Category Archives: tollywood interview template

বিপরীতে বয়ফ্রেন্ড থাকলে কাজ করা বেশি আরামদায়ক: কৌশানী মুখোপাধ্যায়

Koushani-big চারপাশে দিব্যি মুখ চালিয়ে চলছে খাওয়া-দাওয়া। তিনি, কৌশানী মুখোপাধ্যায় অবশ্য বেশ কষ্ট করেই রেজ়োলিউশন নিয়েছেন কড়া ডায়েট মেনে চলার। তাই শুধু মুড়ি খেতে-খেতেই আড্ডা দিলেন ইন্দ্রাণী ঘোষের সঙ্গে। কথাবার্তায় উঠে এল তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক থেকে কাজের হিসেবনিকেশ।

 

কৌশানীর নতুন বছরের রেজ়োলিউশন কী?
বাইরের খাবার কম খাব আর হেলদি ডায়েট মেনে চলব। এটাই রেজ়োলিউশন। তবে কতটা কী মেনে চলতে পারব, সেটা জানি না। কারণ, রেজ়োলিউশন তো নেওয়াই হয় ভাঙার জন্য! তবে এবার আমি এটা সিরিয়াসলি শুরু করতে চাই। এমনিতেই খাবারের ব্যাপারে বাঙালির মুখে লাগাম নেই! আর আমি তো খাবারের জন্যই বেঁচে থাকি! আমার কাছে ডায়েটিং করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

 

কী খেতে সবচেয়ে ভালবাসেন?
নিঃসন্দেহে বিরিয়ানি। এটা আমি কখনও ছাড়তে পারব না। আর আমি নানারকম ডেজ়ার্ট খেতে খুব ভালবাসি। আইসক্রিমও আমার খুব প্রিয়। তা ছাড়া আমি চাইনিজ় খাবারেরও ভক্ত।

 

‘জামাই বদল’-এ তো সোহমের সঙ্গে প্রথম কাজ করলেন। কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
গোটা অভিজ্ঞতাটাই খুব ভাল। সোহম সিনিয়র একজন অভিনেতা। তাই ওর সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। একসঙ্গে অভিনয় করতে গেলে, স্ক্রিন শেয়ার করতে হলে, বেশিরভাগ সময়টাই তো কো-স্টারের সঙ্গে কাটাতে হয়। সেখানে কিন্তু অনেক কিছুই শেখার থাকে। যেহেতু বিট্টুদার (সোহম) অভিজ্ঞতা প্রচুর, তাই কোন সিনে কীভাবে অভিনয় করব, কীভাবে রিঅ্যাকশন দেব, সেই রিঅ্যাকশনটাকে তাৎক্ষণিক কীভাবে ইম্প্রোভাইজ় করব… এগুলো সব আমি আমার সিনিয়র সহ-অভিনেতাদের থেকেই শিখেছি। সোহম খুব ভাল একজন মানুষ। অসম্ভব ঠান্ডা। ওর সঙ্গে আরও কাজ করতে চাই।

 

এত অল্প দিনে অনেকের সঙ্গেই কাজ করে ফেলেছেন। দেব না সোহম, কার সঙ্গে কাজ করতে বেশি স্বচ্ছন্দ?
আমি তো জিতদার সঙ্গেও কাজ করেছি। বনি, অঙ্কুশ… সকলের সঙ্গেই কাজ করেছি। আমি এটার উত্তর দিয়ে আর মার খেতে চাই না! আর আমাকে তো সকলের সঙ্গেই কাজ করতে হবে ভবিষ্যতে। এটাই বলব যে, সকলের সঙ্গেই আমার বন্ডিংটা আলাদা-আলাদা স্তরে। সোহমের সঙ্গে বন্ডিংটা টম অ্যান্ড জেরির মতো নয়। সেখানে কোনও পিছনে লাগা নেই। কিন্তু ওই বন্ডিংটা আমার আছে বনি ও দেবের সঙ্গে। জিতদার সঙ্গে আবার সেটা আলাদা। প্রত্যেক সহ-অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্ক তো আলাদা-আলাদা হয়। তাই সকলেই আমার কাছে স্পেশাল, কারণ তাঁরা আমার সহ-অভিনেতা।

 

এর আগে একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, কো-স্টার চেনা না হলে তার সঙ্গে অন-স্ক্রিন রোম্যান্স করতে সমস্যা হয়। এই ব্যাপারটা কতটা বদলেছে?
আসলে এখন এই ব্যাপারটা আমার কাছে একটা পেশা। আমি এটাকে পেশা হিসেবেই দেখি। তা ছাড়া এই কাজটাকে আমি ভালবাসি। কাজটাকে কাজের মতো করে দেখলেই কিন্তু গোটা ব্যাপারটা সহজ হয়ে যায়। তখন প্রথম-প্রথম ছিল, তাই সমস্যা হত। এখন এতদিন হয়ে গিয়েছে, এতজনের সঙ্গে রোম্যান্স করে ফেলেছি, যে এটা অত সমস্যা হয় না। তবে হ্যাঁ, আমি মানি যে, প্রত্যেক কো-স্টারদের সঙ্গেই একটা অফ-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি থাকা খুব দরকার। সেই কমফোর্ট জ়োনটা থাকলে প্রত্যেকটা রোম্যান্টিক সিনই বেশ ভাল হয়ে ওঠে।

 

তা হলে আপনার সঙ্গে এখন প্রত্যেক কো-স্টারেরই সুন্দর অফ-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি তৈরি হয়েছে বলছেন?
হ্যাঁ, বন্ধুত্বটা তো তৈরি হয়েই গিয়েছে। আর তাদের বউয়ের চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে! বন্ধুত্ব যদি ভাল না হয়, তা হলে সেটা করব কী করে!

 

তা হলে কৌশানী, কো-স্টার হিসেবে বয়ফ্রেন্ড থাকার আলাদা কোনও সুবিধে নেই?
সেটার তো অবশ্যই অনেক সুবিধে আছে। কারণ আমি জানি সে কোন মুহূর্তে কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবে। উল্টো দিকের মানুষটাও আমাকে জানে। সে জানে আমাকে কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে। যে মানুষটা ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে চেনে না, জানে না, সে তো এই ব্যাপারগুলো বুঝতেই পারবে না। তাই আমার বিপরীতে যদি বয়ফ্রেন্ড থাকে, তা হলে অবশ্যই সেটা আরও বেশি আরামদায়ক।

 

তা হলে অসুবিধে কি কিছুই নেই?
হ্যাঁ, অসুবিধেও আছে। অন্য অভিনেতা হলে তাঁকে বলা যায় , এটা আমি এভাবে করব না। রাগ দেখানো যায়। সেটা বয়ফ্রেন্ডকে বললে তো ‘কাট’ বলার পর ঝগড়াতে পরিণত হতে পারে!

 

শোনা যায়, আপনার নাকি বেশ অ্যাটিটিউড!
তাই! আমার তো কখনও মনে হয়নি এরকম। আমি তো সকলের সঙ্গেই মিশতে ভালবাসি। আর যারা ফ্রেন্ডলি, সকলের সঙ্গে মিশতে ভালবাসে, তারা কোনওদিন অ্যাটিটিউড নিয়ে জন্মায় না।

 

আচ্ছা, স্টারডম জিনিসটা কি তা হলে সত্যিই উপভোগ করছেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই! এটা এখন আরও বেশি করে টের পাচ্ছি। স্টারডম তো উপভোগ করার মতোই একটা জিনিস। এটাকে আমি সারা জীবন রেখে দিতে চাই সঙ্গে।

 

চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগে কোন জিনিসটা দেখেন?
এমন চরিত্র হবে যাতে দর্শকের ফোকাস সবসময় আমার দিকে থাকবে। আর আমি সবধরনের চরিত্র করতে চাই।

 

চরিত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো থাকেই…
চিত্রনাট্য যখন পড়ি, তখনই সেই চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করার চেষ্টা করি। আর ছবির শুটিং যখন শুরু হচ্ছে, তারপর থেকে শুটিং শেষ হওয়া অবধি, সেই চরিত্রের মধ্যে বেঁচে থাকি।

 

ওয়েব সিরিজ় দেখেন তো? বাংলা ওয়েব সিরিজ়ে কাজ করতে চান?
হ্যাঁ, এটা তো এখন খুবই ট্রেন্ডিং। এরকম কোনও সুযোগ এলে নিশ্চয়ই করব।

 

ওয়েব সিরিজ় এত জনপ্রিয়। আপনার কী মনে হয়, ওয়েব সিরিজ় কি আস্তে-আস্তে সিনেমার জায়গাটা নিতে পারবে?
দেখুন, দুটোর জায়গা আলাদা। তবে ওয়েব সিরিজ় কিন্তু এখন ট্রেন্ডিং… দর্শক ভালবাসছে বলেই এতধরনের ওয়েব সিরিজ়ও তৈরি হচ্ছে। আর প্রত্যেকটা ওয়েব সিরিজ়ের কন্টেন্টও কিন্তু খুব ভাল। আমার অবসর সময় কাটানোর সেরা উপায় কিন্তু ওয়েব সিরিজ়। এটা এখন প্রায় নেশার মতো। একটা এপিসোড দেখেই আবার পরেরটা দেখতে ইচ্ছে করে। এমনও হয়েছে, আমি একটা ওয়েব সিরিজ়ের আটটা এপিসোড দেখে ফেলেছি পরপর!

 

কোন পরিচালকের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজ করতে চান?
সকলের সঙ্গেই। কিন্তু আলাদা করে বলব কমলেশ্বরদা (মুখোপাধ্যায়) ও কৌশিকদার (গঙ্গোপাধ্যায়)-র কথা।

 

এবার একটু ব্যক্তিগত কথায় আসি। প্রেম কেমন চলছে? ঝগড়া হয়?
খুব ভাল! হ্যাঁ, ঝগড়া তো হয়ই। কিন্তু আমার তো মনে হয় সেটাই সুস্থ সম্পর্কে ঝগড়া হওয়াই উচিত।

 

আপনাদের মধ্যে কে বেশি ডমিনেটিং? আপনার সব কথা বনি শোনেন?
হ্যাঁ, শোনে তো! যেটা শোনে না, সেটায় ঝামেলা হয়। তবে আমি ওর সব কথা মোটেও শুনি না। তার জন্য অবশ্য বনি ঝামেলাও করে না!

 

কে কী সিনেমা করতে পারেন, সে নিয়ে কোনও পরামর্শ এরে-অপরকে দেন?
না। আসলে কাজের দিকটা আমরা দু’জনেই আলাদা রাখতে পছন্দ করি। আমার মনে হয় সেটা খানিক বুদ্ধিমানেরও কাজ। তবে ব্যক্তিগত জীবনে যে-কোনও পরামর্শ লাগলে সেটা আমি প্রথম বনির থেকেই শুনি।

 

এতদিন তো একসঙ্গে কাটিয়ে ফেললেন। দু’জনে একই পেশায় থাকার সুবিধা বা অসুবিধা কী?
প্রত্যেকটারই ভাল-খারাপ কিছু দিক থাকে। ওর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে ভাল লাগে। কারণ ওর আর আমার কেমিস্ট্রিটা কারওর সঙ্গেই তুলনা করা যায় না। এটা অন্যদের থেকে অনেকটাই আলাদা।

 

পরের কাজ কী-কী?
‘বাচ্চা শ্বশুর’ রিলিজ় করবে ফেব্রুয়ারিতে। একটা নতুন সিনেমা শুরু হচ্ছে সুরিন্দর ফিল্মসের সঙ্গে। সেখানে আমাকে দর্শকরা পুরোপুরি অন্যভাবে দেখতে পাবেন। আপাতত এস ভি এফ-এ সঙ্গে কোনও কাজ করছি না। তবে এরকম কোনও সুযোগ আসলে, নিশ্চয়ই করতে চাইব।

Koushani Mukhopadhyay | interview

দেব-জিতের সঙ্গে অন-স্ক্রিন প্রতিযোগিতা তো রয়েছেই: সোহম

Koushani-big কাজ থেকে শুরু করে নতুন বছরের রেজ়োলিউশন… সেই সঙ্গে বাংলা সিনেমা ও টলিউড নিয়ে নিজের মতামত খোলাখুলি জানালেন সোহম চক্রবর্তী। শুনলেন ইন্দ্রাণী ঘোষ

 

নতুন বছরের রেজ়োলিউশন কী-কী নিলেন?
এই রে… নতুন বছরে নিজেকে আরও ঠিকঠাক রাখতে হবে, আরও সুস্থ থাকব, যাতে শুধু নিজে নয়, অন্যকেও ভাল রাখার মানসিকতা তৈরি হয়, সবাই মিলে একসঙ্গে থাকতে পারি। আরও ভাল ছবি যেন সবাইকে দিতে পারি…

 

‘জামাই বদল’-এ কৌশানীর সঙ্গে আপনার প্রথম কাজ…
কৌশানীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিন্তু দারুণ। হাসি-মজার মধ্যে দিয়ে দারুণ কাজ হয়েছে.

 

রবি কিনাগির সঙ্গে তো পরপর অনেক কাজই করে ফেললেন…
হ্যাঁ, প্রায় চারটে। ওঁর সঙ্গে কাজ করার একটা মজা আছে। স্যার ফ্লোরে প্রচণ্ড ডিসিপ্লিনড, পুঙ্খানুপুঙ্খ গোটা ব্যাপারটার মধ্যে ঢোকেন। রবিদার সঙ্গে থেকে অনেক কিছু শিখেছি… আমরা স্বার্থপর হয়ে শুধু নিজের চরিত্রটাকে দেখি, কিন্তু একজন পরিচালক তো গোটা ছবিটাকেই একসঙ্গে দেখেন, তিনি যখন এসে বলেন যে গোটা বিষয়টা কীভাবে চাইছেন, সেটা অনেকটাই সাহায্য করে।

 

এত নায়িকার সঙ্গেই তো কাজ করে ফেলেছেন। কার সঙ্গে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ?
এই রে… সব নায়িকার সঙ্গেই… তারপর কাকে বাদ দিয়ে দেব… পাগল নাকি!

