Category Archives: tollywood interview template

আপোসের রাস্তা রাহুলই রাখেনি: প্রিয়ঙ্কা

Priyanka-big
মিউচুয়াল ডিভোর্স নয়, রাহুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রিয়ঙ্কা সরকার। অভিযোগ প্রচুর। শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা, সেপারেশনের দু’বছর পরও ছেলে সহজের ভরণপোষণের দায়িত্ব না নেওয়া… আনন্দলোককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল ইতিমধ্যে নিজের কথা জানিয়েছেন। এবার মুখ খুললেন প্রিয়ঙ্কা।

 
 

রাহুলের দাবি, আপনার কামালগাজির ফ্ল্যাটের অনেকটা টাকাই রাহুল দিয়েছেন। আপনার কী বক্তব্য?
এই কথাটা মোটেই ঠিক নয়। ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট করা হয়েছিল আমার আর রাহুলের জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে। তাতে দু’জনের টাকাই ছিল। তবে এটুকু বলতে পারি, রাহুলের অংশটি একেবারেই নগণ্য! গত দু’বছরে সহজের জন্যও ও কোনও টাকাপয়সা দেয়নি।

আপনি বলেছেন, রাহুল আপনাকে মারধর করতেন বিয়ের পর থেকে। তাহলে আপনি এতদিন ওঁর সঙ্গে থাকলেন কেন?
আশা ছিল বলে! আমি তো মা-বাবা, পরিবার সব ছেড়ে রাহুলের সঙ্গে সংসার পেতেছিলাম। সেটা সবাই জানেন। ভালবাসতাম বলেই এত কিছু করেছিলাম। যে সম্পর্কটার জন্য বাকি সব ছেড়েছিলাম, তা এত সহজে ছেড়ে দেব? অবশ্যই না। তাই এতগুলো বছর আশা করে গিয়েছি রাহুল বদলে যাবে।

রাহুলের প্রশ্ন, এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকা সহজকে বড় করতে কেন লাগবে, সেব্যাপারেও তিনি সন্দিহান…
সহজের পিছনে মাসে কত টাকা খরচা হয়, সেব্যাপারে আমি রাহুলের সঙ্গে অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেছি। ও বারবার এড়িয়ে গিয়েছে। আর সহজকে মানুষ করতে কত টাকা লাগতে পারে, সেব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। সেটা উকিল ঠিক করবেন। আমিও ব্যাপারটা আইনিভাবে হ্যান্ডল করতে চাই।

আপোসের তাহলে কোনও সম্ভাবনা নেই?
আমি তো দু’বছর অপেক্ষা করেছি, বারবার বসতে চেয়েছি একটা সেটলমেন্টে আসার জন্য। রাহুল সময় দেয়নি। কিন্তু আমার ছেলে সহজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি কোনও কম্প্রোমাইজ় করব না। আর রাহুল সহজকেও মানসিকভাবে আমার বিরুদ্ধে উসকেছে। তাতে সহজ খুব কষ্টও পেয়েছে। আমি সহজকে নিয়ে রিস্ক নিতে পারি না। আপোস করাটা আমার কাছে আর কোনও অপশন নয়। বরং বলা ভাল, রাহুলই আপোস করার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রিয়ঙ্কা দ্বিচারিতা করছে: রাহুল

rahul-big
বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় প্রিয়ঙ্কার তোলা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবার মুখ খুললেন রাহুল

 

প্রিয়ঙ্কা আপনার বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছেন। আপনার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, খোরপোশ এবং বিবাহবিচ্ছেদ করতে বাধ্য হয়ে। ফলে আপনার বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর উত্তর খুব জরুরি হয়ে প়ড়েছে।
বলুন…

২০১৬ সালে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আপনাদের মিউচুয়াল ডিভোর্স হওয়ার কথা ছিল। আপনারা ভাল বন্ধুও ছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে আপনি আর প্রিয়ঙ্কার কোনও দায়িত্ব নেননি…
২০১৬ সালের জুলাইতে প্রিয়ঙ্কা যখন আলাদা হয়, তখন প্রিয়ঙ্কার কাজের সংখ্যাটা ঠিক কত ছিল? খুব একটা কাজ কি ছিল ওর হাতে সেই সময় যে, কামালগাজিতে একটা থ্রি বিএইচকে ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট করা সম্ভব? ওর পক্ষে কোনও টাকা দেওয়াই সম্ভব ছিল না। এই যে ফ্ল্যাটে নিজস্ব ছাদ, বিশাল এলইডি টিভি, ফোর ডোর ফ্রিজ, দুটো পোষা কুকুর… এগুলো প্রিয়ঙ্কা রাখতে পেরেছিল আমি ছিলাম বলে। আমি আক্ষরিক অর্থে নিঃস্ব হয়ে এগুলো ওকে করে দিয়েছি। পুরো টাকাটা আমার ছিল। তারপর সহজের বেবি ফুড, জামাকাপড় থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ আমি দিয়েছি। এমনকী, মাসে-মাসে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আমি প্রিয়ঙ্কার হাতে দিয়েছি… ক্যাশ। আমার ভুলটা হল, আমি তখন কোনও রসিদ কেটে রাখিনি। নিজের প্রাক্তন স্ত্রী, যে কিনা আমার ভাল বন্ধু ছিল, তাকে টাকা দিয়ে রসিদ কেটে রাখতে হবে, এতটা নীচ চিন্তা আমার মাথায় আসেনি। ফলে কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে শুরু থেকেই যথেষ্ট সচেতন ছিলাম।

আপনার বিরুদ্ধে এই অভিযোগও উঠেছে, আপনি প্রিয়ঙ্কাকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করতেন! এমনকী, নিজের হিসেবমতো প্রিয়ঙ্কার কেরিয়ারকে চালানোর চেষ্টা করতেন…
আচ্ছা। আমাদের বিয়ে হয়েছে ২০১০-এ। আমরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করি ২০০৮ থেকে। লিভ ইন মানুষ কেন করে? ও তো আমার সঙ্গে থাকার পরই আমাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

rahul-big2

বিয়ের পর তো অনেক মানুষ পালটে যান…
সেপারেশনের পরও কিন্তু আমরা বেস্ট অফ ফ্রেন্ডস থেকেছি। শেষ ছ’ মাস বাদ দিলে আমরা দু’জন একসঙ্গে পার্টি করতাম। সহজকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছি, ভিক্টোরিয়া গিয়েছি, তিনজনে একসঙ্গে দিওয়ালি, হোলি পালন করেছি… ফেসবুক থেকে টুইটার সর্বত্র তার প্রমাণ আছে। তখন কিছু মনে হয়নি ওর? আর আমরা তো দু’ বছর আলাদা আছি, আমি কি ওর বাড়িতে গিয়ে ওকে মেরে আসতাম? এখন যে-ই টাকার প্রয়োজন হয়েছে, তখনই আমি খারাপ মানুষ হয়ে গেলাম?

টাকার প্রয়োজন বলতে সেই ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা?
হ্যাঁ, প্রিয়ঙ্কা আমার কাছে এই টাকাটা দাবি করেছে সহজকে ‘বড়’ করার জন্য। আমি জানি না, কোন মধ্যবিত্ত ঘরের বাচ্চার বড় হতে এই পরিমাণ টাকা লাগে! আমি নিজেও এত টাকা একসঙ্গে চোখে দেখিনি, দেওয়া তো দূরের কথা। আর প্রিয়ঙ্কা যে এই নিজের দুঃখী ইমেজ সকলের কাছে তুলে ধরছে.. ওর তো এখন কাজ সবচেয়ে বেশি। জিতের সঙ্গে কাজ করছে। এসভিএফ-এর সঙ্গে কাজ করছে। ওই ফ্ল্যাটটা রেনোভেট করছে, দুটো কুকুর পুষছে… এটা দ্বিচারিতা মনে হচ্ছে না?

