Category Archives: music news

পুজোয় এবার হেমন্ত মান্নার জন্মশতবর্ষ, সঙ্গে থাকছে আনন্দলোক

hemanta-mukherjee-with-manna-dey2 আনন্দলোকের স্পেশাল সংখ্যা শত বসন্তে হেমন্ত – মান্না পড়েছিলেন তো? ডুবে গিয়েছিলেন সেই স্বর্নযুগের দিনগুলিতে? এবার বইয়ের পাতা থেকে মুখ তুলে চাক্ষুষ করার সময় এসে গিয়েছে। এই দুই কিংবদন্তি শিল্পীর কাজ আর জীবনই ফুটে উঠবে আপনার চোখের সামনে। আগামী সপ্তাহ থেকেই এক টাইম মেশিন নিয়ে যাবে আপনাকে একেবারে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মান্না দের কাছাকছি।

চমকে গেলেন? ভাবছেন কী করে? আরে মশাই শারদ উৎসবের কথা বলছি। সোদপুরের ২ নম্বর দেশবন্ধু নগর এবার মা দুর্গার আবাহন করবে হেমন্ত এবং মান্নার জন্মশতবর্ষ কেন্দ্র করে। পুজোর গান তো একটা সময় বিরাট ব্যাপার ছিল। এই দুই শিল্পীও বলতে গেলে এই সময় প্রচুর গান রিলিজ করেছেন। এবার সেই দিনগুলোয় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান উদ্যোক্তারা। মানুষ যাতে পুজো প্রাঙ্গণে পা দিলেই হেমন্ত মান্নার অজানা অচেনা ছবি আর গানে মোহিত থাকতে পারেন। আর অনুষ্ঠানও থাকবে প্রচুর পরিমাণে। পুজোর পাঁচদিন ঊষা উত্থুপ, সিধু, পটা ছাড়াও অনেকেই পারফর্ম করবেন। ত হলে আর দেরি কেন… স্বর্ণযুগের নস্টালজিয়ায় শামিল হতে এগিয়ে আসুন আজই। সঙ্গে থাকছে আনন্দলোক।

Hemanta Mukherjee | Manna Dey

একক অনুপমে মুগ্ধ কলকাতা

anupam-roy-anandalok-img1

একজন মানুষ, অন্ধকার স্টেজে একা একটা গিটার হাতে এসে বসলেন। তারপর ধরলেন ‘বাড়িয়ে দাও তোমার হাত…’

মনে হল যেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। আসলে অনুপম রায় তো ন’ বছর আগে ব্যাঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় এসেছিলেন একাই। একটা বিশ্বাস এবং ইচ্ছে নিয়ে। ইচ্ছে, নিজের লেখার-সুর করা বাংলা গান গাওয়ার। আর বিশ্বাস, সেই গান গেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার। ১৪ তারিখ নজরুল মঞ্চের মায়া-আলোভরা সন্ধ্যেয় যখন অনুপম একা ‘বাড়িয়ে দাও’ গাইছেন, তখন মনে হল ন’ বছর পুরনো সেই একা অনুপমকেই যেন ফিরে দেখতে চাইছেন তিনি।

anupam-roy-anandalok-img4

ধরতে চাইছেন, পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানো সেই আদত চারাগাছটিকে, যেটি এখন ডালপালা মেলে মহীরূহে রূপান্তরিত হয়েছে! অনুষ্ঠানের প্রবাহও যেন সেভাবেই হল, একা থেকে আস্তে-আস্তে নিজের মিউজ়িশিয়নদের পেলেন তিনি। আর গিটার, সরোদের স্বর কখন যেন গোটা একটা ‘অর্কেস্ট্রায়’ রূপান্তরিত হল। শ্রোতা-শিল্পী মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’-এ। অনুপম আগেই বলেছিলেন, এই অনুষ্ঠানে সেই গানগুলোই গাইবেন তিনি, যেগুলো প্রাণের খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও সেভাবে গাওয়ার সুযোগ পান না। সেই সূত্রেই তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হল, ‘এবার মরলে গাছ হব’, ‘তারার মতো’, ‘বাক্যবাগীশ’-এর মতো গান। কিন্তু আদতে দেখা গেল, যে গানগুলোকে অনুপম ‘কমচর্চিত’ ভাবেন, সেগুলোতেও হলজুড়ে গলা মেলালেন তামাম দর্শক-শ্রোতা।

