Category Archives: tollywood interview template

আমি আমার লিমিটেশনস জানি: অরিন্দম শীল

arindan-sil-big
সামনেই মুক্তি পাবে তাঁর ছবি ‘আসছে আবার শবর।’ সেই ছবি নিয়ে কথা বলতে বসে উঠে এল সিনেমায় মনোপলি থেকে সমসাময়িক পরিচালকদের কথা। অরিন্দম শীল-এর ভাবনাচিন্তার কথা শুনলেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায় ।

ফেলুদা, ব্যোমকেশ, কিরীটী… বলতে গেলে সাহিত্য জগতের প্রায় সব গোয়েন্দায়ই পরদায় এসে গিয়েছেন। এঁদের মাঝে শবর দাশগুপ্তকে আপনি নিয়ে এলেন। তা এত গোয়েন্দার ভি়ড়ে কাজ করতে ভয় করেনি?
প্রথম শবরের ছবিটা করার সময় তো কিছুই মনে হয়নি। তার আগে ‘আবর্ত’ করেছিলাম। সকলে প্রশংসা করলেও, ছবিটা ফ্লপ। আমার ঘর থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বেরিয়ে গিয়েছিল। এক আত্মীয় বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে ভাল কাজের জন্য এটা তোমার ইনভেস্টমেন্ট’। যাই হোক, এরপর যখন শবরের কাজ শুরু করলাম, সকলেই বারণ করেছিল। আমার কিন্তু ভয় করেনি। ভয়টা এখন! পরপর দুটো ছবি করার পর চাপ বেশ বেড়ে গিয়েছে। প্রথম শবর দেখে আসার পর সকলে বলতে শুরু করল, বাংলায় এমন ছবি এই প্রথম। স্টাইল, মেকিং… সবকিছুতেই নতুনত্বের ছোঁয়া। এইগুলো আমি কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই নিয়েছিলাম। এখন তিন নম্বর ছবিতে এসে ভয় করেছে, নতুন কী করব, সেটা ভাবতে হয়েছে। এই জার্নিটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই কারণেই এবারের শবর অনেক বেশি ডায়নামিক। গল্পে ভায়লেন্স বেশি, পরিধিও। চন্দননগর, লখনউ, কলকাতা, নানা জায়গায় শুট করেছি। গল্পের নাম ‘প্রজাপতির মৃত্যু এবং পূর্ণজন্ম’। তবে গল্প পড়ে ছবিটা না দেখাই ভাল।

আচ্ছা, সাহিত্যনির্ভর ছবি করাটা কি সেফ বেট? ভাল খেলা যায়?
দেখুন, আমরা কেউই সত্যজিৎ রায় নই। যিনি কিনা একাই লেখক, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, মিউজ়িক ডিরেক্টর। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বা সৃজিত মুখোপাধ্যায় ভাল গল্প বলতে পারেন। আমার অত ক্ষমতা নেই। আমি আমার লিমিটেশনস জানি, স্ট্রেংন্থ কী, জানি। মাথা নিচু করে কাজটা করতে ভালবাসি। পরের পর ছবি নিজের গল্প নিয়ে করার সাহস আমার নেই। আসলে ফাঁদা গল্প থেকে আমি ছবি দেখতে পেলে তবেই এগোই। পুরো ছবিটা ক্লিয়ার না হলে ছবিই করব না। স্ক্রিপ্ট করেও বাতিল করি। এই তো কিছুদিন আগেই করলাম। তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে পারি না। সেইজন্যই পরের ছবিটা মার্চে শুরু হবে। আমাদের এত ভাল-ভাল গল্প আছে। একা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কেই তো শেষ করা যায় না। এই তো পরের ছবিটা সুচিত্রা ভট্টাচার্ষের ‘ঢেউ আসে, ঢেউ যায়’ নিয়ে করব। একটা সেন্টিমেন্টও আছে। শীর্ষেন্দুদা, সুচিত্রা ভট্টাচার্যর গল্প নিয়ে কাজ করব, সেন্টিমেন্ট তো থাকবে। না হলে শিবু (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) কেন বারবার সুচিত্রা ভট্টাচার্যর গল্প নিয়ে কাজ করে?

একটা কথা মানবেন, আপনার ছবি করার আগে শবর এতটাও জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ছিল না। এটা কি কোথাও একটা আত্মশ্লাঘার জন্ম দেয়?
(খানিকটা চুপ করে) না। বরং কৃতজ্ঞতা জন্মায়। আমি আমার কাজ মন দিয়ে করেছি, সেটাই ফল দিয়েছে। কাঁধটা ভারী হয়। আজকে আমার প্রযোজক বলছে ‘অরিন্দম শবর করে যেতে হবে।’ এটা একটা চাপ তো বটেই। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলতে চাই, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ কিন্তু একটি প্রজন্মকে আকর্ষণ করে। কিন্তু এখন যাদের বয়স ২০ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে, তারা কি সেই ব্যোমকেশের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত? আমি তাদের সঙ্গে ব্যোমকেশকে আমার মতো করে পরিচিত করাতে চাই। অনেকে হয়তো গল্পে বদল পছন্দ করবেন না, আবার কিছু মানুষ সেটাকেই ভাল বলে সিনেমা দেখবেন। আমার ক্ষেত্রে এটা হয়েছে। এমন একটা স্মার্ট ছবি বানাতে চাই যে, আমার পাশের স্ক্রিনে ‘টাইগার জ়িন্দা হ্যায়’ চললেও, তাঁরা যেন আমার ছবিটা দেখতে আসেন।

পরিচালক অরিন্দম ঝুঁকি নিতে ভয় পান?
তাহলে ‘ধনঞ্জয়’ করলাম কী করে! সাফল্যের তোয়াক্কা না করে এমন ঝুঁকি কে নিয়েছে? এত কম সময়ে আমার মতো সাফল্য ক’জন পেয়েছে? সৃজিত আছে অবশ্য। তবে বয়সে অনেক ছোট। আমি মধ্যবয়সে এসে পরিচালনা শুরু করেছি। যে সময়ে আমি কেরিয়ারে ভাল সাফল্য পাচ্ছিলাম, সেসময়ে হঠাৎ করে নিজের কমফর্ট জ়োন ছেড়ে এমন একটা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ছবি করলাম, যেখানে ছবিটা সরাসরি মিডিয়া, তদানিন্তন সরকারকে ভুল প্রমাণ করছে। আমাকে এই সাহস দর্শক যুগিয়েছে। আমার এক্সপেরিমেন্টগুলোকে খোলা মনে গ্রহণ করেছে। ফলে বুঝতে পেরেছি, আমি ঠিক পথেই আছি। ‘ধন়ঞ্জয়’ এতটাই ফার রিচিং হয়েছে যে, মু্ম্বইয়ে এক পরিচালক হিন্দিতে ছবিটা করার কথা ভাবছেন।

‘ব্র্যান্ড অরিন্দম’ তৈরি হয়েছে বলছেন। সেই ব্র্যান্ডটা নিয়ে কতটা সচেতন আপনি?
আমি বরাবরই খুব সচেতন। অভিনেতা থাকাকালীনও এটা নিয়ে সচেতন ছিলাম। আমি একজন পাবলিক ফিগার। তাই জনসমক্ষে এমন কিছু আচরণ করতে পারি না, যা আমার ইমেজের ক্ষতি করতে পারে। মানুষ আমার সম্পর্কে যা ভাবে, সেই ভাবনাটা ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। আমার অনেক সহকর্মী, জুনিয়র-সিনিয়র জনসমক্ষে এমন আচরণ করেন, যা ঠিক নয়। বুঝে আচরণ করা উচিত। আমি সবসময় পা মাটিতে রেখেই চলি।

arindan-sil-big2

আপনি অভিনেতা, এগজ়িকিউটিভ প্রোডিউসর, পরিচালক… কোন ভূমিকা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন?
আমি সব কাজই উপভোগ করি। এখনও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভাল লাগে। ভাল ছবির এগজ়িকিউটিভ প্রোডিউসর হতে পারি। তবে এখন এই পরিচালক সত্ত্বাটাই সবচেয়ে ভাল লাগছে।

অরিন্দম শীলের নিজস্বতা কী?
আমার পুরো কাজের মধ্যে একটা যত্ন আছে। সেটা দর্শকের ভাল লাগে। স্টাইলটা মানুষের পছন্দ হয়।

সমসাময়িক পরিচালকদের ঈর্ষা করেন?
করি তো! আমি সকলের কাছ থেকে কাজ শিখি। সৃজিতের ভিশুয়াল ফ্রেমিং বা কৌশিকের গল্প বলার ধরনে আমি মুগ্ধ। কমলেশ্বরের ব্যাপ্তি আমাকে ঈর্ষান্বিত করে, প্রতিমের ফ্রেশনেস বিস্ময় জাগায়। আমরা প্রত্যেকে-প্রত্যেকের কাজ দেখি। আলোচনা করি। সর্বতভাবে বাংলা সিনেমার কী করে ভাল হবে, তার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে যখন সিনেমা নিয়ে কথা হবে, তখন কিন্তু আমাদের সকলকে নিয়েই কথা হবে।

‘বাংলা সিনেমার কী করে ভাল হবে, তার চেষ্টা করি,’ এই কথার উত্তরে জানতে ইচ্ছে করছে, সত্যিই কি ভাল হচ্ছে? প্রত্যেকে-প্রত্যেককে স্পেস দেয় কি? তা হলে একই দিনে ছবি রিলিজ় নিয়ে এত মারামারি কেন?
এটার উত্তর প্রযোজকরা দিতে পারবেন। পরিচালক হিসেবে আমি কিন্তু দায়িত্ব নিই। আমাকে ‘বিসর্জন’ এবং ‘পোস্ত’র সঙ্গে আসতে বলা হয়েছিল, আমি আসিনি। এই তো অতনু রায়চৌধুরী, শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ঠিক হয়েছে, শিবুর ছবি রিলিজ়ের সময় শ্রীকান্ত কোনও বড় ছবি রিলিজ় করবে না। আগে তো এরচেয়েও খারাপ অবস্থা ছিল। এক বড় প্রযোজকের ছবি রিলিজ় করছে বলে, অপর এক প্রযোজক সেই সময়েই ছবি রিলিজ় করাতেন। ভয়ঙ্কর ব্যাপার। আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি বা আসার চেষ্টা করছি। আসলে বাংলা ছবি সময় বুঝে ব্যবসা করে। দুর্গাপুজোর সময়ে সাত-আটটা ছবি রিলিজ়ের কারণ, সেইসময়ে ছবি ভাল ব্যবসা করে। এর উলটো দিকও আছে। শিবু দেখিয়ে দিয়েছে, সময়টা কোনও ফ্যাক্টর নয়। কনটেন্ট আসল। ওর ছবি তো সময় দেখে রিলিজ় করেনি। আসলে, সবটা আমাদের হাতে নেই।