সাক্ষাৎকারটি বিশদে পড়তে দেখুন আনন্দলোক-এর ২৭ জুন সংখ্যা…

‘‘আমি ‘শব্দ’র চেয়ে ভাল ছবি অনেক করেছি।’’

kaushik-big
‘বিসর্জন’-এর সিকোয়েল ‘বিজয়া’র কথা ঘোষণা করতে এসে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় খুললেন মনের আগল। উঠে এল জাতীয় পুরস্কার, সিকোয়েল সমেত আরও নানা কথা। শুনলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

জাতীয় পুরস্কার নিয়ে আলোচনা, ‘দৃষ্টিকোণ’ মুক্তি পাচ্ছে, ‘কিশোরকুমার জুনিয়র’-এর কাজ… এর মধ্যেই ‘বিসর্জন’-এর সিকোয়েল ‘বিজয়া’র ঘোষণা। এতকিছু সামলাচ্ছেন কী করে?
যারা ড্রাম বাজায়, দেখবেন একসঙ্গে দু’হাত-দু’পা ব্যবহার করে। চারটে লিম্ কিন্তু চারটে আলাদা অংশ বাজাচ্ছে। এই চারটে মিললে তবেই একটা ভাল বাজনা তৈরি হয়। ফলে, অর্গানাইজ় হয়ে থাকা, সিঙ্ক্রোনাইজ় করতে পারা, এই পুরো ব্যাপারটাই একটা অভ্যেস।

এই ‘অভ্যেস’টার জন্যই কি অভিনয় আর পরিচালনাটা মেলাতে পারেন? আপনি অভিনেতা হিসেবে বহুল প্রশংসিত, কিন্তু সিনেমাটাও তো আপনাকে সামলাতে হয়!
সত্যি বলতে, আমার এতে অসুবিধে হয় না। আমি অভিনয়টা এতটাই এনজয় করি যে সেটাকে আলাদা কাজ বলে মনেই হয় না। একেবারেই চাপ নিই না। অন্য চরিত্রের মধ্যে থাকাটা খুব আনন্দের। আর আমার টিমের সদস্যরা এত ভাল যে সে সময়ে সিনেমার দায়িত্বই শুধু নিয়ে নেন না, আমাকে ওঁরা গাইডও করেন।

বাংলা সিনেমায় সিকোয়েল জিনিসটা তো খুব একটা দেখা যায় না। তাছাড়া আগের ছবির সঙ্গে তুলনাও হয়। অনেকসময়ই দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি নিচের দিকে নামার সময় খারাপ হতে থাকে…
সবসময় নয়। ফেলুদা ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি তো পরের দিকে ভাল হতে থেকেছে। তবে সিকোয়েলের কথা যখন বলছেন, আমরা ধরে নিয়েছি তুলনা হবেই। ওতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। প্রথম প্রেম, প্রথম বান্ধবীকে কেউ ভোলে না। তার জায়গাটা সবসময় স্পেশ্যাল। আমি ‘শব্দ’র চেয়ে ভাল ছবি অনেক করেছি। কিন্তু মানুষ বলেন ‘শব্দ’র মতো ছবি আর হয়নি। তা বলেন যখন, তাতে তো আমার হাত নেই!

‘বিসর্জন’-এর গল্প কি এতটাই ভাবা ছিল?
দেখুন, সব ছবির ক্ষেত্রেই গল্প অনেকটা ভেবে রাখতে হয়। নাহলে সিনেমার ঘুঁটিগুলি ভাল সাজানো যায় না, শেষ করতে সমস্যা হয়। ‘বিসর্জন’-এর ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। আর মজা হচ্ছে, স্টোরির দ্বিতীয় ভাগটা অত্যন্ত শক্তিশালী। এবার ঘরোয়া আড্ডায় এটা নিয়ে আলোচনা হত, তো সুপর্ণ (ছবির প্রযোজক সুপর্ণকান্তি করাতি) বলতে শুরু করল, ‘ছবিটা যখন এত ভাল হল, প্লিজ় সেকেন্ড পার্টটা করো’। ও বলতে-বলতে একটা সময় রাজি হয়ে গেলাম।

‘বিজয়া’-তে বোধহয় এপার বাংলার অংশ বেশি?
হ্যাঁ, আমরা পদ্মার বাংলা দেখেছি, এবার আমরা নাসিরের বাংলা দেখব।

আচ্ছা, ‘নগরকীর্তন’ কবে মুক্তি পাচ্ছে?
আমি না, ঠিক জানি না। এবছরের শেষের দিকে হবে হয়তো। ছবিটাকে আমি যত বেশি সম্ভব ফেস্টিভ্যালে পাঠাতে চাই। তারপর সবার শেষে কলকাতায় প্রকাশ করা হবে। কলকাতায় রিলিজ় না হলে তো ছবি মুক্তি পাবে না!

kaushik-big2

‘নগরকীর্তন’ চারটে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। তবু এরমধ্যে ঋদ্ধিরটা বোধহয়…
ঐতিহাসিক। তাবড়-তাবড় লোকরা সারা জীবন পায় না। এতে একটা ভাগ্যের ব্যাপারও আছে কিন্তু…

হ্যাঁ, সেই ২০০৬-এ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর তো আর কোনও বাঙালি পাননি!
তার আগেই বা ক’জন পেয়েছেন? অরুণবাবু (মুখোপাধ্যায়) পেয়েছিলেন ‘পরশুরাম’-এ, উৎপল দত্ত বোধহয় পেয়েছিলেন ‘ভুবন সোম’-এর জন্য আর তার আগে ‘নায়ক’-এ উত্তমবাবু। আর তো নেই! আমরা ভেবেছিলাম ঋত্বিক পাবে ‘শব্দ’র জন্য। সেবছর ইরফান খান পেলেন। ঋত্বিক কিন্তু খুব খুশি হয়েছিল ইরফান পুরস্কারটা পাওয়ায়। আসলে চারদিকেই খুব ভাল-ভাল কাজ হচ্ছে। আমরা এই শহরে বসে-বসে কূপমণ্ডুকের মতো ‘এটাই সেরা’ বলি। সেটা তো আর ঠিক নয়! ‘নগরকীর্তন’ চারটে পুরস্কারই ন্যাশনাল ক্যাটেগরিতে পেয়েছে, এটা একটা ভাল ব্যাপার। আমি কিন্তু স্পেশ্যাল জুরি অ্যাওয়ার্ডটা নিয়েও খুব খুশি। কারণ মাত্র একটি ভোটের জন্য ছবিটা সেরা হয়নি। আসলে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ছবিকে ওই পুরস্কারটা দেওয়া হয়।

কৌশিক সেন আমাদের বলছিলেন, যেভাবে আপনি সিনেমাটা তৈরি করেছেন, তাতে ঋদ্ধির পুরস্কার পাওয়াটাই বোধহয় স্বাভাবিক ছিল। এটা কিন্তু কৌশিকবাবু বলছেন ছবিটি না দেখে, কেবল শুনে।
পুরস্কার না দেওয়াটাই খুব মুশকিল। ২০১৮-য় বাংলা ছবির কোনও পুরস্কার অনুষ্ঠানে ঋদ্ধি ছাড়া অন্য কারও পুরস্কার পাওয়া কিন্তু খুব কঠিন। এটা আমি প্রকাশ্যেই বলে রাখলাম, মিলিয়ে নেবেন। জুরির পক্ষে অন্য কাউকে ভোট দেওয়া সম্ভবই হবে না।

দিনকয়েক আগে, আপনি সিনেমার প্রচার নিয়ে কিছু টুইট করেছিলেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আপনাকে আক্রমণ করা হয়, আপনিও কাউন্টার করেন। বিষয়টা কী ঘটেছিল বলুন তো?
আরে প্রচার তো আমি আমার সিনেমারও করি। শুধু তা-ই কেন, আমার ছবিতে মুড়ি, নাইটস্প্রে, সাবান, অ্যান্টাসিড… সবকিছুর বিজ্ঞাপন হয়। ওঁরা অতগুলি হোর্ডিং দেন… আমি প্রচার নিয়ে কিছু বলছি না। কারণ ওঁরা ছাড়া তো সিনেমা করাটা মুশকিল। আমি খুব কৃতজ্ঞ ওঁদের কাছে, কিন্তু পরিচালককে তো এগুলোকে কেটার করতে হয় কিছুটা জোর করে। জোর করে ভোজালিতে গেঁথে-গেঁথে সিনেমার মধ্যে এগুলিকে ঢোকাতে হয়। ফলে একটা সময় হতাশা আসতে পারে। ওইরকমই একটা দুর্বল মুহূর্তে ওই কথাগুলি লেখা। কাউকে আমি আক্রমণ করতে চাইনি।

