এই পরিমাণ টাকা লাগে! আমি নিজেও এত টাকা একসঙ্গে চোখে দেখিনি, দেওয়া তো দূরের কথা। আর প্রিয়ঙ্কা যে এই নিজের দুঃখী ইমেজ সকলের কাছে তুলে ধরছে.. ওর তো এখন কাজ সবচেয়ে বেশি। জিতের সঙ্গে কাজ করছে। এসভিএফ-এর সঙ্গে কাজ করছে। ওই ফ্ল্যাটটা রেনোভেট করছে, দুটো কুকুর পুষছে… এটা দ্বিচারিতা মনে হচ্ছে না?

সাক্ষাৎকারটি বিশদে পড়তে দেখুন আনন্দলোক-এর ২৭ জুন সংখ্যা…

‘‘আমি ‘শব্দ’র চেয়ে ভাল ছবি অনেক করেছি।’’

kaushik-big
‘বিসর্জন’-এর সিকোয়েল ‘বিজয়া’র কথা ঘোষণা করতে এসে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় খুললেন মনের আগল। উঠে এল জাতীয় পুরস্কার, সিকোয়েল সমেত আরও নানা কথা। শুনলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

জাতীয় পুরস্কার নিয়ে আলোচনা, ‘দৃষ্টিকোণ’ মুক্তি পাচ্ছে, ‘কিশোরকুমার জুনিয়র’-এর কাজ… এর মধ্যেই ‘বিসর্জন’-এর সিকোয়েল ‘বিজয়া’র ঘোষণা। এতকিছু সামলাচ্ছেন কী করে?
যারা ড্রাম বাজায়, দেখবেন একসঙ্গে দু’হাত-দু’পা ব্যবহার করে। চারটে লিম্ কিন্তু চারটে আলাদা অংশ বাজাচ্ছে। এই চারটে মিললে তবেই একটা ভাল বাজনা তৈরি হয়। ফলে, অর্গানাইজ় হয়ে থাকা, সিঙ্ক্রোনাইজ় করতে পারা, এই পুরো ব্যাপারটাই একটা অভ্যেস।

এই ‘অভ্যেস’টার জন্যই কি অভিনয় আর পরিচালনাটা মেলাতে পারেন? আপনি অভিনেতা হিসেবে বহুল প্রশংসিত, কিন্তু সিনেমাটাও তো আপনাকে সামলাতে হয়!
সত্যি বলতে, আমার এতে অসুবিধে হয় না। আমি অভিনয়টা এতটাই এনজয় করি যে সেটাকে আলাদা কাজ বলে মনেই হয় না। একেবারেই চাপ নিই না। অন্য চরিত্রের মধ্যে থাকাটা খুব আনন্দের। আর আমার টিমের সদস্যরা এত ভাল যে সে সময়ে সিনেমার দায়িত্বই শুধু নিয়ে নেন না, আমাকে ওঁরা গাইডও করেন।

বাংলা সিনেমায় সিকোয়েল জিনিসটা তো খুব একটা দেখা যায় না। তাছাড়া আগের ছবির সঙ্গে তুলনাও হয়। অনেকসময়ই দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি নিচের দিকে নামার সময় খারাপ হতে থাকে…
সবসময় নয়। ফেলুদা ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি তো পরের দিকে ভাল হতে থেকেছে। তবে সিকোয়েলের কথা যখন বলছেন, আমরা ধরে নিয়েছি তুলনা হবেই। ওতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। প্রথম প্রেম, প্রথম বান্ধবীকে কেউ ভোলে না। তার জায়গাটা সবসময় স্পেশ্যাল। আমি ‘শব্দ’র চেয়ে ভাল ছবি অনেক করেছি। কিন্তু মানুষ বলেন ‘শব্দ’র মতো ছবি আর হয়নি। তা বলেন যখন, তাতে তো আমার হাত নেই!