 

এটা কিন্তু পলিটিকালি কারেক্ট উত্তর হয়ে গেল…
না না, প্রত্যেকের সঙ্গেই তো কাজ করা উচিত… এখন তো আর সেই ব্যাপারটা নেই যে উত্তম-সুচিত্রা, ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিতের মতো জুটি হবে। চরিত্র ও গল্প যাকে চাইবে, সে সেটাই করবে।

 

‘বাঘ বন্দি খেলা’য় তিনজন সুপারস্টার একসঙ্গে কাজ করলেন। তাও বক্স অফিসে তো সেভাবে সাফল্য এল না…
দেখুন, আশা করা গিয়েছিল যে, তিনজন স্টার আছে মানেই উপচে পড়বে ভিড়। তবে রেসপন্সটা ভালই ছিল। আসলে অনেক সিঙ্গল স্ক্রিন গড়ে তুলতে হবে। দর্শকরা তো সবসময়ই ভাল ছবি দেখতে চান। আমাদেরই দায়িত্ব বাংলা ছবির দর্শককে আবার হলমুখী করে তোলা।

 

কিন্তু সিঙ্গল স্ক্রিন কি সত্যিই আর মাল্টিপ্লেক্সের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে?
নিশ্চয়ই পারবে। মাল্টিপ্লেক্সে পাঁচশ বা হাজার টাকা দিয়ে সিনেমা দেখার ক্ষমতা কিন্তু খুব কম সংখ্যক দর্শকেরই আছে। সিঙ্গল স্ক্রিন বাঁচানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে কিছু স্টেপ নেওয়া হচ্ছে, নানা পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলা ছবি কিন্তু কোনও দিক থেকেই পিছিয়ে নেই। দক্ষিণের ছবি বা বলিউডের ছবি কেবল বাজেটের দিক থেকেই আমাদের টেক্কা দিতে পারে, আমরা কিন্তু চেষ্টা করি কম বাজেটে সেই একই আউটপুট দেওয়ার।

 

তা তিনজন সুপারস্টারকে ‘বাঘ বন্দি খেলা’র সেটে পরিচালক সামলাতেন কীভাবে?
একটা সুবিধা হয়েছে, তিনটে গল্প আলাদা-আলাদা। ফলে একটা গল্প শেষ হয়ে আর একটা গল্প শুরু হচ্ছে। আর তিনজন একসঙ্গে খুব কমই ছিলাম।

 

তবে মাল্টি-স্টারার ছবি মানেই সাফল্য, এটা খাটল না…
না। আর এটা শুধু এখন কেন, আগেও হয়নি। মাল্টি-স্টারার ছবির ক্ষেত্রে আসলে দর্শকদের প্রত্যাশাটা বেশি থাকে। আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় যে, যত স্টার থাকবে, তাদের প্রত্যেককেই আলাদা-আলাদা করে জায়গাটা দিতে হবে। আর সেই জায়গাটা দিতে গিয়ে যদি কোনও কারণে মূল গল্পটাই সরে যায়, তখনই বিপদটা ঘটে। সেটা মাথায় রেখে, গল্পের বাঁধুনি ঠিক রেখে, প্রত্যেকটা চরিত্রকে ঠিকঠাক মর্যাদা দিয়ে যদি গল্প বানানো যায়, তা হলে সে ছবি হিট করবে।

 

এরপরে মাল্টি-স্টারার ছবির অফার পেলে করবেন?
হ্যাঁ, কেন করব না! আমার এর পরের ছবি ‘ভূত চক্র প্রাইভেট লিমিটেড’ কমেডি ছবি। সেখানে আমি রয়েছি, বনি রয়েছে, গৌরব রয়েছে।

 

বলিউডে তো তিন খানের অবস্থাই খুব খারাপ…
হ্যাঁ, ওঁরা আমার থেকে অনেক বেশি বুদ্ধিসম্পন্ন। তবে সেখানে কিন্তু ‘অন্ধাধুন’ বেরিয়ে যাচ্ছে, ‘বধাই হো’ বেরিয়ে যাচ্ছে… বলিউডও কিন্তু পালটাচ্ছে।

 

আপনি তো ছবি প্রযোজনাও করেছেন। অভিনয় আর প্রযোজনা কতটা আলাদা?
অবশ্যই আলাদা। যখন আপনি প্রযোজক, তখন গোটা ব্যাপারটা একসঙ্গে দেখতে হবে। আর যখন আপনি অভিনেতা, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে, তখন চিন্তাটা থাকে অন্য। প্রযোজনা কঠিন। তবে আমি সেখানে ঢুকি না, পুরো দায়িত্বটাই ছেড়ে দিই অন্যের উপর।

 

সুরিন্দর ফিল্মসের সঙ্গে পরপর ছবি করছেন। এদিকে অন্য একটি প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তো কোনও ছবিই অনেকদিন হয়ে গেল দেখতে পাচ্ছি না…
কই! এই তো এস কে মুভিজ়ের কাজ কাল থেকে শুরু হবে। ক্যামেলিয়ার সঙ্গে… তবে এস ভি এফ-এর সঙ্গে এখনও কোনও প্ল্যান হয়নি। এটা ঠিক যে বেশিরভাগ ছবিই করছি সুরিন্দর ফিল্মসের সঙ্গে। এটা প্রায় একটা হোম প্রডাকশনই হয়ে গিয়েছে।

 

আচ্ছা, একটা জিনিস কিন্তু শোনা যায় যে সিনেমায় সোহমের চরিত্রগুলো বড্ড বেশি একঘেয়ে হয়ে যায়… অন্যরকম চরিত্র কিছু করবেন না?
আমি যে প্রত্যেকটা ছবিতেই চেষ্টা করি আলাদা রকম কিছু করার! হ্যাঁ, পরপর অনেকগুলো কমেডি সিনেমা হয়তো হয়েছে, তার বাইরে তো ‘পিয়া রে’ও করেছি, সেটা তো খুব সিরিয়াস ছিল। ‘রং বেরংয়ের কড়ি’ করেছি… আমি আমার তরফ থেকে চেষ্টা করি। আর আমি সিরিয়াস চরিত্র করতে ভালবাসি। এরপরে আসছে শ্রাবন্তীর সঙ্গে ‘গুগলি’, সেটা খুব সিরিয়াস ছবি। সেখানে নায়ক-নায়িকা দু’জনেই আবার তোতলা।

 

এতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে ফেলার পর কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে ভাল লাগে?
সবার আগে বলব রাজ চক্রবর্তীর নাম। কারণ রাজ চক্রবর্তীই কিন্তু আজকের সোহমের জন্ম দিয়েছেন ‘প্রেম আমার’ থেকে। এছাড়াও হরনাথ চক্রবর্তী… রাজাদা, রাজীবদা। রাজীবদার সঙ্গে কাজ করলে তো বোঝাই যায় না যে কাজ করছি না পিকনিক করছি! রবিদা আবার আলাদা। এর আগে কৌশিকদার সঙ্গে অনেক আগে টেলিফিল্ম করেছিলাম। কৌশিকদার সঙ্গে বড় পরদায় কাজ করতে চাই। কমলদার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে আছে, শিবুদার সঙ্গে কথা হচ্ছে…

 

এত ব্যস্ততার মধ্যে বাড়ির লোককে সময় দিতে পারেন?
সেটাই তো হয়ে উঠছে না এখন। তবে যখনই সময় পাই চেষ্টা করি দেওয়ার। কাজ সামলে যে সময়টা থাকে, ওটা পুরোটাই পরিবারের। ফোনও থাকে সাইলেন্ট।

 

দ্বিতীয়বার বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন?
দারুণ! এটাকে ভগবানের আশীর্বাদই বলব। বাবা হওয়ার পর দায়িত্বও অনেক বেড়ে গিয়েছে।

 

আপনি নিজে তো শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। আপনার ছেলেরা যদি আসতে চায় সিনেমার জগতে?
হ্যাঁ, আমার তো খুব ইচ্ছে যে আসুক। ব়ড় ছেলে এখন সেটে আসে, বুঝতে চায় যে কী হচ্ছে… সেদিনই তো ‘মিসকল’ বলে একটা ছবির শুটিং চলছিল। ওদিকে ক্যামেরার সামনে আমি ফাইট করছি, আর এদিকে ছেলেও আমাকে দেখে ফাইট করছে… ও খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে গোটা বিষয়টা দেখে।

 

রাজনীতিতে পুরোদস্তুর আসতে চান তো? কিন্তু রাজনীতির জন্য আপনার কেরিয়ারের কি খানিক ক্ষতি হয়ে যায়নি?
রাজনীতিতে তো এখনও আছি। কিন্তু আমি কখনওই বলব না যে রাজনীতি আমার কেরিয়ারের ক্ষতি করেছে। রাজনীতি আর সিনেমা সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা। আমি রাজনীতিতে গিয়েছিলাম এটা ভেবেই যে, মানুষ ওখানে ঘরের ছেলে বিট্টুকে পাবেন। আর সোহমকে তাঁরা দেখবেন পরদায়, সিনেমার হিরো হিসেবে।

 

এতদিন টলিউডে কাটিয়ে ফেলার পর কোন জিনিসটা সবচেয়ে খারাপ লাগে?
সত্যি বলতে কী, নতুন যারা আসছে, বিশেষ করে ছোট পরদার বেশ কিছু শিল্পী, তাদের সম্মান জ্ঞানটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সিনিয়রদের দেখলে যে সম্মান করা উচিত, সেটা তাদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এই শিক্ষাটা অন্তত তারা নিয়ে চলুক।

 

প্রতিযোগিতাকে কীভাবে দেখেন?
প্রতিযোগিতা থাকা তো খুব দরকার। আর সেখানে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী কিন্তু নিজেকেই হতে হয়। নিজেকে ঠিকঠাক করে রাখতে পারলেই দর্শকের মধ্যে থাকতে পারব, ভাল কাজের মধ্যে থাকতে পারব।

 

দেব বা জিতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা?
দেব-জিতের সঙ্গে অন-স্ক্রিন প্রতিযোগিতা তো আছেই। একজন ভাল করলে আর একজনকে তো ভাল করতেই হবে। এই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাটা যে-কোনও ক্ষেত্রেই থাকা উচিত। তবে এই প্রতিযোগিতাটার বাইরে ভাল বন্ধুত্বও রয়েছে।

বাংলা সিনেমায় ভাল লেখকের খুব অভাব: হিরণ চট্টোপাধ্যায়

hiran-big নতুন ছবি ‘জামাই বদল’ এবং সিনেমা সম্পর্কে নিজের ধ্যানধারণা নিয়ে আনন্দলোকের সঙ্গে কথা বললেন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মুখোমুখি তিতাস চট্টোপাধ্যায়

 

২০১৭-এ ‘জিও পাগলা’। তারপর ২০১৯-এ ‘জামাই বদল’। আবারও পরিচালক রবি কিনাগি। কেমন লাগছে?

খুব ভাল লাগছে। রবি কিনাগির সঙ্গে এর আগে ‘ভালবাসা ভালবাসা’, ‘জামাই ৪২০’, ‘জিও পাগলা’ করেছি। এখন ‘জামাই বদল’ করলাম। তো… এটা চার নম্বর ছবি রবিজীর সঙ্গে। ওঁর সঙ্গে কাজ করতে পারাটা সৌভাগ্য। চারটে ছবি করে অনেক কিছু শিখলাম, জানলাম। আজকে আমি যা, তার অনেক কিছুই রবিজীর জন্য। উনি আমার জীবনে একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।

 

২০১৫-র ‘জামাই ৪২০’ সিনেমাটার সঙ্গে কোনও লিঙ্ক রয়েছে কি?

না, কোথাও কোনও মিল নেই। সম্পূর্ণ আলাদা প্লট। তবে ওটাতেও সোহম ছিল, এখানেও সোহম আছে! এটাই মিল! (হাসি)

 

হিরণ্ময় থেকে হিরণ— জার্নিটা কেমন ছিল? নাম বদল করলেন যে?

আমার নাম তো হিরণ্ময় ছিল, এখনও আছে। কিন্তু হরদা ‘নবাবনন্দিনী’ করার সময় বলেছিলেন, “হিরণ্ময় নামটা তো একটু বড়, তো নামটাকে একটু ছোট করব? তোর কোনও আপত্তি আছে?” আমি বলেছিলাম, ‘‘না না, কোনও আপত্তি নেই।’’ হরদা অনেক নাম খুঁজেছিলেন। কোয়েলও আমাকে অনেক নাম মেসেজ করে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তারপর হরদা বললেন, “না রে, বরং ‘ময়’-টা বাদ দিয়ে হিরণটা রাখি। সেটাই বরং ভাল হবে।” ব্যস, সেই থেকে এটাই চলছে।

 

কলেজে পড়াকালীন এন টি ওয়ান স্টুডিয়োতে দেখা করার সময় তরুণ মজুমদার আপনাকে বলেছিলেন— “ফিল্ম কেরিয়ারটা খুব আনসার্টেন”! ১২ বছর পার করে ফেলেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। এখন আপনার কী মনে হয়?