এরকমই একটি হতাশার মুহূর্ত বোধহয় দেখা গিয়েছিল ‘ধূমকেতু’ নিয়ে আপনার টুইটে। ছবির ভাগ্য পরিচালকের হাতে নয়, এমনই বয়ান ছিল টুইটের…
সত্যিই তো হাতে থাকে না। আমি এখনও জানি না কবে সিনেমাটা রিলিজ় করবে। আর আমার কিছু বলারও নেই প্রযোজকদের। ছবিটি খুব মন দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এখনও বলছি, দেব তারপর থেকে যে সিনেমাই করে থাকুক, ‘ধূমকেতু’ ওর জীবনের অন্যতম সেরা ছবি-ই। সিনেমাটা রিলিজ় হলে আমার ভাল লাগবে, এটুকুই।

নিজেকে প্রমাণ করাটা জরুরি: শুভশ্রী


মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি‘হনিমুন’। ছবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের ‘হনিমুন’ থেকে বিতর্ক, সব নিয়েই কথা বললেন শুভশ্রী। শুনলেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায়

এখন কী অন্য ধরনের সিনেমা মানেই শুভশ্রী? যিনি একসময়ে হার্ডকোর কমার্শিয়াল নায়িকা ছিলেন। ‘আমার আপনজন’, ‘দ্যাখ কেমন লাগে’, ‘হনিমুন’-এ অভিনয়। ‘রসগোল্লা’তেও দেখা যাবে?
‘রসগোল্লা’তে শুধু গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। শিবুদা ফোন করে বলল, রাজি হয়ে গেলাম। তবে একটা কথা বলি, আমি এখন থেকে সেই ছবিগুলোই করব, যেখানে আমার কিছু করার থাকবে। ভেবেচিন্তে স্ক্রিপ্ট বাছব।

কেন নিন্দুকদের (ওই যাঁরা বলেন শুভশ্রী অভিনয় পারেন না) মুখ বন্ধ করতেই কি?
মোটেও না। আমি ওদের কথা ভাবি না। নিজের ফিলিংসটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার নিজের যখন যা করতে ইচ্ছে করবে, তাই করব। নিজের স্যাটিসফেকশনের জন্য কাজ করব। ছবিতে আমার যদি চারটে সিনও থাকে, সেই চারটে সিন দেখে লোকে যেন বলে, ‘বাহ ভাল অভিনয় করেছে।’ ইমপ্যাক্ট ফেলতে চাই। নিজেকে প্রমাণ করাটা জরুরি। তা ছাড়া কমার্শিয়াল বা প্যারালাল ভাগটাই আমি মানি না। আমার কাছে দু’ধরনের ছবি হয়, ভাল এবং মন্দ ছবি। আমাদের মানে অভিনেতাদের কাছে চরিত্রটা গুরুত্বপূর্ণ। সব সিনেমায় তো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়, তাই না। এই ছবিটার কথাই ধরুন না, কোনও জটিলতা নেই। মিষ্টি প্রেমের গল্প। সহজ-সরলভাবে বলা একটা গল্প। আজকাল তো সহজ ভাবনা, কথা বলতে সকলেই ভুলে গিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, মানুষকে একটু আনন্দ দিতে, সহজভাবে হাসাতে। এই ছবিটা করার আরও একটা কারণ হল, পরিচালকের নাম প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। আমার ডেবিউ ছবির ডিওপি ছিলেন চাকীদা। তাই ওঁর ডেবিউ ছবিতে কাজ করার সুযোগ ছাড়তে চায়নি (হাসি)।

আচ্ছা, পরপর তিনটে ছবিতে (‘আমার আপনজন’, ‘দ্যাখ কেমন লাগে’, ‘হনিমুন’) আপনি আর সোহম। বাংলা ছবিতে কি আবার একটা নতুন জুটি হতে চলেছে?
সত্যি এই উত্তরটা আমার কাছেও নেই। সেই ২০০৮-এ একসঙ্গে ‘বাজিমাত’ করলাম। তারপর কেউ আর আমাদের একসঙ্গে কাস্ট করল না। আবার দেখুন, এক বছরে তিন-তিনটে ছবিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করলাম। এর উত্তরটা প্রযোজকদের কাছে আছে হয়তো।

আপনার ছবির নাম ‘হনিমুন’। তা রিয়েল লাইফে ‘হনিমুন’-এর কী প্ল্যান?
ওটা আমি আপনাকে অফ রেকর্ড জানাচ্ছি (প্রবল হাসি)। আগে বিয়ে করি, তারপর ‘হনিমুন’ নিয়ে ভাবব।

আপনাকে ঘিরে একটা সময়ে প্রচুর বিতর্ক শুরু হয়েছিল। নানা কথাও শোনা গিয়েছে। বিতর্ক পরবর্তী সময়ে কেমন আছেন আপনি?
খুব ভাল আছি। এখন আমি অনেক পরিণত। ব্যস, আর একটা কথাও বলব না।

আগামী দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
দূর! দশ কী বলছেন! আমি আগামী মাসে কী করব তাই জানি না। যা হবে দেখা যাবে।

আর কী-কী ছবি করছেন?
কিছু করছি না। হঠাৎ-হঠাৎ করে কাজ আসছে, আমি করে ফেলছি। কোনও প্ল্যান নেই। ‘নবাব’-এর পর কী করব, কিছু প্ল্যান ছিল না। তারপর ‘হনিমুন’-এর অফার এল। করে ফেললাম।

গোয়েন্দা গল্প নয় বলে আকৃষ্ট হয়েছি: আবির চট্টোপাধ্যায়

abir-big0
বেলগাছিয়া রাজবাড়িতে‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ছবির শুটিংয়ে আবির চট্টোপাধ্যায় কথা বললেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

ঘরে ঢুকে প্রথমে চমকে উঠতে হয়। পরিচালক গৌতম ঘোষের এতবড় একটি ছবি। বেলগাছিয়া রাজবাড়ি কি গৌতম ঘোষদের বাড়ির? সেই প্রশ্ন দিয়েই শুরু হল… আবির অবশ্য বললেন…
না না, ওটা সেটের অংশ। গৌতমদা এই ছবিতে অভিনয় করছেন, অর্জুন চক্রবর্তী যে চরিত্রটা করছে, তার মামা উনি। আর ওঁকে নিয়েই তো সব কাহিনির সূত্রপাত।

প্রশ্ন: কীরকম?
আমার চরিত্রটার নাম সুবর্ণ সেন, বিদেশে ইতিহাস পড়াত, ৬-৭ বছর পর দেশে ফিরেছে। মজার কথা, অর্জুনের চরিত্রটার নাম এখানে আবির, সে আমার ভাইপো। ভাইপোর মামাবাড়িতে গুপ্তধনের একটা খোঁজ পাই আমরা দু’জন। কিন্তু বেশি ইন্টারেস্টিং হচ্ছে, গুপ্তধন পাওয়ার উপায় হিসেবে মামার লিখে যাওয়া কিছু ধাঁধা। কাহিনিটার সঙ্গে বাংলা আর ভারতের ইতিহাস ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সেই গুপ্তধন খুঁজতে গিয়েই তো ছবি শুরু?

abir-big2

তার মানে আরও একটা গোয়েন্দা গল্প?
এটা একেবারেই গোয়েন্দা গল্প নয় কিন্তু। আর সেটাই আমায় আকৃষ্ট করেছে। বরং ইতিহাসপ্রেমিকের কাছে এই ছবি অনেক বেশি কাছের বলে মনে হবে। তাছাড়া সাহিত্যনির্ভর ছবিও নয়। সিনেমার জন্যই তৈরি হয়েছে। এটি যে একজন নতুন স্ক্রিপ্টরাইটার, তা মনেই হবে না। পুরনো বাংলা সিনেমার ধাঁচটাও আছে। একটা সময়ে গুপ্তধনের গল্প পড়ার অভ্যেস ছিল আমাদের সবার। সেটাও দর্শককে স্ট্রাইক করবে।

abir-big1

আবির চট্টোপাধ্যায় তাহলে একজন ইতিহাসপ্রেমীও বটে?
যে-কোনও কারণেই হোক, ছোটবেলায় আমাদের কারও কাছেই ইতিহাসটা খুব একটা পছন্দের বিষয় ছিল না। বিভিন্ন তথ্য মুখস্থ করে উগরে দেওয়া ছাড়া তো পরীক্ষায় কিছু করতে হত না। বড় হয়ে, গল্পের বই পড়ে, সিনেমা দেখে, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ইতিহাসকে ফিরে দেখা হয়। তখন ভাল লাগতে শুরু করে বিষয়টা। এই গল্পটা দু’টি প্রজন্মের কাছেই খুব ইন্টারেস্টিং হবে।