এখন বাংলা সিনেমায় প্রযোজকদের সংখ্যা বেড়েছে। পরিচালক হিসেবে আপনার মত?
মনোপলি জিনিসটা মোটেও ভাল ব্যাপার নয়। তা সে সিনেমা হোক বা রাজনীতি। তবে এসভিএফ বোধহয় এটা চায় না। ওদের সম্পর্কে একটা কথা বলা হয়, ওরা নাকি কাউকে উঠতে দেয় না। আমি যখন বাইরে কাজ করতাম, তখন এটা শুনেছি। তখনও জানতাম না, মণি বা শ্রীকান্ত কীভাবে কাজ করে। এখানে এসে দেখলাম ওদের কাজটা। সত্যি বলতে কী, ওদের এত সময় নেই। বিশ্বাস করুন, আমি আর সৃজিত ২০১৯ অবধি এদের সঙ্গে কাজ করছি। ভাবুন, কতটা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখে এরা।
ফেসবুকে অনেক ব্যর্থ পরিচালকই ব্যঙ্গ করে লেখেন, এসভিএফ-এর সঙ্গে কাজ না করলে নাকি পরিচালক হওয়া যায় না। প্রতিম দাশগুপ্ত বা মৈনাক ভৌমিক তাহলে কী করে হল? অন্যের সাফল্যকে নিজের অক্ষমতা দিয়ে ঢাকা উচিত নয়। আমি এখন এসবের উর্দ্ধে চলে গিয়েছি। এগুলো গায়ে মাখি না। এরাও মাখে না। ধরুন, এসভিএফ বছরে ১৫টা ছবি করে। এবং হলমালিকদের নিয়মিত ছবি দেয়। সেখানে একজন প্রযোজক একটা ছবি করে হলমালিকদের কাছে নিয়ে গেলে, হলমালিকরা এসভিএফকেই ভাল শো দেবে। কারণ, সারাবছর এসভিএফ-ই তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এটা দাদাগিরি বললে, দাদাগিরি। পাড়ায় যে ক্ষমতাশালী, সিগারেটের দোকানে গেল দোকানদার তাকেই আগে সিগারেট দেবে। এসভিএফ কিন্তু হিংসে করার মতো কাজ করে।

প্রযোজক হিসেবে এসভিএফের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবেন?
কেন নামব না? এই তো শীকান্তই আমাকে প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে বলছে। এখন যে সম্পর্কটা আমাদের মধ্যে রয়েছে, প্রযোজক হওয়ার সময়ও যদি সেটা থাকে, তাহলে আমি কখনও আমার ছবি এসভিএফ-এর সঙ্গে রিলিজ় করাব না। ওরাও তাই। এই সিদ্ধান্তটা পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকেই নেব। তবে আমি আজ যা হয়েছি, সেটা এসভিএফ-এর জন্য, সেটা ভুলে গেলে তো অকৃতজ্ঞ হয়ে যাব।

আর কী-কী কাজ করছেন?
ইন্দো-বাংলা প্রজেক্ট করছি। টেলিভিশনে রূপক সাহার ‘তরিতাপূরাণ’ নিয়ে কাজ করছি। সম্পূর্ণ অন্যভাবে কাজটা করছি। এটা আমার টেলিভিশনকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া। একদিন আমার আর অঞ্জনদার (দত্ত) কথা হচ্ছিল, অঞ্জনদা বলছিলেন, সারাক্ষণ ‘কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে’ না ভেবে নিজের জন্য কিছু করা উচিত। এভাবেই ভাল কিছু হবে। আমিও নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি। ফ্লপ হলে চলে যাব। আর ভাল হলে দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাব।

আর ব্যোমকেশ?
আমি আর অঞ্জনদা বসে ঠিক করেছি, আমার ‘ব্যোমকেশ’ এলে, অঞ্জনদার আসবে না। এ বছর অঞ্জনদা ‘ব্যোমকেশ’ করছেন না। পরের বছরও করবেন না। তবে আমার ‘ব্যোমকেশ’-এ অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করবেন। না, এটা কোনও চমক নয়। ওই চরিত্রটা অঞ্জনদা ছাড়া কেউ করতে পারবে না। তাই ওঁকে আমার দরকার।

যতদিন বাঁচব, অভিনয় করব: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

ritu1
এই প্রথমবার ছোট পরদায় ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ। ‘শুভদৃষ্টি’ সিরিয়ালে কিছু এপিসোডের জন্য আসবেন তাঁরা। রায়চকে দিন-রাত ব্যস্ত শুটের মধ্যেই কিছুক্ষণের জন্য ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে পেলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

এতদিন পর সিরিয়ালে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?
দেখুন, আমি এমনিতে টেলিভিশন থেকে একটু দূরেই থাকতে চাই। সিনেমা নিয়ে আসলে এতটা ব্যস্ত থাকি যে সময় করাটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আর সিরিয়াল তো রাউন্ড দ্য ক্লক কমিটমেন্টের ব্যাপার। ফলে নিজের কাজের স্বাধীনতাটা কমে যায়। কিন্তু এই সিরিয়ালের জন্য প্রযোজক শিবাজি পাঁজা যখন আমায় অ্যাপ্রোচ করলেন, আমি ভাবতে বাধ্য হলাম। এই সিরিয়ালে চ্যানেল অনেক নতুন ভাবনা লঞ্চ করছে। খুব প্রাইম প্রজেক্ট। আমি বরাবর নতুন ভাবনা, নতুন মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। তাই আমি আর প্রসেনজিৎ এই সিরিয়ালের প্রচারের জন্য ঝলকের মতো কয়েকটি এপিসোডে আসছি। আসলে কী নতুন সৃষ্টি করছি, এটা একটা বড় ব্যাপার। সবাই হয়তো ভাবে না, কিন্তু আমাদের মতো কিছু মানুষের অন্তত দায়িত্বটা নেওয়া উচিত।

তার মানে আপনি আর প্রসেনজিৎ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আসছেন?
অবশ্যই। এই ব্র্যান্ডের পিছনে অনেকদিন ধরে, অনেক পরিশ্রম করে, আজকের এই ব্যাপারটা তৈরি হয়েছে। সেটা আমাদের কাজের পূর্ণতা… এর আগে বোধহয় সিরিয়ালের কোনও কাজ এভাবে প্রোমোট করা হয়নি।

টিভি সিরিয়ালে নতুন কিছুর কথা বলছিলেন। কিন্তু সেট দেখে তো সেই অতিরঞ্জিত ব্যাপারটাই লাগছে।
এখানে আমার একটা বক্তব্য আছে। আজকাল মনে হয়, সিরিয়ালে যা দেখাচ্ছে, তা যতটাই অতিরঞ্জিত মনে হোক, সত্য এর চেয়ে খুব দূরে নয়। তিনটে বিয়ে, পরিবারে খুন, কিডন্যাপ… আকছার হচ্ছে। হয়তো একটু কমই দেখানো হয়। প্রেজ়েন্টেশনটা একটু মেলোড্রামাটিক… এই যা। আসলে টেলিভিশনের প্রতিযোগিতা এতটা বেড়ে গিয়েছে যে এই মেলোড্রামাটা এসেই যায়।

ritu2

তবু, সিরিয়ালের তো যথেষ্ট রিগ্রেসিভ বলেই বদনাম, তাই না?
খুব একটা ভুলও নয় কিন্তু। একটা ব্যালেন্সের অভাব কিন্তু তৈরি হয়েছে। আমরা আগে যে সিরিয়ালগুলি দেখতাম… ‘বুনিয়াদ’, ‘কচ্চি ধুপ’, ‘মালগুড়ি ডেজ়’, ‘নুক্কড়’… কমার্শিয়াল সিরিয়ালে সঙ্গে-সঙ্গে এই ধরনের কাজ হয়তো আর একটু বেশি হলে দর্শকের জন্যও ভাল।

পুরো সময়ের জন্য ছোট পরদায় আসার কথা ভাববেন কি?
না, তবে সিরিয়াল প্রযোজনা করার কথা ভাবতে পারি। কিছু কাজ আমরা ইতিমধ্যে করেছি। হয়তো পরের বছর একটা কাজ করতে পারি। আমার ইচ্ছে, ছোট-ছোট লভস্টোরি নিয়ে একটা সিরিজ় করার। সাহিত্যধর্মী একটা অনুষ্ঠান।

আচ্ছা, এখনও আপনি আর প্রসেনজিৎ যে জায়গাটা নিয়ে আছেন ইন্ডাস্ট্রিতে, সে জায়গায় তো আর কেউ উঠে আসছেন না। এর কারণ কী বলে মনে হয়?
ঠিক জানি না… প্রতিভা তো প্রচুর আছে। কিন্তু আরও বেশি ডিসিপ্লিনের বোধহয় প্রয়োজন। আসলে আমাদের ওয়র্ক কমিটমেন্টটা একটু অন্যরকম। সিনেমাটা নিয়েই বাঁচি। কত লাইক-শেয়ার হল, কত টাকা পেলাম… এটা নিয়ে একমাত্র বাঁচা নয়। সবসময় মনে হয়, সময় কম, কাজ বাকি অনেকটা। ‘রাজকাহিনি’-র সেটে সেদিন ওই বন্দুকের লড়াইয়ের দৃশ্য, ভোররাতে শুট করছি… সিউড়িতে তখন তিন ডিগ্রি তাপমাত্রা। হি-হি করে কাঁপছি। তারই মধ্যে সৃজিত (মুখোপাধ্যায়) আমায় বলল, ‘কি, বায়োস্কোপ আর করবে?’ সঙ্গে-সঙ্গে উত্তর দিয়েছিলাম, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, করব।’ আসলে আমরা একটা পোস্টার থেকে একশো হোর্ডিংয়ের যুগে এসেছি তো… সেসময়ে শুক্রবার কাগজে মাত্র একটা সিনেমার খবর বেরোত। ওই একটা পোস্টারই প্রযোজককে টাকা এনে দিত। হয়তো এখন অল্পেই অনেকটা পাওয়া যায় বলে…

‘‘যে ছবির কনটেন্ট স্ট্রং হবে, সেই ছবি দর্শকদের মন জয় করে নেবে’’

jeet4
‘বস ২’ -এর গল্প তাঁর নিজের লেখা। তাই নিয়ে বেশ উত্তেজিত তিনি। ছবির মিউজ়িক লঞ্চের ব্যস্ততার মধ্যেই কথা বললেন টলিউডের হার্টথ্রব নায়ক জিৎ। শুনলেন আসিফ সালাম

‘বস ২’-র গল্প তো আপনার লেখা?
হ্যাঁ। এই প্রথমবার আমার গল্প নিয়ে ছবি। আমি প্রার্থনা করি যাতে দর্শকের আমার গল্প ভাল লাগে। এইটুকু বলতে পারি, ‘বস ২’র কনটেন্ট ইজ় ভেরি স্ট্রং।

কিন্তু নিজের গল্প নিয়ে ছবি করার পিছনে কোনও বিশেষ কারণ?
বিশেষ কারণ কিছু নেই। আসলে ‘বস’ সাফল্য পাওয়ার পরেই আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে এই ছবির সিকোয়েল করা হবে। আমার ফ্যানরা প্রায় সময়ই আমার কাছে ‘বস’-এর সিকোয়েলের জন্য আবদার জানাত। সিকোয়েলের জন্য আমি এমন একটা গল্প চেয়েছিলাম যেটা ঠিক ‘বস’ যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকে শুরু হবে। বেশ অনেকদিন ভাবনাচিন্তার পর এই গল্পটা ডেভেলপ করে।

jeet-11

প্রেস মিটে বললেন এই ছবির ইউএসপি হল অ্যাকশন…
হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত এরকম অ্যাকশন সিকোয়েন্স বাংলা ছবিতে আগে কখনও দেখা যায়নি। আমাদের ফাইট মাস্টার অ্যালেন আমিন অসামান্য কাজ করেছে। একটি গাড়ি চেজ় সিকোয়েন্সে আমি একটি দুর্ঘটনার কবলেও পড়েছিলাম। সকলেই ভেবেছিল যে, আমার জন্য হয়তো শুটিং কয়েকদিন পিছোতে হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। ধন্যবাদ জানাই আমার সকল ফ্যানদের, যাদের জন্য আমি যে কোনও পরিস্থিতিতে, আরও ভাল কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই। ব্যাংককে ‘বস ২’-এর শুটিংয়ে আমার সঙ্গে আমার মেয়ে নবন্যাও গিয়েছিল। ও-ও ভীষণ মজা করেছে। শুধু মাঝে একটু জ্বর চলে এসেছিল কারণ জলের মধ্যে অনেকক্ষণ লাফালাফি করেছিল!