anupam-roy-anandalok-img2

দর্শক বললাম, কারণ এই কনসার্ট যতটা শোনার, ততটা দেখারও। প্রতিটি গানে, সরোদের ঝংকারে যে গ্রাফিক্স গোটা স্টেজজুড়ে প্রতিফলিত হচ্ছিল, তাতে বোঝা যাচ্ছিল, কী পরম মমতায় কনসার্টের প্ল্যান করেছেন অনুপম। যেন সগর্বে ঘোষণা করছেন ‘আমি তারার মতো জ্বলব… দেখি আমায় কে আটকায়!’ আক্ষরিক অর্থে মোহিত করে রাখলেন তিনি। তিন ঘণ্টা। অডিও-ভিসুয়াল প্রেজ়েন্টেশনে যে বলেছিলেন, ‘‘আগামী কয়েক ঘণ্টা আপনি আমার চোখে চোখ রাখুন,’’ সেটা যেন ছত্রে-ছত্রে সত্যি প্রমাণিত হল। কারণ তিনি কথা বললেন খুব কম, গান গাইলেন বেশি। আর সেই গানে কখনও ফিরে এল, ‘পিকুর থিম’, ‘আমার মতে’ (এখানে আবার অনুপমের গুরু প্রত্যূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাজালেন শিষ্যের সঙ্গে), ‘আমার শহরে’, ‘একটাই পরিচয়’-এর মতো নীরব অহংকার, কখনও ‘এখন অনেক রাত’, ‘আমাকে আমার মতো’র মতো সগর্ব ঘোষণা। আর সেগুলো প্রমাণ করে দিয়ে গেল, অনুপম সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে কী অসাধারণ উন্নতি করেছেন। আর সেই উন্নতি যতটা তাঁর নিজের কৃতিত্ব, ততটা তাঁর সহযোগী সদস্য মানে নবারুণ (কিবোর্ড), সন্দীপন (ড্রামস), রিষভ (গিটার), রণরও (বেস)। কারণ একটি ভিডিওতে অনুপম নিজেই স্বীকার করলেন, সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিণতমনষ্কতায় তাঁর ব্যান্ডমেম্বারদেরও কতটা হাত…

anupam-roy-anandalok-img3

প্রকৃতির স্বার্থে প্রতি টিকিটে একটা করে গাছ পুঁতবেন, এটা তো অনুপম আগেই বলেছিলেন। কিন্তু কনসার্ট শেষ হওয়ার পর মনে হল, ‘ভালবাসা বাকি আছে’ শুধু যেন একটা কনসার্ট নয়। অনুপম প্রকৃতির পাশাপাশি অফুরান ভালবাসা উজাড় করে দিলেন দর্শকদের প্রতি, নিজের সহকর্মীদের প্রতি, নিজের গুরু প্রত্যূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও। যেভাবে শুরুর দিকে তিনি গেয়েছিলেন, ‘চাই চাই এক অদ্ভুত মুগ্ধতা’, একটা সুযোগ পেয়ে সেই মুগ্ধতার রেশই যেন সঞ্চারিত করলেন সকলের মধ্যে। একক কনসার্টে নিজের ভাল লাগার সঙ্গে জড়িয়ে নিলেন সবাইকে। নিজের কাছেও যেন শিল্পী অনুপমের ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেন। এই অনুষ্ঠানে আসলে নিজের চোখেই চোখ রাখতে চেয়েছিলেন অনুপম। আদতে একা কী করতে পারেন তিনি। আর দেখা গেল, তিনি একশো শতাংশ সফল। কারণ উপস্থিত সকলের মধ্যে তো সেই ভাল লাগার রেশ বলে গেল, আসছে বছর আরও বড় করে ফিরে আসতেই পারে একক অনুপম!