‘যখের ধন’-ও তো যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। ফলে সেদিকটাও…
এই স্ক্রিপ্ট যখন শুনেছি, তখন কিন্তু ‘যখের ধন’ নিয়ে আমি কিছু জানি না। বিভিন্ন কারণে, ডেট ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছিল না… ফলে শুটিংটা শুরু হয়েছে দেরিতে।

আচ্ছা, পরবর্তী কাজ…
ব্যোমকেশ তো আছেই। কিন্তু আগে এটা সামলে নিই। যথেষ্ট কঠিন শুট, অনেকগুলি লোকেশনে শুটিং আছে। কলকাতায় বিভিন্ন লোকেশন, বোলপুর… একটা দৃশ্য হয়তো কয়েকটা জায়গা ঘুরে তৈরি হচ্ছে। ফলে কন্টিনিউটি একটা বড় চাপ। ধাঁধা, ইতিহাস মিলিয়ে এটা একটু যত্ন করে শুটিং করতে হচ্ছে। ফলে…

আমার সমসাময়িক অন্যান্যরা যেভাবে কাজ পায়, আমি একেবারেই সেভাবে কাজ পাইনি:সায়নী দত্ত

SAYANI-big
‘মাইকেল’এবং ‘কায়া-দ্য মিস্ট্রি আনফোল্ডস, পরপর দু’টি রিলিজ়ের অপেক্ষায় তিনি। একটা সময় অবধি নিজের কেরিয়ার নিয়ে সিরিয়াস না হলেও, এখন নতুন করে মাঠে নামতে চলেছেন
সায়নী দত্ত। সেই গল্প শুনলেন আসিফ সালাম।

আপনি তো খুব ব্যস্ত এখন?
কেন বলুন তো?

‘মাইকেল’, তারপর ‘কায়া-দ্য মিস্ট্রি আনফোল্ডস’, পরপর দুটো রিলিজ়…
হ্যাঁ, তা ঠিক। দুটো ছবিই আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং। ‘মাইকেল’-এ আমি একটা মজার চরিত্রে অভিনয় করছি। আর ‘কায়া…’ তো একটা মিস্ট্রি ফিল্ম। তাই এই ছবি সম্পর্কে কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে এখানে কৌশিকদার (সেন) সঙ্গে কাজ করতে পেরে অনেক কিছু শিখেছি।

২০১৩ সালে ‘ন হন্যতে’ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেন। তারপর থেকে আজ অবধি আপনার কেরিয়ার যেরকমভাবে গড়ে উঠেছে তাতে কি আপনি খুশি?
আমি জীবনে সবসময় খুশি থাকতেই পছন্দ করি। কোনওকিছু নিয়ে দুঃখ করে আদতে লাভ হয় না। আসলে প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে অভিনয় করব। পরিবারের কেউ-ই এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই প্রথমদিকে বুঝতেই পারতাম না কীভাবে এগোব। কার সঙ্গে কথা বলব? কোথায় যাব? আর সত্যি বলতে, মনে-মনে অভিনয় করার ইচ্ছে থাকলেও, কখনওই নিজের কেরিয়ার নিয়ে খুব বিশেষ সিরিয়াস ছিলাম না। সিরিয়াসনেস আসে গতবছর থেকে যখন লোকেরা আমার কাজের প্রশংসা করতে শুরু করল। আসলে দর্শকদের প্রশংসা পেলে সেটা কিন্তু আপনাকে অনেকটা অনুপ্রেরণা জোগায়।

অভিনয় করতে চান বলে পরিবার থেকে কোনও আপত্তি আসেনি?
একেবারেই নয়। মাই ফ্যামিলি ইজ় দ্য কুলেস্ট ফ্যামিলি। আমার মা আর দাদা লন্ডনে থাকে। এখানে আমি বাবার সঙ্গে থাকি। ওরা সবসময়ই আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে।

বাবা সুভাষ দত্ত শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পরিবেশ কর্মী। আপনিও কি পরিবেশরক্ষণ সংক্রান্ত কাজকর্মে আগ্রহ নেন?
অবশ্যই নিই। আমি বাবার কাছ থেকে সবসময়ই এই বিষয়ে খোঁজখবর রাখি। এই খোঁজ শুধু আমার নয়, যে কোনও দায়িত্বশীল নাগরিকেরই রাখা উচিত।

আচ্ছা, ‘ন হন্যতে’র পর ‘সাদা কালো আবছা’, ‘জিজিবিশা’, ‘রোম্যান্টিক নয়’ সহ আপনার সবকটি ছবিই প্যারালেল ছবির জঁরে পড়ে। আপনি কি ইচ্ছাকৃতভাবেই কমর্শিয়াল ছবি এড়িয়ে চলেন?
একেবারেই নয়। আমি তো হার্ডকোর কমর্শিয়াল ছবির নায়িকা হতে চাই। আসলে আমার প্রথম ছবি ‘ন হন্যতে’ সিরিয়াস টাইপের ছিল। তারপর থেকে অনেক পরিচালকদের মনেই একটা ইমেজ জন্মে যায় যে আমি বুঝি সিরিয়াস টাইপের চরিত্রেই ফিট করি। অবশেষে ‘মাইকেল’-এ আমি মজার চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাচ্ছি। এরপর আমি একটা ব্রেক নিয়ে নিজের ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। এবার কমর্শিয়াল ছবি করতে চাই।

কিন্ত মনমতো কাজ পেতে গেলে তো পিআর করতে হবে। পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে যেতে হবে…
আমি একেবারেই পিআর করতে পারি না। আমার বন্ধুরা এই নিয়ে আমাকে প্রচুর কথা শোনায়। আরে হঠাৎ করে কাউকে গিয়ে বলা যায়, আমাকে একটা কাজ দিন! বিশ্বাস করুন, এতদিন অবধি যতটুকু কাজ পেয়েছি, পুরোটাই ওয়র্ড অফ মাউথ পাবলিসিটির সৌজন্যে। ইন্ডাস্ট্রিতে কয়েকজন বন্ধু আছে। তারাই সাহায্য করেছে। আমার সমসাময়িক অন্যান্যরা যেভাবে কাজ পায়, আমি একেবারেই সেভাবে কাজ পাইনি। তা ছাড়া, একবছর আগে অবধি তো আমি নিজের কেরিয়ার নিয়ে সেরকম সিরিয়াসও ছিলাম না। তবে এবার নিজেকে বদলাতে হবে। পিআর-টা ভাল করতে হবে। প্রোডাকশন হাউজ়ের দরজায় কড়া নাড়তে হবে!

SAYANI-big2

নায়িকাদের তো শুনেছি পরিচালকদের সঙ্গে কফি ডেটেও যেতে হয়?
আগে প্রোডাকশন হাউজ় অবধি তো পৌঁছাই! কফি ডেটে কোনওদিন যেতে হলে তখন আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব। তবে একটা কথা আমি বিশ্বাস করি। লবি করে কিংবা পার্টিতে গিয়ে কাজ পাওয়া যায় না। আমার মতো একশোটা মেয়ে পার্টিতে যাচ্ছে। পার্টিতে প্রোডিউসাররা হয়তো খুব ভালভাবে কথা বলবে, কিন্তু পার্টি থেকে বেরোলেই তারা সব ভুলে যায়!