জিৎ-শুভশ্রী জুটি কিন্তু টলিউডে জুটি হিসেবে সকলের মন জয় করে নিচ্ছে।
প্রপার নায়ক-নায়িকা অর্থে, ‘বস ’-এর পর এই ছবি আমার এবং শুভশ্রীর দ্বিতীয় ছবি। এত কম সময়ের মধ্যেই আমাদের জুটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, সেটা জেনে খুব ভাল লাগে। আগেও বলেছি, আবার বলছি। শুভশ্রী ইজ় ভেরি ভেরি ট্যালেন্টেড অ্যান্ড আ হার্ড ওয়র্কিং গার্ল। আই উইশ হার অল দ্য বেস্ট।

jeet-10

ছবির মিউজ়িকও তো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে…
হ্যাঁ, আমার কানেও সেরকম খবরই এসেছে। অল ক্রেডিট গোজ় টু জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আমার অনেকদিনের পুরনো বন্ধু এবং একজন অসামান্য শিল্পী। ‘বস ২’ ইজ় অ্যাবাউট ‘জিৎ ত্রায়াঙ্গেল’। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ এবং আমি জিৎ মদনানি!

‘বস ২’-এর সঙ্গে একইদিনে মুক্তি পাচ্ছে ‘টিউবলাইট’ এবং ‘চ্যাম্প ২’।
আই উইশ এভরিওয়ান অল দ্য ভেরি বেস্ট। সত্যি বলতে, ‘টিউবলাইট’-এর সঙ্গে আমাদের কোনও তুলনাই হয় না। ওদের স্কেল অনেক হাই। তবে আমার ছবি নিয়ে আমি খুবই কনফিডেন্ট। আমি বিশ্বাস করি, সব কিছু নির্ভর করছে কনটেন্টের উপর। যে ছবির কনটেন্ট স্ট্রং হবে, সেই ছবি দর্শকদের মন জয় করে নেবে। ২৩-শে জুন, সকলে মিলে হলে গিয়ে ‘বস ২’ দেখুন। আমার বিশ্বাস, আপনারা কেউ নিরাশ হবেন না।
jeet-1

‘‘আমি না নিলে ঝুঁকিটা নেবে কে?’’

‘চ্যাম্প’ -এর মিউজ়িক লঞ্চে এক অদ্ভুত সমাহার! এ ছবিতে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-অনুপম রায়-অরিজিৎ সিংহ-অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়-শ্রীজাত-রাজা চন্দ-মুম্বইয়ের জনপ্রিয় র‌্যাপার রফতার… সবাই কাজ করেছেন এ ছবির সঙ্গীতে! আছেন তিন নিউ কামারও। সেই মিউজ়িক লঞ্চের পর, অভিনেতা-প্রযোজক দেবের মুখোমুখি ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়
dev1
মিউজ়িক লঞ্চের সময় কেঁদে ফেলছিলেন… কী চলছে মনে? আবেগ, আনন্দ নাকি ভয়?
সবই। কারণ মিউজ়িক লঞ্চটা যে হল, সেটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। এই ছবিটার কাজ যেদিন শুরু করেছিলাম, তা প্রায় দু’-আড়াই বছর আগে হবে… আমার কাছে কিছুই ছিল না। রাজকে যখন আমি ছবিটার দায়িত্ব নিতে বলি, ও জিজ্ঞেস করেছিল আমার কাছে টাকা বা সময় আছে কিনা। আমি বলেছিলাম, কোনওটাই নেই। শুধু এফর্টটা দিতে পারি সবাই মিলে। অবশেষে আজ কাজটা শেষ হল। তাই প্রত্যেকটা মানুষকে আমি জিজ্ঞাসা করছি, কেমন লাগছে।

চ্যাম্প-এ কিন্তু দেবকে একদম অন্যরকম লাগছে। দেব প্রযোজক বলেই কি অভিনেতা দেব নিজেকে আরও ঢেলে দিয়েছে?
আমি কিন্তু সেই ‘চাঁদের পাহাড়’ থেকেই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি। ‘বুনোহাঁস’ বা ‘জ়ুলফিকর’ দেখুন… ব্যাপারটা এই যে এই ছবিতে আমি নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটাও অনেক বেশি পেয়েছি। বরাবরই অনেক কিছু করার ইচ্ছে ছিল আমার। dev2কিন্তু সুযোগ… আমি তো প্রযোজকদের কাছে গিয়েছি, কেউ আমায় ব্যাক করেনি বলেই তো আমি প্রযোজনায় এলাম। সবার কাছে নিজেকে প্রমাণ করার একটা তাগিদ তো থাকে? ‘ডু অর ডাই’ সিচুয়েশন। যে হ্যাঁ, বাংলা ছবিতেও এরকম করা যায়। কমপ্লিট মেকওভার আনা যায়। ছবির একটা বড় অংশে আমার ওজন ১০৭ কেজি। ভুঁড়ি নিয়ে ফাইট। সেখান থেকে টোন করে, সিক্স প্যাক এনেছি।

এ ছবির বোধহয় শুরু থেকে শেষ, সবটাই দেব…
আসলে কী বলুন তো, গল্পটা আমার লেখা বলে পুরোটা আমার কাছে খুব ক্লিয়ার ছিল। কেমন কাস্টিং করতে হবে, কোথায় কোন গানটা ফিট করবে, কী ধরনের মিউজ়িক চাই… সবটাই। ইন ফ্যাক্ট, আপনি আজ প্রেস-কনে কী খাবেন, সেটাও আমি ঠিক করেছি। কোনও জিনিসে কোনও খামতি রাখিনি। প্রত্যেকটা বাড়িতে ছবিটাকে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। সিইএসসি যেমন এক্ষেত্রে বিরাট সাহায্য করেছে। তিন মাসের প্রতিটা বিলে ‘চ্যাম্প’ ফ্ল্যাশ্‌ড হয়েছে।

আজ যাঁরা-যাঁরা স্টেজে বসে আছেন, সেই কম্বিনেশনটাও তো…
মারাত্মক! এটা আমার বিরাট গর্ব যে হ্যাঁ, এদের এক করা হয়তো আমার পক্ষেই সম্ভব ছিল। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রথম কারও সঙ্গে বাংলায় অ্যালবাম শেয়ার করলেন।

কেরিয়ারের এই সময়ে প্রযোজনার ঝুঁকিটা তো বেশ বড়ই…
একদম। বিরাট রিস্ক।

dev3তাহলে নিচ্ছেন কেন?
আপনি আমায় আর একটা নাম বলুন, যার পক্ষে এই ঝুঁকিটা নেওয়া সম্ভব ছিল। এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আমার একটা দায়িত্ব আছে তো? আজ যখন বাংলায় ‘বাহুবলী ২’ রমরমিয়ে চলে, আমার কি হিংসে হয় না? বাঙালি দর্শক একে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করছেন, ‘‘‘বাহুবলী ২’ দেখেছিস? কী ছবি বানিয়েছে! এখানে তোরা কী করছিস?’’ আমার গায়ে লাগে না? সেখান থেকে ধরে নিন, আমার সম্মানরক্ষার্থেই এই ছবিটা করা। যাতে বাঙালি দর্শক অন্তত একঘণ্টা আলোচনা করতে পারে যে এখানেও একটা ছেলে আছে যে সাহস দেখাতে পারে। তার কাছে করণ জোহর নেই তাই…

প্রিমিয়ারের প্ল্যান কী?
করছি না। ফ্রি-তে আমি কাউকে এ ছবি দেখাব না। সবাইকে কষ্ট করে ডাকব, ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করব, তারপর দশজন দশরকম কথা বলবে। আপনারা তো আমার পরিশ্রম দেখতে পাচ্ছেন। আপনাদের কি কর্তব্য নয় সেটুকুকে সম্মান করে ৫০-১০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সিনেমাটা দেখা? আমি তো সেটাই দেখতে চাই যে এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ, বাংলা ছবির দর্শক বাংলা ছবির পরিশ্রমকে টাকা দিতে চায় কিনা। ‘বাহুবলী’ তো অনেক টাকা খরচ করেও আমরা দেখেছি।

দেবের পরবর্তী পরিকল্পনা কী? ইন্ডাস্ট্রির জন্য এভাবেই নতুন কিছু করে যাওয়া?
আমি তো এটুকুই পারি। অন্য কিছু শিখিওনি আর এ ছাড়া কিছু করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

dev-1

‘‘মহিলাদের সম্মান করাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এর জন্য উইমেনস ডে সেলিব্রেট করার কী প্রয়োজন?’’

 ‘দুর্গা সহায়’-এর ফার্স্ট লুক লঞ্চ অনুষ্ঠানের জন্য দক্ষিণ কলকাতার এক নামী পুস্তক বিপণীতে নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত তনুশ্রী চক্রবর্তী। প্রেস কনফারেন্স শুরুর আগে কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। শুনলেন স্বর্ণাভ দেব  

‘দুর্গা সহায়’ ছবিতে তো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আপনাকে দেখা যাবে…
হ্যাঁ, আমার চরিত্রের নাম মানসী। সে বাড়ির বউ। তার মধ্যে একটা অভিজাত ব্যাপার রয়েছে। মানসী পজ়িটিভ চিন্তাভাবনা করে। সে-ই দুর্গাকে গড়ে তোলে। ব্যস, আর কিছু বলব না, বাকিটা জানতে হলে ছবিটা দেখতে হবে।

এই ছবির পরিচালক অরিন্দম শীল বলছিলেন, ‘‘এই ছবিতে একেবারে অন্যধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তনুশ্রীকে’’…
এটা পুরোটাই অরিন্দমদার জন্যই সম্ভব হয়েছে। কারণ, একজন পরিচালকই পুতুলের মতো চরিত্রগুলি গড়ে তোলে। সেদিক থেকে বলা যায়, আমার অভিনয় যদি দর্শকদের ভাল লাগে তার পুরো কৃতিত্বটাই অরিন্দমদার। উনিই আমার ভিতর থেকে অভিনয় বের করে এনেছেন। সেদিক থেকে আমাকে ডিরেক্টরস অ্যাকট্রেস বলতে পারেন।

আপনি নাকি মনে করেন, এই ইউনিটের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা একেবারেই স্বতন্ত্র?
সত্যিই। সেটে পরিবেশটা একেবারেই যেন বাড়ির। সারাদিন হট্টগোল, আড্ডা চলছে। শুটিং তো আছেই তার পাশাপাশি আমাদের খাওয়াদাওয়া… সব মিলে এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। আমাদের ১৭ দিনের শেডিউল সত্যিই মনে থেকে যাবে।
tanushree-interview-2

এই ছবিতে তো সোহিনী সরকারও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ওঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
শুধু সোহিনীর কথা কী বলব, এই ছবির প্রত্যেক অভিনেতাই শক্তিশালী। বাবানদা (কৌশিক সেন), দেবযানীদি (চট্টোপাধ্যায়), ঋক (ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়)… সকলের সঙ্গে কাজের সুযোগটাই অসাধারণ।

ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই বলছেন, তনুশ্রী দিনে-দিনে ক্রমাগত সুন্দরী হয়ে উঠছেন… এর সিক্রেট কী?
এর কোনও আলাদা সিক্রেট কী বলি! আসলে আমার মা যেভাবে আমাকে বড় করে তুলেছেন সম্পূর্ণ ক্রেডিটটাই ওঁর। এর পাশাপাশি পরিচালকদের কথা বলতে হয়। পরিচালকরাই তো তাঁদের মনের মাধুরী মিশিয়ে চরিত্রগুলি গড়ে তোলেন। সেজন্যই নায়িকাদের স্ক্রিনে এত সুন্দর দেখায়। তবে সত্যি বলতে আমি আয়ুর্বেদিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। আর অর্গ্যানিক ফুড খাই। এটাই হয়তো সৌন্দর্যের রহস্য!