anupam-roy-anandalok-img5

সায়ক বসু

‘নতুন গানের পাব্বনী’তে জয়ী লোপামুদ্রা… বাংলা গানও

motun-gan-big-img স্টেজ তো নয়, যেন বাংলা গানের মহামিলনস্থল। motun-gan-big-img2আসলে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অহীন্দ্র মঞ্চে শুধু নতুন বাংলা গানের উদ্‌যাপন হচ্ছিল না, তৈরি হচ্ছিল এক অপরূপ মেলবন্ধনও, যেখানে এক সুতোয় বাঁধা পড়ছিলেন নবীন এবং অভিজ্ঞ প্রজন্মের সদস্যরা। তাই তো যখন স্নিগ্ধদেব নিজের নতুন গান পরিবেশন করে ব্যাকস্টেজে গেলেন, তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন শ্রীকান্ত আচার্য! রীতিকা সাহানীর গানের আগে তাঁর ইন্ট্রোডাকশন দিলেন অর্ণা শীল। motun-gan-big-img4 আর যখন শ্রীকান্ত-পুত্র পূরব, মনোময়ের ছেলে আকাশ এবং প্রতীক চৌধুরীর সুযোগ্য পুত্র দীপরাজ একসঙ্গে স্টেজে উঠল, তখন যেন বৃত্ত সম্পূর্ণ করার মতো করে স্টেজে উঠে এলেন লোপামুদ্রা মিত্র। আসলে লোপামুদ্রা তো এই স্বপ্নই দেখছেন অনেক দিন ধরে। ভাল বাংলা শোনানোর এক মঞ্চ তৈরির করার স্বপ্ন। তাই যখন একঝাঁক নতুন রক্তের ছেলেমেয়েকে ‘ইউনিসন’ ব্যান্ডে নিয়ে এসে রূপঙ্কর বলেন, ‘‘আসলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজ়িক বলে কিছু হয় না। motun-gan-big-img3 ভাল সঙ্গীত তৈরি করতে গেলে কারও না কারও উপর ডিপেন্ডেন্ট হতেই হয়,’’ তখন মনে হয়, এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথাই বলছেন তিনি। তাই তো শুভমিতা থেকে শুরু করে মনোময়, রাঘব চট্টোপাধ্যায় তাঁর দুই কন্যাকে নিয়ে স্টেজে উঠে নতুন বাংলা গান এবং এই অনুষ্ঠানের কাণ্ডারী লোপামুদ্রা মিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করে গেলেন।

 

motun-gan-big-img6

 
 

motun-gan-big-img5 এই অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছিল সেইভাবেই। যেখানে সমস্ত ধরনের বাংলা গান শুনতে পারেন শ্রোতারা। তাই যখন দুর্নিবার নিজের লেখা গান গেয়ে উঠলেন বা বাংলা ব্যান্ড ‘পৃথিবী’ মাতালো নিজের সুরে, তখন হাততালির আওয়াজে ভরে উঠল গোটা অডিটোরিয়াম। আর শেষে যেন বাংলা গান জিতে গেল যখন সকলের গলায় অনুরণিত হল, গানে গানে তোমারে দিলাম… এই অর্ঘ্য যেন লোপামুদ্রার তরফ থেকে গোটা ইন্ডাস্ট্রির প্রতিই। এই পাব্বনীতে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে সকলে…