আচ্ছা আপনি তো ট্রেনড বেলি ডান্সারও?
আমার তখন ১৭ বছর বয়স। লন্ডনের ফ্লাইটে এক বিদেশি মহিলার সঙ্গে আলাপ হয়। উনি লন্ডনে বেলি ডান্সিং করেন। ওঁর থেকেই বেলি ডান্স শিখি। যখনই লন্ডনে মায়ের কাছে যেতাম, আমি ওঁর স্টুডিয়োতে চলে যেতাম। আমার মনে হয় বেলি ডান্সিং ইজ় দ্য টাফেস্ট ডান্স ফর্ম।

চরিত্রের খাতিরে খোলামেলা পোশাক পরতে আপনি কতটা কমর্ফটেবল?
আমি সাহসী পোশাক পরতেই পারি। আমার কোনও অসুবিধে নেই। তবে সেটা একটা-দুটোর দৃশ্যের জন্য হতে পারে। কেউ যদি আমাকে বলে যে ছবি জুড়ে আমাকে শুধু বিকিনি পরে শুয়ে থাকতে হবে সেটার কোনও সেন্স হয় না।

একটা সময় পরিচালক রিংগোর গার্লফ্রেন্ড হিসেবে আপনার পরিচিতি ছিল। বেশ কয়েকবছর হল আপনাদের বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। এখন যোগাযোগ রয়েছে?
সে তো অনেকবছর আগের ব্যাপার। একটা সম্পর্ক যখন শেষ হওয়ার থাকে তখন কারও হাতে কিছু থাকে না। ভাগ্যে লেখা থাকলে হবেই। আমাদের মধ্যে আটবছরের সম্পর্ক ছিল। এখন সেটা অতীত।

রিংগোর সঙ্গে কথা হয়?
না। ওর সঙ্গে কথা বলার কোনও আগ্রহও নেই। আর খামোকা নিজেক এক্সের সঙ্গে কথা বলবই বা কেন?

কিন্তু ভবিষ্যতে যদি রিংগো আপনাকে নিয়ে ছবি করতে চান?
ওয়র্ক ইজ় ওয়র্ক!

আমি আমার লিমিটেশনস জানি: অরিন্দম শীল

arindan-sil-big
সামনেই মুক্তি পাবে তাঁর ছবি ‘আসছে আবার শবর।’ সেই ছবি নিয়ে কথা বলতে বসে উঠে এল সিনেমায় মনোপলি থেকে সমসাময়িক পরিচালকদের কথা। অরিন্দম শীল-এর ভাবনাচিন্তার কথা শুনলেন ঋষিতা মুখোপাধ্যায় ।

ফেলুদা, ব্যোমকেশ, কিরীটী… বলতে গেলে সাহিত্য জগতের প্রায় সব গোয়েন্দায়ই পরদায় এসে গিয়েছেন। এঁদের মাঝে শবর দাশগুপ্তকে আপনি নিয়ে এলেন। তা এত গোয়েন্দার ভি়ড়ে কাজ করতে ভয় করেনি?
প্রথম শবরের ছবিটা করার সময় তো কিছুই মনে হয়নি। তার আগে ‘আবর্ত’ করেছিলাম। সকলে প্রশংসা করলেও, ছবিটা ফ্লপ। আমার ঘর থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বেরিয়ে গিয়েছিল। এক আত্মীয় বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে ভাল কাজের জন্য এটা তোমার ইনভেস্টমেন্ট’। যাই হোক, এরপর যখন শবরের কাজ শুরু করলাম, সকলেই বারণ করেছিল। আমার কিন্তু ভয় করেনি। ভয়টা এখন! পরপর দুটো ছবি করার পর চাপ বেশ বেড়ে গিয়েছে। প্রথম শবর দেখে আসার পর সকলে বলতে শুরু করল, বাংলায় এমন ছবি এই প্রথম। স্টাইল, মেকিং… সবকিছুতেই নতুনত্বের ছোঁয়া। এইগুলো আমি কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই নিয়েছিলাম। এখন তিন নম্বর ছবিতে এসে ভয় করেছে, নতুন কী করব, সেটা ভাবতে হয়েছে। এই জার্নিটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই কারণেই এবারের শবর অনেক বেশি ডায়নামিক। গল্পে ভায়লেন্স বেশি, পরিধিও। চন্দননগর, লখনউ, কলকাতা, নানা জায়গায় শুট করেছি। গল্পের নাম ‘প্রজাপতির মৃত্যু এবং পূর্ণজন্ম’। তবে গল্প পড়ে ছবিটা না দেখাই ভাল।

আচ্ছা, সাহিত্যনির্ভর ছবি করাটা কি সেফ বেট? ভাল খেলা যায়?
দেখুন, আমরা কেউই সত্যজিৎ রায় নই। যিনি কিনা একাই লেখক, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, মিউজ়িক ডিরেক্টর। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বা সৃজিত মুখোপাধ্যায় ভাল গল্প বলতে পারেন। আমার অত ক্ষমতা নেই। আমি আমার লিমিটেশনস জানি, স্ট্রেংন্থ কী, জানি। মাথা নিচু করে কাজটা করতে ভালবাসি। পরের পর ছবি নিজের গল্প নিয়ে করার সাহস আমার নেই। আসলে ফাঁদা গল্প থেকে আমি ছবি দেখতে পেলে তবেই এগোই। পুরো ছবিটা ক্লিয়ার না হলে ছবিই করব না। স্ক্রিপ্ট করেও বাতিল করি। এই তো কিছুদিন আগেই করলাম। তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে পারি না। সেইজন্যই পরের ছবিটা মার্চে শুরু হবে। আমাদের এত ভাল-ভাল গল্প আছে। একা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কেই তো শেষ করা যায় না। এই তো পরের ছবিটা সুচিত্রা ভট্টাচার্ষের ‘ঢেউ আসে, ঢেউ যায়’ নিয়ে করব। একটা সেন্টিমেন্টও আছে। শীর্ষেন্দুদা, সুচিত্রা ভট্টাচার্যর গল্প নিয়ে কাজ করব, সেন্টিমেন্ট তো থাকবে। না হলে শিবু (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) কেন বারবার সুচিত্রা ভট্টাচার্যর গল্প নিয়ে কাজ করে?

একটা কথা মানবেন, আপনার ছবি করার আগে শবর এতটাও জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ছিল না। এটা কি কোথাও একটা আত্মশ্লাঘার জন্ম দেয়?
(খানিকটা চুপ করে) না। বরং কৃতজ্ঞতা জন্মায়। আমি আমার কাজ মন দিয়ে করেছি, সেটাই ফল দিয়েছে। কাঁধটা ভারী হয়। আজকে আমার প্রযোজক বলছে ‘অরিন্দম শবর করে যেতে হবে।’ এটা একটা চাপ তো বটেই। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলতে চাই, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ কিন্তু একটি প্রজন্মকে আকর্ষণ করে। কিন্তু এখন যাদের বয়স ২০ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে, তারা কি সেই ব্যোমকেশের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত? আমি তাদের সঙ্গে ব্যোমকেশকে আমার মতো করে পরিচিত করাতে চাই। অনেকে হয়তো গল্পে বদল পছন্দ করবেন না, আবার কিছু মানুষ সেটাকেই ভাল বলে সিনেমা দেখবেন। আমার ক্ষেত্রে এটা হয়েছে। এমন একটা স্মার্ট ছবি বানাতে চাই যে, আমার পাশের স্ক্রিনে ‘টাইগার জ়িন্দা হ্যায়’ চললেও, তাঁরা যেন আমার ছবিটা দেখতে আসেন।

পরিচালক অরিন্দম ঝুঁকি নিতে ভয় পান?
তাহলে ‘ধনঞ্জয়’ করলাম কী করে! সাফল্যের তোয়াক্কা না করে এমন ঝুঁকি কে নিয়েছে? এত কম সময়ে আমার মতো সাফল্য ক’জন পেয়েছে? সৃজিত আছে অবশ্য। তবে বয়সে অনেক ছোট। আমি মধ্যবয়সে এসে পরিচালনা শুরু করেছি। যে সময়ে আমি কেরিয়ারে ভাল সাফল্য পাচ্ছিলাম, সেসময়ে হঠাৎ করে নিজের কমফর্ট জ়োন ছেড়ে এমন একটা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ছবি করলাম, যেখানে ছবিটা সরাসরি মিডিয়া, তদানিন্তন সরকারকে ভুল প্রমাণ করছে। আমাকে এই সাহস দর্শক যুগিয়েছে। আমার এক্সপেরিমেন্টগুলোকে খোলা মনে গ্রহণ করেছে। ফলে বুঝতে পেরেছি, আমি ঠিক পথেই আছি। ‘ধন়ঞ্জয়’ এতটাই ফার রিচিং হয়েছে যে, মু্ম্বইয়ে এক পরিচালক হিন্দিতে ছবিটা করার কথা ভাবছেন।