হ্যাঁ, ওই মুহূর্তে আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। কষ্টও পেয়েছিলাম। পরে বিষয়টা বুঝেছিলাম। উনি বলেছিলেন, “তোমার বাড়িতে কে আছে?” তখন তো আমার বাবা-মা দু’জনেই মারা গিয়েছেন। আমি সুকিয়া স্ট্রিটের একটা অনাথ আশ্রমে থাকি। সেটা জেনে উনি বলেছিলেন, “তোমার তো নিজের থাকা-খাওয়ারই কোনও ঠিক নেই। সিনেমালাইনটা কিন্তু পুরো অনিশ্চিত ইন্ডাস্ট্রি। এখানে তুমি কী করবে? এখানে একটা ব্যাক-আপ লাগে।” আমি ইংরেজি অনার্সের ছাত্র। উনি বললেন, “আগে ভাল করে পড়াশোনাটা শেষ করো। চাকরি-বাকরি করো। তারপরে একবার ট্রাই করো, তোমার যদি লাক থাকে ডেফিনিটলি ইউ ডু সামথিং।” পরে ২০০৮-তে যখন ‘ভালবাসা ভালবাসা’ সিনেমার জন্য রামোজি ফিল্ম সিটিতে শুট করছিলাম, তখন ওখানে তরুণবাবুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওঁকে বলেছিলাম , ‘‘স্যার মনে আছে?’’ বললেন, “হ্যাঁ,হ্যাঁ মনে পড়েছে। বাহ্! খুব ভাল লাগল!”

 

অভিনয় করার এই নেশাটা কবে থেকে পেয়ে বসল? কোনও ইন্সপিরেশন?

উত্তমকুমার আর মিঠুন চক্রবর্তী। এই দু’জনের অভিনয় আমাকে ইন্সপায়ার করত। এঁদের জীবন ও স্ট্রাগল সম্পর্কে পড়েছিলাম। সেটা আমাকে খুব তাড়া করে বেড়াত। আমার নিজের জীবনের মা-বাবা না-থাকার একটা যন্ত্রণা ছিল। চাকরি জয়েন করার পর মনে হল জীবনের অনেক কিছু পেয়ে গিয়েছি, এখন তো কিছু হারানোর নেই। সুতরাং, রিস্ক নিয়ে চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। তাই কী হবে ভাবিনি। কোয়েলও বারবার বলেছিল সিনেমা না চললে ডিপ্রেসড না হতে। ‘নবাবনন্দিনী’ ক্লিক না করলে, দ্বিতীয় ছবি পেতামও না।

 

মুম্বইতেই চাকরি করতেন। বলিউডে ট্রাই করলেন না কেন?

বলিউড খুব কঠিন ঠাঁই। আমি যে-সময়টা ওখানে ছিলাম (২০০৩-২০০৭), তখন তো কাস্টিং এজেন্সি ছিল না। পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে পরিচয় থাকতে হত। এখন কাস্টিং ডিরেক্টর এসেছে। কাস্টিং এজেন্সি হয়েছে। শাহরুখ খান বাদে আমির খান-সলমন খান-সঞ্জয় দত্ত সকলেরই পরিবার বলিউড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখনও রণবীর কপূরের পারিবারিক সাপোর্ট রয়েছে। আর একটা ব্যাপার, টাকাটা খুব বড় ব্যাপার। একজন অজানা ছেলে, তার উপরে টাকা ঢেলে দেওয়াটা খুব চাপের। যেমন, আমি ‘মেহের আলি’ প্রোডিউস করেছি। সেখানে আমিও কিন্তু ভেবেছি একটা নতুন কোনও ছেলের জন্য টাকা ইনভেস্ট করব কি না। তার চেয়ে মনে হয়েছে, আমার নিজের জন্য টাকা লাগাই। লাগল ভাল, না হলে আমার নিজের জন্য পয়সা যাবে, ঠিক আছে।

 

‘মেহের আলি’র পর কি আপনার আরও প্রোডাকশনে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে?

আসলে আমার মনে হয় বাংলা সিনেমায় ভাল লেখকের সবচেয়ে বড় অভাব। আমি তো বহুদিন ধরে অনেক লেখকদের সঙ্গে কথা বলি। বেশ কিছু ভাল গল্প, উপন্যাস পড়ছি। স্মরণজিৎ (স্মরণজিৎ চক্রবর্তী) আমার বন্ধু, ওঁর একটা উপন্যাস আমাকে দিয়েছে। সায়ন্তনী পূততুন্ডও আমার খুবই ভাল বন্ধু, ওঁর সঙ্গেও এ নিয়ে প্রায়ই কথা হয়। গল্প পেলে আমি পরের ছবিটার স্ক্রিপ্ট নিয়ে ভাবব।

 

তার মানে আপনি কি সাহিত্যনির্ভর ছবি বানানোর কথা বলছেন?

না, কন্টেন্ট দরকার। সাহিত্য নয়। কনটেন্ট না-হলে আজকে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা কঠিন। এখানে প্রেম করছি আর ব্যাংককে গিয়ে গান করতে গেলাম… এসব কনটেন্ট মানুষ আর নিচ্ছে না।

 

তা হলে আপনাকে আমরা অন্যধারার ছবিতে পাচ্ছি না কেন?

না, আমি তো ‘মেহের আলি’ করলাম। আগে ‘জ্যাকপট’ করেছি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আমি নিজে অন্যরকম ছবি করার প্ল্যান করছি। ভাল গল্প পেলে সেটা সম্ভব হবে।

 

দর্শক কি বদলে যাচ্ছে? বিশেষত কলকাতার দর্শক?

না, আমরা ভাল ছবি দিতে পারছি না। ভাল গল্প দিতে পারছি না। ‘বধাই হো’, ‘অন্ধাধুন’ এই ধরনের ছবি হচ্ছে বম্বেতে! ‘অন্ধাধুন’-এর লেখক অরিজিতদা আমার খুব ভাল বন্ধু। ওর সঙ্গেও আলোচনা করি। অরিজিতদা বলেন, শ্রীরাম রাঘবন বলেই দিয়েছিলেন, ভাল গল্প না-হলে ছবি শুরু করবেন না। এতদিন পরে একটা ছবি করলেন। সুজিতদার (সুজিত সরকার) সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। ‘ভিকি ডোনার’, ‘স্ত্রী’— এই ছবিগুলোর বাজেট কত? খুবই সামান্য! একটা ছোট্ট প্ল্যাটফর্ম, একটা বাড়ি, কয়েকটা মাত্র চরিত্র। কিন্তু গল্প এমন জায়গায় নিয়ে চলে যাচ্ছে, এক-একটা কনটেন্ট মানুষকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। তার চেয়েও বড় ব্যাপার, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে আ়ঞ্চলিক ছবি চলে প্রাইমটাইমে। আমাদের এখানে তো হিন্দি ছবি এলে, সেটাকেই প্রাইমটাইমে চালানো হয়।

 

একসময় বলেছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে একমাত্র বন্ধু ‘হিট’। এখন কী বলবেন?

নিশ্চয়ই। হিট না হলে সত্যিই পাশে কেউ থাকে না। সেটা যে-কোনও পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেই সত্যি। তবে আমার মনে হয় না, কোনও অভিনেতার একার ক্ষমতা আছে সিনেমা হিট করানোর। সিনেমায় একাধিক স্টার থাকলেও, কনটেন্ট ভাল না হলে সিনেমা চলবে না। অমিতাভ-আমিরের বড় ব্যানারের ছবি, ট্রেলার দেখেই মনে হচ্ছিল ছবিটা চলবে না। এবং সত্যিই ছবিটা চলেনি। ডিরেক্টর আসলে গল্পটাই বলতে পারেননি।

 

পরিচালনায় আসার ইচ্ছে রয়েছে?

এখনও ভাবিনি। যদি কোনও গল্পের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারি, যদি মনে হয় গল্পটা আমি ভাল বলতে পারব, তা হলে করতেও পারি। শেখর কপূর যখন প্রথম সিনেমা ‘মাসুম’ করেছিলেন, তখন তিনি রাইট-লেফ্‌ট, ক্যামেরার পজ়িটিভ-নেগেটিভ জানতেন না। কিন্তু তিনি বলেছিলেন “আমি একটা গল্প বলতে জানি”। ওঁকে সকলেই ক্রিটিসাই‌জ় করেছিল সিনেমার বেসিক, এডিটিং না জেনে সিনেমা করার জন্য। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি গল্প বলতে জানাটা আসল। আমি যদি সেরকম কোনও গল্প পাই, নিশ্চয়ই পরিচালনায় আসব।

 

সাম্প্রতিককালের কোনও ভাল লাগা বাংলা ছবি?

(একটু ভেবে) এই মুহূর্তে আমার রাজের ছবিটা খুব ভাল লেগেছে। ‘অ্যাডভেঞ্চারস অফ জোজো।’ রাজ আমাকে যখন ওঁর ট্রেলারটি দেখিয়েছিল, তখনই আমি বলেছিলাম “বস, এটা অন্যধরনের ট্রেলার। খুব ইম্প্যাক্টফুল। পুরো ছবিটা যদি এইরকম হয়, তা হলে এটা মানুষ কানেক্ট করবে, মানুষ দেখবে।” আর দর্শকদের খুব ভাল লেগেছে ছবিটা।

 

নিজের বিবাহিত জীবনেকে মানুষের কাছে থেকে দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখার কারণ কী ছিল?

আসলে আমি বিশ্বাস করি অভিনয়টা আমার প্রফেশন। যাঁরা অন্য প্রফেশনের, তাঁরা ঠিক যেভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ওয়র্ক স্পেসে আনতে চান না, আমিও ঠিক তাই। তাই ব্যক্তিগত যেটা, সেটা ব্যক্তিগতই থাক! (হাসি)

আমরা পার্টিতে সবাই দেখা করি, জড়াজড়ি করি… কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই আসলে আলাদা-আলাদা দ্বীপ: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়

Kaushik-Ganguly-big
নিজের পরিচালক সত্তা ছাপিয়ে উৎসাহিত পিতার সত্তা বেরিয়ে আসে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের। যখন ‘রসগোল্লা’য় অভিনয় করা তাঁর পুত্র উজানের কথা ওঠে। সেখান থেকে তাঁকে নিজের কথায় ফেরাতে বেশ বেগই পেতে হয়। কিন্তু তারপর মনের কথা, ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুত্বের কথা, অনেক কিছুই বললেন ইন্দ্রাণী ঘোষকে

 

ছেলে উজানের প্রথম সিনেমা ‘রসগোল্লা’ তো রিলিজ় করল। খুবই ভাল রেসপন্স পাওয়া যাচ্ছে, উজানও তো বেশ ভাল অভিনয় করেছেন…

হ্যাঁ, খুব ভাল রেসপন্স… হাউজ়ফুল হচ্ছে। এই শনিবার থেকে শুরু হয়েছে হাউজ়ফুল হওয়া…আনন্দ লাগছে। দেখুন, আসলে যাঁরা অভিনয় করেন, তাঁরা তো আসলে এন্টারটেনার, মানুষকে আনন্দ দিতে চান। সেই আনন্দ অনেক সময় মানুষের কাছে পৌঁছয় না। সেই আনন্দ যখন পৌঁছে যায়, তখন নিজেকে কেমন যেন সফল মনে হয়। আমি, চূর্ণী দু’জনেই যথেষ্ট লেখাপড়া করি, আমরা শিক্ষক ছিলাম দু’জনেই। সেই সব ছেড়ে দিয়ে আমি আর চূর্ণী এই জগতে এসেছিলাম। উই আর ফ্যামিলি অফ এন্টারটেনার্স। মানুষের বিনোদন করার জন্যই এই পরিবার, অন্তত আমরা। এই কাজই করেছি সারা জীবন। চূর্ণী পরিচালক-অভিনেত্রী হিসাবে, আমিও পরিচালক-অভিনেতা-চিত্রনাট্যকার হিসেবে। কাজেই আমাদের ভাল থাকা, মন্দ থাকা, ঝুঁকি, সাফল্য সবই এই বিনোদনের জগতে। আমার বাবা যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও ছিলেন বিনোদনের জগতে, এইচ এম ভি-তে বাবার রেকর্ড অ্যালবাম বেরত। এই ব্যাপারটা বাবার কাছ থেকে আমাদের কাছে এসেছে। সেখানে পরের প্রজন্ম, পুত্র, সেও বিনোদনের জন্য, মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য একটা ছবি করল, মানুষের ভাল লাগল সেই ছবিটা… এটাই আমার কাছে আনন্দের। ও শিখবে আরও। ভাল ছাত্র, আস্তে-আস্তে নিজেকে গড়ে তুলবে…

 

উজান তো পরে পরিচালনাতেও আসতে পারেন…

করুক যা ওর ভাল লাগে, যেখানে আনন্দ পাবে। এমন কাজ কর, যেখানে নিজে আনন্দ পাও। সেখানে দারিদ্রের কষ্টও মুছে যায় যদি আপনি নিজে সত্যিই আনন্দ পান। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, এবং আমি সত্যই তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি এমন একটা কাজ করি যে কাজটা করতে আমার ভাল লাগে। কত মানুষ কত বড়-বড় চাকরি করে, তাদের বেশিরভাগের মনেই তো শান্তি নেই। অনেকের কাছে তাদের কাজটা বাধ্যতামূলক। এত আনন্দ পাই আমি কাজটা করে, এবং সেই কাজটা করতে গিয়ে আমি আর্থিক অভাবের মধ্যে দিয়েও গিয়েছি। হয়তো ভবিষ্যতেও যাব। কিন্তু আমার ভাল লাগে যে, যে কাজটা আমি করছি, সেটা নিজের মতো করে করতে পারছি, আমার একটা গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারছি। তবে উজানের জন্য আনন্দ হচ্ছে যে মানুষ ওকে গ্রহণ করছে।

 

প্রথম সিনেমা, সেটাও যে বড় ব্যানারে… আচ্ছা, স্ক্রিপ্ট বাছার ব্যাপারে উজানকে কোনও পরামর্শ কখনও দিয়েছেন?