নতুন বাংলা গানের পার্বণে লোপামুদ্রা এবং তাঁর সহকর্মীরা

lopamudra-bigসেই ছিল এক দিন আমাদের। যখন পুজোর আগে দোকানে ভিড় করে পুজোর অ্যালবাম কিনত আপামর বাঙালি। পুজোযাপনের আগে হইহই করে চলত গানযাপন। শিল্পীরাও যেন উৎসুক হয়ে থাকতেন, পুজোর আগে অ্যালবাম রিলিজ়ের জন্য। কিন্তু সেই দিন এখন গত। ক্যাসেট, সিডি, এমপিথ্রি হয়ে গান এখন সম্পূর্ণরূপে ডিজিট্যাল, সিঙ্গল রিলিজ় করেই ক্ষান্ত দিচ্ছেন সকলে। দশ বারোটা গান সম্বলিত একটি অ্যালবাম কেনার বা শোনার সময় কোথায় মানুষের? আর এই না শোনার অভ্যেস থেকেই চালু হয়েছে একটি লব্জ, ‘‘ভাল গান এখন আর হচ্ছে কোথায়?’’ কিন্তু এই বিশ্বায়নের যুগে যে হিন্দি, ইংরেজি বা বাংলা সিনেমার গানই বাংলা বেসিক গানকে গিলে ফেলছে, সেটা বুঝেও যেন না বোঝার ভান বাঙালির। তাই নতুন বাংলা গান শোনা নিয়েও তাদের অনীহা। কিন্তু ভাল গান কি হচ্ছে না? নিশ্চয়ই হচ্ছে… হয়তো সেটা সংখ্যায় বেশি নয়। বহুবার বহু শিল্পী কথাটা বলেছেন। কিন্তু অনভ্যেস তৈরি হলে কী করবেন। কিন্তু একজন শিল্পী যে সহজে হাল ছাড়ার পাত্রী নন, তিনি লোপামুদ্রা মিত্র। তিনি যেন পণ করে ছিলেন নতুন গান মানুষকে শুনিয়ে ছাড়বেন। শুধু দরকার ছিল একটি মঞ্চের, যেখানে সকলে এসে একসঙ্গে নতুন বাংলা গানের জয়ধ্বজা তুলতে পারেন। সেই ভাবনার সূত্র ধরেই লোপামুদ্রা মিত্র শুধু করেন একটি অনুষ্ঠান, ‘নতুন গানের পাব্বনি’। হ্যাঁ, ‘পাব্বনি’ই বটে। বারো মাসে তেরো পার্বণের রসে মজে থাকা বাঙালির হৃদয়তন্ত্রে নাড়া দেওয়ার এর চেয়ে ভাল উদ্দেশ্য আর কী হতে পারে। প্রথম বছর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবছরও ফিরে এসেছে এই অনুষ্ঠান। রাত পোহালেই, মানে আগামিকাল অহীন্দ্র মঞ্চে শুরু হয়ে যাবে বাংলা গানের এই উদ্‌যাপন। লোপামুদ্রা মিত্র বললেনও সেই সূত্র ধরে, ‘‘আসলে আমি নিজে তো বাংলা গানেই বেঁচে এসেছি সারাজীবন। তাই এই স্বপ্নটাও আমার মধ্যে প্রোথিত হয়েছে, সব বয়সের সব প্রজন্মের গায়ক-গায়িকা একসঙ্গে বাংলা গান গাইবেন। সেই জন্যই ‘নতুন গানের পাব্বনি’। নতুন গানের উদ‌্‌যাপন। আর এই শুভ কর্মের জন্য, গত বছরের চেয়ে এবছর আরও বড় করে ফিরে এসেছে এই অনুষ্ঠান। এবছর তাই শিল্পী তালিকাও বেশ লম্বা…

শ্রীকান্ত আচার্য্য

শুভমিতা

রাঘব, সঙ্গে তাঁর দুই কন্যা আনন্দী-আহিরী

রূপঙ্কর এবং তাঁর ব্যান্ড ইউনিসন

মনোময় এবং তাঁর পুত্র আকাশ

সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়

উজ্জ্বয়িনী

রিতিকা সাহানী

তিমির বিশ্বাস

বৃষ্টিলেখা

গৌরব সরকার

তনিকা

স্নিগ্ধদেব

অরুণাশিস

দুর্নিবার সাহা

পৃথিবী

পরিধি

নাইয়র

ফলে বুঝতেই পারছেন নবীন এবং অভিজ্ঞ প্রজন্মের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে লোপামুদ্রা মিত্রের নতুন গানের পাব্বনি। শুধু লোপামুদ্রার একটাই আবেদন, ‘‘যাঁরা সবসময় বলেন, বাংলা গানের পাশে আছি। তাঁরা সত্যি সত্যি থেকে দেখান। হলে দর্শক না থাকলে কিন্তু কোনও অনুষ্ঠানই সাফল্য পায় না। ভাল বাংলা গান শুনতে হলে আপনাদের আসতেই হবে আগামীকাল, অহীন্দ্রমঞ্চে। গান শোনানোর দায়িত্ব তো আমাদের… ফলে আর কী… তৈরি হয়ে যান এই বিরাট গানযজ্ঞের সঙ্গী হতে। চলুন দেখে নিই, শিল্পীরা কী বলছেন…