আপনি তো মডেলিং থেকে অভিনয়ে এসেছেন। আবার কি মডেলিংয়ে ফেরার ইচ্ছে রয়েছে?
হোয়াই নট? ভাল প্রস্তাব পেলে তবেই ভাবব। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করলাম। আবার ভাল সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই মডেলিং করব।

কাজের থেকে বিরতি নিয়ে আপনি নাকি কিছুদিন পরেই কানাডা ও ইউএসএ টুরে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ। তবে সেটাও কাজের সূত্রেই। ব্যাপারটা খুলেই বলি। আমি একটি পার্লারের সঙ্গে যুক্ত। সেই ব্র্যান্ড ইউএসএ এবং কানাডাতেও লঞ্চ করা হবে শীঘ্রই। সেই উপলক্ষেই যাচ্ছি। কানাডা, লাস ভেগাস ও আরও কয়েকটি জায়গায় যাব। তবে সুযোগ পেলে ঘুরতেও বেরিয়ে পড়ব।

এখন তো আপনার রেস্তোরাঁ নিয়েও খুব চর্চা হচ্ছে…
শুধুমাত্র ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নয়, আমি তো খাওয়াতে ভালবাসি বলেই রেস্তোরাঁ খুলেছি। আমি চাই সকলে আমার রেস্তোরাঁয় আসুক। বার্গার, স্টেক, এশিয়ান কুইজ়িন, থাই স্পেশ্যাল, লেবানিজ়… প্রভৃতি নানাধরনের খাবার রয়েছে। আমি নিশ্চিত, এখানকার খাবার সকলের রসনা তৃপ্তি করবেই।

সম্প্রতি উইমেনস ডে পালিত হল। এই বিশেষ দিনটি সম্পর্কে আপনার কী অভিমত?
আমি কোনও একটা দিন উদযাপনে বিশ্বাসী নই। আমরা তখনই মহিলাদের রেসপেক্ট দিতে পারব, যখন ইকুয়ালিটির কিংবা হিউম্যানিটির কথা বলতে পারব। মহিলাদের নিরাপত্তা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু সমস্যা হল, কিছু মানুষ নিয়ম ভাঙে। সত্যি বলতে মানুযকে যথার্থ সম্মান দেওয়াটা জরুরি। যেহেতু মহিলাদের মধ্যে মায়ের সত্তা রয়েছে, তাই মহিলাদের সম্মান করাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার দরকার আছে কি?

Interview | Tollywood Actress | Tanusree Chakraborty | Durga Sohay | Bengali Movie

‘‘আমি অতটাও ডেসপারেট নই!’’: প্রিয়ঙ্কা সরকার

Priyanka-big

ডুয়ার্সের জঙ্গলে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘ছায়া ও ছবি’র শুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার। সন্ধে সাতটা থেকে পরেরদিন দুপুর সাড়ে এগারোটা অবধি ল-ম-বা ঘুম দিয়ে ওঠা অভিনেত্রীকে ধরা গেল ঠিক ফ্লাইট ধরার আগে। তাতেও আড্ডা হল যথেষ্টই। সঙ্গী থাকলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

 
এত লম্বা ঘুম? এখনও ক্লান্ত দেখাচ্ছে। শরীর খারাপ নাকি?
আরে, এই ছবিটার জন্য এই নিয়ে তিনবার উত্তরবঙ্গে আসা-যাওয়া করলাম। এর আগে শুট করেই কলকাতা ফিরেছি, শুট করেছি। তারপরই এখানে এলাম। এবার ট্রেনে এসেছি। ট্রেনে আবার আমার ভাল ঘুম হয় না। এসেই মেক-আপ করে শুটিংয়ে চলে গিয়েছি। এই এতবড় পেন্ডিং ঘুমটা বোধহয় এখন হচ্ছে। তবে এই পরিশ্রমটা ভাল। টাচ উড, যেন থাকেও। দুশ্চিন্তা থাকে শুধু একটাই, সহজ (প্রিয়ঙ্কার পুত্র)।
 
এমনিতে সহজকে শুটিংয়ে নিয়েই যান?
দু’-একদিনের শুট হলে ওকে নিয়ে আসি না। এবার সেটাই হয়েছে। এমনিতে ও এখন অনেকটাই বোঝে। কিন্তু জানে, মা রাতে ফিরবেই। তাই সকালটা আমায় খুব মিস করে, ঘ্যানঘ্যান করে খুব।
 
কাল দেখলাম আপনাকে চালসার জঙ্গলে। শুটিং সিকোয়েন্সে ঘোড়ায় চড়ে, বর্ম-টর্ম পরে… ব্যাপারটা বোঝাবেন?
এই ছবিতে ‘ফিল্ম উইদিন আ ফিল্ম’-এর একটা ব্যাপার আছে। সেটারই একটা সিকোয়েন্স ওটা। ছবিতে আমার চরিত্র মউ। সে এখনও বড় স্টার হয়ে ওঠেনি। লিডিং অভিনেত্রী (যে চরিত্রটি কোয়েল করছেন) রাইকে দেখে সে হয়তো একটু হিংসেই করে। প্রশ্ন করে, স্টারের ট্রিটমেন্ট এত আলাদা কেন।
 
ব্যাপারটি একটু বাস্তব জীবনেও মিলে যাচ্ছে কি? প্রিয়ঙ্কা একটা সময় স্টার ছিলেন। তারপর বেশ কিছুদিন তাঁকে দেখা যায়নি। স্টারডমে ফেরার পথটা তো সামনে অনেকটাই লম্বা! তা ছাড়া, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই বলছেন প্রিয়ঙ্কাকে একদম অন্য ফর্মে এখন দেখা যাচ্ছে। অনেক সাহসী, অনেক ইস্পাত কঠিন। বর্ম পরে কি সেই মোডেই ঢুকে গিয়েছিলেন?
দেখুন, রিলেট করতে না চাইলেও, কিছু জিনিসে রিলেট করাই যায়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা, একজন নতুন অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রোডাকশনের ব্যবহার আর স্টারের সঙ্গে ব্যবহারে হাজার-হাজার গুণ তফাত থাকে। আমি যখন ক্লাস সিক্সে কাজ শুরু করেছি, বা তারপরেও… ধরুন, লাঞ্চে যা দিল তো দিয়ে দিল। তার বাইরে এক পিস বেশি মাছ চাইলে, হয়তো অপমানই করে দেবে! এটা এই ছবির ক্ষেত্রে হচ্ছে বলছি না, কিন্তু সাধারণত এরকমই হয়ে থাকে। আর নতুন ফর্মের কথা বা স্টারডমের কথায় বলি… আমি এতদিন নিজেই নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলাম। আসলে সহজের জন্মের পর আমার যা চেহারা হয়েছিল, আমি টাইপকাস্ট হয়ে পড়তাম। এখন নতুন করে তৈরি হচ্ছি, নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করছি।
 
এটাকে তাহলে সেকেন্ড ইনিংস হিসেবেই দেখছেন?
ঠিক তা হয়তো নয়। আমি তো কাজ করছিলামই। তবে এটুকু বলব, সহজকে যদি জীবন ধরি… সহজের পরই এখন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রায়োরিটি হল কাজ। সেকেন্ড ইনিংস না হলেও, কাজে যে আবার মন দিয়েছি, তা তো ঠিকই।
 
কাজ থেকে দূরে থাকার একমাত্র কারণ তাহলে সহজ?
একদমই। আর কোনও ব্যক্তিগত কারণ নেই।

Priyanka-big2.pg

অনেকে কিন্তু বলছেন, প্রিয়ঙ্কা যেহেতু নতুন করে শুরু করছে, সব কাজই ও করবে…
না, আমি অতটা ডেসপারেটলি কাজ করব না। আমি কাজ করতে ভীষণ ভালবাসি। কিন্তু সেটা প্রশ্রয় দেওয়াটা উচিত হবে না। বুঝে গিয়েছি, একটু বেছে কাজ করতেই হবে। আমার বেশ কয়েকটি ছবি রিলিজ়্‌ড হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি ভাল হলে অডিয়েন্সের একটা এক্সপেক্টেশন তৈরি হয়। টানা কাজ করলে সেই জায়গাটা একেবারেই রাখতে পারব না। দশজন পরিচালক কাজের অফার দিলে, তাঁদের মধ্যে যে দু’জন ভাল, তাঁদেরটা আমায় বেছে নিতে হবে। সেজন্যই রাজদা (চক্রবর্তী), রাজাদা (চন্দ), কৌশিকদার (গঙ্গোপাধ্যায়) কাজ করছি। ওদিকে মার্চে বাংলাদেশী একটি ছবিতে কাজ করব। ওতে লাভ হবে এই, আমি বেশ কিছুটা ফিনানশিয়াল সিকিয়োরিটি পাব। যার ফলে আর একটু সময় নিয়ে কাজের ব্যাপারে ভাবতে পারব।
 
লুক চেঞ্জ, ইমেজ চেঞ্জের ব্যাপারটা কনশাসলি করছেন? অনেকটা ওজন কমিয়েছেন। তাছাড়া একসময় ছিলেন বাবলি ‘স্কুলগার্ল’, তারপর ‘মা’… এই মুহূর্তে আবার খুব ‘গথিক’ দেখাচ্ছে। অল্প ঘসে যাওয়া কাজল, গ্রে টি-শার্ট, ব্ল্যাক ডিসট্রেস্‌ড জিন্‌স…
মনটাই ভাল করে দিলেন আমায় ‘গথ’ বলে। ছোটবেলা থেকে ওটিই আমার প্রিয়তম লুক কিনা! আমার ওয়র্ডরোবে চোখ চালালে শুধুই কালো রংয়ের সমাহার। বাকি লুক চেঞ্জের ব্যাপারটা এই, আমায় যদি ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন চরিত্র পেতে হয়, ওজনটা কমাতেই হবে। কারণ স্ক্রিনে পাঁচ-ছ’ কেজি এমনিতেই বেশি দেখায়। তাই পুরো গ্রীষ্মকালটা আমি সাঁতার কেটেছি, হাঁটছি রোজ, ডায়েট করছি মন দিয়ে… এখনও অবশ্য আগের শেপটায় ফিরিনি পুরোপুরি।
 
কাজের কথা এত বললেন, কমার্শিয়াল ছবিতে লিড হিসেবে আসবেন না?
অনেস্টলি, সেরকম কোনও অফার এখনও পাইনি। পেলে, ভাবব। এখন যে চরিত্রগুলি করছি, একটু অন্যরকমই।
 
কাল ঘোড়ায় চড়লেন। এই কি প্রথমবার? না ট্রেনিং ছিল?
ছোটবেলায় বোধহয় দীঘায় একবার ঘোড়ায় চড়েছিলাম! তারপর এই… ফলে ট্রেনিংয়ের কোনও গল্প নেই। বরং ঘোড়াটা শেষ ‘ব্যোমকেশ’ ছবিটায় ছিল। ফলে ওর ট্রেনিং আছে কিছু!
 