না। আসলে বিষয়টা যখন শুনেছিলাম, ভাল লেগেছিল। ছবির ভাল-মন্দের বাইরেও তো একটা সামাজিক গুরুত্ব থাকে, এই ছবিটা বাংলার একটা ইতিহাস। মিষ্টি দই, রসগোল্লা দিয়ে লোকে বাংলা চেনে। সেই রসগোল্লা কীভাবে সৃষ্টি হল, এইটা দেখাতে গেলে কিন্তু একটা সামাজিক সময়ের দলিল তৈরি করতে হয়। এই ইতিহাসটা কিন্তু আজকের ফাস্টফুডের জগতে কেউ জানতে যেত না। নবীনচন্দ্র দাশ সম্পর্কে শুধু উজানের কেন, কারওরই কোনও ধারণা নেই। সেই নবীনচন্দ্র দাশকে তৈরি করে ফেলা তার নিজের মতো করে… সেটা শুনেই আমাদের মনে হয়েছিল যে, সত্যিই, এমন ছবিতেই কাজ করা উচিত, এমন ছবি দিয়েই শুরু করা উচিত যাত্রা। কাজেই ও এই ছবিটা যে বেছেছিল, সেই ছবিটাতে অংশ নেওয়ার জন্য ওর একটা গৌরব আছে। এই ধরনের ছবিতে অংশ নেওয়া মানে তো একধরনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা, আজ নবীনচন্দ্র দাশের কথা উঠলে ওর মুখটা মনে পড়বে মানুষের। সেটা খুব ইন্টারেস্টিং, সেটা ও নিজের মতো করে করেছে।

 

ছবিটা আপনি দেখেছেন?

হ্যাঁ, দেখেছি। ছবিটা আমার খুব ভাল লেগেছে। ছবিটা সম্পর্কে আমার যা-যা বলার, সেটা নিয়ে আমি-চূর্ণী, উজানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ও পড়াশোনায় খুব ভাল এবং ভাল ছাত্র বলে ও অভিনয়ের ক্ষেত্রেও নিশ্চয় ভাল ছাত্র হবে, তাড়াতাড়ি বুঝবে কোনটা ভাল আর কোনটা ভাল নয়। প্রথম ও যখন পরদায় দেখছে, তখন ও নিজেই বুঝতে পারছে কোনটা ভাল লাগবে আর কোনটা করবে না! মানুষ ওকে গ্রহণ করছে। ও যখন বিভিন্ন হলে যাচ্ছে, সকলে খুব খুশি।

 

বাড়িতে রসগোল্লা খেয়েছেন?

হ্যাঁ, উজান বাড়িতেও রসগোল্লা বানিয়েছে।

 

এবার আপনার কথায় আসা যাক। পরপর এত ভাল সিনেমা করে চলেছেন, এত গল্প বলার আইডিয়া আসে কী করে?

আসলে এটা একটা অভ্যেস। লোকে তো ভাল সময় গেলে পার্পল প্যাচ-ট্যাচ বলে। আসলে ওসব পার্পল প্যাচ নয়, এটা আমার চলছে অনেকদিন ধরেই। আমি আর অন্য কিছু পারি না তো একেবারেই। এটাই পারি, এটাই ভালবাসি, দিন-রাত এটা নিয়েই ভাবনা-চিন্তা করি। ভাগ্য ভাল যে এখনও মাথা কাজ করছে। এখনও কিছু আইডিয়া মাথায় আসছে। আমার দুঃস্বপ্ন হল, আমি আর নতুন কিছু পারছি না বানাতে। যদি সেরকম হয়, তা হলে আমি কিছুদিন স্ট্রাগল করব, তারপর অবসর নিয়ে নেব…

 

অর্থাৎ কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় কখনও জোর করে সিনেমা বানাবেন না?

না,না, জোর করে কখনই সিনেমা বানাব না। আমি সিনেমা বানানোর নামে লোককে হতাশ করতে পারব না। ভাবতে পারব না যখন, তখন রিটায়ার করে যাব। এখনও যখন বসে-বসে ভাবি, ছোট-ছোট জিনিসের ভিতর থেকেই গল্প বেরিয়ে আসে, এবং আমার অভ্যেস যেরকম… তুচ্ছাতিতুচ্ছ জিনিসের থেকেও গল্প বেরয়। যতক্ষণ মাথা কাজ করবে… আমি গল্প বলতে পারি, সেটা আমাকে আনন্দ দেয়, লোকে কাগজ-পেনে গল্প লেখে আর আমি গল্পটা লিখি পরদাতে। বিশ্ব-সিনেমা তোলপাড় করে দেব, সে-কথা আমি ভাবি না। সমস্ত সাধারণ জিনিসের মধ্যেই সৌন্দর্য আছে, বাউল গান যেরকম, বা গ্রামের রাস্তা যেমন সোজা চলে যায় দূরে কোথাও… এই ধরনের সরল জীবনযাত্রা, সরল শিল্প-সাহিত্যের মধ্যেও গভীরতা আছে। গভীর জিনিসকে নিয়ে বেশি জটিল করলে, তাতে নাগরিক জটিলতা ঢুকিয়ে ফেললে সেই গল্পে কোনও মজা থাকে না…

 

তবে মানুষের মনে ‘বিসর্জন’-এর প্রভাব কিন্তু মারাত্মক ছিল…

হ্যাঁ… ‘বিজয়া’র প্রভাবটা হয়তো আরও মারাত্মক হবে… ‘বিজয়া’ দেখার পর দর্শকের মানসিক অবস্থাটাই অন্যরকম হয়ে যাবে… ‘বিজয়া’ খুব পরিণত একটা ছবি। সাধারণত সিকোয়েল হলে সকলে বলে যে পরেরটা আর আগের মতো হয়নি। আমরা খুব কেয়ারফুল ছিলাম যাতে ‘বিজয়া’ ‘বিসর্জন’কেও টপকে যায়। এটা আমি বিশ্বাস করি। খুব বড় একটা ছবির উদাহরণ দিই, ‘পথের পাঁচালী’র থেকে আমার ‘অপরাজিত’ বেশি ভাল লাগে। তেমনই আমার ‘বিসর্জন’-এর থেকে ‘বিজয়া’ বেশি ভাল লাগে। ‘বিজয়া’ অনেক স্ট্রং, ব্যাকরণগত দিক দিয়ে অনেক গভীর একটি ছবি।

 

‘বিজয়া’র পরেও নাকি আরও গল্প রয়েছে…

হ্যাঁ, গল্প তো আছে। ‘বিসর্জন’-এর আগে একটা পার্ট আছে, যেটা আমরা করিনি। আর ‘বিজয়া’র পরেও একটা পার্ট আছে। ‘বিজয়া’ যদি দর্শকের ভাল লাগে, তাঁরা যদি আগ্রহ প্রকাশ করেন, তখন আমরা আর একটা পার্ট বানাব।

 

‘বিজয়া’ আদৌ হবে কি না, সেটা নিয়েও তো অনেক কনফিউশন ছিল…

হ্যাঁ। তবে ‘বিসর্জন’ যখন শুটিং করছিলাম, তখনই এটা নিয়ে আলোচনা হত যে এরকম একটা গল্প আছে। ক্যানভাসটা যে কী, সেটা দর্শককে জানানোর একটা পরিকল্পনা তখন থেকেই ছিল। ‘বিসর্জন’-এ সাফল্যটা দৃষ্টান্তমূলক ছিল। ওটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা বক্স অফিস সাফল্য। তারপরেই প্রযোজক বলতে শুরু করেন যে পরের গল্পটাও হোক। তখনই আমরা সিদ্ধান্তটা নিয়ে নিই। যাঁরা-যাঁরা ‘বিসর্জন’-এ ছিলেন, সকলেই কিন্তু ‘বিজয়া’তে আছেন।

 

পেশাদার জগতে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সাফল্য তো এসেছে অনেকদিন পরেই…

প্রথম সাফল্য দেখেছিল ‘শূন্য এ বুকে’,আমার দ্বিতীয় ছবি। বক্স অফিসেও খুব ভাল করেছিল। তারপরে আস্তে-আস্তে চলেছে, ডিজ়াস্টার হয়নি কখনও। প্রথম বড় সাফল্য ‘শব্দ’, ‘আর একটি প্রেমের গল্প’। তারপরে তো ‘অপুর পাঁচালি’ হয়েছে, ‘সিনেমাওয়ালা’ হয়েছে… ‘কেয়ার অফ স্যার’ও খুব ভাল…

 

কিন্তু পরিচালক হিসাবে সাফল্য পাওয়া ও ‘ভাল’ সিনেমা বানানো তো এক জিনিস নয়…

না, এ দুটোর একেবারেই যোগাযোগ নেই। আপনি যদি লেখকদের ভাল-ভাল বই দেখেন, দেখবেন সেগুলো সবচেয়ে কম বিক্রি হয়। এর চাপ নিতে নেই। বড়-বড় প্রযোজক তো আমার সঙ্গে সকলেই কাজ করেছেন।

 

কিন্তু এটা কি মানবেন যে, ওই বড় প্রযোজক বা বড় ব্যানার যদি না থাকে, তা হলে পরিচালক হিসেবে নামটা আসে না?

না না, একেবারেই নয়। বড় প্রযোজক না, ছবি বড় হতে হয়। কাজেই সব প্রযোজকই জানেন যে ছবি যদি বড় না হয়, তা হলে কিছুই হবে না। অনেক প্রযোজকের প্রথম ছবিই তো সাফল্য পেয়েছে। সুপর্ণকান্তি করাতি যেমন… আবার ভেঙ্কটেশ, সুরিন্দর, অশোক ধানুকাও সাফল্য পাচ্ছেন… ছবি ভাল হলেই চলবে। আপনি তো আর দর্শককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! একটা ছবিকে কম শো দিয়ে আটকে রাখা যায়, কিন্তু দর্শককে আটকানো যায় না।

 

পরপর এত ভাল সিনেমা, এত সাফল্য… এই পরিসংখ্যান, বক্স অফিস সাফল্য এগুলোর চাপ তো আছেই, সে ব্যাপারে কী বলবেন?

এগুলো নিয়ে চাপ লাগে না, কিন্তু হ্যাঁ, পরিসংখ্যান, বক্স অফিস সাফল্য তো ম্যাটার করেই। তবে প্রত্যেকবারই যখন ছবি রিলিজ় করে, তখন অস্বস্তি লাগে যে মানুষ দেখবে কি না। এরকম অনেক ছবিই আছে, যেগুলো ছবি হিসেবে খুব ভাল, কিন্তু দর্শক হলে আসেনি। এর কোনও ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে। খুব রাগ হয় তখন, দর্শকের উপর অভিমান হয়। যেমন ‘ছোটদের ছবি’… আমার বানানো অন্যতম সেরা একটা ছবি, আমার প্রচণ্ড প্রিয় একটা ছবি। কিন্তু মানুষ এল না দেখতে। এই না-আসাটা তো আর আপনি আটকাতে পারবেন না। তাঁরা টিভিতে দেখবেন ছবিটা, তখন ফোন করে বলবেন অপূর্ব হয়েছে ছবিটা, তখন বুঝিনি। যেমন ‘ছায়া ও ছবি’। এগুলো মেনে নিতে হয়। এটাই এই জগতের ম্যাজিক। খুব মন খারাপ হয়। সেই মন খারাপটা নিয়ে আবার পরের কাজ শুরু করতে হয়। হাজার-হাজার রানের মালিক সচিন তেন্ডুলকর যখন জ়িরো করেন, তখন কি তাঁর মন খারাপ হয় না? ব্যর্থতা না ভুললে তো জীবনে এগনোই যাবে না! তা হলে তো ডিপ্রেশনে চলে যাবে মানুষ। চেষ্টা করি সেটা থেকে বেরিয়ে আসার। একজন সাধারণ মানুষ কোনও ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে যা-যা চলে তাঁর মনের মধ্যে, আমার মধ্যেও ঠিক তাই-ই হয়।

 

পরিবারের সকলেই এক পেশায়। এর সুবিধাটা ঠিক কী?

একে অপরের কাজের জায়গাটা বুঝতে শেখা, একে অপরের জায়গাটাকে সম্মান করা। প্রয়োজনের বেশি কেউ কাউকে পরামর্শও দিই না। তবে উজান এই পেশায়… আমি এখনও বলব না। সবে একটা ছবি করেছে, ও তো অধ্যাপকও হয়ে যেতে পারে। ও কী করবে, সেটা ও ঠিক করবে, সেটা আমাদের ঠিক করে দেওয়াটা ঠিক হবে না। বাবা-মা হিসেবে আমি বা চূর্ণী, কেউই চাপিয়ে দিই না কিছু। চূর্ণী উজানকে বড়ই করেছে অপশন দিতে-দিতে, যাতে ওর কখনও অতৃপ্তি না হয়। স্কুলেও ও ভাল রেজ়াল্ট করত, সেখানেও ওকে থিয়েটার, গান সব করতে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে থেকেই ওর জীবনটা গড়ে উঠেছে। ও ভাল হোক, মানুষ ওকে ভালবাসুক। সবচেয়ে বড় কথা, ও সফল হিরো বা ব্যর্থ হিরো যাই হোক না কেন, লোকে যেন ওকে ভাল মানুষ হিসেবে জানে। সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

 

আর এক পেশায় থাকার অসুবিধে?

সেরকম অসুবিধে নয়, শুধু একে অপরের সঙ্গে একটু সময় কমে যায়। সেটা তো তিনজন তিনটে আলাদা পেশায় থাকলেও হতে পারত। তবে এই ধরনের পেশায় একটা যৌথ অনিশ্চয়তার জায়গা থাকে, কারণ জিনিসটা তো আদতে ফ্রিলান্সিং, আর তিনজনেই ফ্রিলান্সার বলে অবসরের কোনও স্থির বয়সও নেই, কোনও স্থির রোজগার নেই, সাফল্য-ব্যর্থতার কোনও আলাদা মানচিত্রও নেই। এটা একটা অন্ধকার ঘরের মধ্যে তিনজন আনন্দ করে এগিয়ে যাওয়ার মতো। শেষে কখনও আলো দেখা যাবে, কখনও যাবে না…

 

প্রতিযোগিতা তো আছেই…

আমার প্রতিযোগিতা শুধু আমার সঙ্গেই। পরের ছবি যেন আরও ভাল হয় বা অন্যরকম হয়…

 

তা হলে পরের ছবি আরও ভাল বানাতে হবে, এই চাপটা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের আছে?