Natun Gaani

‘উনিশে কুড়ি’… গানে গানে…

raghab-big-img1 হৃদয় ছুঁয়ে ফেলার ক্ষমতা একমাত্র সঙ্গীতেরই থাকে, তাই হয়তো পছন্দের গান শুনলে হৃদয়ে লাগে দোলা। সঙ্গীত এবং হৃদয়ের এই মেলবন্ধনকে অভিনব ভাবে পেশ করলেন সঙ্গীতশিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গে রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা ওল্ড সিটি। ২৪ অগস্ট, শনিবার, কলকাতার কলামন্দিরে নিজের সঙ্গীতজীবনের কুড়িবছর উদযাপন করলেন হৃদয় দিয়ে, সঙ্গে রাখলেন প্রোজেক্ট ‘হৃদয়া’কে।

raghab-big-img3 প্রোজেক্ট হৃদয়া রোটারি ক্লাবের একটি উদ্যোগ। এই উদ্যোগে দুঃস্থ পরিবারের হার্টের অসুখে ভোগা শিশুদের অপারেশন করানো হয় বিনামূল্যে।প্রসঙ্গত, ২০১৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৪০টি শিশুর সফল অস্ত্রপচার করাতে সক্ষম হয়েছে হৃদয়া। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বার্তাই দিলেন অন্যতম কর্তা সুরজিৎ কালা, প্রবাল, অপূর্ব বাবুরা। সকলের পরিচিত মীর সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন। ‘হৃদয়া’র পাশে দাঁড়িয়ে রাঘবের এই মহৎ উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানাতে ও কুড়ি বছরের সঙ্গীতজীবনের আনন্দ ভাগ করে নিতে হাজির ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী অনুপম রায়, রূপঙ্কর বাগচী, লোপামুদ্রা মিত্র, মনোময় ভট্টাচার্য, শুভমিতা প্রমুখ। যাঁরা প্রত্যেকেই পারফর্ম করেন মঞ্চে, তাঁদের নিজেদের একটি গান ও রাঘবের একটি করে গান গেয়ে। তারপর হয় রাঘবের একক অনুষ্ঠানও। raghab-big-img2 লোপামুদ্রা ও রাঘবের অন স্টেজ খুনসুটি ছিল বেশ উপভোগ্য। উপরি পাওনা ছিল পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর ছাত্রকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও স্তোত্র পরিবেশন। সঙ্গীত জীবনের কুড়িবছর পরিপূর্ণ করেছেন শিল্পী। তাঁর জীবনের এ এক মাইলস্টোন। কিন্ত কোনও পাঁচতারা হোটেলে না করে সমাজের উপকারের জন্য যে এই উদযাপন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও মৌলিক। রাঘবের পক্ষ থেকে রোটারির ‘হৃদয়া’কে দেওয়া হয় পাঁচ লক্ষ টাকার চেক।

চিত্রগ্রহণে- অনির্বাণ সাহা

Raghab Chattopadhyay | Rotary club of calcutta | old city | Unishe Kuri | Lopamudra Mitra | Rupankar Bagchi | Anupam Roy | Subhamita Manomoy | Project Hridaya