‘বিসর্জন’-এর গল্প কি এতটাই ভাবা ছিল?
দেখুন, সব ছবির ক্ষেত্রেই গল্প অনেকটা ভেবে রাখতে হয়। নাহলে সিনেমার ঘুঁটিগুলি ভাল সাজানো যায় না, শেষ করতে সমস্যা হয়। ‘বিসর্জন’-এর ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। আর মজা হচ্ছে, স্টোরির দ্বিতীয় ভাগটা অত্যন্ত শক্তিশালী। এবার ঘরোয়া আড্ডায় এটা নিয়ে আলোচনা হত, তো সুপর্ণ (ছবির প্রযোজক সুপর্ণকান্তি করাতি) বলতে শুরু করল, ‘ছবিটা যখন এত ভাল হল, প্লিজ় সেকেন্ড পার্টটা করো’। ও বলতে-বলতে একটা সময় রাজি হয়ে গেলাম।

‘বিজয়া’-তে বোধহয় এপার বাংলার অংশ বেশি?
হ্যাঁ, আমরা পদ্মার বাংলা দেখেছি, এবার আমরা নাসিরের বাংলা দেখব।

আচ্ছা, ‘নগরকীর্তন’ কবে মুক্তি পাচ্ছে?
আমি না, ঠিক জানি না। এবছরের শেষের দিকে হবে হয়তো। ছবিটাকে আমি যত বেশি সম্ভব ফেস্টিভ্যালে পাঠাতে চাই। তারপর সবার শেষে কলকাতায় প্রকাশ করা হবে। কলকাতায় রিলিজ় না হলে তো ছবি মুক্তি পাবে না!

kaushik-big2

‘নগরকীর্তন’ চারটে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। তবু এরমধ্যে ঋদ্ধিরটা বোধহয়…
ঐতিহাসিক। তাবড়-তাবড় লোকরা সারা জীবন পায় না। এতে একটা ভাগ্যের ব্যাপারও আছে কিন্তু…

হ্যাঁ, সেই ২০০৬-এ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর তো আর কোনও বাঙালি পাননি!
তার আগেই বা ক’জন পেয়েছেন? অরুণবাবু (মুখোপাধ্যায়) পেয়েছিলেন ‘পরশুরাম’-এ, উৎপল দত্ত বোধহয় পেয়েছিলেন ‘ভুবন সোম’-এর জন্য আর তার আগে ‘নায়ক’-এ উত্তমবাবু। আর তো নেই! আমরা ভেবেছিলাম ঋত্বিক পাবে ‘শব্দ’র জন্য। সেবছর ইরফান খান পেলেন। ঋত্বিক কিন্তু খুব খুশি হয়েছিল ইরফান পুরস্কারটা পাওয়ায়। আসলে চারদিকেই খুব ভাল-ভাল কাজ হচ্ছে। আমরা এই শহরে বসে-বসে কূপমণ্ডুকের মতো ‘এটাই সেরা’ বলি। সেটা তো আর ঠিক নয়! ‘নগরকীর্তন’ চারটে পুরস্কারই ন্যাশনাল ক্যাটেগরিতে পেয়েছে, এটা একটা ভাল ব্যাপার। আমি কিন্তু স্পেশ্যাল জুরি অ্যাওয়ার্ডটা নিয়েও খুব খুশি। কারণ মাত্র একটি ভোটের জন্য ছবিটা সেরা হয়নি। আসলে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ছবিকে ওই পুরস্কারটা দেওয়া হয়।