দেখুন ভাল তো হয় না, অন্যরকম হতে পারে। আমার কাছে ভাল ছবির চাপ নেই, আমি সব ছবি ভাল করে বানাই। সব ছবি যেন একরকম দেখতে না হয়ে যায়, সেই চাপটা থাকে। সেটাই চেষ্টা করা, যাতে বদলে-বদলে করা যায়, নিজেকে এক্সাইট করে রাখা যায়। কারণ অনেক বছর ধরে তো কাজ করছি, নিজেই যদি উৎসাহ না পাই। ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ আমার তেইশ নম্বর ছবি… এটা তো আর মজার ব্যাপার নয়! তার আগে আমি প্রায় কুড়ি-পঁচিশটা ছবি বানিয়েছি টেলিভিশনের জন্য। এখন ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-এর শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ‘নগরকীর্তন’ মুক্তি পাবে। কাজেই ভালই তো হচ্ছে। নিজের আনন্দ যদি না থাকে, নিজের যদি খিদে কমে যায় তা হলে যত ভাল খাবারই তুমি দাও, কোনও মজা নেই! সেটাই চেষ্টা করা, চ্যালেঞ্জটা নিজের কাছেই রাখা… ছবি করার খিদেটাকে ধরে রাখা। আর মানুষের এত ভালবাসা, প্রত্যাশা তো আছেই। সব মিলিয়ে খিদে কমার লক্ষণ এখনও প্রকাশ পায়নি।

 

আচ্ছা, ইন্ডাস্ট্রির কোন জিনিসটা খারাপ লাগে?

ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত কিছু এখন ছোট-ছোট দ্বীপের মতো হয়ে গিয়েছে, একটা দেশ হয়ে উঠতে পারছে না কিছুতেই… সেটা আমাকে খুব পীড়া দেয়। আমরা পার্টিতে সবাই দেখা করি, জড়াজড়ি করি…কিন্তু সবাই আসলে আলাদা-আলাদা দ্বীপ। টলিউডটা যেন ডাল লেকের ছোট-ছোট শিকারাগুলোর মতো… একটা দেশ হয়ে ওঠা খুব দরকার, যৌথ হওয়া দরকার। কারণ আমরা একা-একা খুব দুর্বল। একত্রিত না হলে সবাই মিলে উতরোবে না, সব যাত্রী পার হবে না, কিছু লোক মাঝপথে ডুবে যাবে।

 

এরপরে কী কী ছবি আসতে চলেছে?

‘জ্যেষ্ঠপুত্র’, ‘নগরকীর্তন’… ‘ধুমকেতু’ তো রেডি হওয়ার কাজ চলছে…

চৈতী ঘোষালের সাক্ষাৎকার

chite-gshal-big
কেরিয়ার থেকে জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে মুখ খুললেন চৈতী ঘোষাল। শুনলেন জয়াশিস ঘোষ

 

আপনার সাম্প্রতিক ছবি ‘কলের গান’। এই কলের গান নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত কোনও অভিজ্ঞতা যদি বলেন…

সে ভাবে বলতে গেলে ‘কলের গান’ নিয়ে আমার তেমন কোনও অভিজ্ঞতা নেই। তবে একটা কথা মনে আছে, আমার তখন পাঁচ কি সাড়ে পাঁচ বছর বয়স। তখন আমি ‘ডাকঘর’ নাটকে অমলের চরিত্রটা করতাম। সেটা ছিল আমার জীবনের প্রথম কাজ। সেই সময় তৃপ্তি মিত্রর বাড়িতে একটা রেকর্ড প্লেয়ার ছিল। সেই রেকর্ড প্লেয়ারে আমি অনেক পুরনো-পুরনো গান শুনেছি। সেটাই ছিল আমার রেকর্ডে গান শোনার প্রথম অভিজ্ঞতা।

 

আপনার রুপোলি পরদার জার্নিটা শুরু হয় কীভাবে?

সেটা খুব ইন্টারেস্টিং একটা ঘটনা। আমার প্রথম ছবি ছিল অপর্ণা সেনের ‘পরমা’। যেহেতু আমার বাবা শ্যামল ঘোষাল একজন অভিনেতা ছিলেন, তাই ছোট থেকেই বেশ কিছু ছোটখাটো ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম। যদিও বাবা আমাকে সেগুলোর কোনওটাই করতে দেননি। তখন আমি স্কুলে পড়ি। একদিন স্কুলেরই এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে থামল। গাড়ি থেকে নামলেন অপর্ণা সেন। আমাদের বাড়িটা হল লিনেমার বাড়ি, সেখানে অপর্ণা সেন আসাটা তেমন কোনও বড় ব্যাপার নয়। আমি কিছুই জানি না, মা খালি বললেন, আমায় সাড়ে আটটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে। আমি তো সেটা কিছুতেই মেনে নেব না, সেই নিয়ে মা’র সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিও চলছে… শেষপর্যন্ত আমি সেই জন্মদিনের পার্টিতে চলে যাই। এর দু’তিনদিন পর একদিন স্কুলে যাওয়ার সময় খেতে বসেছি, মা বললেন, আমি নাকি খুব রোগা, আমার আরও ভাল করে খাওয়া-দাওয়া করা দরকার। আমি তো এই কথা শুনে অবাক! জিজ্ঞেস করাতে মা বললেন, রীনাদি নাকি ‘পরমা’তে একটা ইন্টারেস্টিং চরিত্রে আমাকে নেওয়ার কথা ভাবছিলেন, কিন্তু আমি খুব রোগা বলে উনি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। মায়ের বক্তব্য, আমি সিনেমায় অভিনয় করি বা না-করি, আমি রোগা, এই কথাটা যেন মাকে কারও কাছ থেকে শুনতে না হয়! এখন ভাবি, মা যদি জানতেন যে রোগা থাকাটাই আসল ব্যাপার…(হাসি)। শেষপর্যন্ত অবশ্য আমি ‘পরমা’র জন্য নির্বাচিত হই। তখন ক্লাস এইটে পড়ি। এরপর গৌতম ঘোষের সঙ্গে ‘কুয়াশায়’ বলে একটা শর্টফিল্ম করি। তারপর ওঁর সঙ্গেই ‘এক ঘাট কি কাহানি’ বলে একটা কাজ করি। ততদিনে আমি টুয়েলভ পাশ করে গিয়েছি। এরপর নব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছি। টুকটাক থিয়েটারও করছিলাম। এরপর যখন কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, তখন দূরদর্শনে রণজিৎ রায়ের সঙ্গে ‘চেনা অচেনা’ বলে একটা সিরিয়ালে কাজ করি। ওই কাজটা করে আমি তখনকার সময়ের প্রায় সব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম। এভাবেই আমার পথচলার শুরু…

 

এতবছর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার পর আজ কি কোনওভাবে মনে হয় যে ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারল না?

হ্যাঁ, আমার এটা অবশ্যই মনে হয়। আমার আসলে আত্মসম্মানবোধটা একটু বেশি, আর আমার মনে হয় যে-কোনও অভিনেতা-অভিনেত্রীরই সেটা থাকা প্রয়োজন। এই ‘আত্মসম্মান’ ব্যাপারটা খুবই আশ্চর্যজনক একটা ব্যাপার। কেরিয়ারের পথে এটা মাঝে-মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, আবার এটার জন্যই অনেক বড় হওয়াও যায়। সত্যি কথা বলতে, আমার দর্শকরা আমায় বলেন যে তাঁরা কেন বড়পরদায় আমাকে দেখতে পান না। ছোটপরদা নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই, কারণ টেলিভিশনে আমি নানারকমের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। আর তার জন্য দর্শকদের কাছ থেকে যথেষ্ট প্রশংসাও পেয়েছি। এর জন্য আমি তাঁদের কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ। থিয়েটার কম করলেও বেশ কিছু ভাল-ভাল চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। সেদিক থেকে আমার মনে হয়, সিনেমা আমাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। পরিচালকরা সকলেই জানেন আমি কেমন অভিনয় করি… কেউ বলবেন না যে আমি দেখতে খারাপ কিংবা আমার কোনও গ্ল্যামার নেই। তবুও তাঁরা কী কারণে যে আমায় কাস্ট করতে চান না, আমি জানি না! এর ফলে আমার অনেকগুলো ভাল চরিত্র করা হল না। এটা ঠিক যে, আমি একটু বাছা-বাছা ছবি করি। ছবির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অনেকেই এক মিনিট-দু’মিনিটের রোলে অভিনয় করলেও আমি তা করি না। জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য কিংবা টাকা রোজগারের জন্য ও’রকম চরিত্রে অভিনয় না করলেও আমার চলবে। কিন্তু যে রোলে অভিনয় করলে আমার অনেক কিছু দেওয়ার জায়গা থাকবে, সেই চরিত্র করতে আমি সবসময়েই আগ্রহী।

 

ভবিষ্যতে ক্যামেরার পিছনে কাজ করার কোনও পরিকল্পনা আছে?

আমার ইচ্ছে আছে। আগে ছিল না, কিন্তু এখন হয়েছে। তবে কীভাবে কাজ করব, সেটা এখনও কিছু ভাবিনি।

 

এখন তো আপনি একজন তরুণ অভিনেতার মা-ও বটে। তাঁকে কীভাবে মোটিভেট করেন?

(হাসতে হাসতে) তাকে মোটিভেট করার কিছু নেই। সে নিজেই যথেষ্ট মোটিভেটেড। সে বরং আমাকে মোটিভেট করে। সকলের মতো আমার জীবনেও অনেক পাওয়া-না পাওয়া রয়েছে। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিটা হল আমার ছেলে অমর্ত্য রায়। যার জন্য আমার জীবনের খুশিগুলো আরও অনেকগুণ বেড়ে গিয়েছে। আমার ভাল লাগা, রাগ হওয়া— সবই ওর জন্য। ওর জীবনে আমি শুধু ওর মা নই, বন্ধুও। আমার সব কাজের উপরেই ওর সতর্ক নজর থাকে। ওকে আলাদা করে কিছু বলতে হয় না। শুধু বলেছি ধীর-স্থির থাকতে, নিজের মাথাটা ঠিক রাখতে। এটা মনে রাখতে হবে যে, ও সেরা নয়, ওর থেকেও ভাল অনেকে আছে।

 

তার মানে ও-ই আপনাকে অনেকটা কন্ট্রোল করে…

ওকে জিজ্ঞেস করলে হয়তো স্বীকার করবে না, কিন্তু আমি বলব যে হ্যাঁ, ও আমাকে অনেকটাই কন্ট্রেোল করে।

 

যদি নতুন করে সবকিছু শুরু করার সুযোগ আসে, কোনও কিছু কি পালটাতে চান?

না, আসলে এরকম একটা জীবন দেওয়ার জন্য আমি ভগবানের কাছে খুব কৃতজ্ঞ। এটকু বলতে পারি যে, কোনওরকম আপস না করে আমার মতো কেরিয়ার খুব কমজনই করতে পেরেছে! আর আমি দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ আমাকে এভাবে গ্রহণ করার জন্য।

 

যদি জীবনের একটা আক্ষেপের কথা বলতে বলা হয়…

একটা! ভুরি-ভুরি আক্ষেপ রয়েছে। তবে আরও ভাল-ভাল কিছু ছবিতে অভিনয় না করতে পারার আক্ষেপ তো রয়েছেই। তা ছাড়া জীবনে বেশ কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, যেগুলো আজও মেটানো হয়নি…এই আক্ষেপটাও রয়ে গিয়েছে।

চাকরিতে ফাঁকি দিলেও থিয়েটারের কাজে কোনও ফাঁকি থাকত না। থিয়েটারকে আমার বউয়ের সতীন বলা যেতে পারে: পরান বন্দ্যোপাধ্যায়

paran-img2
কর্মক্ষেত্র থেকে ব্যক্তিগতজীবন, সবকিছু নিয়ে মুখ খুললেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রোতা, জয়াশিস ঘোষ

 

আপনার সাম্প্রতিক ছবি ‘কলের গান’। এই ‘কলের গান’কে ঘিরে আপনার ব্যক্তিগত কোনও অভিজ্ঞতা আছে?

অবশ্যই আছে। আমার শৈশব, কৈশোর কেটেছে কলের গান শুনে। গান শুনতে-শুনতে নিজেও অনেকসময় গুনগুন করে গলা মিলিয়েছি। এইসব কাজে আমার সঙ্গী ছিল আমার ভাগ্নে। যৌবনেও কলের গান আমাদের সঙ্গে-সঙ্গেই এগিয়েছে। তখন গ্রামাফোন কোম্পানিগুলো প্রতিবছর শারদীয়া রেকর্ড বের করত, বুকলেট বের করত। তারপর সেই সব গান রেডিয়োতে বাজত। এখন যেমন জগঝম্প হচ্ছে, তখন কিন্তু এরকম ছিল না। সেই সময় গানের সুর কানে প্রবেশ করলে মোহিত হয়ে যেতে হত। চাকরিতে ঢোকার পর নিজের পয়সা জমিয়ে আমি প্রথমেই একটা সেকেন্ড-হ্যান্ড গ্রামাফোন কিনেছিলাম। বহুদিন সেটা শুনেছিলাম। তারপর ভাইপোকে দিয়ে দিই। তবে গ্রামাফোনের স্মৃতি আমার মনের মধ্যে রয়ে গিয়েছে। আসলে সব মানুষের মনের মধ্যেই কিছু না কিছু স্মৃতি থাকে। অল্পবয়সে সেটা স্বীকার করার সাহস হয় না। কিন্তু প্রৌঢ়ত্বে এসে সেই স্মৃতি তাকে পীড়িত করবেই।

 

এতদিন পর্যন্ত যে-যে ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, তার মধ্যে আপনার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র কোনটি?