সে কী! ঘোড়ার পিঠে আপনাকে দেখে তো এমনটা মনে হল না!
হুঁ… আসলে আমি খুব ভাল অভিনেত্রী তো, তাই টেনশনটা ঢেকে রাখতে পেরেছিলাম! তাছাড়া ঘোড়া আমার প্রচণ্ড প্রিয় একটি পশু। ছোটবেলায় তো ফ্যান্টাসি ছিল, একটা ঘোড়া পুষবই। তাই সব মিলিয়েই হয়তো…
 
আপনাকে নিয়ে কোনও নতুন গসিপ কানে এসেছে?
না, কিন্তু প্লিজ় আপনারা শুনলে আমায় বলবেন। আমি শুনে মজা পেতে চাই।
 
রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে কোনও গসিপ হয়নি? কারা যেন বলছিল…
এ কী! প্লিজ় এরকম করবেন না! রাজদার তো বিয়ে এবছর। বিয়েটা অন্তত হতে দিন! অবশ্য আমি কিন্তু বিয়ে নিয়ে কিছু কনফার্ম করছি না। আমিও সব কথা মিডিয়ার মাধ্যমেই জেনেছি। বিয়ের আশেপাশেও কোনও কথা কখনও রাজদার সঙ্গে হয়নি। তবে রাজদাকে নিয়ে আমার সঙ্গে কোনও লিঙ্ক-আপ, আমি একেবারেই শুনতে চাই না।
 
সিনেমায় কাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন?
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাউকেই মনে হয় না। তবে আমার খুব হিংসে হয় জেনিফার লরেন্স এবং আলিয়া ভট্টকে দেখে। ওদেরও বয়স আমারই মতো, ২৬ বছর। অথচ ওরা নিজেদের ভাঙার কত সুযোগ পায়! তার সঙ্গে ওদের নিজেদের ভাঙার সেই ক্ষমতাটাও আছে। ‘উড়তা পঞ্জাব’ দেখুন, কী অভিনয় করেছে আলিয়া। আমার এটাও প্রশ্ন, সুযোগ পেলেও আমি কাজটা করতে আদৌ পারব কি না!

“আমি টিপিক্যাল গ্ল্যামারগার্ল নই!”: কায়রা দত্ত

মুম্বইয়ে ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’-এ শুরু করে, কলকাতায় কায়রা দত্ত পা দিলেন ‘জ়ুলফিকর’-এ অভিনয় দিয়ে! তাঁকেই একটু চেনার চেষ্টায় তাঁর মুখোমুখি হলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়।

kayra-big

রেস্তোরাঁয় ইন্টারভিউ। এসেই আপনি খাবার খুঁজছেন! আপনি না গ্ল্যামার মডেল! রেজিমের কী হবে?
ও শিট! ধরা পড়ে গিয়েছি! দেখুন, রেজিম তো আছেই। কিন্তু আমি ফুডি। আর এতদিন পর কলকাতায় এসে ডায়েট করা সম্ভব না। মা অসাধারণ রান্না করেন। তাছাড়া মুম্বইয়ের তুলনায় কলকাতার খাবার অনেক ভাল। তা সে রেস্তোরাঁরই হোক, বা রাস্তার। ফলে এখানে ডায়েট মেনটেন করা সম্ভব না মোটেই। জিম মেম্বারশিপ নেওয়া আছে। পেটপুরে খেয়ে নিই! সকালে জিমে দৌড়ব!

কলকাতায় এতদিন পর মানে… আপনি মুম্বইয়েই বড় হয়েছেন?
না, আমার স্কুলজীবনটা কলকাতাতেই কেটেছে। লা মার্টিনিয়রে আমার স্কুলিং। তখনই মডেলিং শুরু করি। কলকাতায় তো পুরো ব্যাপারটাই পরিবারের মতো। ‘অ্যাই, গয়নার শুট আছে, চলে আয়,’ বলে ডেকে নেয়! এই ছোট্ট মেয়েটা এভাবেই সব জায়গায় বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট করে বেড়াত। কলেজে পড়তে যাই মুম্বইয়ে। মডেলিংয়ের ইচ্ছেটা ছিলই। তবে শিয়োর ছিলাম না খুব একটা। যা-ই হোক, মুম্বইয়ে গিয়ে মডেলিংটা আরও সিরিয়াসলি শুরু করি। তারপর অভিনয়ের পোকাটা কামড়ায়। ওখানে অশ্বিন গিদওয়ানি প্রোডাকশনে নাটক করেছি বেশ কয়েকদিন। তারপর অনুপম খেরের অ্যাকাডেমি থেকে কোর্স করি। সিদ্ধান্ত নিই যে অভিনয়টাই করব। মডেলিং আর নয়!

দাঁড়ান দাঁড়ান… আপনি অভিনয় শিখেছেন! এ কী! ইমেজ ভেঙে যাচ্ছে তো!
এ বাবা! সবাই জেনে গেল! আসলে মডেলদের বিষয়ে কিছু স্টিরিয়োটাইপ থাকেই। এরা শুধুই গ্ল্যামার দেখাবে, অভিনয় পারবে না! আমি মোটেই টিপিক্যাল গ্ল্যামার গার্ল নই। মুম্বইয়ে থাকি বলেই বাংলা বলতে পারে না, বুঝতেই পারছেন এই ধারণাও আমার ব্যাপারে চলবে না!

এগজ়্যাক্টলি! লা মার্টিনিয়রে পড়া ট্যঁাশ মেয়ে…
হাঃ হাঃ! সত্যি! আমি একেবারেই ‘ট্যঁাশ’ নই। আর আমার আশা, আমি এরকমই থাকব বরাবর।

kayra-small
‘জ়ুলফিকর’-এ তো আপনি আলবিনা, ওরফে অক্টেভিয়া! কীভাবে কাজটি পেলেন?
প্লেন লাক! ‘ক্যালেন্ডার গার্লস’-এর পর যখন কলকাতায় প্রচারে এসেছিলাম, বলেছিলাম একটা বাংলা সিনেমা করব। কিন্তু ভাবিনি সেটা এত তাড়াতাড়ি হবে এবং তা-ও এমন স্কেলে। সৃজিতস্যার (মুখোপাধ্যায়) যখন আমায় ফোন করেন, তখন আমি মুম্বইয়ে। এমন অফার পেয়ে না বলার তো প্রশ্নই ছিল না। তাছাড়া আমার লুকটা এমন, সবাই আমায় গ্ল্যামারাস রোল অফার করে। কিন্তু এই ছবিতে আমি একেবারেই ডিগ্ল্যাম। সেটাও খুব ইন্টারেস্টিং…

এমন কাস্ট, ভয় করেনি?
আমি মুম্বইয়ে দুটো সিনেমা করেছি বটে, কিন্তু এটা আমার প্রথম বাংলা সিনেমা। এমন কাস্ট, আর আমি একমাত্র নিউকামার। বাংলা সিনেমা দেখা শুরুই তো করলাম খুব সম্প্রতি। ফলে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক! কিন্তু এখানে এসে দেখলাম সবাই প্রচণ্ড কাইন্ড। এমন করে আপন করে নিল, এটাই বোধহয় বাঙালি ওয়ে। প্রথম ছবিতেই এতকিছু পেলাম! বললাম না, দারুণ লাকি!

এত লাকি হওয়ার কারণ কী বলুন তো?
ভাবতেই বা যাব কেন? টাচউড! আমার মনে হয় এটা বিগিনার্স লাক! যেন এরকমই থাকে!

আপনার বয়ফ্রেন্ড কোথায় থাকেন? কলকাতা না মুম্বই?
ও মাই গড! দেখলেন, আপনি ধরেই নিলেন আমি ট্যঁাশ গার্ল, তা-ও উইথ আ বয়ফ্রেন্ড! আমি কিন্তু সিঙ্গল!

সব সেলেব্রিটিরা যেমন বলে?
না না, আমার সত্যিই বয়ফ্রেন্ড নেই। এবার কলকাতায় খুঁজব, যদি কাউকে পাই!

আপনার হাতের ট্যাটুতে ওটা কী? ‘ফেথ’!
আমি নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখার চেষ্টা করি। আশা করি এই বিশ্বাসটাই আমায় টিকিয়ে রাখবে! বয়ফ্রেন্ড পাওয়ারও বিশ্বাস রাখছি কিন্তু!

প্রসেনজিত্-রাইমার আড্ডা

আজই মুক্তি পেল প্রসেনজিত্-রাইমা অভিনীত ‘ক্ষত’। সেই ছবি ও নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলাপচারিতায় মাতলেন প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়রাইমা সেন

সাক্ষী থাকলেন স্বর্ণাভ দেব

prasenjit-1-new

প্রসেনজিত্ এই মুহূর্তে তো আপনি স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন…‘শঙ্খচিল’, ‘প্রাক্তন’, ‘মহানায়ক’…
প্রসেনজিত্: আপনি দেখবেন এই প্রতিটি ছবির টার্গেট অডিয়েন্স আলাদা। বিভিন্ন ধরনের ছবিতে আলাদা-আলাদা চরিত্রে আমার অভিনয় যে মানুষের ভাল লেগেছে এটা বড় পাওনা। এক কথায় বলতে পারি আই অ্যাম ব্লেসড। অভিনয়টা ছাড়া আমি তো অন্য কিছু করতে পারি না। ৩৫ বছর কাজ করার পরেও মানুষের ভালবাসা আমার সঙ্গে রয়েছে। এটা বিরাট পাওয়া। কখনও বলি না, আমি প্রতিভাবান অভিনেতা কিন্তু হলফ করে বলতে পারি পরিশ্রমে কোনও ফাঁক রাখি না। ইশ্বরও হয়তো সেটা বুঝতে পারেন। প্লিজ় প্রার্থনা করুন, এই ফর্ম যেন বজায় রাখতে পারি। সকলে আমার কাজ দেখেন। আমাকে ভালবাসেন।

 

‘ক্ষত’ তেও তো আপনার অন্যরকম চরিত্র…
প্রসেনজিত্: হ্যঁা, এরকম চরিত্র খুব একটা দেখা যায় না। চ্যালেঞ্জিং শব্দটা বলতে চাই না। কিন্তু সত্যি খুব ডিফিকাল্ট ক্যারেকটার। এই ছবিতে আমি একজন লেখকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাম, নির্বেদ লাহিড়ি। ডার্ক গল্প লেখেন। ভীষণ জনপ্রিয়। আমরা সমাজের নিয়মের মধ্যে বাধা থাকি। কিন্তু কিছু মানুষ প্রথাগত ছক না মেনে চলে নিয়ম ভাঙতে চায়। নির্বেদ লাহিড়ি বলেন, ‘আমি আজকে যা লিখি লোকে সেটাই কাল করে।’ বোল্ড ক্যারেক্টার। সে মনে করে, খিদে পেলে যেমন খাবার খাই, তেমনই ওর মনে হয় যেটা করতে ইচ্ছে হচ্ছে সেটা করবই।

prasenjit-2

এই ছবির প্রস্তাবটা নাকি অনেক দিন আগেই পেয়েছিলেন?
প্রসেনজিত্: ঠিকই। কমলেশ্বর (মুখোপাধ্যায়) আমাকে প্রায় আট-ন’ বছর আগে ‘ক্ষত’র স্ক্রিপ্ট শুনিয়েছিলেন। সেই সময়ে ডাক্তারি ছেড়ে এসে সবে এখানে কাজ শুরু করেছে। আমি বলেছিলাম, ছবিটা অবশ্যই করব। কিন্তু একটু অপেক্ষা কর। কারণ, এই সাবজেক্ট সেই সময় দর্শকদের রিলেট করা কঠিন হত। এতদিনে দর্শকরা অনেক তৈরি হয়ে গিয়েছেন। এতদিনে ছবির আঙ্গিকও অনেকটাই বদলেছে। মাঝের সময়টায় অভিনেতা, পরিচালক, কাজের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর কমলেশ্বরের কাজ করার সবচেয়ে সুবিধে হল ও অ্যাক্টরস ডিরেক্টর।

সম্প্রতি আনন্দলোক-এ পাওলি বলেছেন, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়কে এত বোল্ড এর আগে দেখা যায়নি…
প্রসেনজিত্: আমার মনে পড়ে না বাংলায় এরকম দুঃসাহসিক চরিত্র দেখেছি বলে। বিদেশি ছবিতে অবশ্যই দেখেছি। কিন্তু ভারতে ইরোটিক থ্রিলার খুব কমই হয়েছে।

