magazine_cover_12_january_17.jpg

Bolly Interview

‘‘ভুল থেকে কিচ্ছু শেখা যায় না। অন্তত আমি তো কক্ষনও কিছু শিখিনি!’’

sujay-big

মুক্তি পেয়েছে ‘কহানী ২’। আর ঠিক তখনই আনন্দলোকের মুখোমুখি ছবির পরিচালক সুজয় ঘোষ। ছবি এবং বিদ্যা বালন নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন শ্রাবন্তী চক্রবর্তীর সঙ্গে …

- – - – - – - – - – - – - – - – - -

‘কহানী ২’ তৈরির কারণ কী ছিল?
প্রথমেই বলি, এই ছবিটি কিন্তু কোনও সিকুয়েল নয়। এটি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির দ্বিতীয় ছবি। আসলে ‘কহানী’র পর এত ভালবাসায় আমি একটু লোভী হয়ে গিয়েছি। সেই লোভটাই কারণ। ঠিক এরই জন্য চার বছর ধরে আমি একটা ভাল গল্প দাঁড় করিয়েছি। নারীকেন্দ্রিক, ভাল থ্রিলারধর্মী একটি গল্প তৈরি করেছি। এই গল্পটাই তো ‘কহানী’!

 

বিদ্যাকে কি প্রথম থেকেই লিড হিসেবে ভেবেছিলেন?
একটা সময় ভেবেছিলাম ‘দুর্গা রানি সিংহ’ নামটা ব্যবহার করব। সেটা হলে অন্য অভিনেত্রী নেওয়ার একটা জায়গা থাকতে পারত। কিন্তু ছবির নাম ‘কহানী ২’ হলে সেখানে এক এবং একমাত্র চয়েস বিদ্যা। সবসময়।

 

আপনার আর বিদ্যার কেমিস্ট্রি দুর্দান্ত এবং পরদায় তার প্রভাব পড়ে। আপনার কী মত?
একদম ঠিক। এর কারণ, অফস্ক্রিন আমরা খুব ভাল বন্ধু। আমি যদি কোনও অভিনেতার জন্য চরিত্র লিখি এবং সেই অভিনেতা যদি আমার পরিচিত হয়, তাহলে কিছুটা তো সুবিধে হয়ই। বিদ্যাকে আমি কাছ থেকে চিনি যে শুটিংয়ের সময়ও অনেক জিনিস আমি অ্যাডজাস্ট করতে পারি।

sujay-big2

বিদ্যা আপনার চোখে ঠিক কেমন?
অভিনেত্রী হিসেবে অনবদ্য। এই নিয়ে কোনও কথা হতেই পারে না। আমি যখন গল্প লিখছি, তা তো আমার কাছে আমার সন্তানের মতো। বিদ্যা এমন একজন, যাকে চোখ বুজে আমি আমার সন্তানের দায়িত্ব দিতে পারি।

 

বিদ্যার সঙ্গে তো আপনার ঝগড়াও হয়েছিল…
আপনজনের সঙ্গেই তো মানুষ ঝগড়া করে, নাকি?

 

থ্রিলারধর্মী ছবি নিয়ে আপনার কী বক্তব্য?
দেখুন, যখন ‘কহানী’ তৈরি করেছিলাম, কোনও ধারণাই ছিল না যে ‘কহানী ২’ তৈরি হবে। এখন তো দায়িত্ব হয়ে গিয়েছে। আর থ্রিলারধর্মী ছবির কথা বলতে গেলে বলি, আসল কথা হচ্ছে গল্প। যে ছবিতে ভালভাবে গল্প বলা যাবে, সেটাই থ্রিলার। সাম্প্রতিক কালে ‘নিরজা’ এবং ‘কপূর অ্যান্ড সন্‌স’ ছবি দু’টি আমার অসাধারণ লেগেছে। প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, এরপর কী হবে। এটাই তো থ্রিলার!

sujay-big1

‘তিন’ চলল না কেন?
জানি না। সত্যি বলতে, জানতে চাইও না। আমি বিশ্বাসই করি না, ভুল থেকে কিছু শেখা যায় বলে। আমি তো অন্তত শিখিনি কিছুই। তাই কক্ষনও পিছন ফিরে তাকাই না।

 

সিনেমা ছাড়া কীভাবে সময় কাটান সুজয়? কীভাবে টেনশন কাটান?
কীসের টেনশন? সিনেমা তৈরি করা তো আমার জীবনের সবচেয়ে সহজ কাজ! ভাই, আমার একটি ২৩ বছর বয়সী ছেলে এবং একটি ২১ বছর বয়সী মেয়ে আছে। তারাই আমার আসল কাজ, আমার আসল টেনশন। ওরা দু’জনেই আয় করে, আমায় পকেটমানি দেয়। আমি তাই নিয়েই খুশি আছি। আমার ছেলে আমার সব ছবিকেই ভাল বলে। মেয়েটা একটু সমালোচনা করে। ব্যস, আর কী চাই?