‘ব্র্যান্ড অরিন্দম’ তৈরি হয়েছে বলছেন। সেই ব্র্যান্ডটা নিয়ে কতটা সচেতন আপনি?
আমি বরাবরই খুব সচেতন। অভিনেতা থাকাকালীনও এটা নিয়ে সচেতন ছিলাম। আমি একজন পাবলিক ফিগার। তাই জনসমক্ষে এমন কিছু আচরণ করতে পারি না, যা আমার ইমেজের ক্ষতি করতে পারে। মানুষ আমার সম্পর্কে যা ভাবে, সেই ভাবনাটা ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। আমার অনেক সহকর্মী, জুনিয়র-সিনিয়র জনসমক্ষে এমন আচরণ করেন, যা ঠিক নয়। বুঝে আচরণ করা উচিত। আমি সবসময় পা মাটিতে রেখেই চলি।

arindan-sil-big2

আপনি অভিনেতা, এগজ়িকিউটিভ প্রোডিউসর, পরিচালক… কোন ভূমিকা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন?
আমি সব কাজই উপভোগ করি। এখনও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভাল লাগে। ভাল ছবির এগজ়িকিউটিভ প্রোডিউসর হতে পারি। তবে এখন এই পরিচালক সত্ত্বাটাই সবচেয়ে ভাল লাগছে।

অরিন্দম শীলের নিজস্বতা কী?
আমার পুরো কাজের মধ্যে একটা যত্ন আছে। সেটা দর্শকের ভাল লাগে। স্টাইলটা মানুষের পছন্দ হয়।

সমসাময়িক পরিচালকদের ঈর্ষা করেন?
করি তো! আমি সকলের কাছ থেকে কাজ শিখি। সৃজিতের ভিশুয়াল ফ্রেমিং বা কৌশিকের গল্প বলার ধরনে আমি মুগ্ধ। কমলেশ্বরের ব্যাপ্তি আমাকে ঈর্ষান্বিত করে, প্রতিমের ফ্রেশনেস বিস্ময় জাগায়। আমরা প্রত্যেকে-প্রত্যেকের কাজ দেখি। আলোচনা করি। সর্বতভাবে বাংলা সিনেমার কী করে ভাল হবে, তার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে যখন সিনেমা নিয়ে কথা হবে, তখন কিন্তু আমাদের সকলকে নিয়েই কথা হবে।

‘বাংলা সিনেমার কী করে ভাল হবে, তার চেষ্টা করি,’ এই কথার উত্তরে জানতে ইচ্ছে করছে, সত্যিই কি ভাল হচ্ছে? প্রত্যেকে-প্রত্যেককে স্পেস দেয় কি? তা হলে একই দিনে ছবি রিলিজ় নিয়ে এত মারামারি কেন?
এটার উত্তর প্রযোজকরা দিতে পারবেন। পরিচালক হিসেবে আমি কিন্তু দায়িত্ব নিই। আমাকে ‘বিসর্জন’ এবং ‘পোস্ত’র সঙ্গে আসতে বলা হয়েছিল, আমি আসিনি। এই তো অতনু রায়চৌধুরী, শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ঠিক হয়েছে, শিবুর ছবি রিলিজ়ের সময় শ্রীকান্ত কোনও বড় ছবি রিলিজ় করবে না। আগে তো এরচেয়েও খারাপ অবস্থা ছিল। এক বড় প্রযোজকের ছবি রিলিজ় করছে বলে, অপর এক প্রযোজক সেই সময়েই ছবি রিলিজ় করাতেন। ভয়ঙ্কর ব্যাপার। আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি বা আসার চেষ্টা করছি। আসলে বাংলা ছবি সময় বুঝে ব্যবসা করে। দুর্গাপুজোর সময়ে সাত-আটটা ছবি রিলিজ়ের কারণ, সেইসময়ে ছবি ভাল ব্যবসা করে। এর উলটো দিকও আছে। শিবু দেখিয়ে দিয়েছে, সময়টা কোনও ফ্যাক্টর নয়। কনটেন্ট আসল। ওর ছবি তো সময় দেখে রিলিজ় করেনি। আসলে, সবটা আমাদের হাতে নেই।

এখন বাংলা সিনেমায় প্রযোজকদের সংখ্যা বেড়েছে। পরিচালক হিসেবে আপনার মত?
মনোপলি জিনিসটা মোটেও ভাল ব্যাপার নয়। তা সে সিনেমা হোক বা রাজনীতি। তবে এসভিএফ বোধহয় এটা চায় না। ওদের সম্পর্কে একটা কথা বলা হয়, ওরা নাকি কাউকে উঠতে দেয় না। আমি যখন বাইরে কাজ করতাম, তখন এটা শুনেছি। তখনও জানতাম না, মণি বা শ্রীকান্ত কীভাবে কাজ করে। এখানে এসে দেখলাম ওদের কাজটা। সত্যি বলতে কী, ওদের এত সময় নেই। বিশ্বাস করুন, আমি আর সৃজিত ২০১৯ অবধি এদের সঙ্গে কাজ করছি। ভাবুন, কতটা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখে এরা।
ফেসবুকে অনেক ব্যর্থ পরিচালকই ব্যঙ্গ করে লেখেন, এসভিএফ-এর সঙ্গে কাজ না করলে নাকি পরিচালক হওয়া যায় না। প্রতিম দাশগুপ্ত বা মৈনাক ভৌমিক তাহলে কী করে হল? অন্যের সাফল্যকে নিজের অক্ষমতা দিয়ে ঢাকা উচিত নয়। আমি এখন এসবের উর্দ্ধে চলে গিয়েছি। এগুলো গায়ে মাখি না। এরাও মাখে না। ধরুন, এসভিএফ বছরে ১৫টা ছবি করে। এবং হলমালিকদের নিয়মিত ছবি দেয়। সেখানে একজন প্রযোজক একটা ছবি করে হলমালিকদের কাছে নিয়ে গেলে, হলমালিকরা এসভিএফকেই ভাল শো দেবে। কারণ, সারাবছর এসভিএফ-ই তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এটা দাদাগিরি বললে, দাদাগিরি। পাড়ায় যে ক্ষমতাশালী, সিগারেটের দোকানে গেল দোকানদার তাকেই আগে সিগারেট দেবে। এসভিএফ কিন্তু হিংসে করার মতো কাজ করে।

প্রযোজক হিসেবে এসভিএফের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবেন?
কেন নামব না? এই তো শীকান্তই আমাকে প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে বলছে। এখন যে সম্পর্কটা আমাদের মধ্যে রয়েছে, প্রযোজক হওয়ার সময়ও যদি সেটা থাকে, তাহলে আমি কখনও আমার ছবি এসভিএফ-এর সঙ্গে রিলিজ় করাব না। ওরাও তাই। এই সিদ্ধান্তটা পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকেই নেব। তবে আমি আজ যা হয়েছি, সেটা এসভিএফ-এর জন্য, সেটা ভুলে গেলে তো অকৃতজ্ঞ হয়ে যাব।

আর কী-কী কাজ করছেন?
ইন্দো-বাংলা প্রজেক্ট করছি। টেলিভিশনে রূপক সাহার ‘তরিতাপূরাণ’ নিয়ে কাজ করছি। সম্পূর্ণ অন্যভাবে কাজটা করছি। এটা আমার টেলিভিশনকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া। একদিন আমার আর অঞ্জনদার (দত্ত) কথা হচ্ছিল, অঞ্জনদা বলছিলেন, সারাক্ষণ ‘কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে’ না ভেবে নিজের জন্য কিছু করা উচিত। এভাবেই ভাল কিছু হবে। আমিও নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি। ফ্লপ হলে চলে যাব। আর ভাল হলে দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাব।

আর ব্যোমকেশ?
আমি আর অঞ্জনদা বসে ঠিক করেছি, আমার ‘ব্যোমকেশ’ এলে, অঞ্জনদার আসবে না। এ বছর অঞ্জনদা ‘ব্যোমকেশ’ করছেন না। পরের বছরও করবেন না। তবে আমার ‘ব্যোমকেশ’-এ অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করবেন। না, এটা কোনও চমক নয়। ওই চরিত্রটা অঞ্জনদা ছাড়া কেউ করতে পারবে না। তাই ওঁকে আমার দরকার।

যতদিন বাঁচব, অভিনয় করব: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

ritu1
এই প্রথমবার ছোট পরদায় ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ। ‘শুভদৃষ্টি’ সিরিয়ালে কিছু এপিসোডের জন্য আসবেন তাঁরা। রায়চকে দিন-রাত ব্যস্ত শুটের মধ্যেই কিছুক্ষণের জন্য ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে পেলেন ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়