 

আপনি কি মনে করেন টলিউডে এই ছবি একটা নতুন দিক খুলে দেবে?
প্রসেনজিত্: আমি সেভাবে বলব না। কিন্তু ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর আগে ওই ধরনের ছবি কি এখানে দেখা গিয়েছে? ‘তিন ইয়ারি কথা’ রিলিজ় করতেও আমার তিনটে বছর সময় লেগেছিল। দিনে-দিনে সিনেমার ভাষা পাল্টাচ্ছে। সেখানে আমরা কেন বাধা গতে বাধা পড়ে থাকব? আমি এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে থাকি। সেক্সুয়ালিটি, শরীর, দেহ যদি স্ক্রিপ্টে ডিম্যান্ডে করে তাহলে সেটা তুলে ধরতেই হবে। দর্শকরা তো ওয়র্ল্ড সিনেমা দেখেনই। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে যদি হাফ হার্টেড সিনেমা করা হয় সেটা আমাদের অন্যায় হবে। সৃজিতের সাহস ছিল বলে ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর মতো ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছিল। মানুষ তো অ্যাকসেপ্ট করেছিলেন।

 

আচ্ছা, রাইমা আপনার চরিত্রটা সম্পর্কে বলবেন?
রাইমা: এই ছবিতে আমি নির্বেদ লাহিড়ি স্ত্রী সৃজিতার চরিত্রে অভিনয় করছি। একজন শিক্ষিত মহিলা। নির্বেদ লাহিড়ির সঙ্গে ওঁর ইন্টেলেক্ট মেলে বলেই দু’জনে বিয়ে করেছে।

 

এই ছবিতে আপনার আর পাওলির সম্পর্কটা কী?
রাইমা: ছবিতে পাওলি আমার ছোটবেলার বন্ধু। পাওলির সঙ্গে রাহুলের বিয়ে হয়। একসময় গিয়ে বোঝা যাবে না পাওলির চরিত্রটা সত্যিই কোনও বাস্তব চরিত্র নাকি নির্বেদ লাহিড়ির ক্রিয়েশন। বেশ জটিল ব্যাপার।
প্রসেনজিত্: সৃজিতার চরিত্রে অনেক ডায়মেনশন রয়েছে। এখানে সে তার বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাচ্ছে। খুব শক্ত মনের মহিলা। অন্যদিকে স্বামীর প্রতিও তার অগাধ প্রেম রয়েছে। বাকিটা জানতে সিনেমাটা দেখতে হবে।

prasenjit-34

এতদিন কাজের পরে আপনাদের দু’জনের কেমিস্ট্রিটা কতটা দানা বেঁধেছে?
প্রসেনজিত্: ‘অটোগ্রাফ’-এর পরে দু’-একটা ছবি বাদ দিলে (‘অপরাজিতা তুমি’, ‘প্রাক্তন’) দেখবেন আমার ছবিতে কোনও নায়িকা নেই। এই ছবির কাস্টিং নিয়ে যখন বসা হয়, প্রথমেই আমাদের মাথায় রাইমার নাম আসে। কমলেশ্বরও মনে করেছিল বুম্বাদার পাশে একজন শিক্ষিত স্ত্রীয়ের চরিত্রে রাইমাই সবচেয়ে অ্যাপ্রোপিয়েট। একটা সময়ে টলিউডে জুটি বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন চরিত্র অনুযায়ী কাস্ট ঠিক করা হয়। ‘প্রাক্তন’-এ দেখবেন আমার স্ত্রী হিসেবে অপাকে (অপরাজিতা আঢ্য) দুর্দান্ত মানিয়েছে। একটা সময়ে তো আমি রোম্যান্টিক হিরো ছিলাম। তখন আমার স্ত্রী হিসেবে কেউ অপাকে ভাবতে পারতেন? কিন্তু আজকে বিষয়টার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শিবুকে (শিবপ্রসাদ) বলেছিলাম, এমন কাউকে কাস্টিং কর যে অসামান্য অভিনেত্রী। সেই সুবাদেই অপাকে নেওয়া হয়েছিল। আজ দেখুন তার ফলাফল। এখন গুরুত্বপূর্ণ, কোন চরিত্রে কাকে মানাচ্ছে? অভিনয়টাই মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এই ছবিতেও রাইমা, পাওলি নিজেদের চরিত্রে মানানসই। ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর শেষ দৃশ্যে তো আমি সাহস করে পরমকে সংলাপটা বলেছিলাম, ‘আমার ছেলে থাকলে তোমার মতো পুলিশ অফিসার হত’, তার মানে কি আমি বাবা হয়ে গেলাম? তারপরেও তো ‘প্রাক্তন’-এ কাজ করেছি। ‘জাতিশ্মর’-এ কুশল হাজরার ওরকম গেট আপ করার পরে ফের নায়ক হিসেবে আমার প্রত্যাবর্তন অনেকেই ভাবতে পারেননি।

 

পাওলি আর রাইমাকে একসঙ্গে…
প্রসেনজিত্: আমার সঙ্গে এমন কাউকে ভাবতে হবে স্ক্রিনে দেখে যাকে মনে হবে ম্যাচিয়োর। আমি কিন্তু বয়সের দিক থেকে বলছি না। ‘চোখের বালি’তে যখন রাইমার সঙ্গে কাজ করলাম তখন ও একেবারেই নরম কাদার মতো। বিগত ১০-১২ বছরে অভিনেত্রী হিসেবে রাইমা অনেক উন্নতি করেছে। অর্পিতাকে বাদ দিলে ঋতুও (ঋতুপর্ণা) অনেক ম্যাচিয়োর। আর বাকি যারা আছে তাদের মধ্যে ভাবতে হবে। পাওলি শ্যামাঙ্গী আর রাইমা অসম্ভব ফর্সা। এটা ছবির ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘ক্ষত’-র কাস্ট ঠিক করতে প্রায় ১০-১২ দিন আলোচনা করতে হয়েছে। সাধারণত, রাইমা সেন বলতেই একেবারে শিক্ষিত, পলিশ, সফিস্টিকেটেড একজনের কথা মনে পড়ে। কিন্তু ‘শব্দ’তে ওকে দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একটা লোয়ার মিডল ক্লাস গৃহবধূর চরিত্রে ওর অভিনয় অনবদ্য। ও নিজেও জানে না, কী করেছে! ঋত্বিকের কথা আমি বলছিই না। ও বিশ্বমানের অভিনেতা। এটাই আজকের পরিচালকদের কৃতিত্ব। অন্যদিকে পাওলিও খুব ভাল অভিনেত্রী।

prasenjit-4

‘মহানায়ক’-এ পাওলির কাজ সকলের নজর কেড়েছে কিন্তু রাইমা
প্রসেনজিত্: রাইমার করার কথা ছিল। কিন্তু ওর একটা ডেটের সমস্যা হয়েছিল। দর্শকদের কাছে ইমেজারি রিফ্লেক্ট করত। কিন্তু আমরা ওইভাবে রিফ্লেকশন করতে চাইনি। আমি তো এই ধারাবাহিকে উত্তমকুমারের মতো কথাও বলিনি। আমি যখন সেটে ঢুকতাম লোকে বলত বিশ্বজিতের এন্ট্রি হচ্ছে। কারণ আমার সঙ্গে বাবার চেহারের মিল আছে। রেট্রো লুকে মানুষ আমাকে বাবার সঙ্গে তুলনা করছে। রাইমা করলে অনেক বেশি মিসেস সেনের মতোই দেখাত। কিন্তু আমরা সেভাবে ভাবিইনি।

 

রাইমা মহানায়ক-এ কাজ করতে না পারায় কোনও আক্ষেপ রয়েছে?
রাইমা: একেবারেই না। আমাকে এই ধারাবাহিকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরেকটা প্রজেক্টের সঙ্গে ডেট ক্ল্যাশ করছিল। এই নিয়ে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। তা ছাড়া পাওলি ‘মহানায়ক’-এ খুব ভাল অভিনয় করেছে। (পাশ থেকে প্রসেনজিত্ বললেন,) আরেকটা সমস্যা তো বলছিই না। (হেসে) দেখুন ছোটদের এমন কিছু প্রবলেম রয়েছে যা এই লোকটাই (নিজেকে দেখিয়ে) জানে।

prasenjit-raima-text

প্রসেনজিত্ আপনাকে কতটা সাহায্য করেছেন?
রাইমা: বেশ কিছু ডিফিকাল্ট দৃশ্য ছিল। সেখানে বুম্বাদার ভীষণ সাহায্য করেছেন। অবশ্য বুম্বাদা প্রতিটি ছবিতেই হেল্প করেন। তবে কমলেশ্বর খুব ভাল গাইড করেন, তাই কোনও সমস্যা হয়নি।
পাশ থেকে প্রসেনজিত্: ধাক্কা মারার দৃশ্যটা বল।
রাইমা: হ্যঁা, একটি ঝগড়ার সিনে আমি ধাক্কা মেরেছিলাম। বুম্বাদা উল্টে পড়ে গিয়েছিল।
প্রসেনজিত্: আমি জানতাম পড়ব পাথরের উপরে পড়ব। কিন্তু রাইমা ভীষণ ভয় পেয়েছিল ধাক্কাটা মারার পরে।
রাইমা: সত্যিই, আমি ভাবলাম বুম্বাদার বোধহয় মাথা ফেটে গিয়েছে। আমি ভীষণ জোরেই ধাক্কাটা মেরেছিলাম।

 

পড়ে যাওয়ার পরে ভয় লাগেনি?
প্রসেনজিত্: ও তো কেঁদে ফেলেছিল। আমার কিছুই হয়নি। এদের সঙ্গে মজা করছিলাম।

 

কিন্তু অনেকেই বলেন, সেটে প্রসেনজিত্ নাকি ভীষণ সিরিয়াস…
প্রসেনজিত্: কী রে বল না, কখন আমাকে সিরিয়াস হতে দেখেছিস?
রাইমা: না, না এটা ঠিক নয়।
প্রসেনজিত্: আমি ওদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেলামেশা করি। তবে হ্যঁা, আমি ওদের অভিভাবকও। আমি যখন সেটে ঢুকি ওদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমার মনে আছে, ‘অটোগ্রাফ’-এর সেটে প্রথমদিকে দেখতাম সবাই আমাকে দেখে তটস্থ হয়ে থাকত। শেষে আমি ওদের একজনের থেকে সিগারেট চেয়ে খেলাম। তারপরেই সম্পর্কটা সহজ হয়ে গেল। এটা আমারই দায়িত্ব। প্রসেনজিতের ইমেজটা ভেঙে বেরিয়ে আমি ওদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমাকে করতেই হবে। তা ছাড়া আমি ভীষণ ধৈর্যশীল। কেউ ভুল করলে আমি ওদের বকুনি না দিয়ে মোটিভেট করার চেষ্টা করি। আমি ক্যামেরার পাশে বসে আমার ডায়লগের কিউ দিই। কারণ, আমি জানি এটা টিম এফোর্ট। এখানে প্রত্যেকের সেরাটা নিংড়ে বের করতে হবে। মুম্বইতে একটা ছবির করার সময়ে সম্প্রতি আমি আর কে কে মেনন প্রত্যেককে কিউ দিচ্ছিলাম। ক্ষত-তেও আমার শট হওয়ার পরে পাওলির শটের সময়েও একটা সমস্যা হচ্ছিল। আমি গিয়েই কিউ দিতে আই কন্ট্যাক্ট সঠিক হল। সিনটাও দুর্দান্তভাবে শেষ হল।

 

