magazine_cover_12_january_20.jpg

 

Home music news ইটস অফিশিয়াল… ভেঙে গেল ‘ক্যাকটাস’!

ইটস অফিশিয়াল… ভেঙে গেল ‘ক্যাকটাস’!


খবরটা শুনে মন খারাপ হতে পারে ‘ক্যাকটাস’-প্রেমীদের, কিন্তু সত্যি এটাই। গত কয়েক মাস ধরে দলের মধ্যে এতটাই টালমাটাল অবস্থা ছিল যে, শেষ পর্যন্ত সামাল দেওয়া গেল না। বাংলা ব্যান্ড ‘ক্যাকটাস’ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন কি বোর্ড প্লেয়ার বুটি, ভোকালিস্ট সাকি এবং ২৭ বছর ধরে ব্যান্ডের সঙ্গে থাকা ড্রামার বাজি! খবরটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো শোনালেও, অস্থিরতা চলছিল অনেক আগে থেকেই। শেষ কয়েকমাস ক্রমাগত শো কমছিল ক্যাকটাসের। সদস্যদের মধ্যেও হচ্ছিল না বনিবনা… দলের লিড ভোকালিস্ট সিধু ওরফে সিদ্ধার্থ রায় অনেক চেষ্টা করেছিলেন ব্যাপারটা ঠিক করার। কিন্তু আভ্যন্তরীন পলিটিক্স, ইগোর লড়াই, সর্বোপরি অ্যাকাউন্টসের গণ্ডগোলের অভিযোগও উঠছিল। তাই শেষ পর্যন্ত দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এই তিন সদস্য। যদিও গত ২৮ ডিসেম্বরই সিধুর ৫০ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘নাম সিধু পদবী ক্যাকটাস ২’-এ একসঙ্গে বাজিয়েছে এই দল। কিন্তু খবর, তার আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল দল ভাঙার! শুধু নিয়মরক্ষার্থে এবং সিধুর প্রতি ভালবাসায় সেদিন একসঙ্গে পারফর্ম করেছে সকলে।

এই প্রসঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম বুটির সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘‘আমি কিন্তু এখনও কোথাও কোনও অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট দিইনি যে ব্যান্ড ছেড়ে দেব। আমি ক্যাকটাসে গত ১৬ বছর ধরে বাজাচ্ছি। এটা আমার কাছে একটা ইমোশন। পরিবারের মতো। কিন্তু আপনি যদি দেখেন, একটি সাঙ্গীতিক পরিবারে সঙ্গীত নিয়ে কোনও কথা হচ্ছে না। নতুন গান তৈরি হচ্ছে না। তখন ফ্রাস্ট্রেশন আসতে বাধ্য। তাই আমি ঠিক করেছি, কিছুদিন হাইবারনেশনে থাকব।’’ দলের আর এক সদস্য সাকি এখন বাংলাদেশে, ফলে তিনি ফোন ধরেননি।

ড্রামার বাজি ফোন ধরে প্রথমে ব্যাপারটা স্বীকার করতে না চাইলেও, পরে কথায় কথায় বুঝিয়ে দেন, দল তিনি ছাড়ছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দলের মধ্যে বনিবনাই তো হচ্ছিল না কয়েক বছর ধরে। আমরা যে মিউজ়িক করতে চাইছি, সেটায় সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে। দলের চেয়ে কেউ বড় নয়। আমি এখন নিজের কাজ করব। মিউজ়িক নিয়ে অনেক কাজ বাকি আছে আমার।’’ এবার এই অভিযোগে বাজি কারও নাম না করে করলেও, এটা সত্যি যে, দিনের পর দিন তাঁর বিরুদ্ধেই রাজনীতি করার অভিযোগ উঠেছে। সেটা সদস্যদের অদলবদল, শো নেওয়া থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছু।

যাই হোক, এখন সেসবে ইতি টেনে দল ছাড়লেন বাজি। মিউজ়িক্যাল আদানপ্রদান না হওয়ার কারণ দেখিয়ে একই পথ ধরেছেন বুটি এবং সাকি। তা হলে কি ‘ক্যাকটাস’ বন্ধ হয়ে যাবে? আর পারফর্ম করতে দেখা যাবে না এই আইকনিক বাংলা ব্যান্ডকে? উত্তরে সিধু বললেন, ‘‘এইভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বললেই তো বন্ধ হয় না! ক্যাকটাস থাকবে। ক্যাকটাসের সঙ্গীতও থাকবে। হয়তো নতুনভাবে ফিরে আসব আমরা।’’

এই প্রসঙ্গে সিধু আরও কী বললেন? তাঁর এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ পড়তে চোখ রাখুন আনন্দলোকের ১২ জানুয়ারি সংখ্যায়…

সায়ক বসু