magazine_cover_27_april_17.jpg

Bolly Interview

‘‘নেপোটিজ়ম নিয়ে কঙ্গনা অত্যন্ত সাহসিকতা দেখিয়েছে’’ মনোজ বাজপেয়ী

Manoj-Bajpai-big

বলিউডের অন্যতম পাওয়ারফুল অভিনেতা বলা হয় তাঁকে। একের পর এক ছবিতে নতুন কিছু উপহার দিয়ে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন তিনি। কলকাতায় হায়াত রিজেন্সি-র লাউঞ্জে বসে, সেই মনোজ বাজপেয়ীর সঙ্গে কথা বললেন আসিফ সালাম

 
 

সাক্ষাৎকার শুরু করি কয়েকদিন আগে আপনার দেওয়া এক স্টেটমেন্ট দিয়ে। সেখানে আপনি কঙ্গনা রানাওয়াতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ‘নেপোটিজ়ম’-এর বিষয়টি সকলের সামনে নিয়ে আসার জন্য।
হ্যা। আমার মনে হয়, কঙ্গনা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দেখিয়ে এই বিষয়টি তুলে ধরেছে। অনেকেই তা নিয়ে নিন্দে করছে। কিন্তু আমি মনে করি, এটা একটা ডেমোক্রেটিক সোসাইটি। সকলের নিজস্ব মতাতম পেশ করা অধিকার আছে। কেউ যদি সেই মতামতকে না মানতে চায়, তা হলে সেও তার যুক্তির পিছনে লজিক পেশ করুক। ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনও নেপোটিজ়মের শিকার হইনি কারণ, আমি যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করি সেই ধরনের চরিত্র কোনও স্টারকিড করতে চাইবে না। বিশেষ করে তাদের ডেবিউ ছবিতে। সকলেই নায়কোচিত চরিত্রে অভিনয় করতে চায়।

বিহারে জন্ম। সেখান থেকে দিল্লিতে ড্রামা নিয়ে চর্চা, তারপর বলিউড। আপনার মনে কখনও নায়কোচিত চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে হয়নি?
না। বিহারে চাষীর পরিবারে বড় বয়েছি। এখনও বাড়ি গেলে চাষবাস করি। আমাদের আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। সেখান থেকে বলিউডে নিজের জায়গা করে নেওয়া আমার জন্য সত্যিই খুব বড় ব্যাপার। অভিনয়ের শখ থাকলেও, আমি কোনওদিনই নায়ক হতে চাইনি। কারণ, আমার কাছে একটাই অস্ত্র ছিল, তা হল অভিনয় ক্ষমতা। নায়ক হতে গেলে আপনার গুড লুকস চাই। ভিলেনদের সঙ্গে মারামারি করা চাই। নায়িকাদের সঙ্গে নাচগান করে রোম্যান্স করা চাই। এসব গুণ আমার মধ্যে নেই। তাই আমি শুধু ভাল চরিত্রে অভিনয় করে যেতে চাই। বর্তমানে আমার লিগে পরে নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকি, রাজকুমার রাও, ইরফান খানরা। আমি ইন্ডাস্ট্রিতে একটা নিজস্ব জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছি এবং সেই জায়গাটাকে সকলেই সম্মান করে।

Manoj-Bajpai-big2

আর তাই হয়তো ‘নাম শবানা’-র মতো ছবি করতে আপনি দ্বিধাবোধ করেন না, যেখানে একজন নায়িকার উপরই পুরো ছবিটা নির্ভর করে রয়েছে…
অবশ্যই। এর আগেও আমি ‘জ়ুবেদা’র মতো নারীকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করেছি। কারণ, আমি নিজের অভিনয় নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী এবং আমার মধ্যে কোনও ইনসিকিয়োরিটি কাজ করে না।

কয়েকমাস আগে মুম্বইয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে আপনি বলেছিলেন, ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড শোগুলো একটু ট্রান্সপারেন্ট হওয়া দরকার…
হ্যাঁ। এখনকারদিনে অ্যাওয়ার্ড শোগুলো স্রেফ একটা ইভেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে নাচাগানাটাই মূল। কে অ্যাওয়ার্ড পেল, কেন পেল, সেসব নিয়ে কোনও ভাবনাচিন্তা নেই। এরকম করলে সাধারণ দর্শকদের অ্যাওয়ার্ড শোয়ের উপর থেকে সব বিশ্বাস চলে যাবে।

আপনি নাকি বাঙালি খাবারের খুব বড় ভক্ত?
বাঙালি খাবারের অনেক গল্প শুনেছি। এখানকার নায়ক জিৎ তো নীরজের (পাণ্ডে) খুব ভাল বন্ধু। নীরজের মাধ্যমেই জিতের সঙ্গে পরিচয়। জিতকে বলেছি সর্ষে মাছ এবং পাঁঠার মাংস খাওয়াতে!