‘ট্র্যাফিক’-এর পরে বলিউডে কোনও ছবি করছেন?
প্রসেনজিত্: সেপ্টেম্বরে ‘ত্রিদেব’ রিলিজ় করবে। আরেকটা ছবির কাজও শেষ। নীরজ কবির (ব্যোমকেশ-এ ভিলেনের ভূমিকায় ছিলেন) সঙ্গে একটা ছবি শুট করলাম। ছবিতে আমি একজন ভারতীয় সেনা অফিসার। নীরজ পাকিস্তান সেনা অফিসার। হিমাচল প্রদেশে ১৭ দিন শুটিং করলাম। আর দু’দিন শুট বাকি। ছবিটা বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে পাঠানো হবে। এখানে দেখা যাবে একজন সেনা অফিসার মানুষ হিসেবে কেমন।

প্রসেনজিত্: আপনার পাশাপাশি রাইমাও বলিউডে কাজ করছেন।

 

আপনি কী মনে হয়, টলিউডই রাইমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি হওয়া উচিত নাকি বলিউডে ফুল ফ্লেজেড কনসেনট্রেট করা উচিত্?
প্রসেনজিত্: ২০ বছর আগে আমার মুম্বইতে পাড়ি না দেওয়ার একটা কারণ, এখানকার ছবির কমিটমেন্ট। আরেকটা জিনিস আমি মনে করি, আমার উপর প্রচুর প্রযোজক টাকা ঢেলেছেন। তাদের প্রতিও আমার একটা দায়বদ্ধতা ছিল। শুধুমাত্র বেশি অর্থের লোভে অন্যত্র পাড়ি দিতে হবে, এটা আমার দর্শন নয়। তা ছাড়া এখানকার শক্ত জমি অহেতুক হাতছাড়া করতে যাব কেন! আজ আমার উপর সেই চ্যালেঞ্জটা নেই। এখন খোলা মনে ‘সাংহাই’, ‘ট্র্যাফিক’-এর মতো ছবি করতে পারি। ওরা বলেন, ভারতে আর কোনও অভিনেতাকে দেখেননি, যে মেনস্ট্রিম থেকে অন্যধরনের ছবিতে এত সহজে শিফ্ট করতে পেরেছেন। একটা সময় ছিল যখন নায়িকার পিছনে গুণ্ডা দৌড়লে সিনেমা হলে সিটি পড়ত, কারণ সবাই জানে এবার প্রসেনজিতের এন্ট্রি হবে। আমার কলার দেখলেও লোকে সিটি মারতেন। আমাকে এই লোভটা বিসর্জন দিতে হয়েছে। অমিতজী (বচ্চন) অনেক বয়স পেরোনোর পরে এটা করেছিলেন। রাইমার ক্ষেত্রে আমি বলব, টলিউডের ওকে দরকার। ওকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। সবকিছু ছেড়ে ওর মুম্বইতে যাওয়া ঠিক নয়।

 

আপনার কথা স্বার্থপরের মতো শোনাচ্ছে। আপনি শুধুই ইন্ডাস্ট্রির দিকটাই তো দেখছেন…
প্রসেনজিত্: সত্যিই ইন্ডাস্ট্রির রাইমাকে প্রয়োজন। ‘চোখের বালি’ থেকে শুরু করে রাইমা যেভাবে নিজের ফোকাস ধরে রেখেছে, তার জন্যই ও আজ এত খ্যাতি পেয়েছে। রিজিয়নাল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেও নিজের পরিচিতি গড়ে তোলা যায়। এটা ওর বলিউডেও কাজটা অনেক সুবিধে করে দেবে। বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে বাংলার মুখ হিসেবে যখন আমাকে উপস্থিত করা হয়, নিজেকে গর্বিত মনে করি।

 

কিন্তু রাইমা মুম্বইতে পরপর কাজ করতে গিয়ে যদি টলিউডে সময় দিতে না পারে?
প্রসেনজিত্: আমি তো বলিউডে কাজ করতে বারণ করিনি। আমার মনে হয় ডেট অ্যাডজাস্টমেন্টটা গুরুত্বপূর্ণ । একেবারে টলিউড ছেড়ে যাওয়াটা ঠিক হবে না। এটা দু’দিক থেকেই ভুল হবে। তার বদলে দু’জায়গাতেই সমানতালে কাজ করুক না। আজ রাইমা যে জায়গায় পৌঁছেছে সেটা ওঁর নিজের কৃতিত্ব। ওর ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে যত কথাই হোক না কেন, ওর মা কিংবা দিদিমা ওকে এই জায়গায় নিয়ে আসেননি। ও নিজের প্রচেষ্টায় এই জায়গাটা অর্জন করেছে। আমরা মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল একটা জায়গায় কাজ করি। সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে কেন হঠাত্ ছেড়ে চলে যাবে?
রাইমা: আমিও একমত। তা ছাড়া মুম্বইতে আমি তো সিলেক্টিভ ছবিতে কাজ করি। টলিউড ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।

 

রাইমা বাণিজ্যিক ছবিতে সেভাবে আপনাকে দেখা যায় না….
রাইমা: আমি অন্যধারার ছবিতে কাজ করেই খুশি। সেখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখন হঠাত্ করেই মেনস্ট্রিম ছবিতে কাজ করতে গেলে দর্শকরা আমার সম্পর্কে কী ভাববেন?
প্রসেনজিত্: একটা কথা বুঝতে হবে, রাইমা সেনকে টলিউডে ইনট্রোডিউস করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। ফলে ওর ব্র্যান্ডটাই তো অন্যরকম। ওকে এর মর্যাদা দিতে হবে। ঋতু বলত, আমার মেয়ে নেই, রাইমা আমার মেয়ে। কোনও অভিনেত্রী যদি এই আশীর্বাদ পেয়ে যায়, তারপরে কোন ছবি করল, আর কোন ছবি করল না তাতে কিছু এসে যায় না।

 

রাইমা সাধারাণত দেখা যায় দু’জন নায়িকার মধ্যে তেমন বন্ধুত্ব হয় না। কিন্তু আপনি আর পাওলি তো খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু…
রাইমা: আমার কারও সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতা নেই। আমি সব সময়েই নিজের সঙ্গেই কম্পিটিশন করে এসেছি। আমার আর পাওলির বন্ধুত্ব অনেকদিন ধরেই। আমরা মুম্বইতে থাকার সময়েই ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব দানা বাঁধে। ও যখনই মুম্বই যায় আমাকে জিজ্ঞেস করে তুমি কি এখানে? আমরা গেট টুগেদার করি। পার্নোও আমার ভাল বন্ধু।

 

রাইমা এই ছবিতেও নাকি আপনি আর পাওলি ভীষণ দুষ্টুমি করেছেন?
প্রসেনজিত্: এটা আমি বলতে চাই। কেওনঝড়ে আমাদের ট্রেন ছিল সকাল ছ’টায়। এসি ফার্স্ট ক্লাস। আমার সঙ্গে দুই নায়িকা। সহযাত্রী ছিল আর একজন ভদ্রলোক। প্রথমেই ওরা বলতে লাগল, বুম্বাদা ওকে তাড়াও। আমি ভাবছি এটা হয় নাকি। আরে বাবা, টিকিট কেটে উঠেছেন তো! আমি ভদ্রলোকের সঙ্গে গল্প করতে লাগলাম। ভদ্রলোককে তাড়ানোর ফন্দি আটল কেন জানেন? সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ দেখলাম পাওলি আর রাইমা উপরের বাঙ্কে উঠে দু’জনে মিলে আধঘণ্টার মধ্যে একটা গোটা ওয়াইনের বোতল শেষ করল। আমি তখন চা খাচ্ছি। তারপরে ওরা ঘুমলো।

prasenjit-5
রাইমা প্রতি বছর আপনার বিয়ের খবর শোনা যায়। সত্যি কবে বিয়ে করছেন?
প্রসেনজিত্: মোক্ষম প্রশ্ন। এটা আমি বলছি। ওটা আর হবে না। ফাইনালি দেখবেন বুড়ি হয়ে গিয়েছে। তারপর আমার বাড়িতে এসে থাকবে।
রাইমা: তোমরা এত চাইছ আমি বিয়ে করি, তাই নজর লেগে গিয়েছে। যখন হবে তখন হবে। বিয়ে ভাগ্যের ব্যাপার। আপনারা কেন চান আমি বিয়ে করি? এই মুহূর্তে বিয়ে করছি না। শান্তি (হেসে)। আপাতত কেরিয়ারেই মন দিতে চাই।

 

প্রসেনজিত্ রাইমাকে বিবাহিত জীবন সম্পর্কিত টিপস…
রাইমা: হ্যঁা বল-বল।
প্রসেনজিত্: দায়িত্ব নিয়ে বলছি দু’-একটা বিষয় বাদ দিলে ওর বিবাহিত জীবন খুব সুখী হবে।

আপনাদের আগামী ছবি ‘ক্ষত’র জন্য শুভেচ্ছা রইল।
থ্যাঙ্ক ইউ।

আমি মাঝে-মাঝে তো আমি কেঁদেও ফেলতাম

1

আজই সর্বত্র মুক্তি পেয়েছে ‘চিত্রা’। সেই ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন পূজারিণী। অভিনয়ে হাতেখড়ি থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মন খুলে কথা বললেন তিনি। শুনলেন স্বর্ণাভ দেব।

 
‘চিত্রা’য় আপনার চরিত্রটা কেমন?
আমার চরিত্রটা হল একজন কলেজ স্টুডেন্টের। যে সদ্য স্কুল পাশ করেছে। ছবিতে চিত্রার প্রেমটা বেশ ইম্পর্ট্যান্ট। চিত্রার লাইফে প্রেম সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। যেখানে সমাজও যুক্ত, সঙ্গে ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ও। ছবির মূল বক্তব্য হল ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট। কিন্তু মূল প্লটটা হল থ্রিলার।
 
‘চিত্রা’য় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ কীভাবে হল?
এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে আমি ডেবিউ করলেও টলিউডে এটাই আমার প্রথম ছবি নয়। এর আগে ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এ আমি অনিন্দ্যদাকে (চট্টোপাধ্যায়) অ্যাসিস্ট করেছি। মৈনাক ভৌমিকের ‘কলকাতা কলিং’-এ অভিনয় করেছিলাম। সেই সময় থেকেই আমি একটা ভাল চরিত্রের সন্ধানে ছিলাম। এরকম সময়েই হঠাত্ একদিন আমার কাছে এই ছবির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সাকেত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন আসে। প্রথমে আমি সাকেতকে চিনতে পারিনি। কিছুটা কনফিউজ় ছিলাম। তার আগেই ‘চিত্রা’ চরিত্রের জন্য অডিশন নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এই চরিত্রের সঙ্গে মানানসই কাউকে নাকি অভিজ্ঞান (পরিচালক) বা সাকেত খুঁজে পাচ্ছিল না। সেসময়ে ওদের সঙ্গে দেখা করতেই প্রথমদিনে আমাকে স্ক্রিপ্ট দিয়ে সংলাপ পড়তে বলেছিল সাকেত। আমার সংলাপ পড়ার সময়েই হাততালি দিয়ে উঠেছিল অভিজ্ঞান। পরে শুনেছি সেই সময়েই ও আমাকে চরিত্রটার জন্য সিলেক্ট করেছিল।
 
শুটিং সেটে নাকি সবাই আপনার লেগপুল করত?
ছবির সেটে সকলেই আমার পিছনে লাগত। এমন লেগপুল করত যে আমি মাঝে-মাঝে তো আমি কেঁদেও ফেলতাম। তবে সকলের বয়স কাছাকাছি হওয়ায় আমাদের মানসিকতা একই রকম ছিল। শুটিং হয়ে যাওয়ার পরে তো সারারাত আমরা আড্ডা মারতাম।
 