এই প্রশ্নটা কিন্তু একটা রহস্যের জন্ম দেবে। তবে আমি এইসব ভেবে অভিনয় করি না। আমি সবসময় চিত্রনাট্য পড়ে দেখি যে আমার কাজ করার পরিসর কতটা। তবে ওভাবে দুম করে একটা চরিত্রের কথা বলাটা ঠিক হবে না। কারণ আমার কেরিয়ারে আমি সবরকমের চরিত্র করেছি। সেখান থেকে একটা বাছা কঠিন।

 

এমন কোনও চরিত্র কী রয়েছে, যাতে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে? এখনও করা হয়নি…

না, আমি এরকম করে ভাবি না। এসব আদেখলার ভাবনা।

 

নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর আপনি পাকাপাকিভাবে অভিনয়ে আসেন। তারপর থেকে একের পর এক সাফল্য। একটু আগে শুরু করলে ভাল হত না?

কখনওই না। আমি তো ওইসব ভেবে আসিনি। আমি আসলে থিয়েটারের মানুষ। ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে থিয়েটার করছি। তখন অবশ্য আবেগতাড়িত হয়ে করতাম। এরপর ‘আই.পি.টি.এ’-তে যোগ দিয়েছিলাম। তখন প্রকৃতপক্ষে বুঝতে শিখলাম থিয়েটার আসলে কী জিনিস। তারপর আস্তে-আস্তে নিজেকে আরও পরিণত করে তোলার চেষ্টা করলাম। এখনও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোনওদিনও ভাবিনি যে সিনেমা করব বা সেলিব্রিটি হব। সত্যি কথা বলতে অত স্বপ্ন দেখার সুযোগ আমার ছিল না। আমি শুধু পথ হেঁটেছি, এখনও হেঁটে চলেছি।

 

নিজের থিয়েটার দল নিয়ে আগামী পরিকল্পনা কী?

সেই কাজও চলছে। নতুন নাটক শুরু করেছি একটা।

 

চাকরির পাশাপাশি থিয়েটারও করে গিয়েছেন। তখন সবদিক কী ভাবে সামলাতেন?

চব্বিশ ঘণ্টা সময়টা তো খুব একটা কম নয়। তবে আমি অফিসে কম সময় দিতাম। এ ব্যাপারে বেশ অবাধ্য ছিলাম! এর ফলে মাইনেও অনেক কাটা যেত। কিন্তু থিয়েটারের কাজে কোনওদিনও ফাঁকি দিইনি। থিয়েটারকে আমার বউয়ের সতীন বলা যেতে পারে!

 

নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্পর্কে আপনার কী মতামত?

আমার কিছুই মতামত নেই। এখন যা সময়, তার মধ্যে যারা সতর্ক থাকবে, একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সততার সঙ্গে কাজ করবে, তারাই পথ খুঁজে পাবে। আর কেউ যদি একটু খ্যাতি পেয়েই ভেবে নেয় যে সব পেয়ে গিয়েছে, সে পস্তাবে। শুধু সিনেমা বলে নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই এই বার্তা প্রযোজ্য।

 

এখনকার নতুন ট্রেন্ড তো ওয়েব সিরিজ়। এই সম্পর্কে আপনার কী মতামত? এটা কি কোনওভাবে বড় পরদাকে আঘাত করতে পারে?

আমি এসব নিয়ে কিছুই ভাবি না। কালের নিয়মে অনেক কিছুই নতুন আসবে। তার মধ্যে ভাল-মন্দ দুটোই থাকবে। তার থেকেই বেছে নিতে হবে। আরে বাবা, হাতে ছোট যন্ত্রটা না থাকলে তো আর ওয়েব সিরিজ়ের স্বাদ পাওয়া যাবে না! আর কেউ যদি ঘাড় নিচু করে, পরিপার্শ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ওর স্বাদ নিতে চায়, তাহলে সে তাতেই আনন্দ পাক। এতে কত সুখ আছে, তা আমি জানি না।

 

আপনার কি কোনও ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করার পরিকল্পনা রয়েছে?

না, তেমন কিচ্ছু নেই।

 

এখন বাংলা সিনেমার ধারাটা একটু বদলেছে। তথাকথিত নায়ক-নায়িকাভিত্তিক ছবির থেকে সরে গিয়ে এখন অনেক বিষয়ভিত্তিক ছবি তৈরি হচ্ছে। এই ধারাটা কি বাংলা সিনেমাকে নতুন কোনও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে?

আসলে, আমি এসবের ধার ধারি না। একটা জিনিস দেখব, আর সেটাই ভাল বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দেব, আমি ওতে নেই। কোনটা ভাল কোনটা খারাপ, সেটা বলার আমি কে! আমি শুধু পথ হাঁটছি। তবে একটা সুবিধে হল, আমি ভাল-মন্দর পার্থক্যটা বুঝতে শিখেছি। কিন্তু আমি মনে করি, যতক্ষণ না জিজ্ঞাসা করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ভাল-মন্দ বলার অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই।

Paran Bandopadhyay | Interview | Tollywood

পয়সার জন্য সবকিছু করব, এটা যেন কখনও না হয়: ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত

 
নিজেকে বলেন স্পষ্টবক্তা। সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে গিয়ে মনে হল ভুল বলেন না। ছবি, গান, জীবন নিয়ে বড্ড স্পষ্ট বক্তব্য ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর। শুনলেন ইন্দ্রাণী ঘোষ।
indradeep-dasgupta-big

 

পরপর এত কাজ একসঙ্গে করছেন, আবার সব কাজই তো আলাদা-আলাদা। নিজেকে পালটান কীভাবে?

এটাই তো আমার কাজ। এটাই তো প্রফেশনালিজ়ম, শিক্ষা, ছোটবেলা থেকে নানারকম সঙ্গীত শোনার উপকারিতা। এই শিফটটা যে সবাই করতে পারে, তা কিন্তু নয়। আমি এর জন্য ভগবানকে ধন্যবাদ জানাই যে আমার মধ্যে এই শিফট করার ক্ষমতাটা দিয়েছেন। আর আমি শিফটটা করতে পারি এই কারণে যে, আমি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কোনও ব্যাগেজ নিয়ে চলি না। আই ডোন্ট বিহেভ লাইক আ মিউজ়িশিয়ান, গানের ফর্ম নিয়ে আমার আলাদা কোনও ছুতমার্গও নেই। এটা যদিও বলতে পারব না যে সবরকম জীবনযাত্রার সঙ্গে আমি
অভ্যস্ত, তবে সবরকম জীবনযাত্রাকে স্বীকৃতি দিই। দেখুন, একট-একটা গানের ফর্ম তো এক-একটা জীবনযাত্রা থেকে আসে। আমার বন্ধুরা রিকশাওয়ালা বা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট হতে পারে, কিন্তু আমি যখন তাদের সঙ্গে মিশি, তখন তাদের মতো করেই মিশি। মানুষ হিসেবে আমার যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, সেটাই আমার গানে ফুটে ওঠে।

 

আপনার প্রিয় গায়ক কে? কাকে দিয়ে গান গাওয়াতে চান?

এখনকার অরিজিৎ, আর অতীতে কিশোরকুমার, লতা মঙ্গেশকর।

 

সৃজিত মুখোপাধ্যায় থেকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়… আপনার কাজ করার লিস্টে বড়-বড় অনেক পরিচালকই আছেন। কার সঙ্গে কাজ করতে ভাল লাগে বেশি? কে বেশি স্বাধীনতা দেন?

কৌশিকদা। সৃজিতের পুরো জিনিস ছকা থাকে এবং সেই অনুযায়ীই করতে হয়। বেশি ডানদিক-বাঁদিক নড়া যায় না। আসলে সৃজিতের মাথায় যে সুরটা থাকে, সেটাই করতে হবে, অন্য কোনও জিনিস ও নেবে না।

 

এই নিয়ে কখনও ঝামেলা হয় না?

নাহ। এই নিয়ে কোনও ঝামেলা হয় না। আসলে সকলেরই তো বয়স হয়ে গিয়েছে। এটা ওর কাজ করার পদ্ধতি। কৌশিকদার কাজ করার পদ্ধতি অন্য। কৌশিকদা আমাকে ছেড়ে দেয়।

 

একটা বিজ্ঞাপনকে ঘিরে তো কিছুদিন আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন…বিতর্কও হয়েছিল… সেখানেই আপনি মন্তব্য করেছেন, দেখলাম ‘পয়সা’র জন্যই সেই শিল্পীরা নাকি এমন কাজ করেছেন … এই ব্যাপারটা নিয়ে আপনি কী বলবেন?

হ্যাঁ, আমার বক্তব্য এটাই ছিল যে, এখানে যারা-যারা কাজ করেছে, তারা তো এমন নয় যে কেউ খেতে পায় না! তাদের প্রত্যেকের বাড়ি-গাড়ি সবই আছে। আমাদের জীবনে কিছু-কিছু জিনিস আছে, যেগুলো আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, যেগুলো মায়ের মতো! সে আপনি ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ই হোক বা ‘কারার ওই লৌহকপাট’, ‘আগুনের পরশমণি’… এগুলোকে যখন আবার ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে যদি সঠিক মর্যাদা না দেওয়া হয়, তখন খুব খারাপ লাগে। সেই খারাপ লাগার জায়গাটা থেকেই আমি ধিক্কার জানিয়েছিলাম। এটা যে ওরা না করলেই পারত, এটা আমি এখনও বলব। তাছাড়া তার জন্য বিজ্ঞাপনটা তো এখন অফ এয়ারও হয়ে গিয়েছে। পয়সার জন্য সবকিছু করব, এটা যেন কখনও না হয়।

 

আপনিই তো নিজে একটা সাক্ষাৎকারে একবার বলেছিলেন যে, পয়সা পেলে আপনি অনেক কিছু করতে পারেন…

কোন সাক্ষাৎকার? এরকম কোনও সাক্ষাৎকারে বলিনি যে আমি পয়সা পেলে সব কিছু করতে পারি। বলেছিলাম, আমি পয়সা পেলে সবরকম ছবির গানই করতে পারি। তবে সবরকম ছবির গান আর এরকম একটা গানকে নিয়ে বাজে প্যারডি তৈরি করা… দুটোর মধ্যে তফাৎ আছে। আমি পয়সা পেলে ‘লুঙ্গি ডান্স’ও বানাতে পারি। কিন্তু ‘লুঙ্গি ডান্স’ তো কারওর গান নয়, এটায় আমি কারওর সেন্টিমেন্টে আঘাতও দিচ্ছি না। কিন্তু আমি তো ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ বা ‘আগুনের পরশমণি’ নিয়ে যা খুশি করতে পারি না। ‘আমার এই ফ্ল্যাটখানি তুলে ধরো’… এগুলো তো আর করছি না। এটাই আমার বক্তব্য ছিল।

 

আপনার তো বদনাম আছে স্পষ্টবক্তা, ঠোঁটকাটা বলে… এটা আপনি কীভাবে দেখেন?

এটাই আমার স্বভাব। আর দেখার আছেটাই বা কী? জীবনে সবকিছু দেখতে পেলে তো অনেক কিছুই হয়ে যেত! অনেকে বলেওছেন যে স্বভাবটা ঠিক কর। আর এখন তো বয়স হচ্ছে, শান্ত হচ্ছি। তাছাড়া আমি তো ঠোঁটকাটা নয়, স্পষ্টবক্তা। আর আমার সম্পর্কে তো এটাও শোনা যায় যে আমি কথাই কম বলি! আমি যে মুখচোরা, সেটা নিয়ে তো কেউ কিছু বলে না! আমাকে তো কোথাও দেখাও যায় না, সেটা নিয়েও তো কাউকে কিছু বলতে শোনা যায় না! আমি তো পাবলিসিটিতে যাই না কোথাও! তা হলে? যে লোকটা এসব করতেই চায় না, সে লোকটা যখন বলবে, তখন তার মনের কথাই নিশ্চয়ই বলবে!

 

তার মানে কী এটাই যে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পাবলিসিটিতে বিশ্বাস করেন না?

অবিশ্বাসও করি না। কিন্তু আমি খুব একটা ভিড়ে মুখ দেখাতে অভ্যস্ত নই, স্বচ্ছন্দ্যও বোধ করি না। এটা আমার ইচ্ছের মধ্যে পড়ে। আর নিজের কাজ যদি ভাল হয়, সে ঢাক আপনিই পিটে যাবে। আমার সন্তান যদি ভাল হয়, সে একদিন ঠিক জীবনের কোথাও পৌঁছে যাবে। তা হলে রিকশাওয়ালার ছেলে আই এ এস হত না। সন্তান যদি ভাল না হয়, তা হলে শত ঢাক পিটিয়েও কিছু হবে না।

 

তা হলে আপনি বলুন, এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিতে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের প্রতিযোগিতাটা কার সঙ্গে?

নিজের সঙ্গে।

 

কীসের প্রতিযোগিতা?

আরও ভাল কাজ করার তো বটেই। তাছাড়া আমি এখন ছবি বানাচ্ছি, সেটার জন্যও… আর এবার সিলেক্টিভ মিউজ়িক করতে চাই।

 

‘বিসর্জন’-এর সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন কালিকাপ্রসাদ। ‘বিজয়া’র সঙ্গীত নিয়ে কাজ করার সময় কোনও চাপ ছিল?