জুনিয়র কুমার শানুর ডেবিউ

Kumar-Sanu-son-Jaan-big পরিচালক রামকমল মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘সিজ়নস গ্রিটিংস’-এর হাত ধরে সঙ্গীত জগতে পা রাখলেন কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানু। ‘কেকওয়াক’-এর পর রামকমলের এটা দ্বিতীয় ছবি এবং লেজেন্ডারি ফিল্মমেকার ঋতুপর্ণ ঘোষকে ট্রিবিউট জানানো হয়েছে এই ছবির মাধ্যমে। দিওয়ালির পরে এক জনপ্রিয় ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ছবিটি প্রদর্শিত হবে। সেলিনা জেটলি, লিলেট ডুবে এবং আজ়হর খান অভিনীত এই ছবির পোস্টার লঞ্চ করেছেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। আর এই নিয়ে উৎসাহের শেষ নেই জানের। ‘‘আসলে বাবা যখন মুম্বইতে এসে স্ট্রাগল করছিলেন, তখন জগজিৎ সিংহজি বাবার সঙ্গে কল্যাণজি-আনন্দজির আলাপ করান। সেখান থেকে বাবা প্রথম ব্রেক পান অমিতাভ বচ্চন অভিনীত জাদুগর’ ছবিতে। তাই আজ আমার ডেবিউ ছবির পোস্টার যখন অমিতজি লঞ্চ করছেন, সেটা আমার কাছে একটা বিশাল ভাগ্যের ব্যাপার। বাবাও খুব খুশি। ‘সিজ়নস গ্রিটিংস’-এ আমি ‘গহন কুসুম…’ রবীন্দ্রসঙ্গীতটি গেয়েছি। আশা করি সকলের ভাল লাগবে,’’ জানান জান।

আসিফ সালাম

প্রকৃতির স্বার্থে অনুপম রায়ের ‘ভালবাসা বাকি আছে’ অনুষ্ঠান!

anupam-big ইচ্ছেটা অনেকদিন ধরেই ছিল, নিজের একটা সোলো কনসার্ট করার। কিন্তু সিনেমা এবং বিজ্ঞাপনের কাজের ব্যস্ততায় সেটা হয়ে উঠছিল না। অবশেষে সুযোগটা এল অনুপম রায়ের কাছে। গত অগস্ট মাসেই ইন্ডাস্ট্রিতে ন’ বছর হল অনুপমের। ২০১০ সালের এই সময়ই রিলিজ় করেছিল তাঁর ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ গানটি… বাকিটা তো ইতিহাস। এবার এই ন’বছরের পূর্তি সেলিব্রেট করতেই অনুপম দর্শকদের সামনে আনছেন ‘ভালবাসা বাকি আছে’ কনসার্ট।’ অনেকদিক থেকেই এই কনসার্ট গুরুত্বপূর্ণ। অনুপমের বক্তব্য, ‘‘আসলে রোজ যে ধরনের অনুষ্ঠান করে আমরা অভ্যস্ত, তার চেয়ে ‘ভালবাসা বাকি আছে’ একটু আলাদা। আমার এরকম প্রচুর গান আছে, যেগুলো আমি সেইসব অনুষ্ঠানের স্বল্প পরিসরে গাইতে পারি না। anupam-big2 কিন্তু আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর যেহেতু আমরা তিন ঘণ্টা সময় পাব, তাই চেনা গানগুলোর পাশাপাশি ওই অচেনা গানগুলোও গাইব।’’ তাই অনুষ্ঠান ঘিরে বেশ ভালমতো প্রস্তুতিই শুরু করেছেন শিল্পী। তবে ‘ভালবাসা বাকি আছে’র প্রাসঙ্গিকতা বোধ হয় লুকিয়ে আছে অন্যত্রও। কারণ অনুপম ঠিক করেছেন, এই অনুষ্ঠানে যতগুলো টিকিট বিক্রি হবে, এই শহরে ঠিক ততগুলো গান পুঁতবেন তিনি। অনুপম বললেন, ‘‘আমি তো ‘এবার মরলে গাছ হব’ রিলিজ় করেছিলাম, সেখানেও বক্তব্যটা একইরকম ছিল। তবে আমার মনে হয়েছে, গানের পাশাপাশি যদি হাতেকলমেও এই উদ্যোগটা নিই, তা হলে মানুষের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছতে পারব।’’ তাই অনুপম চাইছেন, ‘ভালবাসা বাকি আছে’ এক অন্য মাত্রা নিয়ে আসুক শ্রোতাদের কাছে। বাংলা বেসিক গানের পাশে যেমনভাবে তাঁরা আছেন, প্রকৃতিরক্ষার স্বার্থেও এগিয়ে আসুন। তাই আর কী… তৈরি হোন আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, নজরুল মঞ্চে অনুপমের ‘ভালবাসা বাকি আছে’ প্রত্যক্ষ করার জন্য। আর চোখ রাখুন আমাদের ওয়েব প্ল্যাটফর্ম এবং পত্রিকার পাতায়। অনেক চমক অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য!