কৌশিক সেন আমাদের বলছিলেন, যেভাবে আপনি সিনেমাটা তৈরি করেছেন, তাতে ঋদ্ধির পুরস্কার পাওয়াটাই বোধহয় স্বাভাবিক ছিল। এটা কিন্তু কৌশিকবাবু বলছেন ছবিটি না দেখে, কেবল শুনে।
পুরস্কার না দেওয়াটাই খুব মুশকিল। ২০১৮-য় বাংলা ছবির কোনও পুরস্কার অনুষ্ঠানে ঋদ্ধি ছাড়া অন্য কারও পুরস্কার পাওয়া কিন্তু খুব কঠিন। এটা আমি প্রকাশ্যেই বলে রাখলাম, মিলিয়ে নেবেন। জুরির পক্ষে অন্য কাউকে ভোট দেওয়া সম্ভবই হবে না।

দিনকয়েক আগে, আপনি সিনেমার প্রচার নিয়ে কিছু টুইট করেছিলেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আপনাকে আক্রমণ করা হয়, আপনিও কাউন্টার করেন। বিষয়টা কী ঘটেছিল বলুন তো?
আরে প্রচার তো আমি আমার সিনেমারও করি। শুধু তা-ই কেন, আমার ছবিতে মুড়ি, নাইটস্প্রে, সাবান, অ্যান্টাসিড… সবকিছুর বিজ্ঞাপন হয়। ওঁরা অতগুলি হোর্ডিং দেন… আমি প্রচার নিয়ে কিছু বলছি না। কারণ ওঁরা ছাড়া তো সিনেমা করাটা মুশকিল। আমি খুব কৃতজ্ঞ ওঁদের কাছে, কিন্তু পরিচালককে তো এগুলোকে কেটার করতে হয় কিছুটা জোর করে। জোর করে ভোজালিতে গেঁথে-গেঁথে সিনেমার মধ্যে এগুলিকে ঢোকাতে হয়। ফলে একটা সময় হতাশা আসতে পারে। ওইরকমই একটা দুর্বল মুহূর্তে ওই কথাগুলি লেখা। কাউকে আমি আক্রমণ করতে চাইনি।

এরকমই একটি হতাশার মুহূর্ত বোধহয় দেখা গিয়েছিল ‘ধূমকেতু’ নিয়ে আপনার টুইটে। ছবির ভাগ্য পরিচালকের হাতে নয়, এমনই বয়ান ছিল টুইটের…
সত্যিই তো হাতে থাকে না। আমি এখনও জানি না কবে সিনেমাটা রিলিজ় করবে। আর আমার কিছু বলারও নেই প্রযোজকদের। ছবিটি খুব মন দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এখনও বলছি, দেব তারপর থেকে যে সিনেমাই করে থাকুক, ‘ধূমকেতু’ ওর জীবনের অন্যতম সেরা ছবি-ই। সিনেমাটা রিলিজ় হলে আমার ভাল লাগবে, এটুকুই।

নিজেকে প্রমাণ করাটা জরুরি: শুভশ্রী


মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি‘হনিমুন’। ছবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের ‘হনিমুন’ থেকে বিতর্ক, সব নিয়েই কথা বললেন শুভশ্রী। শুনলেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায়

এখন কী অন্য ধরনের সিনেমা মানেই শুভশ্রী? যিনি একসময়ে হার্ডকোর কমার্শিয়াল নায়িকা ছিলেন। ‘আমার আপনজন’, ‘দ্যাখ কেমন লাগে’, ‘হনিমুন’-এ অভিনয়। ‘রসগোল্লা’তেও দেখা যাবে?
‘রসগোল্লা’তে শুধু গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। শিবুদা ফোন করে বলল, রাজি হয়ে গেলাম। তবে একটা কথা বলি, আমি এখন থেকে সেই ছবিগুলোই করব, যেখানে আমার কিছু করার থাকবে। ভেবেচিন্তে স্ক্রিপ্ট বাছব।