দেখুন এখানে ২৩ বছর কাটিয়ে ফেললাম তো, এখন আর চাপ মনে হয় না। এখন শুধু পরিষ্কার মনে, সততার সঙ্গে কাজ করতে চাই। প্রত্যেকটা ছবির ক্ষেত্রে সেই সৎ প্রয়াসটা দিলে বাকিটা তো সময়ই ঠিক করে নেবে। আর সৎ প্রচেষ্টার কিন্তু কোনও বিকল্প নেই। কালিকা করে গিয়েছে, আমাকে ওরটা ছাপিয়ে যেতে হবে, এই চাপ নিয়ে যদি আমি নামি, তা হলে তো প্রথমেই হেরে গেলাম! কালিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতার তো আমার কোনও দরকার নেই! কালিকা তার কাজ করে গিয়েছে এবং সেই কাজ মানুষের কাছে পৌঁছেও গিয়েছে। সেটাকে তো আর আমি নামাতে পারি না। আমি বরং তার পাশে একটা রাখার চেষ্টা করব। তা হলে প্রতিযোগিতাটা কোথায়? তার থেকে ভাল হতে পারে, খারাপও হতে পারে, তার আশপাশেও হতে পারে। এটা আমার সম্পূর্ণ স্বাধীন একটা চেষ্টা, এখানে তো প্রতিযোগিতা আসার দরকার নেই!

 

আচ্ছা, এখন বাংলা গানের অবস্থাটা ঠিক কীরকম?

আমার মনে হয়, বাংলা গানে শেষ দশ বছরে যে সিনেমার গানের আধিক্যটা চলছে, সেটা এখনও চলবে, কারণ সিনেমাতেই পয়সা, প্রোমোশন। তবে নন-ফিল্ম মিউজ়িকের আর একটু উঠে আসা দরকার। আমরা বিদেশেও দেখেছি, এদেশেও দেখেছি, নন-ফিল্ম মিউজ়িকেই কিন্তু আসল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সিনেমার গানে কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষাটা করা যায় না! সেখানে চাহিদা অনুযায়ী গান বানাতে হয়। নন-ফিল্ম মিউজ়িক খুব ওপেন, অনেকটা ওপেন ফোরামের মতো। আর সবাই তো রহমানের জায়গা থেকে আসেন না যে সিনেমার গানেও এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবেন! নন-ফিল্ম মিউজ়িক বাংলা গানে আরও বেশি করে উঠে আসা উচিত। সেটা আমরা যারা সিনেমার গান বানাই, একটা জায়গায় গিয়েছি, তাদেরই আর একটু ঠেলা দেওয়া উচিত।

 

এ বিষয়ে আপনি কী করছেন?

চেষ্টা করছি যারা নতুন তাদের সাপোর্ট করার। কথা বলার চেষ্টা করছি। আর্টিস্টরা নিজেরা কম্পোজ় করার চেষ্টা করছি আর সেটা বিনা পারিশ্রমিকে করার চেষ্টা করছি।

 

নিজের ছবি ‘কেদারা’ বানানোর অভিজ্ঞতা কেমন?

খুবই ভাল একটা অভিজ্ঞতা। একদম অন্য একটা চোখে দেখা…

 

এরপরে আরও সিনেমা বানাবেন?

হ্যাঁ। কথাবার্তাও চলছে। পরের ছবি ফেব্রুয়ারিতে শুট হবে। ২০১৯-এ দুটো ছবির শুট হবে। একটা ‘অপু’, আর একটা এখনও ঠিক হয়নি। ‘অপু’ একটা প্রেমের গল্প।

 

হঠাৎ ছবি বানানো…

দেখুন, এটা তো ইচ্ছে তো ছিলই, সেটা আস্তে-আস্তে সাহস করে এই জায়গায় এসেছি। এত জায়গায় কাজ করেছি, সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে…

 

এরপরের পরিকল্পনা কী?

পরিকল্পনা এখন একটাই, দশ বছরের মধ্যে রিটায়ার করতে চাই। আর তখন যেন হাতে যথেষ্ট টাকা থাকে, যাতে শেষ জীবনটা ঠিক মতো চলে যায়। এছাড়া নতুন ট্যালেন্টদের সাহায্য করা, তাদের সঙ্গে ভাবনা বিনিময় করা… তাদের সঙ্গে কাজ করা, অভিজ্ঞতা বিনিময় করা, যাতে তারা উপরে আসতে পারে… নতুন-নতুন ছাত্র তৈরি করতে চাই। আর কোনও পরিকল্পনা আমার নেই। আগেও করিনি, এখনও করব না।

 

‘বিজয়া’য় সঙ্গীত পরিচালনার অভিজ্ঞতা কেমন?

দেখুন, আমি লোকসঙ্গীত নিয়ে খুব কম কাজ করেছি, তার মধ্যে আমার প্রথম জীবনের ‘মহুলবনির সেরেঙ’ ছিল। ইদানিং কালে ‘বিসর্জন’, তার পরে ‘বিজয়া’তে লোকসঙ্গীত গানের প্রাধান্য দেখা গিয়েছে। সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে ভাল লাগে। এখানে নজ়রুলগীতি আছে, একটি প্রচলিত লোকসঙ্গীত গান আছে, তার সঙ্গে নতুন একটি গান আছে আর কালিকার একটা গান আছে… আর কৌশিকদার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তো সবসময়েই ভাল। একটু খুনসুটি, একটু… আর কৌশিকদাও তো লেখে… সব মিলিয়ে ব্যাপারটা বেশ ভাল।

 

মানে আপনাদের বন্ধুত্বটা বেশ জমে উঠেছে…

বন্ধুত্ব তো অনেকদিনই হল জমে উঠেছে। আমরা ইনফ্যাক্ট ভাল বন্ধু হওয়ার পরেই ‘অপুর পাঁচালি’ শুরু করি।

 

তা হলে এখন সিনেমা বানানোর কথা ভাবলেই কি গানের ক্ষেত্রে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় আপনার কথাই প্রথমে ভাবেন?

না, একেবারেই না! কৌশিকদার পরের ছবিতেই তো প্রবুদ্ধদা মিউজ়িক করছে। এরকম কোনও ব্যাপারই নেই। আমিই তো বলি যে, এই ছবিতে একে নাও। তবে কৌশিকদার সবচেয়ে বেশি ছবির গান যে করেছে, সেটা আমি। কিন্তু এরকম কোনও মানে নেই যে, সব ছবি আমাকেই করতে হবে!

 

আপনার অবসর মানেই কি গান?

আমার অবসর কাটে শুয়ে। আমার ছেলে ফিরনি, তার সঙ্গে খেলে, সিনেমা দেখে…

আর খেতে তো খুব ভালবাসেন…

চেহারা দেখে তো তাই মনে হয়…

রিপিটেশনের কারণে এখানে অনেক কাজ ছেড়েছি, পরে বাংলাদেশের অন্য আর্টিস্টরা সেটা করেছেন: জয়া আহসান

Jaya-Ahsan-big
কলকাতায় এসেছেন ‘বিজয়া’র প্রোমোশনে। চুটিয়ে কাজ করছেন দুই বাংলায়। ‘বিজয়া’কে নিজের পছন্দের কাজ নিয়ে কথা বললেন জয়া আহসান, ইন্দ্রাণী ঘোষের সঙ্গে।

 

‘বিজয়া’ মুক্তি পেতে চলেছে নতুন বছরে শুরুতেই… আপনি তো এখন বাংলা ছবির পরিচিত মুখ। নিয়মিত টলিউডে কাজ করছেন…

হ্যাঁ, নতুন বছরের একেবারে শুরুতেই আসতে চলেছে আমার ছবি, এটা দারুণ ব্যাপার। আশা করছি বছরটা বেশ ভালই কাটবে। ‘বিসর্জন’ তো বেশ ভাল চলেছিল… আমার তো মনে হয় ‘বিসর্জন’ সিনেমাটা যতটা না আমার, তার থেকেও বেশি দর্শকের।
চরিত্রগুলো তাদের এত কাছের, এত ভালবাসার… এত কষ্ট করে আমরা কাজ করি, এটাই তো সেরা পাওনা। ‘বিজয়া’কেও যেন দর্শক সেভাবেই আপন করে নেয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস দর্শক এটা আরও ভালবাসবে। আমার কাজ যদি কারওর ভাল লেগে থাকে, কেউ যদি মনে করেন আমি মন দিয়ে কাজ করি, তা হলে তাঁরা যেন হলে গিয়ে সিনেমাটা দেখেন। আর ‘বিজয়া’ কিন্তু খুব সুন্দর, মিষ্টি একটা ছবি, যা আসলে প্রেমের কথা বলে, ভালবাসার কথা বলে। আমরা প্রেমের কথা কিন্তু নানাভাবে বলি, এই সিনেমাটাও সেরকম। খুব সরল একটা প্রেমের গল্পকেই ‘বিজয়া’ অন্যরকমভাবে বলে।

 

আচ্ছা, ভারত-বাংলাদেশ দু’জায়গাতেই চুটিয়ে কাজ করছেন। পরপর এতগুলো কাজ করার তো একটা প্রবল চাপ থাকে। এই চাপটা ম্যানেজ করেন কী করে?

উত্তরটা আমারও জানা নেই (হাসি)। মাঝে-মাঝে ভাবলে নিজেরই অবাক লাগে। আমার নিজের প্রোডাকশন ‘C-তে সিনেমা’, তার কাজও তো চলছে এখন। ‘দেবী’ বেরিয়ে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু পরের ছবি ‘ফুডুৎ’-এর প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। মজাই লাগছে আসলে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার আমার কাছে তা হল, দিনের শেষে আমি সিনেমাটা নিয়ে তো থাকতে পারছি! ক’জন মানুষ পারে নিজের ভাল লাগার কাজটা করতে? এখন তো প্রোডাকশনও করছি। এর আগে অভিনয়ের বাইরে অন্য কিছুই করিনি। প্রযোজনাটা কিন্তু ভালই লাগছে।

 

ভারতে ছবি প্রোডাকশনের কথা ভাবছেন কিছু?

নিঃসন্দেহে। তবে আগে ওর জন্য আমায় আরও পোক্ত হতে হবে।

 

দুই বাংলাতেই আপনি সফল। পরপর পুরস্কার, সাফল্য…

পুরস্কার আমার কাছে একেবারেই ম্যাটার করে না, ফলে ওই হ্যাংওভারটা আমার নেই। আমি কাজ করতে ভালবাসি, আর নতুন-নতুন চরিত্র করতে চাই নিজের জন্যই। অন্য মানুষ, তাদের বক্তব্য আমার কাছে ম্যাটার করে না। আমার কাছে আমার কাজ আসলে নিজেকেই বোঝা। ‘এক যে ছিল রাজা’ করলাম, তারপর ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’। প্রত্যেকটা ছবিতে যদি চরিত্রগুলো অন্য চরিত্রের থেকে আলাদা থাকে এবং সব চরিত্রগুলোই যদি দর্শকের কাছে প্রশংসা পায়, তা হলে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওনা।

 

সিনেমার চিত্রনাট্য বাছার ক্ষেত্রে কোন জিনিসটা জয়াকে বেশি ভাবায়?

দেখুন, অনেকসময় অনেক ভাল কাজও কিন্তু আমি ছেড়ে দিই যদি সেই চরিত্রটার মধ্যে রিপিটেশন থাকে। এই রিপিটেশন জিনিসটা আমার একদম ভাল লাগে না। এখানে এমন অনেক সিনেমা ছেড়েছি আমি এই কারণে, যেটা বাংলাদেশের অন্য আর্টিস্টরা করেছেন। ছবির নাম আমি নিচ্ছি না, কিন্তু এরকম আছে কিছু-কিছু। আর সত্যি কথা বলতে কী, প্রচুর কাজ করে বোঝা বাড়ানোর কি আদৌ কোনও মানে হয়?

 

আলাদা চরিত্র মানেই তো তার জন্য আলাদা এক্সপেরিমেন্ট…

আমাকে আসলে চিত্রনাট্যই অনেকটা সাহায্য করে দেয় এ ব্যাপারে। আর কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় আলাদা করে এমন একজন পরিচালক, যে তাঁর সিনেমায় অভিনয় করলে আলাদা করে বেশি কিছু আর করতে হয় না। মানে একটু বুদ্ধিশুদ্ধি থাকলে কৌশিকদা যেভাবে গাইড করে, গোটা বিষয়টা মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়, তাতে যে কেউই সেটা সহজে করতে পারে।

 

সৃজিত মুখোপাধ্যায় না কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়?

দু’জনের সঙ্গেই কাজ করতে ভাল লাগে। দু’জনেই দু’রকম চান। সব কিছুর ক্ষেত্রেই দু’জনে স্বাধীনতা দেয়। কৌশিকদা যেটা করেন, সেটা হল আগেই সব কিছু বুঝিয়ে দেন আর সৃজিতের ব্যাপারটা হল, আমি যেটা করি, সেটাকেই উনি সুন্দরভাবে নেন।

 

ভারত ও বাংলাদেশ, এই দু’জায়গায় কাজের তফাৎটা ঠিক কোন জায়গায় বলে মনে হয় আপনার?

পরিবেশের তফাৎ খুব একটা নেই। তবে এখানে কাজটা কিন্তু একটু বেশি প্রফেশনাল অ্যাটিটিউডে হয়। আর বাংলাদেশে মাঝে-মাঝে এলোমেলো হলেও ওখানে সকলে ভালবেসে কাজটা করেন। কাজ নিয়ে বাংলাদেশে একটা পাগলামি আছে। পরে কী হবে, ছবিটা কী করে চলবে, সেটা না দেখেই ওখানে কোনও একটা ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করে ফেলা হয়।

 

তা হলে বলছেন এখানে সেটা হয় না?