এতদিন পর সিরিয়ালে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?
দেখুন, আমি এমনিতে টেলিভিশন থেকে একটু দূরেই থাকতে চাই। সিনেমা নিয়ে আসলে এতটা ব্যস্ত থাকি যে সময় করাটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আর সিরিয়াল তো রাউন্ড দ্য ক্লক কমিটমেন্টের ব্যাপার। ফলে নিজের কাজের স্বাধীনতাটা কমে যায়। কিন্তু এই সিরিয়ালের জন্য প্রযোজক শিবাজি পাঁজা যখন আমায় অ্যাপ্রোচ করলেন, আমি ভাবতে বাধ্য হলাম। এই সিরিয়ালে চ্যানেল অনেক নতুন ভাবনা লঞ্চ করছে। খুব প্রাইম প্রজেক্ট। আমি বরাবর নতুন ভাবনা, নতুন মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। তাই আমি আর প্রসেনজিৎ এই সিরিয়ালের প্রচারের জন্য ঝলকের মতো কয়েকটি এপিসোডে আসছি। আসলে কী নতুন সৃষ্টি করছি, এটা একটা বড় ব্যাপার। সবাই হয়তো ভাবে না, কিন্তু আমাদের মতো কিছু মানুষের অন্তত দায়িত্বটা নেওয়া উচিত।

তার মানে আপনি আর প্রসেনজিৎ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আসছেন?
অবশ্যই। এই ব্র্যান্ডের পিছনে অনেকদিন ধরে, অনেক পরিশ্রম করে, আজকের এই ব্যাপারটা তৈরি হয়েছে। সেটা আমাদের কাজের পূর্ণতা… এর আগে বোধহয় সিরিয়ালের কোনও কাজ এভাবে প্রোমোট করা হয়নি।

টিভি সিরিয়ালে নতুন কিছুর কথা বলছিলেন। কিন্তু সেট দেখে তো সেই অতিরঞ্জিত ব্যাপারটাই লাগছে।
এখানে আমার একটা বক্তব্য আছে। আজকাল মনে হয়, সিরিয়ালে যা দেখাচ্ছে, তা যতটাই অতিরঞ্জিত মনে হোক, সত্য এর চেয়ে খুব দূরে নয়। তিনটে বিয়ে, পরিবারে খুন, কিডন্যাপ… আকছার হচ্ছে। হয়তো একটু কমই দেখানো হয়। প্রেজ়েন্টেশনটা একটু মেলোড্রামাটিক… এই যা। আসলে টেলিভিশনের প্রতিযোগিতা এতটা বেড়ে গিয়েছে যে এই মেলোড্রামাটা এসেই যায়।

ritu2

তবু, সিরিয়ালের তো যথেষ্ট রিগ্রেসিভ বলেই বদনাম, তাই না?
খুব একটা ভুলও নয় কিন্তু। একটা ব্যালেন্সের অভাব কিন্তু তৈরি হয়েছে। আমরা আগে যে সিরিয়ালগুলি দেখতাম… ‘বুনিয়াদ’, ‘কচ্চি ধুপ’, ‘মালগুড়ি ডেজ়’, ‘নুক্কড়’… কমার্শিয়াল সিরিয়ালে সঙ্গে-সঙ্গে এই ধরনের কাজ হয়তো আর একটু বেশি হলে দর্শকের জন্যও ভাল।

পুরো সময়ের জন্য ছোট পরদায় আসার কথা ভাববেন কি?
না, তবে সিরিয়াল প্রযোজনা করার কথা ভাবতে পারি। কিছু কাজ আমরা ইতিমধ্যে করেছি। হয়তো পরের বছর একটা কাজ করতে পারি। আমার ইচ্ছে, ছোট-ছোট লভস্টোরি নিয়ে একটা সিরিজ় করার। সাহিত্যধর্মী একটা অনুষ্ঠান।

আচ্ছা, এখনও আপনি আর প্রসেনজিৎ যে জায়গাটা নিয়ে আছেন ইন্ডাস্ট্রিতে, সে জায়গায় তো আর কেউ উঠে আসছেন না। এর কারণ কী বলে মনে হয়?
ঠিক জানি না… প্রতিভা তো প্রচুর আছে। কিন্তু আরও বেশি ডিসিপ্লিনের বোধহয় প্রয়োজন। আসলে আমাদের ওয়র্ক কমিটমেন্টটা একটু অন্যরকম। সিনেমাটা নিয়েই বাঁচি। কত লাইক-শেয়ার হল, কত টাকা পেলাম… এটা নিয়ে একমাত্র বাঁচা নয়। সবসময় মনে হয়, সময় কম, কাজ বাকি অনেকটা। ‘রাজকাহিনি’-র সেটে সেদিন ওই বন্দুকের লড়াইয়ের দৃশ্য, ভোররাতে শুট করছি… সিউড়িতে তখন তিন ডিগ্রি তাপমাত্রা। হি-হি করে কাঁপছি। তারই মধ্যে সৃজিত (মুখোপাধ্যায়) আমায় বলল, ‘কি, বায়োস্কোপ আর করবে?’ সঙ্গে-সঙ্গে উত্তর দিয়েছিলাম, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, করব।’ আসলে আমরা একটা পোস্টার থেকে একশো হোর্ডিংয়ের যুগে এসেছি তো… সেসময়ে শুক্রবার কাগজে মাত্র একটা সিনেমার খবর বেরোত। ওই একটা পোস্টারই প্রযোজককে টাকা এনে দিত। হয়তো এখন অল্পেই অনেকটা পাওয়া যায় বলে…

‘‘যে ছবির কনটেন্ট স্ট্রং হবে, সেই ছবি দর্শকদের মন জয় করে নেবে’’

jeet4
‘বস ২’ -এর গল্প তাঁর নিজের লেখা। তাই নিয়ে বেশ উত্তেজিত তিনি। ছবির মিউজ়িক লঞ্চের ব্যস্ততার মধ্যেই কথা বললেন টলিউডের হার্টথ্রব নায়ক জিৎ। শুনলেন আসিফ সালাম

‘বস ২’-র গল্প তো আপনার লেখা?
হ্যাঁ। এই প্রথমবার আমার গল্প নিয়ে ছবি। আমি প্রার্থনা করি যাতে দর্শকের আমার গল্প ভাল লাগে। এইটুকু বলতে পারি, ‘বস ২’র কনটেন্ট ইজ় ভেরি স্ট্রং।

কিন্তু নিজের গল্প নিয়ে ছবি করার পিছনে কোনও বিশেষ কারণ?
বিশেষ কারণ কিছু নেই। আসলে ‘বস’ সাফল্য পাওয়ার পরেই আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে এই ছবির সিকোয়েল করা হবে। আমার ফ্যানরা প্রায় সময়ই আমার কাছে ‘বস’-এর সিকোয়েলের জন্য আবদার জানাত। সিকোয়েলের জন্য আমি এমন একটা গল্প চেয়েছিলাম যেটা ঠিক ‘বস’ যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকে শুরু হবে। বেশ অনেকদিন ভাবনাচিন্তার পর এই গল্পটা ডেভেলপ করে।

jeet-11

প্রেস মিটে বললেন এই ছবির ইউএসপি হল অ্যাকশন…
হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত এরকম অ্যাকশন সিকোয়েন্স বাংলা ছবিতে আগে কখনও দেখা যায়নি। আমাদের ফাইট মাস্টার অ্যালেন আমিন অসামান্য কাজ করেছে। একটি গাড়ি চেজ় সিকোয়েন্সে আমি একটি দুর্ঘটনার কবলেও পড়েছিলাম। সকলেই ভেবেছিল যে, আমার জন্য হয়তো শুটিং কয়েকদিন পিছোতে হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। ধন্যবাদ জানাই আমার সকল ফ্যানদের, যাদের জন্য আমি যে কোনও পরিস্থিতিতে, আরও ভাল কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই। ব্যাংককে ‘বস ২’-এর শুটিংয়ে আমার সঙ্গে আমার মেয়ে নবন্যাও গিয়েছিল। ও-ও ভীষণ মজা করেছে। শুধু মাঝে একটু জ্বর চলে এসেছিল কারণ জলের মধ্যে অনেকক্ষণ লাফালাফি করেছিল!