কেন নিন্দুকদের (ওই যাঁরা বলেন শুভশ্রী অভিনয় পারেন না) মুখ বন্ধ করতেই কি?
মোটেও না। আমি ওদের কথা ভাবি না। নিজের ফিলিংসটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার নিজের যখন যা করতে ইচ্ছে করবে, তাই করব। নিজের স্যাটিসফেকশনের জন্য কাজ করব। ছবিতে আমার যদি চারটে সিনও থাকে, সেই চারটে সিন দেখে লোকে যেন বলে, ‘বাহ ভাল অভিনয় করেছে।’ ইমপ্যাক্ট ফেলতে চাই। নিজেকে প্রমাণ করাটা জরুরি। তা ছাড়া কমার্শিয়াল বা প্যারালাল ভাগটাই আমি মানি না। আমার কাছে দু’ধরনের ছবি হয়, ভাল এবং মন্দ ছবি। আমাদের মানে অভিনেতাদের কাছে চরিত্রটা গুরুত্বপূর্ণ। সব সিনেমায় তো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়, তাই না। এই ছবিটার কথাই ধরুন না, কোনও জটিলতা নেই। মিষ্টি প্রেমের গল্প। সহজ-সরলভাবে বলা একটা গল্প। আজকাল তো সহজ ভাবনা, কথা বলতে সকলেই ভুলে গিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, মানুষকে একটু আনন্দ দিতে, সহজভাবে হাসাতে। এই ছবিটা করার আরও একটা কারণ হল, পরিচালকের নাম প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। আমার ডেবিউ ছবির ডিওপি ছিলেন চাকীদা। তাই ওঁর ডেবিউ ছবিতে কাজ করার সুযোগ ছাড়তে চায়নি (হাসি)।

আচ্ছা, পরপর তিনটে ছবিতে (‘আমার আপনজন’, ‘দ্যাখ কেমন লাগে’, ‘হনিমুন’) আপনি আর সোহম। বাংলা ছবিতে কি আবার একটা নতুন জুটি হতে চলেছে?
সত্যি এই উত্তরটা আমার কাছেও নেই। সেই ২০০৮-এ একসঙ্গে ‘বাজিমাত’ করলাম। তারপর কেউ আর আমাদের একসঙ্গে কাস্ট করল না। আবার দেখুন, এক বছরে তিন-তিনটে ছবিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করলাম। এর উত্তরটা প্রযোজকদের কাছে আছে হয়তো।

আপনার ছবির নাম ‘হনিমুন’। তা রিয়েল লাইফে ‘হনিমুন’-এর কী প্ল্যান?
ওটা আমি আপনাকে অফ রেকর্ড জানাচ্ছি (প্রবল হাসি)। আগে বিয়ে করি, তারপর ‘হনিমুন’ নিয়ে ভাবব।

আপনাকে ঘিরে একটা সময়ে প্রচুর বিতর্ক শুরু হয়েছিল। নানা কথাও শোনা গিয়েছে। বিতর্ক পরবর্তী সময়ে কেমন আছেন আপনি?
খুব ভাল আছি। এখন আমি অনেক পরিণত। ব্যস, আর একটা কথাও বলব না।

আগামী দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
দূর! দশ কী বলছেন! আমি আগামী মাসে কী করব তাই জানি না। যা হবে দেখা যাবে।

আর কী-কী ছবি করছেন?
কিছু করছি না। হঠাৎ-হঠাৎ করে কাজ আসছে, আমি করে ফেলছি। কোনও প্ল্যান নেই। ‘নবাব’-এর পর কী করব, কিছু প্ল্যান ছিল না। তারপর ‘হনিমুন’-এর অফার এল। করে ফেললাম।

গোয়েন্দা গল্প নয় বলে আকৃষ্ট হয়েছি: আবির চট্টোপাধ্যায়

abir-big0
বেলগাছিয়া রাজবাড়িতে‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ছবির শুটিংয়ে আবির চট্টোপাধ্যায় কথা বললেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