না, এখানে সেটা যে হয় না, তা বলব না। তবে এখানে গোটা ব্যাপারটা খুব সুন্দর গুছিয়ে হয়। কোথায় ছবিটা বিক্রি করা যাবে, কারা সেটা দেখবেন, টার্গেট অডিয়েন্স কারা, এসব সুন্দর করে হিসেব করে নেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে নানারকম প্রতিকূল পরিবেশ, রাজনৈতিক অস্থিরতার ভিতরেও তাঁরা ছবিটা বানানোর জন্য অস্থির হয়ে থাকেন। ভাল ছবি তৈরি করতে চান।

 

টলিউডে বন্ধুত্ব…

হ্যাঁ, কেন হবে না? এখানে সবাই বন্ধু আমার, সবার সঙ্গেই তো কথা হয়।

 

সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়… বড়-বড় অনেকের সঙ্গেই তো কাজ করে ফেলেছেন। এবার কোন-কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে চান?

আমি একদম নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।

 

ওয়েবসিরিজ়ের ব্যাপারে কী বলবেন? এখন তো ওয়েবসিরিজ়ের খুবই রমরমা!

দেখুন, ওয়েবসিরিজ়ে কাজ করার অফার আমার কাছে এসেছে। তবে কাজ করতে হলে কিন্তু একটু বেছেই করব। খুব যদি ডায়নামিক হয়, তবে করাই যায়।

 

আচ্ছা, জয়া আহসান কখনও বলিউডে কাজ করতে চান?

হ্যাঁ, কেন নয়! আর শুধু বলিউডই বা কেন, আমাকে যদি চিন, জাপান থেকেও ডাকে, আমার চেহারা, অভিনয়ের সঙ্গে মেলে, তা হলে অবশ্যই করব।

 

এত কাজ, ব্যস্ততার মধ্যেও অবসর কাটাতে পারেন?

অবসর একদম পাই না। ফ্লাইটেই কেটে যায় অবসর…।

 

নিউ ইয়ারের পরিকল্পনা কী?

আপাতত সিনেমা নিয়েই ব্যস্ত। এই করেই কেটে যাবে…আর বাংলাদেশেও এখনই ফেরার পরিকল্পনা নেই। এখানেই রয়েছি কিছুদিন।

Jaya Ahsan | Bijoya | bishorjon | tolly interview

হিরো এবং ফ্যানগার্লের গল্প

jeet-sayantika-big
‘বাঘ বন্দি খেলা’র প্রথম গল্প ‘বাঘ’ কাজ করেছেন জিৎ-সায়ন্তিকা। এই জুটি এর আগেও আমাদের চার-চারটে ছবি উপহার দিয়েছে। । তা জুটির গোপন কথাটা কী? আর জিৎ-ই বা কী সাজেশন দেন সায়ন্তিকাকে? উত্তর খুঁজল, আসিফ সালাম এবং ঋষিতা মুখোপাধ্যায়

 
 

প্রথমে তো ‘বাঘ বন্দি খেলা’র ওয়র্ল্ড টিভি প্রিমিয়ার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বড় পরদায় রিলিজ় হল। আপনারাও নিশ্চয় ওয়র্ল্ড টিভি প্রিমিয়ারের কথাই জানতেন। তাহলে কি জিৎ বা সায়ন্তিকা, দু’জনেই মানেন, পৃথিবীটা এখন অনেক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে? ছবি হলে রিলিজ় হওয়ার আগে টিভি প্রিমিয়ার হবে…

জিৎ: না আমি মোটেই তা বিশ্বাস করি না। এটা একটা এক্সপেরিমেন্টের জন্য ভাবা হয়েছিল। এটা আরও একটা পথ হতে পারে, কিন্ত এটাই পথ নয়।
সায়ন্তিকাও জিতের কথায় মাথা নাড়লেন।

 

আচ্ছা ‘বাঘ বন্দি খেলা’ তিনটে গল্প নিয়ে তৈরি। তিনটেই আলাদা গল্প। কিন্তু আপনাদের মতে কোন গল্পটা এগিয়ে আছে?

সায়ন্তিকা: ছবিটা রিলিজ়ের আগে আমাদের তো অন্য ছবিগুলো দেখা হয়নি। তাই এখনও সেটা নিয়ে বলছি না। তবে ‘বাঘ’-এর প্রতি আলাদা ভালবাসা থাকাটাই স্বাভাবিক নয় কি? আমার মনে হয়, দর্শকের তিনটে গল্পই ভাল লাগবে। তিনটে একেবারে তিনরকম স্বাদের। ভাল-মন্দের বিচার দর্শকের হাতেই থাক না হয়।

জিৎ: না-না বায়াস্ড হওয়ার কোনও মানে হয় না। সবক’টাই ভাল।

 

‘বাঘ’-এর ভূমিকায় জিতের অ্যাকশন তাক লাগিয়ে দেয়। কিন্তু জিৎ আপনার ‘বাঘিনী’ ওরফে সায়ন্তিকাও অসম্ভব ফিট। তাঁকে অ্যাকশন করতে দেখা গেল না কেন?

জিৎ: আরে, আমি অ্যাকশন ডিরেক্টর অ্যালান আমিন নই, আমি জিৎ। আমি জানি ও অ্যাডভেঞ্চারাস। যদি কোনওদিন সুযোগ পাই, নিশ্চয় ওকে দিয়ে স্টান্ট করাব।

সায়ন্তিকা: এবার আমি উত্তর দিই, বাঘিনী কখনও কিন্তু নিজের শক্তি বাঘকে দেখায় না। সে বাঘের অ্যাকশন দেখে, করে না। তবে ‘পার্ট টু’ যদি হয়, সেখানে বাঘিনী কিছু করতে পারে।

জিৎ: ও তো মুখ দিয়েই কন্ট্রোল করে রেখেছে, অ্যাকশনের কী দরকার!

 

সে তো গেল ছবির ব্যাপার। সেটে জিতের কাছ থেকে বকুনি খেয়েছেন?

জিৎ: আমি ওকে বকুনি দেব কেন!

সায়ন্তিকা: উল্টে পাম্প্যার করে আমাকে। সত্যি বলতে কী, আমি জিতের ফ্যানগার্ল। আমার সঙ্গে ছবি করুক বা ছাই না করুক, ওঁর ছবি পরদায় এলেই আমি হাঁ করে জিতকে দেখি। এখনও সেই মুগ্ধতা কাটেনি।

 

জিতের সঙ্গে কোন নায়িকাকে দেখতে সবচেয়ে ভাল লাগে?

সায়ন্তিকা: কাউকে না, আমাকে। আর হ্যাঁ মোহনাকে।

 

তা জিৎ বিয়ে সম্পর্কে কোনও সাজেশন দিলেন সায়ন্তিকাকে?

সায়ন্তিকা: সত্যি! জিতদা কোনও সাজেশন দাওনি তো।

জিৎ: আগে ও ঠিক করুক বিয়ে করবে। ঠিক ছেলে খুঁজে পাক। তারপর দেখা যাবে।

 

আপনাদের জুটির চারটে ছবি হয়ে গেল। এই জুটির সাফল্যটা কোথায়?

জিৎ: আমাদের প্রথম ছবি ‘আওয়ারা’ থেকেই দর্শক কানেকশনটা ধরতে পেরেছিল। এখন প্রত্যাশাটা অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই বেছে-বেছে ছবি করতে হবে আমাদের। অ্যাকশন ফিল্ম করার ইচ্ছে আমার।

 

আচ্ছা বিগত কয়েক মাস ধরে হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবি কি একটু দুর্বল হয়ে পড়েছে? মানে সেভাবে সাফল্যের মুখ দেখছে না?

জিৎ: সেটা যদি হয়, তাহলে খুবই খারাপ ব্যাপার। সাম্প্রতিককালে হয়তো কিছু ছবি চলেনি, কিন্তু এত নেতিবাচক ভাবনারও কিছু নেই। হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে কিন্তু সিঙ্গল প্লেক্স হলের কালেকশন বেড়েছে। আর হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবির জন্য সিঙ্গল প্লেক্সই আসল। এখন বাংলায় কী হচ্ছে, সেটা আমি ঠিক বলতে পারব না। তবে যে কোনও ইন্ডাস্ট্রির অক্সিজেন কিন্তু কমার্শিয়াল ছবিই। তাই আমাদের সবাইকে চেষ্টা করতে হবে ওই ছবিগুলোর জন্য।

‘‘ক্যামেরা দেখলে আমার মন ভাল হয়ে যায়…’’

Ena-Saha-big0
আসছে তাঁর নতুন ছবি ‘হ্যাকার’। অভিনয়, বিগ বস, সব নিয়ে মন খুলে কথা বললেন এনা সাহা । শুনলেন ইন্দ্রাণী ঘোষ।

 
 

অনেক ছোটবেলা থেকেই তো আপনি অভিনয়ে আছেন, তা অভিনয়ই করবেন, এটা ভাবলেন কবে?

আসলে ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করব, এই সিদ্ধান্তটা আমাকে নিতেই হয়নি। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আমি এখানে চলে এসেছিলাম। সবাই যেমন মা-বাবার সঙ্গে বড় হয়, স্কুলে বড় হয়, আমি সেরকম ক্যামেরার সামনে বড় হয়েছিলাম। আমার খুব ভাল লাগত সেটা। ক্যামেরা জিনিসটা এমনিতেই আমার কাছে প্রচণ্ড ফ্যাসিনেটিং। ক্যামেরা দেখলে আমার মন ভাল হয়ে যায়। ভালই লাগে এই কাজটা করতে।

 

কত বছর বয়সে আপনার প্রথম অভিনয়?

যতদূর মনে পড়ে ছ’বছর বয়স থেকে।

 

বাড়ির লোক আপত্তি জানাননি?

আসলে বাড়ির লোকজনেরাই তো নিয়ে আসতেন এখানে। তখন তো আমি নিজে আসতে পারতাম না। আমি যখন বিষয়টা বুঝতে শিখেছি, তখন অলরেডি আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে অভ্যস্ত।

 

আপনার প্রথম অভিনয় কী ছিল?

প্রথমে আমি টেলিভিশন করতাম। এখানে আমি নাম নিতে পারছি না। টেলিভিশনে প্রায় সাত-আট বছর কাজ করেছি।

Ena-Saha-big2

পড়াশোনার সঙ্গে অভিনয় ম্যানেজ করতেন কী করে?

ওভাবেই আমার বড় হওয়া… আমি স্কুলে যেতাম, স্কুল থেকে ফেরত এসে টিউশন, তারপর শুটিং, শুটিং থেকে এসে আবার টিউশন… হোমওয়ার্ক শেষ করে ঘুমোতে যেতাম, ঘুম থেকে উঠে আবার স্কুল। স্কুল থেকে আবার শুটিং… এভাবেই ছিল ব্যাপারটা। বাচ্চারা যেমন আলাদা করে খেলাধুলো করতে যায়, সেই সময় আমি পেতাম না। সবকিছু আমার স্কুলেই…

 

স্ট্রাগল কেমন ছিল শুরুর দিনগুলোতে?

সত্যি কথা বলতে কী, স্ট্রাগলই যদি বলেন, সে তো আমি এখনও স্ট্রাগল করছি। আমার মনে হয় স্ট্রাগল এমন একটা জিনিস, যেটা আমাকে ছেড়ে কখনও যাবে না। আর সবারই তো নিজস্ব স্ট্রাগল থাকে, লক্ষ্য থাকে… স্ট্রাগল কিন্তু আসলে একটা ফান!

 

সিরিয়াল এবং সিনেমার মধ্যে বেছে নিতে হলে?

আমি আসলে অভিনয়টাকেই বাছব। দুটোর প্রস্তুতি যদিও দু’রকম, পুরোপুরিই আলাদা, একজন অভিনেতার জন্য প্রতিটা চরিত্রই কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটা টেলিভিশনের জন্যই করুন, কী সিনেমার জন্যই করুন!

 

‘বিগ বস’-এর অভিজ্ঞতা কেমন?

‘বিগ বস’ আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়েছে। ভুল, ঠিক… এটা আমার গোটা জীবনেরই শিক্ষা। ওরকম একটা শো-তে বাবা-মাকে ছাড়া, পরিারকে ছাড়া তেরো-চোদ্দজন অজানা লোকের সঙ্গে থাকতে গেলে সারভাইভাল যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা শিখিয়েছে ‘বিগ বস’। কিছু ভুল আছে, কিছু ভালমন্দ আছে… অনেক বেশি প্র্যাক্টিকাল বানিয়েছে আমায়…

 

‘বিগ বস’-এর মতো একটা প্ল্যাটফর্মে, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত জীবনকে, আবেগকে প্রায় খোলাখুলি দেখানো হয়… তখন তো প্রচুর বিতর্ক হত… সব কিছু সামলাতেন কী করে?

ওখানে আসলে কতটা সত্যি দেখাচ্ছে, কতটা মিথ্যা দেখাচ্ছে সেটা তো বাইরে বসে বোঝা যায় না, এমনকী আমরাও জানতে পারি না ভিতরে বসে যে বাইরে আদতে কী দেখানো হচ্ছে… এটা একটা গেম শো, যার জন্য আমাকে টাকা দেওয়া হয়েছিল… সবারই নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি ছিল, আমারও… ওই সারভাইভ করাটাই ওখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

Ena-Saha-big3

অবসর কাটান কী করে?

প্রচুর বই পড়ি, সিনেমা দেখি, বোনেদের সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। তাছাড়া সুইমিং ক্লাস, নাচের ক্লাস, জিম, স্কোয়াশ…

 

বয়ফ্রেন্ড?

সময় নেই আপাতত…

 

‘আনন্দলোক’ ফলো করেন?

অবশ্যই। সবসময় ফলো করি। ‘আনন্দলোক’-এর আগের দুটো সংখ্যায় আমি ছিলাম। ‘আনন্দলোক’ সবসময়েই আমার কাছে খুব প্রিয়। ফোটোশুটগুলো খুব ভাল লাগে। খুব ভালবাসি পড়তে, যাঁরা লেখেন তাঁদেরও খুব ভাল লাগে। অনেকের লেখা আমার খুব পছন্দের। আমি আলাদা-আলাদা করে কারও নাম নিলাম না। ‘আনন্দলোক’-এর জন্য অল দ্য বেস্ট!