জিৎ-শুভশ্রী জুটি কিন্তু টলিউডে জুটি হিসেবে সকলের মন জয় করে নিচ্ছে।
প্রপার নায়ক-নায়িকা অর্থে, ‘বস ’-এর পর এই ছবি আমার এবং শুভশ্রীর দ্বিতীয় ছবি। এত কম সময়ের মধ্যেই আমাদের জুটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, সেটা জেনে খুব ভাল লাগে। আগেও বলেছি, আবার বলছি। শুভশ্রী ইজ় ভেরি ভেরি ট্যালেন্টেড অ্যান্ড আ হার্ড ওয়র্কিং গার্ল। আই উইশ হার অল দ্য বেস্ট।

jeet-10

ছবির মিউজ়িকও তো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে…
হ্যাঁ, আমার কানেও সেরকম খবরই এসেছে। অল ক্রেডিট গোজ় টু জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আমার অনেকদিনের পুরনো বন্ধু এবং একজন অসামান্য শিল্পী। ‘বস ২’ ইজ় অ্যাবাউট ‘জিৎ ত্রায়াঙ্গেল’। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ এবং আমি জিৎ মদনানি!

‘বস ২’-এর সঙ্গে একইদিনে মুক্তি পাচ্ছে ‘টিউবলাইট’ এবং ‘চ্যাম্প ২’।
আই উইশ এভরিওয়ান অল দ্য ভেরি বেস্ট। সত্যি বলতে, ‘টিউবলাইট’-এর সঙ্গে আমাদের কোনও তুলনাই হয় না। ওদের স্কেল অনেক হাই। তবে আমার ছবি নিয়ে আমি খুবই কনফিডেন্ট। আমি বিশ্বাস করি, সব কিছু নির্ভর করছে কনটেন্টের উপর। যে ছবির কনটেন্ট স্ট্রং হবে, সেই ছবি দর্শকদের মন জয় করে নেবে। ২৩-শে জুন, সকলে মিলে হলে গিয়ে ‘বস ২’ দেখুন। আমার বিশ্বাস, আপনারা কেউ নিরাশ হবেন না।
jeet-1

‘‘আমি না নিলে ঝুঁকিটা নেবে কে?’’

‘চ্যাম্প’ -এর মিউজ়িক লঞ্চে এক অদ্ভুত সমাহার! এ ছবিতে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-অনুপম রায়-অরিজিৎ সিংহ-অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়-শ্রীজাত-রাজা চন্দ-মুম্বইয়ের জনপ্রিয় র‌্যাপার রফতার… সবাই কাজ করেছেন এ ছবির সঙ্গীতে! আছেন তিন নিউ কামারও। সেই মিউজ়িক লঞ্চের পর, অভিনেতা-প্রযোজক দেবের মুখোমুখি ধৃতিমান গঙ্গোপাধ্যায়
dev1
মিউজ়িক লঞ্চের সময় কেঁদে ফেলছিলেন… কী চলছে মনে? আবেগ, আনন্দ নাকি ভয়?
সবই। কারণ মিউজ়িক লঞ্চটা যে হল, সেটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। এই ছবিটার কাজ যেদিন শুরু করেছিলাম, তা প্রায় দু’-আড়াই বছর আগে হবে… আমার কাছে কিছুই ছিল না। রাজকে যখন আমি ছবিটার দায়িত্ব নিতে বলি, ও জিজ্ঞেস করেছিল আমার কাছে টাকা বা সময় আছে কিনা। আমি বলেছিলাম, কোনওটাই নেই। শুধু এফর্টটা দিতে পারি সবাই মিলে। অবশেষে আজ কাজটা শেষ হল। তাই প্রত্যেকটা মানুষকে আমি জিজ্ঞাসা করছি, কেমন লাগছে।

চ্যাম্প-এ কিন্তু দেবকে একদম অন্যরকম লাগছে। দেব প্রযোজক বলেই কি অভিনেতা দেব নিজেকে আরও ঢেলে দিয়েছে?
আমি কিন্তু সেই ‘চাঁদের পাহাড়’ থেকেই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি। ‘বুনোহাঁস’ বা ‘জ়ুলফিকর’ দেখুন… ব্যাপারটা এই যে এই ছবিতে আমি নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটাও অনেক বেশি পেয়েছি। বরাবরই অনেক কিছু করার ইচ্ছে ছিল আমার। dev2কিন্তু সুযোগ… আমি তো প্রযোজকদের কাছে গিয়েছি, কেউ আমায় ব্যাক করেনি বলেই তো আমি প্রযোজনায় এলাম। সবার কাছে নিজেকে প্রমাণ করার একটা তাগিদ তো থাকে? ‘ডু অর ডাই’ সিচুয়েশন। যে হ্যাঁ, বাংলা ছবিতেও এরকম করা যায়। কমপ্লিট মেকওভার আনা যায়। ছবির একটা বড় অংশে আমার ওজন ১০৭ কেজি। ভুঁড়ি নিয়ে ফাইট। সেখান থেকে টোন করে, সিক্স প্যাক এনেছি।

এ ছবির বোধহয় শুরু থেকে শেষ, সবটাই দেব…
আসলে কী বলুন তো, গল্পটা আমার লেখা বলে পুরোটা আমার কাছে খুব ক্লিয়ার ছিল। কেমন কাস্টিং করতে হবে, কোথায় কোন গানটা ফিট করবে, কী ধরনের মিউজ়িক চাই… সবটাই। ইন ফ্যাক্ট, আপনি আজ প্রেস-কনে কী খাবেন, সেটাও আমি ঠিক করেছি। কোনও জিনিসে কোনও খামতি রাখিনি। প্রত্যেকটা বাড়িতে ছবিটাকে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। সিইএসসি যেমন এক্ষেত্রে বিরাট সাহায্য করেছে। তিন মাসের প্রতিটা বিলে ‘চ্যাম্প’ ফ্ল্যাশ্‌ড হয়েছে।

আজ যাঁরা-যাঁরা স্টেজে বসে আছেন, সেই কম্বিনেশনটাও তো…
মারাত্মক! এটা আমার বিরাট গর্ব যে হ্যাঁ, এদের এক করা হয়তো আমার পক্ষেই সম্ভব ছিল। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রথম কারও সঙ্গে বাংলায় অ্যালবাম শেয়ার করলেন।

কেরিয়ারের এই সময়ে প্রযোজনার ঝুঁকিটা তো বেশ বড়ই…
একদম। বিরাট রিস্ক।

dev3তাহলে নিচ্ছেন কেন?
আপনি আমায় আর একটা নাম বলুন, যার পক্ষে এই ঝুঁকিটা নেওয়া সম্ভব ছিল। এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আমার একটা দায়িত্ব আছে তো? আজ যখন বাংলায় ‘বাহুবলী ২’ রমরমিয়ে চলে, আমার কি হিংসে হয় না? বাঙালি দর্শক একে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করছেন, ‘‘‘বাহুবলী ২’ দেখেছিস? কী ছবি বানিয়েছে! এখানে তোরা কী করছিস?’’ আমার গায়ে লাগে না? সেখান থেকে ধরে নিন, আমার সম্মানরক্ষার্থেই এই ছবিটা করা। যাতে বাঙালি দর্শক অন্তত একঘণ্টা আলোচনা করতে পারে যে এখানেও একটা ছেলে আছে যে সাহস দেখাতে পারে। তার কাছে করণ জোহর নেই তাই…

প্রিমিয়ারের প্ল্যান কী?
করছি না। ফ্রি-তে আমি কাউকে এ ছবি দেখাব না। সবাইকে কষ্ট করে ডাকব, ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করব, তারপর দশজন দশরকম কথা বলবে। আপনারা তো আমার পরিশ্রম দেখতে পাচ্ছেন। আপনাদের কি কর্তব্য নয় সেটুকুকে সম্মান করে ৫০-১০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সিনেমাটা দেখা? আমি তো সেটাই দেখতে চাই যে এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ, বাংলা ছবির দর্শক বাংলা ছবির পরিশ্রমকে টাকা দিতে চায় কিনা। ‘বাহুবলী’ তো অনেক টাকা খরচ করেও আমরা দেখেছি।

দেবের পরবর্তী পরিকল্পনা কী? ইন্ডাস্ট্রির জন্য এভাবেই নতুন কিছু করে যাওয়া?
আমি তো এটুকুই পারি। অন্য কিছু শিখিওনি আর এ ছাড়া কিছু করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

dev-1