ঘরে ঢুকে প্রথমে চমকে উঠতে হয়। পরিচালক গৌতম ঘোষের এতবড় একটি ছবি। বেলগাছিয়া রাজবাড়ি কি গৌতম ঘোষদের বাড়ির? সেই প্রশ্ন দিয়েই শুরু হল… আবির অবশ্য বললেন…
না না, ওটা সেটের অংশ। গৌতমদা এই ছবিতে অভিনয় করছেন, অর্জুন চক্রবর্তী যে চরিত্রটা করছে, তার মামা উনি। আর ওঁকে নিয়েই তো সব কাহিনির সূত্রপাত।

প্রশ্ন: কীরকম?
আমার চরিত্রটার নাম সুবর্ণ সেন, বিদেশে ইতিহাস পড়াত, ৬-৭ বছর পর দেশে ফিরেছে। মজার কথা, অর্জুনের চরিত্রটার নাম এখানে আবির, সে আমার ভাইপো। ভাইপোর মামাবাড়িতে গুপ্তধনের একটা খোঁজ পাই আমরা দু’জন। কিন্তু বেশি ইন্টারেস্টিং হচ্ছে, গুপ্তধন পাওয়ার উপায় হিসেবে মামার লিখে যাওয়া কিছু ধাঁধা। কাহিনিটার সঙ্গে বাংলা আর ভারতের ইতিহাস ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সেই গুপ্তধন খুঁজতে গিয়েই তো ছবি শুরু?

abir-big2

তার মানে আরও একটা গোয়েন্দা গল্প?
এটা একেবারেই গোয়েন্দা গল্প নয় কিন্তু। আর সেটাই আমায় আকৃষ্ট করেছে। বরং ইতিহাসপ্রেমিকের কাছে এই ছবি অনেক বেশি কাছের বলে মনে হবে। তাছাড়া সাহিত্যনির্ভর ছবিও নয়। সিনেমার জন্যই তৈরি হয়েছে। এটি যে একজন নতুন স্ক্রিপ্টরাইটার, তা মনেই হবে না। পুরনো বাংলা সিনেমার ধাঁচটাও আছে। একটা সময়ে গুপ্তধনের গল্প পড়ার অভ্যেস ছিল আমাদের সবার। সেটাও দর্শককে স্ট্রাইক করবে।

abir-big1

আবির চট্টোপাধ্যায় তাহলে একজন ইতিহাসপ্রেমীও বটে?
যে-কোনও কারণেই হোক, ছোটবেলায় আমাদের কারও কাছেই ইতিহাসটা খুব একটা পছন্দের বিষয় ছিল না। বিভিন্ন তথ্য মুখস্থ করে উগরে দেওয়া ছাড়া তো পরীক্ষায় কিছু করতে হত না। বড় হয়ে, গল্পের বই পড়ে, সিনেমা দেখে, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ইতিহাসকে ফিরে দেখা হয়। তখন ভাল লাগতে শুরু করে বিষয়টা। এই গল্পটা দু’টি প্রজন্মের কাছেই খুব ইন্টারেস্টিং হবে।

‘যখের ধন’-ও তো যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। ফলে সেদিকটাও…
এই স্ক্রিপ্ট যখন শুনেছি, তখন কিন্তু ‘যখের ধন’ নিয়ে আমি কিছু জানি না। বিভিন্ন কারণে, ডেট ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছিল না… ফলে শুটিংটা শুরু হয়েছে দেরিতে।

আচ্ছা, পরবর্তী কাজ…
ব্যোমকেশ তো আছেই। কিন্তু আগে এটা সামলে নিই। যথেষ্ট কঠিন শুট, অনেকগুলি লোকেশনে শুটিং আছে। কলকাতায় বিভিন্ন লোকেশন, বোলপুর… একটা দৃশ্য হয়তো কয়েকটা জায়গা ঘুরে তৈরি হচ্ছে। ফলে কন্টিনিউটি একটা বড় চাপ। ধাঁধা, ইতিহাস মিলিয়ে এটা একটু যত্ন করে শুটিং করতে হচ্ছে। ফলে…