02

প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পরে কেমন ফিলিং হয়েছিল?
আসলে সেই অনুভূতি ফিল করার আগেই যেন সময়টা কেটে গিয়েছিল। আজই হয়তো বুঝতে পারব এরকম একটা ব্যাপার ঘটে হয়েছে, অথবা একমাস পরে সেটা বুঝতে পারলাম। আজকে যেমন ভেবে খুব ভাল লাগছে। কিন্তু প্রথম যখন অনুভব করলাম আমি একটা ছবির নায়িকা ততক্ষণে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করে ডেলিভার করতে শুরু করে ফেলেছি। এত অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপারটা ঘটে গিয়েছে যে ফিল করারও সময় পাইনি।
 
অভিনয় শিখেছেন?
ছোট থেকেই আমি থিয়েটার করতাম। ‘চার্বাক’ ও ‘জাহ্নবী সংস্কৃতি চক্র’ দুটো দলেই অভিনয় করেছি। ‘জাহ্নবী সংস্কৃতি চক্র’ বিভিন্ন কম্পিটিশনে অংশ নিত। সেই সুবাদেই ডিমাপুরে একটি জাতীয় স্তরের কম্পিটিশনে আমি বেস্ট অ্যাকট্রেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম। ওই সময়ে (২০১১) আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম স্টাডিজ়ে মাস্টার্স করছিলাম। সেই সময়েই ঠিক করলাম অভিনয়টা যখন প্যাশনেটলি করছি তাহলে এবার ফিল্মে ট্রাই করা যেতে পারে। হঠাত্ করেই সুজিত সরকারের সঙ্গে আলাপ হয়। উনি আমাকে ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এ কাজ করার প্রস্তাব দেন। সেই সুবাদেই অনিন্দ্যদার সঙ্গে দেখা করি।
 
সেটা তো ক্যামেরার পিছনের গল্প। ক্যামেরার সামনে এলেন কীভাবে?
এখন তো ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন অ্যাকটিং স্কুল গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু অভিনয়টা আমি শিখেছি থিয়েটার থেকেই। ফলে অভিনয়ের প্রাথমিক পাঠ তো আমার ছিলই। তাই নিজেকে গ্রুমিং করে আরও পরিণত হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। সেই জন্য আদর্শ পরিবেশ হল ক্যামেরার পিছনেই। কারণ সেখান থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। আর আপনার সামনে যখন একঝাঁক দুর্দান্ত অভিনেতারা অভিনয় করছেন, সেটা দেখে শেখা যায় অনেকটাই। তাই ওই সুযোগটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি ঠেকে শেখার থেকে দেখে শেখার চেষ্টা করি। ওখান থেকে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও স্টেজে অভিনয়ের পার্থক্যটা বুঝতে পারলাম। সেই সময়েই আমি বিভিন্ন জায়গায় পোর্টফোলিও জমা দিতে শুরু করেছি। হঠাত্ একদিন মৈনাক ভৌমিকের প্রোডাকশন থেকে আমাকে ফোন করে বলা হল ‘আপনাকে সিলেক্ট করা হয়েছে’। আরও গুরুত্বপূর্ণ গোটা শুটিং শেডিউলেই আমি ওই টিমের সঙ্গে ছিলাম।
 
কখনও মডেলিং করেছেন
না, আগে কখনও মডেলিং করিনি। ইন ফ্যাক্ট সেটা নিয়ে কখনও ভাবিওনি। তবে সম্প্রতি মুম্বইতে একটি শোয়ে শো স্টপার হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। তবে আমি প্রফেশনালি মডেলিং করতেও চাই না।
 
3

ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা
আমাদের প্রফেশন তো চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় রয়েছে। আগামী দিনে কীভাবে সবকিছু চলবে কেউই জানি না। তবে আপাতত আরও দুটো ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। শঙ্খ ঘোষের ‘সুন্দরী কমলা’। সেখানে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং রাজেশ শর্মাকে। অন্যদিকে সৃজন বর্ধনের ‘পোস্টমাস্টার’ ছবিতে রতনের চরিত্রেই অভিনয় করছি। আরও দু’-তিনটে ছবির কাজ নিয়ে কথা চলছে কিছুই এখনও ফাইনালাইজ় হয়নি।
 
ছোট থেকেই কি অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল?
খুব ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল। আসলে দিদা, পিসিও স্টেজে অভিনয় করেছেন। তবে আমার বাবা-মা-কে কনভিন্স করতে গিয়ে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছিলাম। রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হওয়ায় প্রথমে কিছুটা বাধা ছিল। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। অভিনয় সে অর্থে আমার কাছে নতুন না হলেও প্রেস মিট বা ইন্টারভিউয়ের সঙ্গে খুব একটা পরিচিত ছিলাম না।
 
এরকম রক্ষণশীল পরিবারের হওয়ায় তো বেশ বাড়িতে কনভিন্স করতে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন?
আমি সর্বভারতীয় স্তরে বেস্ট অ্যাকট্রেস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরে বাবা-মা-র বিশ্বাস ছিল অভিনয়টা আমি করতে পারব। তারা ভেবেছিলেন একটা সুযোগ দিয়ে দেখা যাক। আমার পরিবারের রীতি হল খুব ছোটবেলাতেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়। আমারও তো বিয়ের সম্বন্ধ এসেছিল। কিন্তু আমি বাড়িতে বলেছিলাম, এসব তো রয়েছেই কিন্তু আমাকে একটু দেওয়া হোক, আমি নিজের জীবনটাকে ইচ্ছেমতো সাজিয়ে নিতে চাই। যদি না পারি তাহলে এই অপশন রইলই। অভিনয় জগতে আসার পরে এত ভাল মানুষদের সংস্পর্শে এসেছি, যে কখনও আমার এখানে আনকমর্ফটেবল লাগেনি। অনিন্দ্যদা, উপলদা, সুদেষ্ণাআন্টি, রানাদা, মৈনাকের মতো মানুষদের সঙ্গে মিশেছি। অনিন্দ্যদা তো আমার বাড়িতেও এসেছেন। যে কোনও প্রফেশনেই ভাল খারাপ দুটোই রয়েছে। তাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মানেই খারাপ এটা ধরে নেওয়াটা বোকামি। খারাপটাকে এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।
 
4
আপনি কখনও প্রেমে পড়েননি?
প্রথমবার স্কুলে পড়ার সময়ে প্রেমে পড়েছি। ওটা সিরিয়াস কিছু ছিল না। ইনফ্যাচুয়েশন বলা যায়।
 
আর এখন?
এই মুহূর্তে সবটা ডিসক্লোজ় করতে চাই না। তবে ডেফিনিটলি একজনকে আমি পছন্দ করি। সে আমায় প্রোপোজ় করেছিল। তবে এখনই সবটা বলতে চাই না।
 
এখন বাড়ির প্রতিক্রিয়া কী? আর বিয়ের কথা বলছে না?
এখনও বাড়িতে আমাকে মাঝে-মাঝেই বিয়ের জন্য তাড়া দেয়। তবে পরিবারের সকলেই বুঝতে পারছেন এই মুহূর্তে আমি সিরিয়াসলি কাজটা করতে চাই। ফলে সেভাবে আমাকে চাপ দেওয়া হয় না। বাবা-মা-ও যেন আমার ব্যবহারে দুঃখ না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখি। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা পেতে সময় দিতে হবে। আমি সেই ধৈর্য রাখতে চাই।
 
এই মুহূর্তে আপনাকে যদি একটা বর দেওয়া হয় আপনি কী চাইবেন?
আমি প্রচুর কাজ করতে চাই। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গাটা তৈরি করতে চাই। ভাল পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখতে চাই। সেটাই আমার প্রায়োরিটি।
 

আপনারা তো কখনও বলবেন না আমাদের কাজ পাওয়া উচিত!

চট করে তাঁকে পরদায় দেখা যায় না। কেন? বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

 
অনেকদিন পরে ‘মণিহারা’তে আপনাকে পরদায় দেখা যাবে…
মাঝে কিছু ছবিতে কাজ করেছি। তবে শরীরটা ভাল ছিল না বলে গত কয়েকমাস কাজ একদম বন্ধ রেখেছিলাম। তাই অত বেশি করে কাজ করা হয়নি। আর ‘মণিহারা’র কথা বলি, এই ছবিতে একটা নিটোল গল্প আছে। কোনও মারদাঙ্গা, টার্মিনেটরের মতো কায়দাবাজি নেই। গল্প-টল্প তো আজকাল বেশ বিরল। তাছাড়া গল্পটা একদম আলাদাও বটে। সেটাই আমাকে আকৃষ্ট করেছে। অর্ঘ্যদীপের মতো কমবয়সি ছেলেদের (ছবির প্রযোজক অর্ঘ্যদীপ চট্টোপাধ্যায়) প্যাশনটাও কিন্তু দেখার মতো!
 
আপনার চরিত্রটা কীরকম?
যে বাড়ি ঘিরে ছবির ‘রহস্য’, সেই বাড়ির মালিকের চরিত্রটা আমি করেছি। বেশ খিটখিটে এক বুড়ো!
 
মঞ্চে কোনও কাজ করছেন?
একটা নতুন নাটকের রিহার্সাল দিচ্ছি। সেটা মঞ্চস্থ হতে একটু দেরি আছে।
 
আর সিনেমা?
অগস্ট থেকে আবার শুটিং শুরু করব। প্রবীর রায়ের একটা ছবি আছে। এছাড়াও একটা আছে…তবে আমি আর খুব একটা বেশি ছবি করতে পারব না। বলা ভাল, করব না!
 
শারীরিক কারণে?
না না, ওই মারদাঙ্গা হ্যানত্যান মার্কা সিনেমা আর ভাল লাগে না। নিটোল গল্প না হলে কাজ করা খুব মুশকিল হয়ে পড়ছে। সারা জীবন লোকে দেখেছে, পরদায় আমি চুরি, রাহাজানি, বাটপারি, ধর্ষণ, খুন করছি। সেই বয়সটা বোধহয় পেরিয়ে এসেছি…তবে এই বয়সেও কিন্তু নেগেটিভ চরিত্র করা যায়, যদি সেইভাবে গল্পটা কেউ সাজাতে পারে। একটা ইংরেজি ছবি ছিল, ‘ব্লো হট ব্লো কোল্ড’। সেইরকম ছবি এখানে কে করবে?
 
তাহলে সামনে এগনোর উপায় কী? আমূল পরিবর্তন?
(হেসে) ‘পরিবর্তন’-এর ফলে চারদিকের যা অবস্থা হয়েছে…তাই বেশি পরিবর্তনের কথা বলব না। তবে বাংলা ছবির ক্ষেত্রে গল্পের খুব দরকার। ভাল গল্প হবে, সেখানে ভাল অভিনয় হবে। নাহলে কী লাভ? এই যে এত ‘বড়-বড়’ সব ছবি বেরোল। ‘চাঁদের পাহাড়’! রেজ়াল্টটা কী? প্রযোজকরা হয়তো টাকা ঘরে তুলে নিল! কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির লাভটা কী হল? এই যে জিজ্ঞাসা করছেন, আমিও ফটফট বলে চলেছি, এরপর আর একটা কাজও পাব না। আপনারা তো বলবেন না, যে এই লোকগুলির কাজ পাওয়া উচিত! আমার অন্তত মনে হয় আমি নিজেকে যথেষ্ট প্রমাণ করেছি। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকভাবে অভিনয় করেছি বলেই মনে হয়। কিন্তু পরদায় তো সেই একই লোক, একই ধরনের চরিত্র দিনের পর দিন করে যাচ্ছে…সরি ভাই, হয়তো একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে পড়লাম! সরি!