magazine_cover_12_february_17.jpg

Bolly Interview

‘‘ফিল্মও টিমগেমের মতো, একার চেষ্টায় যেমন ছবি হিট করে না, তেমনই ফ্লপের জন্যও কোনও একজনকে দায়ী করাটা ঠিক নয়।’’

Aditya-Roy-Kapur-big

‘ওকে জানু’ মুক্তির পরে ছবির বিভিন্ন বিষয় থেকে ব্যক্তিগত জীবনের গপ্‌পো তুলে ধরলেন আদিত্য রয় কপূর। সাক্ষী থাকলেন শ্রাবন্তী চক্রবর্তী

- – - – - – - – - – - – - – - – - -

আদিত্য আপনার কাছে ‘ওকে জানু’ মোমেন্ট কোনটা?
(হেসে) বান্ধবীকে সব সময়ে মানিয়ে-বুঝিয়ে একসঙ্গে চলা। কখনওই তাঁর বিরুদ্ধাচারণ নয়, বরং সমস্ত পরিস্থিতিতেই হাসিমুখে তাঁকে সামলে নিয়ে চলা। এটাই সম্পর্ক ভাল রাখার উপায়।

 

আচ্ছা, ‘ওকে জানু’ তো একটি দক্ষিণী ছবি থেকে রিমেক করা হল। আপনি ওই ছবিটা দেখেছেন?
হ্যাঁ। ওটা দক্ষিণে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। মণিরত্নমের অন্যতম ভাল ছবি। ছবির গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। তাই আমরাও এই ছবিটাই বেছে নিয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস, এই ছবিটার সঙ্গে এখনকার ইয়ং অডিয়েন্স নিজেদের রিলেট করতে পারবে। পরিচালক শাদ আলি আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি এই ছবিতে আদিত্য হয়েই থাকো। বি স্পন্টেনিয়াস।’ ব্যক্তিগত জীবনে আমি যে রকম সেটাই আমাকে তুলে ধরতে বলা হয়েছিল। একইভাবে শ্রদ্ধাও এই ছবিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে। সেজন্যই ছবিতে আমার আর শ্রদ্ধার কেমিস্ট্রি দর্শকদের নজর কেড়েছে।

 

আপনাদের প্রথম ছবি ‘আশিকী ২’-এর স্মৃতি এখনও দর্শকদের মনে অমলিন। এই ছবিও কি সেই জায়গা করে নিতে পারবে?
আমি জানি, আমার আর শ্রদ্ধার একটা বড় ফ্যান ফলোয়িং রয়েছে। তাঁদের ভালবাসা যেমন সাহস যোগায় তেমনই নিজের উপর চাপও তৈরি হয়। কারণ আমাদের থেকে ভক্তদের প্রত্যাশা অনেকটাই। আমি আর শ্রদ্ধা দু’জনেই খুব খুশি, কারণ এমন একটা ছবিতে ফের একসঙ্গে কাজ করলাম যা ইয়ুথ ওরিয়েন্টেড। পরদার বাইরে আমাদের রসায়নটা পরদার সামনেও উঠে আসছে। এটাই আমাদের জুটির ইউএসপি।

 

প্রথম ছবি থেকে এই ছবি, শ্রদ্ধা কতটা বদলেছে?
প্রথম থেকে ওকে দেখছি বলেই বলছি, ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করার পরেও এতটুকু বদলায়নি ও। ক্যামেরার পিছনে বিভিন্ন ঠাট্টা, মজা করলেও ক্যামেরার সামনে ভীষণই সিরিয়াস। সেটে ওর ডেডিকেশন নজর কাড়ে। তবে প্রথম ছবির থেকে অনেক বেশি ম্যাচিয়োর হয়েছে শ্রদ্ধা। পরদায় সেটা তো ধরা পড়ে। কেউ বলতে পারবে না, ওর কোনও ট্যানট্রাম আছে বলে। এগুলোই ওর ক্রমোন্নতির পথ প্রশস্ত করেছে।

Aditya-Roy-Kapur-2

একটা সময়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে আপনার প্রেম নিয়ে বেশ গুজব ছড়িয়েছিল…
হুম। জানি। সেই সময় ভাবতাম, এই রটনার কারণ কী? এখন অবশ্য বুঝে গিয়েছি গ্ল্যামার ওয়র্ল্ডে থাকলে এরকম গুজব ছড়াবেই। একে তেমন সিরিয়াসলি নেওয়ার কোনও কারণ নেই। আর ইন্ডাস্ট্রিতে গসিপ তৈরি করার মানুষের অভাব নেই। সত্যি বলতে, আমরা দু’জন ভীষণ ভাল বন্ধু। একে অপরের দোষ-গুণ খুব ভাল করে জানি। দু’জনেই নিজেদের সমস্যা নিয়েও আলোয়চনা করি। তাই আমাদের মেলামেশায় কোনও দ্বিধা কাজ করে না।

 

আপনাকে তো প্রথম থেকেই লাভার বয় হিসেবেই দেখা গিয়েছে। এতে কি টাইপকাস্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে?
আমি নিজেও অন্য ধরনের ছবিতে কাজ করতে চাই। আমার খুব ইচ্ছে রয়েছে একটা অ্যাকশন ফিল্মে কাজ করার, কিংবা কমেডি ছবিতে। ষেথানে আমাকে অন্য চরিত্রে দেখতে পারবেন দর্শকেরা। একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে করতে টাইপকাস্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তো থেকেই যায়। আমি নিজের সেই ইমেজ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাই। আমি নেগেটিভ চরিত্রেও অভিনয় করতে চাই। অনেকেই আমাকে বলেন, আমার ইনটেন্স চোখের জন্য সেটা বেশ মানানসইও হবে।

 

এর আগে আপনার ছবি ‘ফিতুর’ তো বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সেই ব্যর্থতাকে কীভাবে নিলেন?
আমি সাকসেস বা ফেলিওর কোনওটাতেই খুব একটা রিঅ্যাক্ট করি না। সবার সময় তো একরকম যায় না। জীবনে হিট-ফ্লপ সবকিছুই থাকবে। সেটা মেনে নেওয়া উচিত। ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি বিষয় খুব ইম্পর্ট্যান্ট। সেটা হল, ধৈর্য আর নিজের উপর আস্থা। ‘ফিতুর’-এর ব্যর্থতা আমার বেশ খারাপ লেগেছিল। প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছিলাম ওই ছবিটায়। শুধু আমি নই, গোটা ফিল্মের কাস্ট অ্যান্ড ক্রু-ই পরিশ্রম করেছিল। আর একটা বিষয় আমি বিশ্বাস করি, ফিল্মও টিমগেমের মতো, একার চেষ্টায় যেমন ছবি হিট করে না, তেমনই ফ্লপের জন্যও কোনও একজনকে দায়ী করাটা ঠিক নয়।

 

ভবিষ্যতে নিজেকে কোন ইচ্ছেপূরণ করতে চান?
আমি এডিটিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। ফিল্মমেকিংয়ের প্রসেসটা আরও কাছ থেকে দেখতে চাই। আমার মনে হয়, এর মাধ্যমেই আমি নিজেকে একজন বেটার অ্যাক্টর হিসেবে তুলে ধরতে পারব। আর যদি স্বপ্নই বলেন, সেটা হল একদিন ছবি পরিচালনা করতে চাই।