সায়ক বসু

Anupam Roy | AROFC | Bhaalobasa baaki aachhe | Anandalok

মহা ধুমধামে কিশোরের ৯০ বছরের জন্মদিন

kishor-kumer-big আর কিছুদিনের অপেক্ষা। আগামী ৪ অগস্ট ৯০ বছরের জন্মদিন কিশোরকুমারের। দেশজুড়ে মহা ধুমধাম করে পালিত হবে এই সুরের জাদুকরের জন্মদিন। সেখানে কলকাতাই বা পিছিয়ে থাকে কেন? বলা ভাল, কিশোরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় কনসার্ট দেখতে চলেছে শহরবাসী। kishor-kumer-big2অনেকেই জানেন, প্রতিবছর ৪ অগস্ট ‘তোমায় পড়েছে মনে’ নামে একটি অনুষ্ঠান হয় কিশোর স্মরণে। এই বছর সেটি পঞ্চম বর্ষে পা দিতে চলেছে। আর এবার তার বহর অনেক বড়। কারণ এবার কিশোর স্মরণে গান গাইবেন, অমিতকুমার, সুমিতকুমার, কবিতা কৃষ্ণমুর্তি এবং আরও অনেকে। সবচেয়ে বড় কথা, ১৯৯২ সালের পর এই প্রথমবার কলকাতায় আসতে চলেছেন কিশোর-সহধর্মিণী লীনা চন্দ্রভারকর। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী এবং আরও অনেক বিশেষ ব্যক্তিত্ব। এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হবে জনপ্রিয় কিশোরকণ্ঠী গৌতম ঘোষকে। গোটা অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকবেন শ্রীজাত।

রবীন্দ্রসংগীতে অনুপমের মা

Dhaka-Anupam-Roy-গু ছোটবেলায় মায়ের কাছেই গান শিখেছিলেন অনুপম রায়। আনন্দলোকের সাক্ষাৎকারেই বলেছিলেন, তাঁর সাংগীতিক জীবনে মায়ের অবদানের কথা। সম্প্রতি তাঁর মা মধুঋতাকে দিয়ে তিনি রেকর্ড করালেন রবীন্দ্রসংগীত ‘ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে’। এমনিতে নিজে গান শিখতেন অনুপমের মা মধুঋতা রায়। ‘রবিতীর্থ’র ছাত্রীও ছিলেন তিনি। তারপর নানা ব্যস্ততায় গানকে আর কেরিয়ার বানানো হয়নি মধুঋতার। নিজে গান ও বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত। তবে অনুপম বর্তমানে নতুন প্রতিভাদের খুঁজে বের করার কাজ করছেন। সেখানে নিজের স্ত্রী পিয়াকে দিয়েও গাইয়েছেন গান। সেখানে মাকে দিয়ে গানের রেকর্ড, অননুপমের অন্বেষণের মুকুটে অভিনব পালকই বলা চলে। এই গান রেকর্ড করে অনুপম জানিয়েছেন, মাদার্স ডে উপলক্ষ্যে মায়ের গান রেকর্ড করে মাকেই ট্রিবিউট দিলেন তিনি।

Anupam Roy | Aadhurita Roy

হৃদরোগে আক্রান্ত প্রতুল মুখোপাধ্যায়

Musician_Pratul-Mukhopadhay-big ‘আমি বাংলায় গান গাই’, আজীবন বাংলাকে ভালবেসে যাওযা প্রখ্যাত গায়ক ও গীতিকার প্রতুল মুখোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভরতি রয়েছেন হাসপাতালে। আজ সকালে হার্ট অ্যাটাকের পর তাঁকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভরতি করা হয়। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁকে এস এস কে এমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া বলে শেষ খবর পাওয়া গিয়েছে।

জরুরি চিকিৎসার পর ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে বিপদ এখনও কাটেনি। মূলত বার্ধক্যজনিত সমস্যাতেই ভুগছিলেন ৭৭ বছরের এই শিল্পী। আজ আবার এই বিপত্তি। এখন তাঁর দ্রুত আরোগ্যের কামনায় আপামর বাঙালি।

Pratul Mukhopadhyay | Heart attack | sskm | Singer | Song writer